Barta24

বুধবার, ২১ আগস্ট ২০১৯, ৬ ভাদ্র ১৪২৬

English

মসজিদে নববীতে কাজ করা বাংলাদেশি জহিরুল হুদা

মসজিদে নববীতে কাজ করা বাংলাদেশি জহিরুল হুদা
জহিরুল হুদা আলমগীর একমাত্র বাংলাদেশি হিসেবে মসজিদে নববীর পরিচ্ছন্নতার কাজ তদারকি করেন, ছবি: বার্তা২৪.কম
জাহিদুর রহমান
স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

মদিনা মোনাওয়ারা (সৌদি আরব) থেকে: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জহিরুল হুদা আলমগীর (৪৫)। একমাত্র বাংলাদেশি হিসেবে মদিনা মোনাওয়ারায় প্রিয় নবীর হাতে গড়া ‘মসজিদে নববী’র পরিচ্ছন্নতার কাজ তদারকি করেন। তার অধীনে কাজ করেন প্রায় ১৫শ’ বাংলাদেশি।

যাদের সুখ-দুখ আর ভালো-মন্দের ভাগিদার জহিরুল হুদা আলমগীর। পৃথিবীর অন্যতম বৃহৎ মসজিদ ‘মসজিদে নববী।’

মহানবী হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হিজরত করে মদিনায় আসার পর ৬২২ খ্রিস্টাব্দে সৌদি আরবের মদিনায় নির্মিত হয় এই মসজিদ। গুরুত্বের দিক থেকে মসজিদুল হারামের পর মসজিদে নববীর স্থান। স্বাভাবিক সময়ে ৬ লাখ এবং হজের সময়ে ১০ লাখ মুসল্লি একযোগে নামাজ আদায় করেন এই মসজিদে।

এত বিশাল মসজিদ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার জন্যে তিন শিফটে নিরবচ্ছিন্ন কাজ করেন ১৫'শ বাংলাদেশি।

পবিত্র এই মসজিদের পরিচ্ছন্নতার কাজের দায়িত্বে নিয়োজিত কোম্পানির নাম আল ফাহাদ। এই কোম্পানিতে সহকারী ম্যানেজার হিসেবে কাজ করেন জহিরুল হুদা আলমগীর। মজার বিষয় হলো, তিনি একমাত্র বাংলাদেশি হিসেবে এমন পদে আসীন।

ভালো আরবি বলতে আর লিখতে পারার গুণে আরবদের কাছেও পান বাড়তি কদর। হাতে সবসময় থাকা ওয়্যারলেস সেটে সারাক্ষণই পরিচ্ছন্ন কাজে নিয়োজিত কর্মী আর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হয় তাকে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার ঘাটিয়ারা গ্রামের মরহুম নুরুল হুদা মোল্লার ছেলে জহিরুল হুদা আলমগীর। চার ভাই, ছয় বোনের মধ্যে চতুর্থ জহির সৌদি আরবে পাড়ি জমান ১৯৮৩ সালে। মক্কার মসজিদে হারামে যোগ দেন ক্লিনিং সুপারভাইজার হিসেবে। ৫ বছর সেখানে কাজ শেষে চলে আসেন মদিনায়। সেই থেকে মসজিদে নববীর পরিচ্ছন্নতা কাজের তদারকি করছেন তিনি।

‘আমি ইসলামের মর্যাদাপূর্ণ মসজিদে কাজ করি। এখানে ৫ ওয়াক্ত নামাজ পড়ি। আলহামদুলিল্লাহ, এটাই আমার জীবনের বড় প্রাপ্তি। আমার কাজ নিয়ে আমি গর্বিত’- বলেন জহিরুল হুদা আলমগীর।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে মাস্টার্স এবং ঢাকা ল’ কলেজ থেকে এলএলবি করে আসা জহিরুল হুদা আলমগীর জানান, গোটা কোম্পানিতে রয়েছে সাত হাজার প্রবাসী।

হজ আর ওমরার মৌসুমে লাখো মানুষের ভিড়ে ব্যস্ততা বেড়ে যায় পরিচ্ছন্ন কর্মীদের। এর বাইরে শুক্রবারেও ঢল নামে মুসল্লিদের।

স্ত্রী-পরিজন নিয়ে মদিনাতেই থাকেন জহির। পেশাগত কাজের বাইরে প্রবাসীদের নিয়েই তার যতো ভাবনা। এখানে প্রবাসী সন্তানদের দেশি কারিকুলামে শিক্ষার সুযোগ সীমিত। তার পরও আমরা চেষ্টা করছি। আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এখানে একটি স্কুল করা হয়েছে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত।

নবম শ্রেণি থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে লেখাপড়ার জন্যে সন্তানদের পাঠাতে হয় ৫'শ কিলোমিটার দূরে জেদ্দায়। সেটা বেশ জটিল ও অসাধ্য কাজ। যে কারণে সন্তানদের লেখাপড়ার স্বার্থেই দেশে পাঠিয়ে দিতে হয়। সেসব অবশ্য ভিন্ন প্রসঙ্গ।

তবে মদিনায় দায়িত্ব পালনকালে দেশ থেকে বিশিষ্টজনেরা আসলেই তাদের নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন জহিরুল হুদা আলমগীর। চেষ্টা করেন সাধ্যমতো সেবা-যত্ন করার।

কিন্তু নিজ দেশে ফিরে সেটার প্রতিদান কতটুকু পান- এমন প্রশ্নে উত্তরে তিনি বলেন, আমরা চাই বিমানবন্দরে আমাদের একটু সন্মান জানানো হোক। আমরা তো রেমিটেন্স যোদ্ধা। সারা মাস খেটেখুটে দেশে টাকা পাঠাই আমরা। সেখানে বিমানবন্দরে হয়রানির বদলে আমাদের প্রতি একটু সদয় আচরণ করলে প্রবাসীরা নিজের দেশকে নিয়ে আরও গর্ব অনুভব করবে। উৎসাহবোধ করবে।

এ বিষয়গুলো যথাযথ কর্তৃপক্ষেকে ভেবে দেখার আবেদন জানান তিনি।

আপনার মতামত লিখুন :

বাংলাদেশি আলেমরা উষ্ণ অভ্যর্থনা পেলেন মসজিদে নববীতে

বাংলাদেশি আলেমরা উষ্ণ অভ্যর্থনা পেলেন মসজিদে নববীতে
ছবি: সংগৃহীত

মক্কা (সৌদি আরব) থেকে: সৌদি আরবে আসা হজযাত্রীদের হজপালন বিষয়ে ধর্মীয় পরামর্শ ও দিক-নির্দেশনা প্রদানের জন্য রাষ্ট্রীয় খরচে আসা ৫৮ আলেমকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়েছেন মদিনার মসজিদে নববী কর্তৃপক্ষ।

মঙ্গলবার (২০ আগস্ট) সকালে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী এডভোকেট শেখ মুহাম্মদ আবদুল্লাহর নেতৃত্বে ৫৮ সদস্যের ওলামা-মাশায়েখ দল হজপালন শেষে মদিনার মসজিদে নববী পরিদর্শনে গেলে তারা এ অভ্যর্থনা জানান। এ সময় মসজিদে নববীর প্রধান কর্মকর্তা মোহাম্মদ আল খুদায়েরি বলেন, অতীতে বাংলাদেশের এতো বড় আলেম প্রতিনিধি দল সৌদি আরব বিশেষ করে মদিনায় আসেনি। একসঙ্গে বাংলাদেশের শীর্ষ আলেমদের কাছে পেয়ে তারা গভীর কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/20/1566315408680.jpg

এ সময় ধর্ম প্রতিমন্ত্রী আলহাজ্ব এডভোকেট শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিচ্ছেন তার কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সৌদি আরবের সঙ্গেও তিনি সুসম্পর্ক বজায় রাখছেন। তিনি আরও বলেন, মুসলিম বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠায় সৌদি আরবের নেতৃত্বকে সমর্থন জানাবে বাংলাদেশ।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/20/1566315426944.jpg

পরে বাংলাদেশের আলেম ও ধর্ম প্রতিমন্ত্রীকে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর রওজা মোবারকে সালাম ও দরুদ পেশ এবং রিয়াজুল জান্নাতে নামাজ পড়ার ব্যবস্থা করেন মসজিদে নববী কর্তৃপক্ষ।

উল্লেখ্য যে, হজযাত্রীদের পরামর্শ দিতে ৫৮ সদস্যের ওলামা-মাশায়েখের একটি দল রাষ্ট্রীয় খরচে সৌদি আরব অবস্থান করছেন। ২১ আগস্ট তাদের দেশে ফিরে যাওয়ার কথা রয়েছে।

হজপালনে শীর্ষ ইন্দোনেশিয়া, বাংলাদেশ চতুর্থ

হজপালনে শীর্ষ ইন্দোনেশিয়া, বাংলাদেশ চতুর্থ
ছবি: সংগৃহীত

মক্কা (সৌদি আরব) থেকে: 'লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক' অর্থাৎ 'আমি উপস্থিত হে আল্লাহ! আমি উপস্থিত।' সাদা দুই টুকরো কাপড় গায়ে জড়িয়ে বারবার এ ঘোষণায় আকাশ-বাতাস মুখর করে আরাফাতের ময়দানে অবস্থানের মধ্য দিয়ে এবার হজপালন করলেন প্রায় ২৫ লাখ মুসলিম। আরাফাতের ময়দানে ইবাদত-বন্দেগির পাশাপাশি সফেদ-শুভ্র কাপড় পরে চোখে পানি নিয়ে মোনাজাত করেছেন হাজিরা জীবনের যাবতীয় পাপ মাফের জন্য।

এবার হজপালন করেছেন ২৪ লাখ ৮৯ হাজার ৪০৬ জন। ২০১৮ সালে হজপালন করেছিলেন ২৩ লাখ ৭১ হাজার ৬৭৫ জন। গতবারের তুলনায় এবার হজপালনকারীর সংখ্যা ১ লাখ ১৭ হাজার ৭৩১ জন বেশি। এবারের হজপালনকারীদের মধ্যে বিভিন্ন দেশের হজযাত্রী ছিলো- ১৮ লাখ ৫৫ হাজার ২৭ জন, আর সৌদি আরবের হজপালনকারী ৬ লাখ ৩৪ হাজার ৩৭৯ জন (সৌদি নাগরিক ২ লাখ ১১ হাজার ৩ জন, সৌদিতে কর্মরত বিভিন্ন দেশের নাগরিক ৪ লাখ ২৩ হাজার ৩৭৬ জন)। এই বিপুল সংখ্যক হজযাত্রীর মধ্যে পুরুষ হজযাত্রী ১৩ লাখ ৮৫ হাজার ২৩৪ জন (শতকরা ৫৩ ভাগ), নারী হজযাত্রী ১১ লাখ ৪ হাজার ১৭২ জন (শতকরা ৪৭ ভাগ)। এবার ৩ লাখ ৫০ হাজার ৮৩০ দম্পতি হজপালন করেছেন। হজযাত্রীরা আকাশ পথ, সড়ক পথ ও নৌ-পথ ব্যবহার করে হজপালন করতে সৌদি আরব এসেছেন।

হজযাত্রীর সংখ্যা বিবেচনায় এশিয়া মহাদেশ শীর্ষে। আর দেশ হিসেবে ইন্দোনেশিয়া। এবার ইন্দোনেশিয়া থেকে হজপালন করছেন ২ লাখ ২১ হাজার হজযাত্রী। বাংলাদেশের অবস্থান চতুর্থ। বাংলাদেশের হজযাত্রীর সংখ্যা ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮। বাংলাদেশি হাজিদের মধ্যে বয়স অনুযায়ী ৪১-৬০ বছর বয়সী যাত্রীর হার শকতরা ৩৪ ভাগ। আর লিঙ্গ অনুযায়ী পুরুষ যাত্রীর সংখ্যা ৬৩ ভাগ। বাংলাদেশ থেকে ঢাকা বিভাগের হজযাত্রী বেশি (শতকরা ৩৩ ভাগ) আর যাত্রী কম সিলেট বিভাগের (শতকরা ২ ভাগ)। হজ অফিস সূত্রে জানা গেছে, শতকরা ৯ ভাগ চাকরিজীবির বিপরীতে শতকরা ৪০ ভাগ ব্যবসায়ী এবার হজ পালন করেছেন।

হজযাত্রীর সংখ্যা হিসেবে শীর্ষ দশের অন্য দেশগুলো হলো- দ্বিতীয় স্থানে পাকিস্তান (১ লাখ ৭৯ হাজার ২১০), তৃতীয় ভারত (১ লাখ ৭০ হাজার), পঞ্চম মিসর (১ লাখ ৮ হাজার), ষষ্ঠ ইরান (৮৬ হাজার ৫০০), সপ্তম তুরস্ক (৭৯ হাজার), অষ্টম নাইজেরিয়া (৭৯ হাজার), নবম আলজেরিয়া (৩৬ হাজার) ও দশম স্থানে রয়েছে মরক্কো (৩১ হাজার)।

উল্লেখিত দেশসমূহ বাদে অন্য দেশসমূহের হজযাত্রীর সংখ্যা ৬ লাখ ৩৫ হাজার ১০৬ জন।

এবারও হজ উপলক্ষে সৌদি সরকার ৫ রিয়াল মূল্যমানের ডাকটিকিট অবমুক্ত করেছে। প্রথমবারের মতো আরাফাতের ময়দানে অবস্থিত মসজিদে নামিরা থেকে দেওয়া হজের খুতবা রেডিওর মাধ্যমের সরাসরি ৬টি ভাষায় অনুবাদ করে প্রচার করা হয়েছে। ওই ৬টি ভাষা হলো- ইংরেজি, চাইনিজ, উর্দু, ফার্সি, ফ্রান্স ও মালি। সৌদি সরকারের ব্যবস্থাপনায় প্রথমবারের মতো ৫০ ভাষার স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। হজ অনুষ্ঠানের দিনগুলোতে সৌদি আরবের ধর্ম মন্ত্রণালয় হজপালনকারীদের মোবাইলে প্রতিদিন বিভিন্ন পরামর্শ ও দিক-নির্দেশনামূলক প্রায় ৩২ লাখ এসএমএস পাঠিয়েছে।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র