ব্রেক্সিট ইস্যুঃ পার্লামেন্টের ভোটে জনসনের পরাজয়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

ব্রেক্সিট ইস্যুতে পার্লামেন্টের ভোটাভুটিতে বরিস জনসনের কনজারভেটিভ পার্টি বেশ বড় ব্যবধানে পরাজিত হয়েছেন। ফলে ব্রেক্সিট ইস্যু এখন বিরোধীদলীয় এমপিদের নিয়ন্ত্রণে। জনসনের কনজারভেটিভ পার্টি ব্রেক্সিট নিয়ে আর কোনো ধরনের পদক্ষেপ নিতে পারবেন না। 

বুধবার (৪ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানায়, হাউজ অফ কমন্সের ভোটাভুটিতে ৩২৮-৩০১ ব্যবধানে পরাজিত হয় কনজারভেটিভ পার্টি। ৩২৮ ভোট পেয়ে বিরোধীদলীয় এমপিরা এখন ব্রেক্সিটের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছেন। 

এর ফলে বিরোধীদলীয় এমপিরা ব্রেক্সিট চুক্তি কোন সময় থেকে কার্যকর হবে সেটি নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন। এর আগে বিরোধীদলীয় এমপিরা ব্রেক্সিট চুক্তি বাস্তবায়ন করতে পরের বছর ৩১ জানুয়ারী পর্যন্ত সময় নিতে অনুরোধ করেন জনসনকে। এরই প্রেক্ষিতে এখন তারা পার্লামেন্টে ব্রেক্সিট চুক্তি বাস্তবায়ন করার জন্য আরও সময় চেয়ে বিল উত্থাপন করবেন।

এদিকে ব্রেক্সিট ভোটাভুটিতে হেরে গিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে জনসন আবারও নির্বাচন ডাকার কথা বলেন। প্রতিউত্তরে বিরোধীদলীয় নেতা জেরেমি করবন বলেন, সাধারণ নির্বাচন ডাকার আগেই ব্রেক্সিট পিছিয়ে দেওয়ার বিলটি পাশ করবেন তারা।

এর আগে বরিস জনসন ব্রেক্সিটকে বাস্তবায়ন করতে নো-ডিল চুক্তির কথা বলেন, যেখানে কোনো চুক্তি ছাড়াই যুক্তরাজ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বিদায় নেবে বলে জানান তিনি। যার ধারাবাহিকতায় জনসন আসছে সেপ্টেম্বর মাসে পার্লামেন্ট মুলতবি রাখার জন্য আবেদন করেন রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের কাছে। রানি আবেদন মঞ্জুর করে আগামী ৯ সেপ্টেম্বর থেকে অক্টোবরের ১৪ তারিখ পর্যন্ত পার্লামেন্টের অধিবেশন মুলতবি রাখার অনুমোদন দেন।

আরও পড়ুন: ব্রেক্সিট ইস্যু: যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্ট মুলতবি ঘোষণা 

পার্লামেন্ট বন্ধের ঘোষণায় গত ২৯ আগস্ট যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্ট ভবনের সামনে হাজারো বিক্ষোভকারী অবস্থান নেন। জনসনের পার্লামেন্ট বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তকে 'অগণতান্ত্রিক' ব্যাখ্যা দিয়ে তারা টানা দুইদিনের অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যান। বিক্ষোভের দ্বিতীয় দিনে জনসনের ডাউনিং স্ট্রিটের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন তারা। 

আরও পড়ুন:ব্রেক্সিট ইস্যু: বিক্ষোভকারীদের তোপের মুখে প্রশাসন

ব্রেক্সিটের নো-ডিল চুক্তির মধ্যে দিয়ে গেলে যুক্তরাজ্যকে অনেক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে বলে বিরোধীদলীয় নেতারা জনসনের সিদ্ধান্তে রাজি হন নি। বিক্ষোভের মুখে ব্রেক্সিট চুক্তিকে কার্যকর করতে বুধবার সংসদ সদস্যদের ভোটাভুটিতে পরাজিত হয় জনসনের নো-ডিল ব্রেক্সিট চুক্তি। 

আরও পড়ুন: ব্রেক্সিট ইস্যু: বরিস জনসনের কার্যালয় ঘিরে বিক্ষোভ

আপনার মতামত লিখুন :