Barta24

রোববার, ২১ জুলাই ২০১৯, ৫ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

আল্লাহর নৈকট্য অর্জনে সুন্নতের আমল

আল্লাহর নৈকট্য অর্জনে সুন্নতের আমল
আল্লাহর নৈকট্য অর্জনে সুন্নতের আমল, ছবি: সংগৃহীত
ইসলাম ডেস্ক
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

আল্লাহতায়ালা কোরআনে কারিমে ইরশাদ করেন, ‘যে রাসূলের আনুগত্য করলো সে পকৃতপক্ষে আল্লাহরই আনুগত্য করলো।’ -সূরা আন নিসা: ৮০

হজরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক হাদিসে ইরশাদ করেন, ‘যে আমার সুন্নতকে জীবিত করল, সে আমাকে ভালোবাসল। আর যে আমাকে ভালোবাসল, সে আমার সাথে জান্নাতে থাকবে।’ -তিরমিজি শরীফ

মুসলিম জাতির পারিবারিক, সামাজিক, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জীবনে সুন্নতের গুরুত্ব অপরিসীম। জীবনের প্রতিটি অধ্যায় সুন্দর ও সৌরভময় করতে হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর ৬৩ বছরের বর্ণাঢ্য জীবনে উম্মতকে দিয়েছেন সুন্দর ও উজ্জ্বলময় পথনির্দেশ। যা আমাদের নিকট সুন্নত নামে সুপরিচিত।

ইসলামে এমন কোনো বিষয় নেই, যে সম্পর্কে ইসলাম দিক-নির্দেশনা দেয়নি। লেবাস-পোষাক, চুল, বিয়ে-শাদি, ওলিমা, অসুস্থতা-চিকিৎসা ও রোগীর সেবাতেও হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নত রয়েছে।

লেবাস-পোষাকের ১১ সুন্নত
হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) সাদা রঙের কাপড় পছন্দ করতেন। -শামায়েলে তিরমিজি

জামা পরিধান করার সময় প্রথমে ডান হাত হাতা প্রবেশ করানো, তারপর বাম হাত। পাজামা পরার সময়ও প্রথমে ডান পা তারপর বাম পা ঢোকানো। -সুনানে তিরমিজি

প্যান্ট, সেলোয়ার ও লুঙ্গি টাখনুর ওপরে পড়তে হয়। টাখনুর নিচে পরলে আল্লাহ অসন্তুষ্ট হন। এ প্রসঙ্গে হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘শরীরের নিম্নাংশের কাপড়কে যারা টাখনুর নিচে নামিয়ে রাখে তাদের প্রতি আল্লাহ রহমতের দৃষ্টিতে তাকান না।’ –সহিহ বোখারি ও মুসলিম

নতুন কাপড় পরিধানের সময় এই দোয়া পড়তে হয়। আলহামদুলিল্লাহ হিল্লাযি কাসানি হা-যাচ্ছাওবা ওয়া রাজাকনীহি মিন্ গায়রি হাওলিম্ মিন্নি ওয়া লা- কুয়্যা।

অর্থ: সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি আমাকে এই কাপড় পরিধান করিয়েছেন এবং কোনো চেষ্টা-শক্তি ব্যতীত আমাকে রিজি দান করেছেন। -সুনানে আবু দাউদ

পাগড়ির নিচে টুপি রাখা সুন্নত। -মিরকাতুল মাফাতিহ

পাগড়ির প্রান্তস্থিত কারু ছেড়ে দেওয়া সুন্নত। -সুনানে নাসায়ি

মাথায় টুপি দেওয়া সুন্নত। -মিরকাতুল মাফাতিহ

জামা খোলার সময় আস্তিন থেকে প্রথমে বাম হাত তারপর ডান হাত বের করবেন। পাজামার ক্ষেত্রেও প্রথমে বাম পা, তারপর ডান পা বের করবেন। -সুনানে তিরমিজি

জুতা-স্যান্ডেল প্রথমে ডান পায়ে পরিধান, তারপর বাম পা। -সহিহ বোখারি

খোলার সময় প্রথমে বাম পায়ের জুতা খুলতে হয়, তারপর ডান পা। -সহিহ বোখারি

চুল রাখার সুন্নতসমূহ
হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর চুল মোবারক কান পর্যন্ত ছিলো। কানের লতির কাছাকাছি ছিল এমন বর্ণনাও পাওয়া যায়। -শামায়েলে তিরমিজি

কানের লতি বা তার সামান্য নিচে পর্যন্ত পুরো মাথার চুল রাখা সুন্নত। পুরো মাথা ন্যাড়া করে ফেলা জায়েজ। চুল কাটতে হলে পুরো মাথায় সমানভাবে কাটতে হবে। কিছু ছোট রেখে কিছু বড় রাখা নাজয়েজ। শুধু সামনের বা শুধু ওপরের চুল লম্বা রাখা বৈধ নয়। মাথার অর্ধাংশ ন্যাড়া করে অপর অংশে চুল রাখাও বৈধ নয়। -বেহেশতী জেওর

হাদিস শরীফে পাগড়ি লম্বা করা এবং গোঁফ খাটো করার নির্দেশ আছে। -সহিহ বোখারি

দাড়ি সেভ করা এবং এক মুষ্টি থেকে কম রাখা বা ফ্রেন্সকাট দাড়ি রাখা নাজায়েজ। -বেহেশতী জেওর

এক মুষ্টি পরিমাণ দাড়ি রাখা ওয়াজিব। এটি হাদিস দ্বারা প্রমাণিত।

গোঁফ খুব ভালোভাবে কেটে ফেলা সুন্নত। ঝাঁটার মতো লম্বা গোঁফ রাখার ব্যাপারে হাদিসে শাস্তির কথা উল্লেখ আছে। -বেহেশতী জেওর

নাভীর নিচের লোম, বগলের লোম ও নখ ইত্যাদি ভালোভাবে কেটে পরিস্কার-পরিছন্ন থাকা বাঞ্চনীয়। ৪০ দিন পর্যন্ত এগুলো পরিস্কার না করলে গোনাহ হয়। -সহিহ বোখারি

চুল ধোয়া, তেল দেওয়া এবং চিরুনির সাহায্যে পরিপাটি করে রাখা সুন্নত। -আওজাযুল মাসালিক

চুল আঁচড়নোর সময় ডানদিক থেকে শুরু করা সুন্নত। -বেহেশতী জেওর

আপনার মতামত লিখুন :

৬২ হাজার ৭৪৫ হজযাত্রী সৌদি আরব পৌঁছেছেন

৬২ হাজার ৭৪৫ হজযাত্রী সৌদি আরব পৌঁছেছেন
জেদ্দা বিমান বন্দরে ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করছেন হজযাত্রীরা, ছবি: সংগৃহীত

পবিত্র হজপালনে ৬২ হাজার ৭৪৫ জন হজযাত্রী সৌদি আরব পৌঁছেছেন। তাদের মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় রয়েছেন ৪ হাজার ৬০৪ জন ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৫৮ হাজার ১৪১ জন। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স পরিচালিত ৮৮টি ও সৌদি এয়ারলাইন্স পরিচালিত ৮৫টিসহ মোট ১৭৩টি ফ্লাইটে তারা সৌদি আরব পৌঁছান।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) দিবাগত রাত ৩টায় মক্কা থেকে ধর্ম মন্ত্রণালয় প্রকাশিত হজ বুলেটিন সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

চলতি বছর সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় মোট হজযাত্রীর সংখ্যা ১ লাখ ২৬ হাজার ৯২৩ জন। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে এ বছর হজ অনুষ্ঠিত হবে ১০ আগস্ট। ধর্ম মন্ত্রণালয় অনুমোদিত হজ এজেন্সির সংখ্যা ৫৯৮টি।

গত ৪ জুলাই থেকে হজ ফ্লাইট শুরু হয়। শেষ ফ্লাইট আগামী ৫ আগস্ট। হজযাত্রীদের প্রথম ফিরতি ফ্লাইট ১৭ আগস্ট এবং শেষ ফিরতি ফ্লাইট ১৫ সেপ্টেম্বর।

বুলেটিনে আরও জানানো হয়েছে, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সৌদি আরব ব্যবস্থাপনামহ ১ লাখ ১ হাজার ৩৮৫ জন হজযাত্রীর ভিসা ইস্যু করেছে।

অনলাইনে হেলথ সার্টিফিকেট ইস্যু করা হয়েছে ১ লাখ ২৩ হাজার ৬৬০ জন হজযাত্রীর।

বাংলাদেশি হজযাত্রীদের মধ্যে সৌদি আরবে ১২ জন ইন্তেকাল করেছেন। তন্মধ্যে ১০ জন পুরুষ ও ২ জন মহিলা। তাদের ৯ জন মক্কায়, মদিনায় ২ জন ও জেদ্দায় ১ জন ইন্তেকাল করেন।

হজযাত্রীদের ধর্মীয় পরামর্শক দলে আরও ৩ আলেম

হজযাত্রীদের ধর্মীয় পরামর্শক দলে আরও ৩ আলেম
হজযাত্রীদের ধর্মীয় পরামর্শক দলে আরও ৩ আলেমকে অন্তর্ভুক্ত করেছে ধর্ম মন্ত্রণালয়

সৌদি আরবে বাংলাদেশি হজযাত্রীদের হজপালন বিষয়ে ধর্মীয় পরামর্শ ও দিক-নির্দেশনা দেওয়ার জন্য গঠিত ওলামা-মাশায়েখদের দলে যোগ হয়েছেন আরও তিন আলেম। এখন ওই দলের সদস্য সংখ্যা ৫৭। এর আগে ৯ জুলাই ৫৫ জন আলেমের একটি দল গঠন করে ধর্ম মন্ত্রণালয়।

তালিকায় যোগ হওয়া ওই তিনজন হলেন- হাইয়াতুল উলইয়ার কো-চেয়ারম্যান মাওলানা আশরাফ আলীর ছেলে হাফেজ মাওলানা মুফতি শামীম আহমদ (মুহাদ্দিস, মাদরাসাতুল আবরার, মাতুয়াইল, ঢাকা), বেফাক মহাসচিব মাওলানা আবদুল কুদ্দসের ছেলে মাওলানা মোহাম্মদ মঞ্জুরুল হাসান যোবায়ের (শিক্ষক, ফরিদাবাদ মাদরাসা, ঢাকা) ও মাওলানা সাজিদুর রহমান (মুহতামিম, দারুল আরকাম মাদরাসা, বি.বাড়িয়া)। তন্মধ্যে মাওলানা আশরাফ আলী ও মাওলানা আবদুল কুদ্দুস ওলামা-মাশায়েখদের দলে আগেই ছিলেন। এবার তালিকায় তাদের সঙ্গে সন্তানরাও যোগ হলেন। 

তালিকা দেখতে ক্লিক করুন 

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব শিব্বির আহমদ উছমানি স্বাক্ষরিত এক চিঠির বরাতে ওলামা-মাশায়েখদের হজ পালনের বিষয়টি জানানো হয়। রাষ্ট্রীয় খরচে হজযাত্রীদের প্যাকেজে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা প্রদান সাপেক্ষে ওলামা-মাশায়েখদের হজপালনে এবারই প্রথম অন্তর্ভুক্ত করা হলো।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, আগামী ৪ ও ৫ আগস্ট ফ্লাইট প্রাপ্তি সাপেক্ষে ওলামা-মাশায়েখদের দলটি সৌদি আরবে যাবেন। ২৩ আগস্ট তারা দেশে ফিরে আসবেন। রাষ্ট্রীয় খরচে হজ সফর হিসেবে গণ্য হবে। মনোনীত আলেমদের কোরবানি নিজ খরচে করতে হবে। মক্কা-মদিনায় তাদের ভ্রমনসূচি হজ কাউন্সিলর কর্তৃক নির্ধারিত হবে, তারা নিজ অর্থায়নে হলেও স্ত্রী-সন্তানসহ গমন করতে পারবেন না।

এদিকে ১৪ জুলাই বাংলাদেশিদের হজ ব্যবস্থাপনার কাজে সার্বিক তত্ত্বাবধান ও দিক-নির্দেশনা প্রদানের জন্য ১০ সদস্য বিশিষ্ট হজ প্রতিনিধি দল গঠন করে ধর্ম মন্ত্রণালয়। ওই দলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদাসহ তিনজন প্রতিমন্ত্রী, তিনজন সংসদ সদস্য, দু্’জন সচিব ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একজন মহাপরিচালক (মহাপরিচালক-৩) রয়েছেন।

এই দুই দল ছাড়াও বাংলাদেশি হজযাত্রীদের জেদ্দা, মক্কা ও মদিনায় সহায়তা করতে সরকার বেশ কয়েকটি টিম গঠন করে সৌদি আরব প্রেরণ করেছে। দলগুলো হলো- হজ চিকিৎসক দল, হজ প্রশাসনিক দল, হজ কারিগরি দল ও হজ চিকিৎসক দলের সহায়ক দল।

আরও পড়ুন:

হজযাত্রীদের পরামর্শ দিতে ৫৫ আলেমকে সৌদি পাঠাচ্ছে সরকার

সিইসিসহ হজ প্রতিনিধি দলে ৩ মন্ত্রী, ৩ এমপি

উল্লেখ্য, এ বছর বাংলাদেশ থেকে সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ১ লাখ ২৬ হাজার ৯২৩ জন হজযাত্রী হজপালনের জন্য সৌদি আরব যাবেন।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র