গ্রিসকে ফাতিয়া মসজিদ খুলে দিতে বললেন এরদোয়ান

ইসলাম ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ফাতিয়া মসজিদ, এথেন্স, গ্রিস, ছবি: সংগৃহীত

ফাতিয়া মসজিদ, এথেন্স, গ্রিস, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

ইস্তাম্বুলে খ্রিস্টান যাজকদের জন্য সেমিনারি (শিক্ষাশ্রম) করতে দেওয়ার অনুমতির বিনিময়ে গ্রিসের রাজধানী এথেন্সের ঐতিহাসিক ফাতিয়া মসজিদ খুলে দেওয়ার শর্ত দিয়েছে তুরস্ক।

দেশটির প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান গ্রিসের প্রধানমন্ত্রী অ্যালেক্সিস সিপরাসকে এ শর্ত দেন। চলতি মাসে তুরস্কে সফরে গিয়েছিলেন গ্রিস প্রধানমন্ত্রী অ্যালেক্সিস সিপরাস। এ সময় তিনি বিতর্কিত হাজিয়া সোফিয়া এবং বন্ধ হয়ে যাওয়া গ্রিক অর্থোডক্স হালকি শিক্ষাশ্রম পরিদর্শন করেন। ইস্তাম্বুলের হেইবেলি দ্বীপে শিক্ষাশ্রমটি অবস্থিত।

সিপরাস বলেন, আগামীতে এরদোয়ানের সঙ্গে তিনি এটি ফের চালু করবেন। সাইপ্রাস নিয়ে আঙ্কারা ও এথেন্সের মধ্যে উত্তেজনার সময় ১৯৭১ সালে শিক্ষাশ্রমটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।

মসজিদ খুলে দেওয়ার সময় এরদোয়ান অনেকটা অভিযোগের সুরে বলেন, গ্রিসকে পীড়াপীড়ি সত্ত্বেও এথেন্সের ফাতিয়া মসজিদের মিনার এখনও উন্মোচন করা হয়নি।

আগামী ৩১ মার্চ তুরস্কের স্থানীয় নির্বাচন সামনে রেখে এডিরন প্রদেশে এক সমাবেশে শনিবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) তিনি এসব কথা বলেন।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Feb/18/1550503822265.jpg

উসমানীয় খেলাফতের সময় ১৪৫৮ সালে মসজিদটি নির্মাণ করা হয়েছিল। তবে ১৮২১ সালের পর সেটি আর ব্যবহার করা হচ্ছে না। সিপরাসকে এরদোয়ান বলেন, ‘দেখুন, আপনি যদি আমাদের কাছ থেকে কিছু চান; আপনি যদি হালকি শিক্ষাশ্রম চান, তবে আমি আপনাকে (গ্রিস) বলব, ফাতিয়া মসজিদ খুলে দিন।’

তারা বলেছেন, আমরা মসজিদটি খুলে দিতে যাচ্ছি। কিন্তু আমি বলেছি, তা হলে মসজিদটিতে মিনার থাকবে না কেন? বেল টাওয়ার ছাড়া কী গির্জা হতে পারে?

তুর্কি প্রেসিডেন্ট বলেন, আমরা বলেছি, আপনারা কি একটি বেল টাওয়ার নির্মাণ করতে চান। তা হলে আসুন, নির্মাণ করুন। কিন্তু আমাদের মসজিদের অপরিহার্য অংশ কি? মিনার, তাই মিনার বানাতে দিন। তখন সিপরাস আমাকে বললেন, এটা নিয়ে তিনি গ্রিসের বিরোধী দলীয়দের সমালোচনার মুখোমুখি হওয়ার আতঙ্কে আছেন।

১৮২১ সালে উসমানীয় সাম্রাজ্য থেকে স্বাধীনতা লড়াই শুরু হওয়ার পর মসজিদের মিনারটি ধ্বংস করা হয়েছে। কারণ মিনারটিকে উসমানীয় সাম্রাজ্যের প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এদিকে ১৯৪৩ সালে শিক্ষাশ্রমটির কাছ থেকে নিয়ে নেওয়া জমি ফেরত দেয় আঙ্কারা। তবে এটি খুলে দেওয়ার জন্য তুরস্কের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ রয়েছে।

এর আগে এরদোয়ান দাবি করেছিলেন, গ্রিসে তুর্কি সংখ্যালঘুদের অধিকার বৃদ্ধি করার ওপর নির্ভর করছে এটি খুলে দেওয়া হবে কিনা?

আপনার মতামত লিখুন :