বিদেশি সাহায্য গ্রহণে ‘শর্তসাপেক্ষে সম্মত’ ব্রাজিল সরকার

ফিচার ডেস্ক, বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
পুড়ছে আমাজন

পুড়ছে আমাজন

  • Font increase
  • Font Decrease

দাবানল মোকাবেলায় বিদেশি সাহায্য গ্রহণ করতে ব্রাজিলিয়ান প্রেসিডেন্ট বোলসোনারোকে অনুরোধ করেছেন ব্রাজিলের নয়টি রাজ্যের গভর্নর। এই নয়টি রাজ্যের আমাজনের অংশের বেশিরভাগই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দাবানলে। তাই বিদেশি সাহায্য না হলে পর্যাপ্তভাবে আগুন মোকাবেলা করা যাবে না বলে মনে করছেন গভর্নররা।

কয়েকদিন আগে আমাজনকে বাঁচাতে জি-সেভেন জোটের দুই কোটি ডলারেরও বেশি সাহায্যের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিলেন ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট।

কিন্তু প্রেসিডেন্ট ও গভর্নরদের মধ্যে আলোচনা হওয়ার পর আগের অবস্থান থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ব্রাজিল সরকার।

এই সাহায্য থেকে যেটুকু ব্যয় করা হবে, সেটুকুর ওপর নিয়ন্ত্রণ থাকলে সাহায্য গ্রহণ করতে রাজি ব্রাজিল সরকার।

ব্রাজিলের ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ এই আগুনের বেশিরভাগটাই আক্রান্ত করেছে আমাজন অঞ্চলকে। কার্বন শুষে নিয়ে বৈশ্বিক উষ্ণতা থেকে পৃথিবীকে রক্ষা করতে অনেক বড় ভূমিকা পালন করে চলেছে বনটি।

এই অবস্থা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলের উদ্বেগ বেড়ে গেলে ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-সেভেন জোটের নেতারা আগুনের সাথে লড়াইয়ে ২ কোটি ২০ লক্ষ মার্কিন ডলারের সাহায্য প্রস্তাব করে।

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ দ্রুত তহবিল সরবরাহের ওপর জোর দিয়েছেন, যা প্রাথমিকভাবে ‘অগ্নি-নির্বাপক প্লেন’ কেনার মতো কাজে ব্যবহৃত হবে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/28/1567000241702.jpg
 ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট জেইর বোলসোনারো ◢


কিন্তু সেই প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছিলেন ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট বোলসোনারো। তাঁর মতে, জি-সেভেন দেশগুলো ব্রাজিলকে ‘কলোনি’ বা ‘নো-ম্যানস ল্যান্ড’ হিসেবে দেখে।

তবে, ব্রাজিল এখনো সাহায্যটি গ্রহণ করবে কিনা, তা পরিষ্কার নয়।

সাহায্য গ্রহণ করার প্রস্তাব নাকচ করে দেওয়ার পর এখন অবশ্য প্রেসিডেন্ট তার অবস্থান কিছুটা নমনীয় করেছেন। মঙ্গলবার তিনি বলেছেন, প্রস্তাবটা ব্রাজিলিয়ান সরকার বিবেচনা করবে যদি ফরাসি প্রেসিডেন্ট তাকে মিথ্যাবাদী বলে অপমান করার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন।

মঙ্গলবার প্রেসিডেন্টের সাথে গভর্নরদের সভার পর প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র রেগো বারোস জানিয়েছেন, বিভিন্ন সংগঠন ও দেশ থেকে সাহায্য গ্রহণ খোলামনেই গ্রহণ করতে প্রস্তুত ব্রাজিল সরকার।

কিন্তু তিনি জোর দিয়ে বলেন, সেই সাহায্য খরচ ও নিয়ন্ত্রণ করার দায়িত্ব থাকতে হবে ব্রাজিলের জনগণের তত্ত্বাবধানে। অবশ্য, ব্রাজিল সরকারের মতামতের ওপর এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি ফরাসি সরকার বা জি-সেভেন দেশগুলোর নেতৃবৃন্দ।

আপনার মতামত লিখুন :