Barta24

শনিবার, ২৪ আগস্ট ২০১৯, ৯ ভাদ্র ১৪২৬

English

সৌদি আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের প্রতিনিধি মূল পর্বে

সৌদি আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের প্রতিনিধি মূল পর্বে
সৌদি আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের প্রতিনিধি মূল পর্বে, ছবি: সংগৃহীত
ইসলাম ডেস্ক
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মদিনা মোনাওয়ারায় ৩ অক্টোবর থেকে শুরু হয়ে ৪০তম আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতা। প্রতিযোগিতার প্রথম পর্বে সন্তোষজনক ফলাফল অর্জন করে মূল পর্বে উত্তীর্ণ হয়েছেন বাংলাদেশের প্রতিনিধি হাফেজ হোসাইন আহমাদ।

প্রতিযোগিতা মোট ৪টি বিভাগে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তাজবিদ ও তাফসির সহকারে সম্পূর্ণ কোরআন হেফজ, তাজবিদ সহকারে সম্পূর্ণ কোরআন হেফজ, তাজবিদ সহকারে ১৫ পারা হেফজ এবং তাজবিদ সহকারে ৫ পারা হেফজ।

বাংলাদেশের প্রতিনিধি তাজবিদ সহকারে সম্পূর্ণ কোরআন হেফজ গ্রুপে অংশ নিচ্ছেন।

‘বাদশাহ আবদুল আজিজ’-এর নামে কোরআন প্রতিযোগিতাটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ওই প্রতিযোগিতায় বিশ্বের ৮২টি দেশের মোট ১১৫ জন প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেছেন।

প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্ব ও বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হবে বুধবার (১০ অক্টোবর) রাতে। প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্ব জন্য মসজিদে নববীর ১৯ নম্বর গেটে অনুষ্ঠিত হবে।

আন্তর্জাতিক এই কোরআন প্রতিযোগিতায় বিচারক হিসেবে রয়েছেন ওলিদ বিন হাযাম আল-আতিবি এবং আবদুল্লাহ বিন আতাউল্লাহ আল হুসাইন।

আন্তর্জাতিক এই কোরআন প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া বাংলাদেশের প্রতিনিধি হাফেজ হোসাইন আহমাদ ঢাকার যাত্রাবাড়ীস্থ মারকাজুত তাহফিজ ইন্টারন্যাশনাল মাদরাসার ছাত্র। তিনি প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে ৩ অক্টোবর রাতে সৌদি আরব পৌঁছেছেন।

হাফেজ হোসাইনের সঙ্গে তার ওস্তাদ প্রখ্যাত ক্বারী হাফেজ নেছার আহমাদ আন নাছিরী রয়েছেন।

আপনার মতামত লিখুন :

নবীর স্মৃতি আর সৌন্দর্যের শহর তায়েফ

নবীর স্মৃতি আর সৌন্দর্যের শহর তায়েফ
তায়েফের পাহাড়ি পথ

তায়েফ (সৌদি আরব) থেকে ফিরে: পবিত্র মক্কা থেকে প্রায় ১২০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে রাসূলুল্লাহ্ (সা.)-এর স্মৃতিবিজড়িত শহর তায়েফ। এ শহর ঐতিহাসিক ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি।

চমৎকার সাজানো গোছানো শহর। মক্কা থেকে তায়েফের রাস্তাগুলো পাহাড়ের বুক চিরে তৈরি করা। এক পাশে উঁচু পাহাড় অন্য পাশে শরীর হিম করা গভীর খাদ। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে সমৃদ্ধ এ শহর দেখতে হাজিরা কিছুটা সময় বরাদ্দ রাখেন।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/24/1566606712631.jpg
বিবি হালিমার ঘর ছিলো এখানে, অনেকে সেখানে যেয়ে নামাজ পড়েন, পাথর বা মাটি নিয়ে আসেন। বর্তমানে এখানে যাওয়া বন্ধ করা হয়েছে।


পাহাড় কেটে বানানো রাস্তাটি একমুখী। অনেক উপরে ওঠার প্রতিক্রিয়ায় গাড়ির ভেতরে নিঃশ্বাস নিতে কিছুটা কষ্ট হওয়ার পাশাপাশি, কান বন্ধ হয়ে যায় আপনা-আপনি। তায়েফের রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় দেখা যায়, ঝকঝকে নীল আকাশ। মরুর দেশে এমন নীল আকাশের কথা চিন্তা করা যায়? পাহাড় দেখে মানুষ কেন আপ্লুত হয়, সেটা তায়েফের পাহাড় না দেখলে জানতাম না। খুব বেশি দেশ ভ্রমণের অভিজ্ঞতা নেই। তারপরও আমার মনে হয়, পাহাড়ের সৌন্দর্য আর আকাশের সত্যিকারের নীল দেখতে হলে তায়েফের আকাশ দেখতে হবে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/24/1566606945381.jpg
মসজিদে আদ্দাস; তায়েফবাসীর নির্মম নির্যাতনে রক্তাক্ত নবী এখানে আশ্রয় নিয়েছিলেন, পরে সেখানে একটি মসজিদ নির্মাণ করা হয়।


হজরত রাসূলুল্লাহ্ (সা.)-এর স্মৃতিবিজড়িত শহর তায়েফের সৌন্দর্য পর্যটকরা পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা লিখেছেন। মক্কায় এসে সেই তায়েফ না দেখা অনেকটা বোকামি। তবে তায়েফের পূর্ণ সৌন্দর্য দেখতে হলে পুরো একটি দিন থাকতে হবে সেখানে, কারণ তায়েফের আকাশ আর সৌর্ন্দয ক্ষণে ক্ষণে বদলায়। রাতের তায়েফ নাকি অনেক বেশি মোহনীয়। সেটা অবশ্য দেখা হয়নি।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/24/1566607134974.jpg
তায়েফের ফল


ইতিহাসের পাতায় তায়েফ নানা কারণে আলোচিত। এই তায়েফের বনি সাকিফ গোত্রে নবী করিম (সা.) দুধমাতা হজরত হালিমা সাদিয়ার ঘরে লালিত-পালিত হয়েছিলেন। এখন সেই বাড়ি-ঘরের কোনো চিহ্ন নেই। তারপরও একটি পাহাড়ের পাদদেশকে অনেকে হালিমার বাড়ি বলে সেখানে যেয়ে নামাজ পড়েন। পাশের পাহাড়টিতে নবী করিম (সা.) বকরি চড়িয়েছেন বলে মনে করে সেখান থেকে মাটি আনা, সেখানে যেয়ে গড়াগড়ি খাওয়া শুরু করেন লোকজন। সাম্প্রতিত বছরগুলোতে খুব বেশি ভিড় বেড়ে যাওয়ায় গত দুই বছর ধরে সেখানে যাওয়া বন্ধ।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/24/1566607227765.jpg
মসজিদে ইবনে আব্বাস


নবুওয়তপ্রাপ্তির পর হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) মক্কা থেকে তায়েফ এসেছিলেন ইসলাম প্রচারের উদ্দেশ্যে। কিন্তু তায়েফবাসী ইসলাম গ্রহণের পরিবর্তে নবীকে অত্যাচার ও নিগ্রহ করেছে। ইসলাম প্রচার করতে এসে হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) তায়েফে প্রায় ১০ দিন অবস্থান করেছিলেন। তারপর ফিরে গেছেন তায়েফবাসীর নানা নির্যাতন সহ্য করে। রক্তাক্ত অবস্থায় নবী করিম (সা.) যেখানে আশ্রয় নিয়েছিলেন, সেখানে একটি মসজিদ নির্মাণ করা হয়েছে। মসজিদের নাম মসজিদে আদ্দাস।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/24/1566607962824.jpg
কথিত সেই বুড়ির বাড়ি



মক্কা থেকে তায়েফ নগরের দূরত্ব প্রায় ১২০ কিলোমিটার। এর উচ্চতা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৬ হাজার ৩৩২ ফুট। পুরো শহরটিই গড়ে উঠেছে পাহাড়ের ওপর। মক্কা থেকে প্রায় সোয়া এক ঘণ্টা সময় লাগে তায়েফ আসতে। পথে উট-দুম্বা ও ছাগলের পাল দেখা যায়। বাদশা ফয়সাল ও বাদশা খালেদের আমলে শীতকালীন রাজধানী হিসেবে গণ্য করা হতো তায়েফকে। বাদশা খালেদের শাসনামলে এখানে একবার ওআইসি’র শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিলো। রবিশস্য ও নানান ফল-ফলাদির জন্য তায়েফ বিখ্যাত। তায়েফে উৎপন্ন আঙুর, কমলা, আনার ইত্যাদি অতি দামী ফলফলাদি মিষ্টি ও পুষ্টিতে ভরপুর। বিশেষ করে তায়েফের আঙুর খুব বিখ্যাত। তায়েফের উৎপাদিত সবজি সৌদি আরবের চাহিদার প্রায় ৩০ ভাগ পূরণ করে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/24/1566607493793.jpg
মসজিদে রাসূল


প্রাচীনকাল থেকে মক্কা ও তায়েফবাসীর মাঝে ব্যবসায়িক সম্পর্ক ছিল। বিশিষ্ট সাহাবি হজরত আব্বাস (রা.) তায়েফের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য করতেন। পরে হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) তায়েফের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য চালিয়ে যান। তায়েফের প্রধান মসজিদকে ইবনে আব্বাস মসজিদ বলা হয়। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.)-এর কবর মসজিদ সংলগ্ন কবরস্থানে। এ কবরস্থানে আরও অনেক সাহাবির কবর রয়েছে। মসজিদ সংলগ্ন একটি লাইব্রেরি আছে। সেটা অবশ্য জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত নয়। তবে সেখানে প্রাচীন অনেক কিতাবের সংগ্রহ আছে। রয়েছে হজরত আব্বাস (রা.)-এর হাতের লেখা কোরআনের কপিসহ বিভিন্ন সময়ে পাথর ও কাগজে লিখিত কোরআনের প্রাচীন কপি।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/24/1566607586946.jpg
মসজিদে  আলি


এখনও তায়েফবাসীর সুনাম রয়েছে ব্যবসার ক্ষেত্রে। তায়েফকে ঘিরে সৌন্দর্য্যের যে পসরা আল্লাহ দিয়েছেন, হাজি সাহেবরা সেসব দেখতে যান না। তারা যান সেখানকার কিছু ঐতিহাসিক জায়গা দেখতে। যদিও সৌদি সরকার সেসব জায়গায় যেতে নিষেধ করেন এবং স্থানগুলোর ঐতিহাসিক কোনো ভিত্তি নেই বলে দাবি করেন। তারপরও মানুষ ভিড় করেন। চলে পুলিশ আর পর্যটকদের লুকোচুরি। যেমন পর্যটকরা বুড়ির বাড়ি (যে বুড়ি নবীর মসজিদে যাওয়ার পথে কাঁটা দিতেন; এ ঘটনা মক্কার, তবে সেটা তায়েফ কীভাবে এলো বোধগম্য নয়)। বুড়ির সেই বড়ই গাছ, রাসূলের মসজিদ (তায়েফ এসে এখানে রাসূল সা. নামাজ আদায় করেছেন), মসজিদে আলি (হজরত আলি রা. তার শাসনামলে এ মসজিদ নির্মাণ করেছিলেন, তায়েফে এলে এখান থেকে খেলাফত পরিচালনা করতেন।) ইত্যাদি দেখতে যান। সেখানে যেয়ে নামাজ পড়েন, দোয়া করেন। সৌদি সরকার ও ইসলামি স্কলাররা এসব করতে নিষেধ করেন। তারপরও মানুষ যায়। হুজুগ বা আবেগ বলে কথা। আমার মনে হয়, এসব না দেখে, শুধু পাহাড় আর আকাশের সৌন্দর্য দেখতে তায়েফ যাওয়া দরকার।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/24/1566607749532.jpg
খাবারের সন্ধানে রাস্তায় নেমে আসা বানর


তায়েফ শহরে রয়েছে পাহাড়ের কোল ঘেঁষে তৈরি করা চমৎকার সব রিসোর্ট, পার্ক আর অবকাশ যাপনকেন্দ্র। দিনের বেলা আর হজের মৌসুম বলে মানুষজনের দেখা মিলল না। পর্যটকদের আনন্দ দিতে রয়েছে পাহাড়ে ক্যাবল কারের ব্যবস্থা। তায়েফের প্রবেশপথে ওকাজ নামক স্থানে রয়েছে ফলমূলের বিশাল বিশাল দোকান, বাচ্চাদের খেলার মাঠ। এখানে ভাড়ায় মরুভূমির জাহাজ উটে সওয়ার করা যায়। কিন্তু এর সবই হয় বিকেলে! অগত্যা অনেকটা খালি মাঠে আমাদের তায়েফ দেখতে হলো।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/24/1566608101486.jpg
মিকাত জিল মাহরাম


তবে একেবারে হাতাশা নয়, আমাদের আনন্দ দিলো পাহাড় থেকে নেমে রাস্তার পাশে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়ানো বানরের দল। ফেরার পথে বানরকে কলা খাইয়ে মিকাত জিল মাহরাম থেকে উমরার নিয়ত করে ইহরাম পরিধান করে ফিরলাম মক্কায়। সেই সঙ্গে মনে আফসোস, যদি একটি পুরো দিন!

মাকামে ইবরাহিমের মর্যাদা

মাকামে ইবরাহিমের মর্যাদা
মাকামে ইবরাহিম, যে পাথর খণ্ডে হজরত ইবরাহিম আলাইহিস সালামের পায়ের চিহ্ন রয়েছে, ছবি: সংগৃহীত

মক্কা (সৌদি আরব) থেকে: পবিত্র কাবা ঘর থেকে ১০ বা ১১ মিটার পূর্ব দিকে সাফা-মারওয়া অভিমুখে অবস্থিত একটি সোনালী রংয়ের মিনার দৃষ্টি কাড়ে সবার। এটাই মাকামে ইবরাহিম। এর ভেতরে একটি পাথর খণ্ড রয়েছে, যে পাথর খণ্ডে দু'টো পায়ের ছাপ বিদ্যমান।

এই পাথরটি নরম প্রকৃতির পাথর, কঠিন শিলা খণ্ড নয়। এর দৈর্ঘ্য, প্রস্থ ও উচ্চতা প্রায় পঞ্চাশ সেন্টিমিটার। প্রায় চৌকোণ বিশিষ্ট। পাথরটি আগে উন্মুক্ত ছিল, যে কেউ হাত দ্বারা স্পর্শ করতে পারত। কিন্তু পরবর্তীতে তা সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে অত্যন্ত সুদর্শন ও মজবুত লোহা ও কাঁচের বেষ্টনীর ভেতর একটি ক্রিস্টালের বাক্সে রাখা হয়েছে। এটা ধরা, স্পর্শ করা, চুমো খাওয়া, তাতে কোনো কাপড় মুছে আনার কোনো আলাদা উপকারিতা নেই। তারপরও অনেক তাওয়াফকারী কাজগুলো করে থাকেন। এগুলো ভুল কাজ। ইসলামি শরিয়ত এসব করার অনুমতি দেয় না।

মাকামে ইবরাহিম। অর্থ হজরত ইবরাহিম আলাইহিস সালামের দাঁড়ানোর স্থান। এটি একটি জান্নাতের অতি মূল্যবান ইয়াকুত পাথর। এ বিষয়ে হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, হজরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আমি বলতে শুনেছি; হাজরে আসওয়াদ ও মাকামে ইবরাহিম জান্নাতের দু'টো ইয়াকুত পাথর। আল্লাহতায়ালা এই দু'টির আলোকপ্রভা নিষ্প্রভ করে দিয়েছেন। এ দু'টির প্রভা যদি তিনি নিষ্প্রভ না করতেন তাহলে তা পূর্ব-পশ্চিমের মধ্যে যা কিছু আছে সব আলোকিত করে দিত। -তিরমিজি: ৮৭৮

এ পাথরটি আল্লাহতায়ালার অন্যতম নিদর্শন। এ বিষয়ে কোরআনে কারিমে ইরশাদ হয়েছে, সর্বপ্রথম ঘর যা মানুষের জন্যে নির্ধারিত হয়েছে, সেটাই হচ্ছে এ ঘর। যা মক্কায় অবস্থিত এবং সমগ্র জগতের মানুষের জন্য বরকতময় ও পথ নির্দেশ (হেদায়েত)। এতে রয়েছে মাকামে ইবরাহিমের মতো প্রকৃষ্ট নিদর্শন। -সূরা আলে ইমরান: ৯৬ ও ৯৭।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/23/1566569071755.jpg

আল্লামা ইবনে হাজার আসকালানী (রহ.) বলেন, ‌মাকামে ইবরাহিম দ্বারা উদ্দেশ্য হলো- যে পাথরে তার পদযুগলের চিহ্ন রয়েছে।

আল্লাহতায়ালা কোরআনে কারিমের দুই জায়গায় মাকামে ইবরাহিমের কথা উল্লেখ করেছেন। ওই দুই স্থান হলো- সূরা বাকারা ১২৫ ও সূরা আলে ইমরানের ৯৭ নম্বর আয়াত।

হজরত ইবরাহিম (আ.) এই পাথরের ওপর দাঁড়িয়ে কাবা ঘর নির্মাণ করেছেন। তার পুত্র হজরত ইসমাইল আলাইহিস সালাম পাথর সংগ্রহ করে এনে এগিয়ে দিতেন। আর তিনি এই পাথরের ওপর দাঁড়িয়ে কাবা ঘরের দেয়াল নির্মাণ করতেন। এ প্রসঙ্গে বোখারির হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, অতঃপর ইবরাহিম (আ.) বললেন, হে ইসমাইল! আল্লাহ আমাকে একটি কাজের নির্দেশ দিয়েছেন। হজরত ইসমাইল (আ.) বললেন, আপনার রব! আপনাকে যা আদেশ করেছেন, তা করুন। হজরত ইবরাহিম (আ.) বললেন, তুমি আমাকে সাহায্য করবে কি? হজরত ইসমাইল (আ.) বললেন, আমি আপনাকে সাহায্য করবো।

হজরত ইবরাহিম (আ.) বললেন, আল্লাহ আমাকে এখানে একটি ঘর বানাতে নির্দেশ দিয়েছেন।

এই বলে তিনি উঁচু টিলাটির দিকে ইশারা করলেন যে, এর চারপাশে ঘেরাও দিয়ে। তখন তারা উভয়ে কাবা ঘরের দেয়াল তুলতে লেগে গেলেন। হজরত ইসমাইল (আ.) পাথর আনতেন, আর হজরত ইবরাহিম (আ.) নির্মাণ করতেন।

পরিশেষে যখন দেয়াল উঁচু হয়ে গেল, তখন হজরত ইসমাইল (আ.) (মাকামে ইবরাহিম নামে খ্যাত) পাথরটি আনলেন এবং হজরত ইবরাহিম (আ.)-এর জন্য তা যথাস্থানে রাখলেন। হজরত ইবরাহিম (আ.) তার ওপর দাড়িয়ে নির্মাণ কাজ করতে লাগলেন। আর হজরত ইসমাইল (আ.) তাকে পাথর যোগান দিতে থাকেন। তখন তারা উভয়ে এ দোয়া করতে থাকলেন, হে আমাদের রব! আমাদের থেকে কবুল করুন। নিশ্চয়ই আপনি সব কিছু শুনেন ও জানেন।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/23/1566569991338.jpg

তারা উভয়ে আবার কাবা ঘর তৈরি করতে থাকেন এবং কাবা ঘরের চারদিকে ঘুরে ঘুরে দোয়া করতে থাকেন, হে আমাদের রব! আমাদের থেকে কবুল করে নিন। নিশ্চয়ই আপনি সব কিছু শুনেন ও জানের। -সূরা আল বাকারা: ১২৭, -সহিহ বোখারি: ৩১২২

আল্লাহতায়ালা হজ ও উমরাকারীদের মাকামে ইবরাহিমের পেছনে নামাজ আদায়ের নির্দেশ প্রদান দিয়েছেন। ইরশাদ হয়েছে, হজরত জাবির ইবনে আবদুল্লাহ্ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) যখন মক্কা এলেন সাতবার বায়তুল্লাহর তওয়াফ করলেন। তখন তাকে আমি পাঠ করতে শুনেছি, তোমরা মাকামে ইবরাহিমকে নামাজের স্থান হিসেবে গ্রহণ করো।' -সূরা বাকারা: ১২৫

তারপর তিনি মাকামে ইবরাহিমের পেছনে নামাজ আদায় করলেন। -সুনানে তিরমিজি

এই পাথরের ওপরে যে দু'টি পদচিহ্নের মতো গর্ত আছে, সেগুলো ইবরাহিম (আ.)-এর পদচিহ্ন কিনা, এ প্রসঙ্গে উল্লেখিত আয়াতের তাফসির প্রসঙ্গে ইবনে জারির কাতাদা (রা.) হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আল্লাহতায়ালা এ পাথরের নিকটে লোকদের নামাজ পড়ার নির্দেশ দিয়েছেন; হাত দ্বারা মাসেহ করতে বলেননি। কিন্তু এই উম্মত নিজেদের ওপর এমন কিছু কাজ চাপিয়ে নিয়েছে যা পূর্ববর্তী উম্মতগণ করেননি। যাহোক, যারা ওই পাথরের ওপর হজরত ইবরাহিম (আ.)-এর পায়ের গোড়ালি ও আঙ্গুলের চিহ্ন দেখেছেন, তারা আমাদের কাছে বিবরণ দিয়েছেন। কিন্তু উম্মতের লোকেরা হাত দ্বারা স্পর্শ করতে করতে সেই পাথরের আলোকপ্রভা নিষ্প্রভ হয়ে গেছে এবং শেষ অবধি সেই চিহ্ন মুছে গেছে। -তাফসিরে ইবনে কাসির: ১/১১৭

আর আল্লামা উসমাইমিন (রহ.) বলেন, মাকামে ইবরাহিম সুপ্রমাণিত। এতে কোনও সন্দেহ নাই। এই যে কাচে ঘেরা স্থাপনাটি সেটি মাকামে ইবরাহিম। কিন্তু তার মধ্যে যে গর্তটি রয়েছে তা দেখে মনে হয় না যে, এটি ইবরাহিম (আ.)-এর পদযুগলের চিহ্ন। কেননা এটি ঐতিহাসিকভাবে স্বতঃসিদ্ধ যে, দীর্ঘ কালপরিক্রমায় পদচিহ্ন মুছে গেছে এবং এটি সেখানে গর্ত করা হয়েছে বা কেবল চিহ্নিত করার জন্য বসানো হয়েছে। এটা নিশ্চিত করে বলা যাবে না যে, এ গর্তটিই হজরত ইবরাহিম (আ.)-এর পা রাখার স্থান।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/23/1566569176595.jpg

এই পাথরের ওপর দাঁড়িয়ে হজরত ইবরাহিম (আ.) হজের ঘোষণা দিয়েছিলেন। এ প্রসঙ্গে ফাকেহি ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে করেন, হজরত ইবরাহিম (আ.) কাবা ঘরের নির্মাণ কাজ শেষ করলে আল্লাহ তাকে হজের ঘোষণা দেওয়ার নির্দেশ দিলেন। অত:পর তিনি মাকামে ইবরাহিমে দাঁড়িয়ে ঘোষণা দিলেন, হে লোকেরা! তোমাদের প্রতিপালক তোমাদের জন্য একটি ঘর নির্মাণ করেছেন। অতঃএব তোমরা তাতে হজ করো।

তখন পুরুষদের পৃষ্ঠদেশ ও নারীদের গর্ভাশয় থেকে মানুষ তার জবাব দিয়ে বলল, আমরা সাড়া দিলাম, আমরা সাড়া দিলাম। আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, হে আল্লাহ! তোমার দরবারে উপস্থিত। তিনি বলেন, সুতরাং বর্তমানে যত মানুষ হজ করে তারা ওই সব লোক যারা সেদিন ইবরাহিম (আ.)-এর ডাকে সাড়া দিয়েছিল।

পাথরটি হজরত ইবরাহিম (আ.)-এর যুগ, তারপরে জাহেলি যুগ, রাসূল (সা.)-এর যুগ এবং সর্বশেষ হজরত আবু বকর (রা.)-এর যুগে কাবা ঘরের সঙ্গে লাগানো অবস্থায় ছিলো। পরবর্তীতে উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) একটিকে কাবা থেকে কিছুটা দূরে স্থাপন করেন।

ইমাম বায়হাকি সহিহ সনদে হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন, মাকামটি রাসূলুল্লাহ (সা.) ও হজরত আবু বকর (রা.)-এর যুগে কাবা ঘরের সঙ্গে লাগানো ছিল। অত:পর হজরত উমর (রা.) সেটিকে পেছনে নিয়ে আসেন।

এর উদ্দেশ্য ছিল, যেহেতু মাকামে ইবরাহিমের পেছনে নামাজ আদায়ের নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে, সেহেতু সেটিকে এমন স্থানে স্থানান্তরিত করা প্রয়োজন যেন, লোকজন সুবিধাজনকভাবে নামাজ আদায় করতে পারে এবং তওয়াফকারীগণও বাধাগ্রস্ত না হয়। ইবনে হাজার আসকালানি (বহ.) বলেন, উমর (রা.)-এর কাজে কোনও সাহাবি প্রতিবাদ করেননি। সুতরাং এটি সাহাবিদের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত হিসেবে পরিগণিত।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র