Barta24

শনিবার, ১৭ আগস্ট ২০১৯, ২ ভাদ্র ১৪২৬

English

বিদেশে বিপাকে পড়তে পারেন মিয়ানমার সেনা কর্মকর্তার সন্তানরা

বিদেশে বিপাকে পড়তে পারেন মিয়ানমার সেনা কর্মকর্তার সন্তানরা
ছবি: সংগৃহীত
খুররম জামান
স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিমদের ‘জাতিগত নিধনের’ অভিযোগে মিয়ানমারের সেনাপ্রধান ও তিন শীর্ষ কর্মকর্তার যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে মার্কিন প্রশাসন।

এ নিষেধাজ্ঞা জারির ফলে বিদেশে পড়তে যাওয়া মিয়ানমারের সামরিক কর্মকর্তাদের সন্তানরা বিপাকে পড়তে পারেন। দেশটির অধিকাংশ সেনা কর্মকর্তাদের সন্তানরা ইউরোপ-আমেরিকায় পড়াশোনা করেন।

মঙ্গলবার (১৭ জুলাই) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পাঠানো এক বিবৃতিতে মিয়ানমারের সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাইংয়-সহ তিন শীর্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। কর্মকর্তাদের পরিবারের সদস্যরাও যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারবে না বলে জানান মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও।

এর আগে ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে ইউরোপীয় ইউনিয়ন মিয়ানমারের সাত সেনা কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এ নিষেধাজ্ঞার আওতায় বিদেশে তাদের সম্পদ জব্দের পাশাপাশি ইউরোপীয় দেশগুলোতে তাদের ও পরিবারের সদস্যদের ভ্রমণ নিষিদ্ধ করা হয়। মিয়ানমার যদি রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে না নেয় তাহলে সমস্ত সেনাবাহিনীর ওপর এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে। তখন বিদেশে পড়তে যাওয়া সেনা সন্তানদের সবাইকে মিয়ানমারে ফিরে আসতে হতে পারে।

মিয়ানমারে গত ৫০ বছরে সামরিক আমলে সরকার উচ্চ শিক্ষা ব্যবস্থায় তুলনামূলকভাবে কম বরাদ্দ রেখেছিল। কিন্তু সেনা কর্মকর্তারা নিজেদের সন্তানদের পড়াতে পশ্চিমা দেশগুলোতে পাঠিয়েছেন। অন্যদিকে স্বচ্ছল পরিবারগুলো বেছে নিয়েছে থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, চীন ও ভারতের মত দেশকে।

মিয়ানমারে স্নাতক পড়ুয়াদের জন্য খুব কম কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। ব্যবসা ও প্রকৌশলের মতো পছন্দসই বিষয়ে পড়তে বড় সংখ্যার শিক্ষার্থীরা বিদেশেই যান। বেশিরভাগই সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ার মতো কাছাকাছি দেশগুলোতে যান। যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়াও অনেকের পছন্দের গন্তব্যস্থল। তবে প্রতিবেশী দেশে শিক্ষার খরচ বাড়ছে। কিন্তু এ দেশগুলোর শিক্ষার মান পশ্চিমা মানের নয়। তাই সামরিক কর্মকর্তারা তাদের সন্তানদের পশ্চিমেই পাঠিয়ে থাকেন।

আর যারা গবেষণা করতে চান তাদের জন্য পছন্দসই গন্তব্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। মিয়ানমারের শিক্ষার্থীরা উন্নত মার্কেটিং জ্ঞান অর্জনে যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়ায় চলে যান।

মিয়ানমারের ওপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এবং শিক্ষার্থী ভিসা পেতে অসুবিধার কারণে অতীতে অল্পকিছু শিক্ষার্থী পশ্চিমের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নির্বাচিত হতো। এ স্বল্প কয়েজনের মধ্যে সেনা কর্মকর্তাদের সন্তানরাই বেশি সুযোগ পেতেন।

তবে ২০১৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার ফলে ভিসা পাওয়া সহজ হয়। মিয়ানমারে অনুষ্ঠিত ‘এডুকেশন ফেয়ার’ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের সংখ্যা নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পায়।

এক হিসাব মতে মিয়ানমারের ২৫ হাজার শিক্ষার্থী বিদেশে অধ্যয়নরত রয়েছেন। ২০১৩ সাল থেকে এই সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং তা ক্রমাগতই বাড়ছে।

থাইল্যান্ড হলো মিয়ানমারের শিক্ষার্থীদের প্রধান বিদেশি গন্তব্য, প্রতি বছর প্রায় ৮ হাজার শিক্ষার্থী সেখানে যাচ্ছেন।

এশিয়াতে অন্যান্য গন্তব্য সিঙ্গাপুরে ৫ হাজার, জাপানে সাড়ে ৩ হাজার, চীনে ৩ হাজার ও মালয়েশিয়ায় ১ হাজার শিক্ষার্থী পড়তে গেছেন। মিয়ানমারের শিক্ষার্থীরা হংকং ও দক্ষিণ কোরিয়াতেও পড়াশোনা করছেন।

পশ্চিমে যুক্তরাজ্যে ২ হাজার, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ১৬শ’ এবং অস্ট্রেলিয়ায় ৬শ’ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করেন। এদের বড় একটি সংখ্যা সামরিক অফিসারদের সন্তান।

মিয়ানমারে প্রায় ৩০টি বেসরকারি আন্তর্জাতিক বিদ্যালয় আছে। সবগুলোতে পশ্চিমা পাঠ্যক্রম অনুসরণ করা হয়। এর ফলে শুরুতেই সাধারণ শিক্ষা ব্যবস্থার বাইরে চলে যায় এই শিক্ষার্থীরা। এর অর্থ তারা সবাই বিদেশে অধ্যয়ন করার পরিকল্পনা করছে।

আপনার মতামত লিখুন :

দিল্লিতে হাসপাতালে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড

দিল্লিতে হাসপাতালে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড
দিল্লিতে হাসপাতালের আগুন, ছবি: সংগৃহীত

ভারতের দিল্লিতে অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ মেডিকেল সাইন্স (এআইআইএমএস) হাসপাতালে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়েছে। আগুনের কালো ধোঁয়া হাসপাতালের আশেপাশে সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে। এখনও পর্যন্ত হাসাপাতলটিতে আগুন নেভানর কাজে ফায়ার সার্ভিসের ৩৮টি ইউনিট কাজ করছে। 

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জানায়, শনিবার (১৭ আগস্ট) বিকেল ৫টায় হাসপাতালটিতে আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। এখনও পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। 

খবরে আরও জানানো হয়, হাসপাতালের জরুরী বিভাগের পাশে আগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। প্রাথমিকভাবে আগুন লাগার কারণ এখনও জানা যায়নি।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/17/1566045678296.jpg

 

এ মূহুর্তে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আগুন নেভানোর কাজ করছে। ইতোমধ্যে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা হাসপাতাল থেকে মানুষকে অন্যত্র সরিয়ে নিয়েছেন।

ফায়ার সার্ভিসের এক কর্মকর্তা জানান, হাসপাতালের প্রথম ও দ্বিতীয় তলায় আগুনের কালো ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়েছে। পিটিআই সংবাদসংস্থা থেকে মোবাইল ফোনে হাসপাতালের কম্পিউটার থেকে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে বলে জানানো হয়।   

এদিকে হাসপাতালটিতে প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অরুণ জেটলি চিকিৎসারত ছিলেন। গত ৯ আগস্ট  তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, তিনি হাসপাতালের যে ভবনে আছেন সেটি নিরাপদ রয়েছে।

রাত সাড়ে ৮টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলে ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে৷

বিদেশি পর্যটকদের মিয়ানমারের উত্তরাঞ্চল ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা

বিদেশি পর্যটকদের মিয়ানমারের উত্তরাঞ্চল ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা
মিয়ানমারের উত্তরাঞ্চল ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা, ছবি: সংগৃহীত

বিদেশি পর্যটকদের মিয়ানমারের উত্তরাঞ্চল ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। একইসঙ্গে এ অঞ্চলের পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে স্বদেশী নাগরিকদের এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৫ আগস্ট) উত্তরাঞ্চলীয় শান স্টেটে সশস্ত্র বিদ্রোহী জোটের হামলার পরে বিদেশিদের জন্য পাইয়ন ওও লুইন, ন্যাংচো এবং থিবাবের ভ্রমণ বাতিল করতে ট্র্যাভেল এজেন্সিগুলোকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/17/1566022354804.jpg

 

মিয়ানমার পর্যটন উদ্যোক্তা সমিতির কার্যালয়ের কর্মকর্তা ইউ ময়ো ইয়ে বলেন, ট্র্যাভেল এজেন্সিগুলোকে বলা হয়েছে তারা যেন এখন বিদেশি পর্যটক এদিকে না নিয়ে আসে।

বৃহস্পতিবার মিয়ানমারে বিদ্রোহী গোষ্ঠী একজোট হয়ে আর্মি একাডেমিসহ ছয়টি স্থানে সমন্বিত হামলা চালায়। এটি ভয়াবহ ঘটনা। কারণ এ বিদ্রোহী জোটটি আক্রমণগুলিতে ১০৭ মিলিমিটার রকেট ব্যবহার করেছে বলে নিশ্চিত হয়েছে দেশটির সেনাবাহিনী। হামলায় সামরিক বেসামরিকসহ কমপক্ষে ১৪ জন নিহত হয়েছেন।

আরাকান আর্মি (এএ), মিয়ানমার ন্যাশনাল ডেমোক্র্যাটিক অ্যালায়েন্স আর্মি এবং তাআং ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি এক জোট হয়ে এ হামলা চালায়।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/17/1566022335753.jpg

 

পর্যটন উদ্যোক্তা সমিতির কার্যালয়ের কর্মকর্তা ইউ ময়ো ইয়ে বলেন, কিছু বিদেশ ভ্রমণকারী ইতোমধ্যে থিবা পৌঁছেছে এবং কিছুদিনের জন্য সেখানে তারা আটকে যেতে পারে। আমরা তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি তবে আমরা জানি না কতজন সেখানে আটকে রয়েছেন। আমরা পর্যটন এজেন্সিগুলোকে সতর্কতা  অবলম্বন এবং ট্যুর বাতিল করতে বলেছি। ট্র্যাভেল এজেন্টদের যে অঞ্চলে  যুদ্ধ চলছে সে এলাকায় যেতে সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

পর্যটক নির্দেশক ইউ থান নাইং জানান, বর্ষাকাল হওয়ায় পাইয়ন ওও লুইন, ন্যাংচো এবং থিবাওতে দেশি পর্যটকদের সংখ্যা কম। তবে শুধুমাত্র ইউরোপীয় দেশগুলির পর্যটকরা বর্ষাকালে এই জায়গাগুলি পরিদর্শন করেন। কিন্তু ইতিমধ্যে অনেকে তাদের ভ্রমণ বাতিল করেছেন।

আরও পড়ুন, 

মিয়ানমারে বিদ্রোহী গোষ্ঠী একজোট হয়ে হামলা চালাচ্ছে

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র