Barta24

সোমবার, ১৯ আগস্ট ২০১৯, ৪ ভাদ্র ১৪২৬

English

#মোজোএশিয়া২০১৯

যদি মোজো করতে চাও, স্মার্টলি করো

যদি মোজো করতে চাও, স্মার্টলি করো
ছবি. কানালায়উই ওয়ায়েক্লায়হং
কানালায়উই ওয়ায়েক্লায়হং
ব্যাংকক; থাইল্যান্ড থেকে


  • Font increase
  • Font Decrease

মোবাইল জার্নালিজম এখন এক বাস্তবতা। তবে একজন সাংবাদিক হিসেবে এই আলোচনাও হতে পারে, মোবাইল জার্নালিজম কি আমাদের জন্য সুযোগের নতুন দ্বার উন্মোচন করছে? মোবাইল জার্নালিজম কি আমাদের ভবিষ্যত নিউজরুম অথবা আমাদের ক্যারিয়ারের জন্য ক্ষতিকর হয়ে উঠছে?

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/16/1563273807946.png

এসব প্রশ্নের মধ্যে প্রথমটির উত্তর আমি পেয়েছি সম্প্রতি ব্যাংককে অনুষ্ঠিত মোবাইল জার্নালিজম কনফারেন্স ২০১৯-এ। যাকে বলা হচ্ছে #মোজোএশিয়া২০১৯।

মোজোএশিয়া২০১৯-এর আয়োজক ছিল কর্নাড এডেনয়ার স্টিফটাং (কেএএস) নামক প্রতিষ্ঠান। সম্মেলনের উদ্বোধনী বক্তব্যে কেএএস-এর পরিচালক ক্রিস্টোফ গ্রাবিটজ বলেন, এশিয়ার দেশগুলোতে যখন স্বাধীন সাংবাদিকতা রুদ্ধ হয়ে এসেছে, তখন মোবাইল সাংবাদিকতা হতে পারে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার একটি বড় উপায়।

এই সম্মেলনে ৩৩টি দেশ থেকে পেশাদার সাংবাদিক, সংবাদ প্রযোজক এবং গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বরা যোগ দেন। এখানে যেমন মোবাইল জার্নালিজমের ওপর কর্মশালা পরিচালিত হয়, তেমনি অনেকেই নিজেদের ধারণা এবং মোবাইল সাংবাদিকতার উদাহরণ উপস্থাপন করেন।

শুধু সাংবাদিক নয় এখন প্রায় সকলের হাতেই রয়েছে স্মার্টফোন। মোবাইল ফোনের ব্যবহার এই ধারণাকেই বদলে দিয়েছে, যে সংবাদ শুধুমাত্র সাংবাদিকের কাছ থেকেই আসতে হবে৷ বরং যে কোনো স্মার্টফোন ব্যবহারকারীর কাছ থেকেই আসতে পারে৷ আবার একজন সাংবাদিক মোবাইল ব্যবহারের মাধ্যমে দ্রুত এবং ঘটনার আরো কাছে গিয়ে প্রতিবেদন তৈরি করতে পারেন। তবে এখানে একটি প্রশ্ন আসছে যে, যদি মোবাইল ব্যবহারকারী দিনের ২৪ ঘণ্টাই প্রতিবেদন তৈরি করতে চায় বা বলতে চায়, সেটি পেশাদারিত্ব হবে কিনা?

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/16/1563274071108.png
উদ্বোধনী বক্তব্যে কেএএস-এর পরিচালক ক্রিস্টোফ গ্রাবিটজ ◢

 

এই দুদিনের ওয়ার্কশপে কোনো প্রশিক্ষকই, কী পদ্ধতিতে মোবাইল ব্যবহার করে প্রতিবেদন তৈরি করা যায়, সেটি নিয়ে আলোচনা করেননি। তারা শুধুমাত্র বলে গিয়েছেন, মোবাইল তাদের কাজে কী ধরনের সুবিধা তৈরি করছে বা তাদের সম্পাদকীয় নীতিমালায় কিভাবে মোবাইল ব্যবহারের বিষয়গুলো এসেছে।

অন্যদিকে সামাজিক এবং কমিউনিটির উন্নতিতে মোজো বড় ভূমিকা রাখতে পারে। সে বিষয়ে কিছু প্রকল্পের উদাহরণও দেখানো হয়েছে সম্মেলনে।

সম্মেলনের মধ্যে লেবাননের সাংবাদিক এবং সাংবাদিকতার প্রশিক্ষক সারাহ টেইটসের প্রকল্প উপস্থাপনা সত্যি আমার ভালো লেগেছে। সিরিয়া যুদ্ধের সংবাদ সংগ্রহের সময় মোজো কিভাবে তার কাজে সাহায্য করেছে, উপস্থাপন করেন তিনি৷

মোজো সাংবাদিকতার তিন ধারণা

তিনি বলেন, যুদ্ধাবস্থার এলাকাগুলো থেকে সাংবাদিকরা শুধু যুদ্ধের অবস্থা, ক্ষয়ক্ষতি, ধ্বংস এবং শরণার্থী বা ক্ষতিগ্রস্তদের নিয়ে প্রতিবেদন করেন৷ তবে আরেকটি সত্যি হচ্ছে, এই খারাপ দিনগুলো থেকেও তারা একদিন সুখে থাকার স্বপ্ন দেখেন, জীবনে সমৃদ্ধির জন্য চেষ্টা করেন। জীবনকে ছেড়ে দেন না।

সারাহ যুদ্ধকালীন সময়ে তিনটি শরণার্থী ক্যাম্পে মোজো প্রশিক্ষণ প্রদান করেন শরণার্থীদের। এবং তার এই উপস্থাপনায় এটা স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে মোজো শুধুমাত্র সাংবাদিকদের জন্য নয়, বরং সকলের জন্য।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/16/1563274315964.png
লেবাননের সাংবাদিক এবং সাংবাদিকতার প্রশিক্ষক সারাহ টেইটস ◢

 

এবার আসি পরের আলোচনায়। মোজো কি আমাদের পরবর্তী নিউজরুম? আসলে আমার মনে হয় না, এই প্রশ্নের উত্তর এখনই পাওয়া যাবে। তবে, ফিলিপাইন, পাকিস্তান, ভারত, বাংলাদেশ এবং থাইল্যান্ডের অনেক সাংবাদিকও এরই মধ্যে বলেছেন, সব দেশেই মোজোর ভিন্নতা রয়েছে এবং বর্তমান সময়ে প্রতিবেদন তৈরিতে মোজো খুবই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

তাই আমার মনে হয়, গণমাধ্যমের, নিউজরুমের খুব ভালোভাবে জানা প্রয়োজন কেন আমরা নিউজরুমে মোজোর ওপর গুরুত্ব দেব? উত্তর হচ্ছে, খরচ বাঁচানো, সবার প্রথমে সংবাদ পরিবেশন এবং স্থানীয়দের সংবাদ তৈরিতে উৎসাহ প্রদান করতে।

যাই হোক, যদিও মোজো সবার জন্য, প্রযুক্তির এই দুনিয়ায় যখন তথ্যের স্রোত বইছে, সেসময় মোজো কিন্তু ভুল সংবাদের উৎসও হয়ে উঠতে পারে। যা ঘৃণা ছড়াতে, ভুল তথ্য ছড়াতে বা বিভ্রান্ত করতে সহায়ক হতে পারে৷ তাই যখন মোজো করা হবে, সেখানে তথ্যের উৎস এবং সত্যতা সম্পর্কে আরো বেশি নিশ্চিত হতে হবে। এর মানে নিউজরুম, স্থানীয় গণমাধ্যম এমনকি নাগরিক সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে মোজোতে আনতে হবে পেশাদারিত্ব।

সম্মেলনের একজন আলোচক বলেছিলেন, যদি তুমি মোজোকে গ্রহণযোগ্য করে তুলতে চাও, এটাকে নির্ভুল করো প্রথমে। সম্মেলনের এই বক্তব্যের সঙ্গে আমি সম্পূর্ণ একমত। শুধু আপনার হাতে ফোন আছে বলেই আপনি দায়িত্বহীনভাবে যা ইচ্ছে বলে যাবেন, সেটা দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা নয়।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/16/1563274529956.png

আপনার মতামত লিখুন :

গণতন্ত্র ছাড়া কাশ্মীর ইস্যুর সমাধান নেই: অমর্ত্য সেন

গণতন্ত্র ছাড়া কাশ্মীর ইস্যুর সমাধান নেই: অমর্ত্য সেন
নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. অমর্ত্য সেন

কাশ্মীর নিয়ে ভারত সরকারের সমালোচনা করে নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. অমর্ত্য সেন বলেছেন, সংখ্যাগরিষ্ঠতার উপর জোর দিয়ে মানুষের অধিকারের উপর হস্তক্ষেপ করা হয়েছে। আমার মনে হয় না গণতন্ত্রের চর্চা ছাড়া কাশ্মীর সমস্যার সমাধান সম্ভব।

সোমবার (১৯ আগস্ট) ভারতের গণমাধ্যম এনডিটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।

৮৫ বছর বয়সী এই নোবেল বিজয়ী বলেন, ভারত গণতন্ত্রের আর্দশ মানছে না। আমি একজন ভারতীয় হিসেবে এখন আর আমি গর্ব করি না। একটা সময় ছিলো পাশ্চাত্যের দেশগুলোর বাইরে একমাত্র ভারতে গণতন্ত্রের চর্চা হতো। ভারত এখন গণতন্ত্রের সেই পথ হারিয়েছে।

সম্প্রতি ভারত সরকার সংবিধানে কাশ্মীরকে দেওয়া মর্যাদা বাতিল করে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল ঘোষণা করেছে। সেই সঙ্গে জম্মু কাশ্মীর থেকে লাদাখকে বিভক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সংবিধানের ৩৭০ ধারা বাতিলের ফলে জম্মু কাশ্মীরের জমি ভারতের অন্য রাজ্যের মানুষও কিনতে পারবেন। এই অধিকার কেবল কাশ্মীরের জনগণেরই ছিলো। 

কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল ও জমি ক্রয় প্রসঙ্গে অমর্ত্য সেন বলেন, কাশ্মীরের জনগণের উপরই এই সিদ্ধান্ত নেবার অধিকার দেওয়া উচিত। তারাই ঠিক করবে জমি ক্রয় বিক্রয় বিষয়ে, এই জমি তাদের অধিকার। 

কাশ্মীরের নেতাদের গ্রেফতারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, আমি মনে করি না, মানুষকে ভয় দেখিয়ে কণ্ঠস্বর রোধ করে ভালো কিছু পাওয়া যায়। নেতাদের গ্রেফতার করে, আটকে রেখে গণতন্ত্র দমন করে অতীতেও ভালো ফল পাওয়া যায়নি। 

কড়া নিরাপত্তায় মোড়ানো কাশ্মীরের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, এটা হচ্ছে জম্মু কাশ্মীরের উপর উপনিবেশিক অত্যাচার। ঠিক এভাবেই ২০০ বছর বিট্রিশরা আমাদের শাসন করেছিলো।

মিয়ানমারে সেনা এবং বিদ্রোহী জোটের মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ছে

মিয়ানমারে সেনা এবং বিদ্রোহী জোটের মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ছে
মিয়ানমারে সেনা এবং বিদ্রোহী জোটের মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ছে

মিয়ানমারে ভিন্ন ভিন্ন বিদ্রোহী জোট একজোট হয়ে হামলা চালানোর পর মিয়ানমারের সেনাবাহিনী সঙ্গে লড়াই বিস্তার লাভ করেছে। আরাকান আর্মি (এএ), মিয়ানমার ন্যাশনাল ডেমোক্র্যাটিক অ্যালায়েন্স আর্মি এবং তাআং ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি এক জোট হয়ে এ হামলা চালায়।

তবে জোটের চতুর্থ সদস্য, কাচিন ইন্ডিপেন্ডেন্স আর্মি কোনও আক্রমণে অংশ নিয়েছে তথ্য পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে সেনাবাহিনী।

এ সশস্ত্র জোটটি ১৫ আগস্ট আর্মি একাডেমিসহ ছয়টি স্থানে সমন্বিত হামলা চালায়। এর ফলে ১৫ জন নিহত হয়। এর পরেই চার দিন ধরে লাগাতার সেনা ও বিদ্রোহী জোটের আরো সংঘর্ষের খবর মিয়ানমার মিডিয়া জানিয়েছে।

শান স্টেটের ন্যাংচো জনপদের নিকটে পাইয়ন ওও লুইন অঞ্চলে ডিফেন্স সার্ভিসেস টেকনোলজিকাল একাডেমিসহ বিদ্রোহী জোটটি ছয়টি ভিন্ন এলাকায় হামলা পরিচালনা করার পর এ সংঘর্ষ বেড়েই চলেছে। এ সংঘর্ষে একজন অ্যাম্বুল্যান্স ড্রাইভার মারা গেছেন বলে জানিয়েছে সেনাবাহিনী।

রোববার (১৮ আগস্ট) সকালে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছিলেন যে তারা নাম হাটপাট কার ও কুতকাইয়ের মাঝামাঝি নান্ট কুট গ্রামের কাছে বন্দুকের গুলির শব্দ শুনতে পেয়েছে।

গত চারদিন ধরে শানের লাসিও, কুতকাই, কিউকমে, থেইনি এবং মিউজি শহরতলীতে সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে।

রোববার (১৮ আগস্ট) মিয়ানমারের কমান্ডার-ইন-চিফের অফিসের থেকে বিবৃতিতে, জানানো হয়েছে ইউ টুন মিন্ট নামে একজন ৫৮ বছর বয়সী স্বেচ্ছাসেবক অ্যাম্বুলেন্স চালক, অজ্ঞাতপরিচয় বন্দুকধারীর গুলিতে নিহত হয়েছেন। লশিওয়ের কাছে এ সংঘর্ষের পর নিহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। বিদ্রোহীরা স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র এবং একটি রকেট চালিত গ্রেনেড দিয়ে তার গাড়িতে গুলি চালায়। আহত হয়েছেন আরও পাঁচ জন।

সামরিক বাহিনীর জানায়, বিদ্রোহী জোটটি হালকা এবং ভারী উভয় অস্ত্র ব্যবহার করেছে। এ জোটের আক্রমণগুলিতে ১০৭ মিলিমিটার রকেট ব্যবহার করেছে বলে জানা গেছে।

সামরিক বাহিনী দাবি করছে, যে শান ও রাখাইন রাজ্যে জুলাই ও আগস্টে ২১০ কোটি মিয়ানমার মুদ্রার সমমূল্যের মাদক জব্দ করার কারণে আরাকান আর্মি ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায়  এই হামলা চালাচ্ছে।

এদিকে বিদেশি পর্যটকদের মিয়ানমারের উত্তরাঞ্চল ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

এর পাশাপাশি এ অঞ্চলের পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে স্বদেশি নাগরিকদের এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

উত্তরাঞ্চলীয় শান স্টেটে সশস্ত্র বিদ্রোহী জোটের হামলার পরে বিদেশিদের জন্য পাইয়ন ওও লুইন, ন্যাংচো এবং থিবাবের ভ্রমণ বাতিল করতে ট্র্যাভেল এজেন্সিগুলোকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

 

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র