Barta24

রোববার, ২৫ আগস্ট ২০১৯, ১০ ভাদ্র ১৪২৬

English

ট্রাম্পকে 'বর্ণবাদী' বললেন থেরেসা মে

ট্রাম্পকে 'বর্ণবাদী' বললেন থেরেসা মে
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে, ছবি: সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের করা এক টুইটের নিন্দা জানিয়ে তাকে 'বর্ণবাদী' বলে তিরস্কার করেন।

সোমবার (১৫ জুলাই) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানায়, ট্রাম্পের করা টুইটে নারী সদস্যদের অবমাননা করার পরিপ্রেক্ষিতে এই মন্তব্য করেন থেরেসা মে। 

সূত্র জানায়, রোববার (১৪ জুলাই) ট্রাম্প তার এক টুইটে মার্কিন কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাট দলের নারী সদস্যদের 'বিদেশি বংশোদ্ভূত' বলে নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান।

ট্রাম্প আরও বলেন, ডেমোক্র্যাট দলের নারী সদস্যদরা এমন দেশ থেকে এসেছেন যেখানে সবচেয়ে অযোগ্য ও দুর্নীতিবাজ সরকার ব্যবস্থা বিদ্যমান। এখন তারা বিশ্বের শ্রেষ্ঠ দেশে এসে বলছে আমাদের কিভাবে সরকার পরিচালনা করতে হবে। 

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/15/1563201679935.jpg
মার্কিন কংগ্রেসের বিদেশি বংশোদ্ভূত নারী সদস্যরা 

 

'তারা কেন ফিরে যাচ্ছে না এবং নিজেদের অপরাধ প্রবণ দেশগুলো ঠিক করার কাজ করছে না। ওখানে আপনাদের প্রয়োজন। যত দ্রুত সম্ভব চলে যান।'- বলেও তিনি তাগিদ দেন। 

মার্কিন কংগ্রেসের বিদেশি বংশোদ্ভূত নারী সদস্যদের কয়েকজন হলেন সোমালিয়ায় জন্মগ্রহণকারী ইলহান ওমর, ফিলিস্তিন থেকে আসা রাশিদা তালিব এবং পোর্টোরিকো বংশোদ্ভূত আলেক্সান্দ্রিয়া ওকাজিও কর্টেজ।

এদিকে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ট্রাম্পের এই টুইটের সমালোচনা শুরু হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন :

জি-সেভেন সম্মেলনে বিশ্বের শীর্ষ নেতারা

জি-সেভেন সম্মেলনে বিশ্বের শীর্ষ নেতারা
৪৫তম জি সেভেন সম্মেলন

ফ্রান্সের বিয়ারিৎস শহরে শনিবার (১৪ আগস্ট) শুরু হয়েছে শিল্পোন্নত দেশগুলোর সংগঠন জি সেভেন-এর ৪৫তম সম্মেলন।

রোববার (২৫ আগস্ট) আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম জানায়, তিন দিনের এ আয়োজনে অংশ নিচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, জার্মানি, ইতালি, জাপান ও ফ্রান্সের নেতারা।

প্রতিবেদনে জানানো হয়, এবারের সম্মেলনে বিশ্ব নেতাদের আলোচনার বিষয় হবে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যকার বাণিজ্য যুদ্ধ, ইউরোপের ব্রেক্সিট চুক্তি, তেহরানের নিউক্লিয়ার প্রোগ্রাম এবং সাম্প্রতিক সময়ে আমাজনে আগ্নিকাণ্ড।

এই সম্মেলন সংহতি এবং ঐক্যের ব্যতিক্রমধর্মী পরীক্ষা যেখানে বিশ্বের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু ও জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে কথা হবে বলেন জানান ইউরোপিয়ান কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড টাস্ক।

এদিকে রোববার ট্রাম্প তার অফিসিয়াল টুইটার অ্যাকাউন্টে এক টুইট বার্তায় বলেন, আমি ফ্রান্সে আসার আগে ভুয়া খবরে বলা হচ্ছিল জি-সেভেনের দেশগুলোর মধ্যকার অবস্থা উদ্বেগজনক। এমনকি এই দুই দিনের সাক্ষাৎকার গুলো যাচ্ছেতাই হতে যাচ্ছে।'

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/25/1566728551956.PNG

যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন ও ট্রাম্পের নিজের একটি হাস্যউজ্জ্বল ছবি পোস্ট করে তিনি বলেন, 'আমরা খুব ভালো একটি বৈঠক শেষ করেছি।'  

একইসঙ্গে আজ রোববার ফ্রান্সের হেনডায় শহরে কয়েক'শ জি-সেভেন বিরোধী বিক্ষোভকারী একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে। সেখানে পুলিশ বিক্ষোভ মিছিলে টিয়ার গ্যাস ছুঁড়ে প্রতিহত করে। পরিবেশবাদী সংঘটন থেকে এ মিছিল বের করা হয় বলে ফ্রান্সের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানায়। 

অরুণ জেটলি: ভারতীয় রাজনীতির মেধাবী পুরুষ

অরুণ জেটলি: ভারতীয় রাজনীতির মেধাবী পুরুষ
অরুণ জেটলি

দক্ষিণ এশিয়ার সমকালীন রাজনীতি, বিশেষ করে ভারতের খোঁজ-খবর যারা রাখেন, তাদের কাছে বেশ কিছু নেতার মুখ খুবই চেনা। নিজের দেশের গণ্ডি পেরিয়ে উপমহাদেশ জুড়ে পরিচিতি পাওয়া তেমন রাজনীতিবিদদের অন্যতম একজন ছিলেন অরুণ (মহারাজ কৃষাণ) জেটলি।   

তুখোড় ছাত্রনেতা থেকে তীক্ষ্ণতা সম্পন্ন আইনজীবীর পরিচয় ছাপিয়ে অরুণ জেটলি ভারতের জাতীয় রাজনীতিতে রেখেছেন স্থায়ী স্বাক্ষর। প্রায়-নিঃস্ব অবস্থা থেকে কেন্দ্রীয় রাজনীতির শীর্ষে আরোহণের পথে জনমত ও মিডিয়া অ্যাক্টিভিজমের ক্ষেত্রে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) যে কয়জন নেতা মুখ্য ভূমিকা পালন করেছেন, তাদের মধ্যে বাজপেয়ী ও আদভানীর পর পরই নাম আসে অরুণ জেটলি ও সুষমা স্বরাজের।

গত ৬ আগস্ট সুষমা স্বরাজের মৃত্যুর ১৮ দিনের মাথায় ২৪ আগস্ট ৬৬ বছর বয়সে চিরবিদায় নিলেন অরুণ জেটলি। অবশ্য ৯ আগস্ট তিনি অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হন। সেখান থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরা হয় নি তার। কয়েক দিন লাইফ সাপোর্টে থাকার পর ২৪ আগস্ট দ্বিপ্রহরে তার জীবনাবসান হয়।  

ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপি শিবিরে এই মৃত্যুজনিত বেদনা গভীর ক্ষত ছড়িয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী শোক জানিয়ে বলেছেন যে, তিনি 'বিশ্বস্ত বন্ধু' হারিয়েছেন। বিজেপি'র পক্ষ থেকে অরুণ জেটলির মৃত্যুকে বর্ণনা করা হয়েছে 'মধ্যাহ্নে সূর্যাস্ত' শিরোনামে।

অরুণ জেটলি ছিলেন দলের অন্যতম মুখপাত্র। মিডিয়া ও বিতর্কে দলের নীতি ও আদর্শ তুলে ধরতে লাগাতার সফলতা দেখিয়েছেন তিনি। বিগত বছরগুলোতে তার যুক্তি ও বাচনভঙ্গি প্রায়-অখ্যাত বিজেপি নামক দলটির প্রতি মানুষের মনোযোগ ও আগ্রহ বাড়িয়েছে। নিজের দল ও রাজনীতি সম্পর্কে একটি ইতিবাচক মনোভাব ও আস্থাজনক বার্তা পৌঁছে দিতে অরুণ জেটলি ছিলেন সফল ও পারঙ্গম।            

অরুণ জেটলিকে বলা হতো 'ট্রাবলশুটার’, ‘ক্রাইসিস ম্যানেজার’ এবং 'কিং মেকার'। মাঠের রাজনীতির চেয়ে কৌশল ও পরিকল্পনার ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন উজ্জ্বলতর৷ ফলে তিনি নিজে নির্বাচনে লড়েছেন হাতে গোনা কয়েকটি। এমনকি, ২০১৪ সালে প্রবল মোদী হাওয়াতেও অমৃতসর কেন্দ্র থেকে লোকসভা ভোটে লড়ে কংগ্রেস প্রার্থী অমর সিং-এর কাছে পরাজিত হন তিনি। তবে তাকে গুজরাত থেকে রাজ্যসভায় নির্বাচিত করে আনা হয় দলের পক্ষ থেকে। সর্বাবস্থায় তিনি বিজেপির অপরিহার্য নেতা ও  মোদীর ঘনিষ্ঠ বৃত্তে থেকে গিয়েছেন বরাবর।

ইন্দিরা গান্ধীর জরুরি অবস্থার সময় জেলখানায় রাজনীতির হাতে খড়ি হওয়া তরুণ আইনজীবী অরুণ জেটলি জেল খেটেছেন ১৯ মাস। আর সেই ১৯ মাসেই এমন এমন রাজনৈতিক গুরুদের সংস্পর্শে আসেন তিনি, যে তার জীবনদর্শনই বদলে যায়। সে তালিকায় ছিলেন জয়প্রকাশ নারায়ণ, অটলবিহারী বাজপেয়ী, লালকৃষ্ণ আডবাণী, নানাজি দেশমুখের মতো প্রবাদ প্রতিম নেতারা। 

জেল থেকে মুক্তি পাওয়ার পর এবিভিপি (অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ)-এর সর্বভারতীয় সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয় তাকে। এর পর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। ওকালতির সঙ্গে সমান্তরাল ভাবে রাজনীতিকেও কেরিয়ার হিসাবে বেছে নেন তিনি।

রাজনীতিকে কেরিয়ার হিসাবে বেছে নিলেও, নির্বাচনে লড়ার ক্ষেত্রে অবশ্য ততটা সাফল্য পাননি অরুণ জেটলি। অরুণ জেটলি নিজে অবশ্য শেষ বার ভোটে জিতেছিলেন ১৯৭৪ সালে দিল্লির ছাত্র সংসদের নির্বাচনে। তার পর থেকে তিনি চলে গিয়েছিলেন মঞ্চের পিছনে।

পরের চার দশক ধরে তিনি ‘ব্যাকরুম স্ট্র্যাটেজিস্ট’। বহু নির্বাচনেই দলের হয়ে রণকৌশল এবং প্রচার কৌশল তৈরির কারিগর ছিলেন তিনি। কিন্তু, নিজে ভোটে লড়েননি, অন্যদের লড়িয়ে জিতিয়ে এনেছিলেন।

লোকসভা নির্বাচনে (২০১৪ সালে) দেশ জুড়ে প্রবল মোদি ঝড়েও কিন্তু অরুণ জেটলি পপুলার ভোটে জিততে পারেন নি। পাঞ্জাবের অমৃতসর থেকে ভোটে লড়ে পরাজিত হন তিনি। তাতে অবশ্য মোদি বা দলের কাছে তার গুরুত্ব কমেনি। প্রথম মোদি সরকারের অর্থ মন্ত্রক তো বটেই প্রতিরক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বও ছিল অরুণ জেটলির কাঁধে। কিন্তু, শরীরে বাসা বেঁধেছিল মারণ রোগ। একটু একটু করে সক্রিয় রাজনীতি থেকে সরেও আসতে থাকেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ২০১৯ সালের ভোটে আর দাঁড়াননি তিনি।

তারপরেও তাকে মন্ত্রিত্ব দেওয়ার কথা উঠলে তিনি তা সবিনয়ে প্রত্যাখ্যান করেন শারীরিক কারণ দেখিয়ে। ২৮ ডিসেম্বর ১৯৫২ সালে দিল্লিতে আইনজীবী পিতা মহারাজ কৃষাণ জেটলি ও মাতা রতন প্রভা জেটলির ঘরে  জন্ম গ্রহণকারী এই নেতা রাজধানীর সরব রাজনীতি থেকে দূরেই থেকেছেন শেষ দিনগুলো। স্মৃতিচারণ করেছেন দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের উত্তাল ঘটনাক্রম আর সুদীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের।

স্ত্রী সঙ্গীতা, যার পিতা ছিলেন জম্মু ও কাশ্মীরের অর্থমন্ত্রী গিরিদরী লাল দুর্গা এবং দুই আইনজীবী সন্তান, পুত্র রোহন ও কন্যা সোনালি ছাড়াও পুরো দিল্লিতে ছড়িয়ে ছিল তার অসংখ্য আত্মীয়, পরিজন ও গুণগ্রাহী। তথাপি তিনি শেষ জীবনের অসুস্থতার কারণে রাজনীতি ও সামাজিক ভিড় এড়িয়ে নিভৃতচারীর মতো জীবনযাপন করেন।          

দিল্লির অভিজাত আবাসিক এলাকা গ্রেটার কৈলাশের বাড়ির নির্জনে অরুণ জেটলির জীবনাবসানে কেবল বিজেপি নয়, ভারতীয় রাজনীতি এক মেধাবী পুরুষকে হারিয়েছে। দক্ষিণ এশিয়া হারিয়েছে একজন উচ্চাঙ্গের রাজনৈতিক নেতা ও সুশিক্ষিত-সুদক্ষ ব্যক্তিত্বকে। 

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র