গুহার অন্ধকার থেকে বেরিয়ে প্রথম বাবা-মাকে দেখা

গুহা থেকে উদ্ধারের পর থাইল্যান্ডের খুদে ফুটবলারদের প্রথম ছবি প্রকাশ করেছে থাই নৌবাহিনী। ছবিতে দেখা যায়, ১২ কিশোর ও তাদের কোচ হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। হাসপাতালের বেডে শুয়ে, বসে হাসপাতালের গাউন ও মুখে মাস্ক পড়া অবস্থায় আঙ্গুল উঁচিয়ে বিজয়-চিহ্ন দেখাচ্ছে কিশোররা। ছবিটিতে টানা সতের দিনের গুহা বন্দি জীবন থেকে বের হয়ে নতুন জীবনের উচ্ছ্বাস প্রকাশ পেয়েছে। বুধবার (১১ জুলাই) থাই নৌবাহিনী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এই কিশোরদের ছবির সঙ্গে একটি নতুন ভিডিও প্রকাশ করে।  

এ দিনেই প্রথমবারের মতো গুহার অন্ধকার থেকে বের হয়ে হাসপাতালের বেডে তাদের বাবা-মাকে দেখেছেন কিশোররা। অশ্রুশিক্ত নয়নে সন্তানের সঙ্গে দেখা করেনন বাবা-মা। এসময় আবেগঘন পুনর্মিলনের পরিবেশ তৈরি হয় হাসপাতালে। 


আরও পড়ুন: থাই গুহায় উদ্ধারকর্মীর শ্বাসরুদ্ধকর অভিযান


থাই নৌবাহিনীর প্রধান জালাল ইউনূসকে বিবিসিকে জানায়, থাম লুয়াং গুহা থেকে কিশোর ও তাদের কোচকে বের করে আনা অনেক বড় সাফল্য। এতে প্রত্যাশা পূরণের বাস্তবতা উঠে এসেছে।

চিয়াং রাইয়ের গভর্নর নারংসাক ওসোতানাক্রন বলেন, আমরা একটা ক্ষীণ আশা নিয়ে কিশোরদের উদ্ধার শুরু করি। আমাদের অভিযান সকলের প্রচেষ্টায় সফল হয়। এখন আমাদের কিশোরদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার দিন।


আরও পড়ুন: কিশোরদের উদ্ধারে সময় ও পানি সঙ্গে যুদ্ধ উদ্ধারকারীদের


তিন দিনের ঝুঁকিপূর্ণ অভিযানে ১২ কিশোর ও তাদের কোচকে উদ্ধার করা হয়। এর আগে নয় দিন নিখোঁজ থাকার পর ২ জুলাই বৃটিশ ডুবুরি তাদের থাইল্যান্ডের উত্তরাঞ্চলীয় চিয়াং রাই অঞ্চলের থাম লুয়াং নন গুহায় সন্ধান পান।

এরপর নানা গবেষণা ও বিশ্লেষণের পর ১২ কিশোর ও তাদের কোচকে উদ্ধারে বিশ্বের ৯০ জন ডুবুরি সম্বন্বয়ে একটি অভিযান পরিচালনা করা হয়। মঙ্গলবার (১০ জুলাই) অভিযানের শেষ দিনে চারজন কিশোর ও তাদের কোচকে রেব করে আনার মাধ্যমে উদ্ধার কার্যক্রম সমাপ্ত হয়।

তাদের সবাইকে চিয়াং রাই শহরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তারা খুব দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবে বলে জানায় স্থানীয় প্রসাশন।


পড়ুন: ভালো আছেন থাই ফুটবলাররা, দেওয়া হয়েছে এনার্জি জেল


প্রথমে উদ্ধার করা চার কিশোর তাদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করেছে। ২য় দিন উদ্ধার হওয়া অপর চার কিশোরের পরিবারের সদস্যরা বৃহস্পতিবার দেখা করার অনুমতি পাবেন বলে চিকিৎসকরা জানায়। 

ওয়াইল্ড বোয়ার ফুটবল দলের ১২ কিশোর ও তাদের কোচ ২৩ জুন বেড়াতে গিয়ে উত্তরাঞ্চলীয় চিয়াং রাই এলাকার থাম লুয়াং নং নন গুহায় আটকা পড়ে। কিশোরদের  বয়স ১১ থেকে ১৬ বছরের মধ্যে।  গুহাটি প্রায় ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ। এটি থাইল্যান্ডের দীর্ঘতম গুহার একটি। এখানে যাত্রাপথের দিক খুঁজে পাওয়া কঠিন। ভারী বর্ষণ আর কাদায় থাম লুয়াংয়ের প্রবেশমুখ বন্ধ হয়ে গেলে তারা আটকা পড়ে। নিখোঁজের পর গুহার পাশে তাদের সাইকেল এবং খেলার সামগ্রী পড়ে থাকতে দেখা যায়। এর সূত্র ধরে তাদের খোঁজ পাওয়া যায়। 

আরও পড়ুনচিন্তা করো না, আমরা শক্ত আছি…’

নয়দিন পর জীবিত খোঁজ মিলল থাই ফুটবলারদের

ঠিক আছে, কাল দেখা হবে

গুহায় আটকা কিশোরদের ফাইনাল ম্যাচের আমন্ত্রণ ফিফা সভাপতির

আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

স্মৃতি: রক্তাক্ত ৯/১১

১৮ বছর আগের একটি দিন। ১১ সেপ্টেম্বর ২০০১ সাল। সংক্ষেপে ৯/১১। আধুনিক বিশ্বের প্রতিভূ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থরথর কর...