Barta24

রোববার, ১৮ আগস্ট ২০১৯, ৩ ভাদ্র ১৪২৬

English

৯৯ মডেল মসজিদের জমি পাচ্ছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন

৯৯ মডেল মসজিদের জমি পাচ্ছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন
মডেল মসজিদের ডিজাইন, ছবি: সংগৃহীত
মুফতি এনায়েতুল্লাহ
বিভাগীয় সম্পাদক
ইসলাম


  • Font increase
  • Font Decrease

মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় ৯৯ মসজিদের জন্য প্রতীকী মূল্যে খাস জমি বন্দোবস্ত ও জমি অধিগ্রহণের জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছে। ১০ ফেব্রুয়ারির মধ্যে জমি বন্দোবস্ত চূড়ান্ত ও ১২ ফেব্রুয়ারির মধ্যে জমি অধিগ্রহণ শেষ করতে বলা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অগ্রাধিকারভিত্তিক ‘প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় একটি করে ৫৬০টি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র স্থাপন (১ম সংশোধিত) শীর্ষক প্রকল্পে’র আওতায় এসব জমি পাচ্ছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন।

সম্প্রতি ধর্ম মন্ত্রণালয়ের (পরিকল্পনা-২) শাখার উপ-সচিব মো. শাখাওয়াত হোসেন স্বাক্ষরিত আলাদা দুই চিঠিতে জেলা প্রশাসকদের প্রস্তাবিত মোট ৩৭টি খাস জমি ‘অকৃষি খাস জমি বন্দোবস্ত নীতিমালা’ অনুযায়ী প্রতীকী মূল্যে দীর্ঘ মেয়াদে বন্দোবস্ত ও ৬২টি স্থানের ব্যক্তিগত জমি ইসলামিক ফাউন্ডেশনের নামে অধিগ্রহণের জন্য প্রশাসনিক মঞ্জুরি প্রদান করার কথা বলা হয়েছে।

ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা ও সংস্কৃতি প্রচার-প্রসারের লক্ষে সরকার দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় একটি করে মোট ৫৬০টি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে। ইতোমধ্যে নয়টি মসজিদের নির্মাণকাজ উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

মোট ৮ হাজার ৭২২ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০২০ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে দেশীয় সম্পদ ব্যবহার করে সম্পূর্ণ বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অধীনে ইসলামিক ফাউন্ডেশন এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে। প্রকল্পটি সৌদি অর্থায়নে হওয়ার কথা ছিল। পরবর্তীতে সৌদি আরব এ বিষয়ে নিরব থাকায় ধর্ম মন্ত্রণালয় নিজস্ব অর্থায়নে এ প্রকল্পের কাজ শুরু করছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jan/14/1547477852884.jpg

যে সব জেলা-উপজেলায় খাস জমি বন্দোবস্ত করা হবে সেগুলো হলো- গাজীপুর জেলা সদর (মডেল), গাজীপুর সদর উপজেলা, গোপালগঞ্জের কোটালিপাড়া ও মুকসেদপুর, কিশোরগঞ্জের সদর, কুলিয়ারচর, ভৈরব, বাজিতপুর ও অষ্টগ্রাম; মানিকগঞ্জের ঘিওর, টাঙ্গাইলের কালিহাতি, নাটোরের লালপুর ও সিংড়া; চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল, ফরিদপুর, পাবনার সাথিয়া, সিরাজগঞ্জ জেলা সদর, সদর উপজেলা সিরাজগঞ্জ, গাইবান্ধার পলাশবাড়ি, কুড়িগ্রাম জেলা সদর, নীলফামারী জেলা সদর, রংপুরের কাউনিয়া, ঠাকুরগাঁও জেলা সদর, হরিপুর ও ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা ও রানীশৈংকল, জামালপুরের ইসলামপুর, সদর উপজেলা, সরিষাবাড়ি, ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট, ঈশ্বরগঞ্জ ও মুক্তাগাছা, বরগুনার তালতলী, নোয়াখালীর কোম্পানিগঞ্জ, সোনাইমুড়ি ও সুবর্ণচর এবং ঝিনাইদহের শৈলকুপা।

যে সব জেলা-উপজেলায় খাস জমি বন্দোবস্ত করা হবে

যে সব জেলা-উপজেলার নামে ব্যক্তিগত অধিগ্রহণের জন্য মঞ্জুরি দেওয়া হয়েছে সেগুলো হলো- ফরিদপুরের সালথা, গোপালগঞ্জের সদর ও কাশিয়ানী, কিশোরগঞ্জের মিঠামইন ও ইটনা, মাদারীপুরের শিবচর, নারায়ণগঞ্জের সদর, নরসিংদীর রায়পুরা, রাজবাড়ী সদর, জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল, বগুড়া জেলার শাজাহানপুর, শিবগঞ্জ ও সোনাতলা; সিরাজগঞ্জের বেলকুচি; কামারখন্দ ও কাজীপুর, দিনাজপুরের বীরগঞ্জ; চিরিরবন্দর ও কাহারোল, গাইবান্ধার সাদুল্লাহপুর; সাঘাটা ও সুন্দরগঞ্জ, পঞ্চগড়ের সদর, রংপুরের গঙ্গাচড়া; পীরগাছা ও তারাগঞ্জ, শেরপুর সদর, বরিশালের বাকেরগঞ্জ, ঝালকাঠি সদর, পিরোজপুরের ইন্দুরকানী, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া; বাঞ্ছারামপুর; নাসিরনগর, সরাইল ও আশুগঞ্জ, চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ, চট্টগ্রামের বাঁশখালী ও চন্দনাইশ, কুমিল্লার দেবিদ্বার, নোয়াখালীর চাটখিল ও কবিরহাট, ফেনীর ছাগলনাইয়া ও পরশুরাম, চুয়াডাঙ্গা সদর; দামুড়হুদা ও জীবননগর, যশোর সদর ও কেশবপুর, ঝিনাইদহের হরিনাকুন্ডু; কালীগঞ্জ ও মহেশপুর, মাগুরার শালিখা ও শ্রীপুর, মেহেরপুরের মুজিবনগর, হবিগঞ্জের সদর; চুনারুঘাট ও মাধবপুর, সিলেটের ওসমানীনগর, মৌলভীবাজার সদর ও কমলগঞ্জ।

যে সব জেলা-উপজেলায় ব্যক্তিগত জমি অধিগ্রহণ করা হবে

এই প্রকল্পের আওতায় প্রতিটি জেলায় এবং পাঁচ সিটি কর্পোরেশনে চারতলা বিশিষ্ট এবং উপজেলায় তিনতলা বিশিষ্ট মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মিত হবে।

৪৭৫টি উপজেলায় তিন তলা মডেল মসজিদ হবে। এ ছাড়া উপকূলীয় এলাকায় ১৬টি চারতলা মডেল মসজিদ হবে, যেখানে নীচ তলা ফাঁকা রাখা হবে।

শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত মূল মসজিদে মহিলাদের জন্য আলাদা নামাজের ব্যবস্থা থাকবে। এ ছাড়া অসুস্থ ও প্রতিবন্ধীদের জন্য আলাদা সিঁড়ি থাকবে। মডেল মসজিদে অফিস, কনফারেন্স হল, লাইব্রেরি, হিফজখানা, লাশ গোসলের ব্যবস্থা ও একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থাকবে।

আপনার মতামত লিখুন :

হজ শেষে ধূমপান ছাড়লেন ৩১৩ হাজি

হজ শেষে ধূমপান ছাড়লেন ৩১৩ হাজি
হজ মৌসুমে বিভিন্ন দেশ থেকে আগত ধূমপায়ীদের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টিতে কাজ করছে কাফা, ছবি: সংগৃহীত

মক্কা (সৌদি আরব) থেকে: সৌদি আরবে ধূমপান নিষিদ্ধ। আর ইসলামের দৃষ্টিতে ধূমপান মাকরুহ তথা চরম অবাঞ্ছিত কাজ। তারপরও মক্কায় দেখা যায় অনেকেই মসজিদে হারামের বাইরের চত্বরে ধূমপান করেন। রাস্তাঘাটেও ধূমপান করতে দেখা যায় অনেককে। এমনকি ইহরাম পরিহিত অনেককে মিনা, মুজাদালিফা ও আরাফাতের ময়দানে ধূমপান করতে দেখা গেছে।

ধূমপানের এমন ব্যাপকতা থেকে হজযাত্রীদের নিরুতসাহ করতে সৌদি আরবের তামাক, ধূমপান ও মাদক প্রতিরোধ সংস্থা ‘কাফা’ (The Tobacco and Narcotics Combat Charity Society-Kafa) দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছে। বিশেষ করে হজ মৌসুমে বিভিন্ন দেশ থেকে আগত ধূমপায়ীদের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টিতে কাজ করছে।

সংস্থাটি হজের আনুষ্ঠানিকতার জায়গাগুলোতে ভ্রাম্যমাণ সেবাকেন্দ্র স্থাপন করে। সেখান থেকে ধূমপায়ীদের মাঝে ধূমপান বিরোধী প্রচারপত্র বিলির পাশাপাশি কাউন্সেলিং করানো হয়। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা ধূমপান ছাড়তে হজযাত্রীদের পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় ঔষধ দিয়ে থাকেন। ধূমপানের ক্ষতির বিষয়ে সচেতন করতে হাজিদের মাঝে পুস্তিকা, লিফলেট ও মিসওয়াক বিতরণ করা হয়। এভাবে ভ্রাম্যমাণ সেবাকেন্দ্র থেকে এবার ১১ হাজার ৪৮০ ধূমপায়ীকে সেবা দেওয়া হয়েছে।

কাফার ক্লিনিকে সেবা নিতে এসে ধূমপানের বিপত্তি ও ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে অবগত হয়ে অনেকে ধূমপান ছেড়ে দিয়েছেন। চলতি হজ মৌসুমের ধূমপান ত্যাগীর সংখ্যা ৩১৩ জন। কাফার সেবাকেন্দ্র থেকে সেবা নিয়ে তার ধূমপান ছেড়ে দিয়েছেন।

মক্কায় ধূমপানের ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি জন্য গঠিত কমিটির প্রধান আবু গাজালাহ স্থানীয় গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, সৌদি আরবের দাতব্য মন্ত্রণালয়, হজ ও ওমরা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ক এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে কাফা ধূমপান বিরোধী নানা কর্মসূচি প্রণয়ন করে থাকে। সেই সঙ্গে কাফা মিনা, মুজদালিফা ও আরাফাতসহ মক্কায় হজযাত্রীদের ধূমপান বিরোধী চিকিতসা দেয়।

চার বছর ধরে এই কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে।

অবশ্য অনেক ধূমপায়ী পবিত্র হজপালন শেষে নিজ থেকেই ধূমপান ছেড়ে দেন। তাদের হিসাব এখানে আসেনি।

মদিনা যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশি হাজির মৃত্যু

মদিনা যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশি হাজির মৃত্যু
মদিনা হাইওয়ে, ছবি: সংগৃহীত

মক্কা (সৌদি আরব) থেকে: পবিত্র হজপালন শেষে হজরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রওজা জিয়ারতের উদ্দেশ্যে মক্কা থেকে মদিনা যাওয়ার পথে বাংলাদেশি হাজি বহনকারী বাস দুর্ঘটনায় ১ জন হাজি ঘটনাস্থলে ইন্তেকাল ও ২২ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

দুর্ঘটনায় মারা যাওয়া হাজির নাম নুরুল ইসলাম (৭০)। তার গ্রামের বাড়ি ফেনী সদরে।

শুক্রবার (১৬ আগস্ট) রাত সোয়া ১১টার দিকে মদিনা থেকে একশ' মাইল আগে ওয়াদি ফারা নামক স্থান বাসের চাকা বিস্ফোরণ হয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনায় বাসটি উল্টে যায়। ওই বাসটিতে ৩৫ জন হাজি ছিলেন। আহতদের মধ্যে ৭ জনের অবস্থা গুরুতর। বাসের যাত্রীরা স্কাই ট্রাভেলসের মাধ্যমে সৌদি আরবে হজপালনের উদ্দেশ্যে আসেন।

আহতদের মদিনার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে একজন নারী ছাড়া বাকিদের অবস্থা উন্নতির দিকে। গুরুতর আহতদের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয়েছে।

আহতদের ৮ জন মদিনা কিং ফাহাদ হাসপাতালে, মিকাত হাসপাতালে ৪ জন, উহুদ হাসপাতালে ২ জন, সৌদি-জার্মান হাসপাতালে ২ জন ও ইয়াতামা হাসপাতালে ২ জন চিকিতসাধীন রয়েছেন।

এদিকে হজপালনে সৌদি আরবে এসে শনিবার (১৬ আগস্ট) রাত পর্যন্ত ৮১ জন হাজি ইন্তেকাল করেছেন। তাদের মধ্যে পুরুষ ৭১ জন, নারী ১০ জন। মারা যাওয়া হাজিদের ৭২ জন মক্কায়, ৮ জন মদিনায় ও ১ জন জেদ্দায় ইন্তেকাল করেছেন।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র