Barta24

রোববার, ২১ জুলাই ২০১৯, ৬ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

মেলবোর্নের প্রথম হিজাবি মডেল

মেলবোর্নের প্রথম হিজাবি মডেল
মেলবোর্নের প্রথম হিজাবি মডেল হানান ইবরাহিম, ছবি: সংগৃহীত
ইসলাম ডেস্ক
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

হানান ইবরাহিম। অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নের বসবাসকারী এক মুসলিম নারী। পেশায় ডাক্তার। সম্প্রতি তিনি ডাক্তারি ছেড়ে ফ্যাশন মডেলিংকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করেছেন।

আগে তিনি রেডিয়েশন থেরাপিস্ট হিসেবে কর্মরত ছিলেন। মডেলিং পেশায় সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে সম্প্রতি তিনি ফ্যাশন ডিজাইনার লিসা গ্রোমানের ডিজাইনে অংশ নিয়েছেন। তার অংশগ্রহণ অস্ট্রেলিয়ার ফ্যাশন জগতকে আরও সমৃদ্ধ করেছে। কারণ তিনিই প্রথম নারী, যে মেলবোর্নের ফ্যাশন উৎসবে হিজাব পরে মডেলিং করেছেন। খবর এসবিএস নিউজ।

২৫ বছর বয়সী এই মডেলের প্রত্যাশা, মডেলিংয়ে তার অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে অস্ট্রেলিয়ার মুসলিম নারীদের জন্য বিশাল এক সুযোগ সৃষ্টি হলো।

তার মতে, ‘অস্ট্রেলিয়া বিভিন্ন সংস্কৃতির দেশ হিসেবে পরিচিত। মেলবোর্নে বসবাস করে আপনি তা অনুভব করতে পারবেন। কিন্তু ফ্যাশন শিল্পে আপনি তা দেখতে পারবেন না। সুতরাং আমি আশা করি, এর মাধ্যমে প্রথাগত ধ্যান-ধারণা ভেঙে যাবে এবং মুসলিম নারীদের সম্মুখের বাঁধাসমূহ দূর হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি কোথাও যাওয়ার সময় আমার সঙ্গে সাধারণত একটি ব্যাগ নিয়ে যাই, যেখানে থাকে বিভিন্ন রং বেরঙের হিজাব এবং আমি আমার পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে তা পরিধান করি। যদিও মডেলিংয়ে অংশ নেওয়ার সময় বেশিরভাগ ডিজাইনার আমার জন্য প্রথাগত হিজাব নিয়ে আসে।’

অস্ট্রেলিয়ায় বসবাস করলেই হানান ইবরাহিমের জন্ম কেনিয়া। আর তার পূর্ব পুরুষরা সোমালিয়ার বংশোদ্ভূত।

অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন শহরে তার মায়ের বুটিক ব্যবসা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে ফ্যাশন জগতে তার আগ্রহ জন্মায়।

তিনি বলেন, ‘সবসময় হিজাব পরিধান করা সহজ নয়। মাঝে-মধ্যে ইসলাম ভীতি চরম আকার ধারণ করে সুতরাং অনেক সময় এমনও আসে যখন হিজাব পরিধান করা খুবই কষ্টকর। তার পরও আমি নিয়মিত হিজাব পরিধান করি। কারণ, হিজাব আমার বিশ্বাসের অংশ।’

হানান ইবরাহিম তার মডেলিং পেশা নিয়ে খুবই আশাবাদী। তিনি আশা করেন, তার সফলতা অস্ট্রেলিয়ার অন্য মুসলিম নারীদের অনুপ্রাণিত করবে।

তিনি বলেন, ‘আমি সত্যিকার অর্থেই অন্যসব মুসলিম নারীদের উৎসাহ দিতে চাই, যারা হিজাব পরিধান করেন। যারা ফ্যাশন ভালোবাসেন, এখানে তাদের জন্য একটি অবস্থান রয়েছে তা তাদের জানাতে চাই। আসলে আপনি ধর্ম মানেন বলেই নিরামিষ জীবন কাটাতে হবে, তা নয়। আপনি ইসলাম মেনেও ফ্যাশনেবল হতে পারেন।’

আপনার মতামত লিখুন :

সাদা-কালো গিলাফে নতুন রূপে কাবা

সাদা-কালো গিলাফে নতুন রূপে কাবা
সাদা-কালো গিলাফে নতুন রূপে কাবা, ছবি: সংগৃহীত

কালো কাপড়ের আচ্ছাদিত পবিত্র কাবা দেখতে বিশ্ববাসী অভ্যস্ত। এটাই কাবার চিরায়ত রূপ। কিন্তু বছরের তিন সপ্তাহের মতো সময় সেই পুরনো রূপে দেখা যায় না কাবাকে। কারণ, তখন কালো কাপড়ের সঙ্গে কাবার গিলাফের নিচের বেশ কিছু অংশ সাদা কাপড় দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়, আর কিছু অংশ খালি রাখা হয়। তখন সাদা-কালোর মিশ্রণে নতুন রূপে দেখা যায় কাবা ঘরকে।

প্রতিবছর হজ মৌসুমে জিলকদ মাসের মাঝামাঝি সময়ে পবিত্র কাবা ঘরের গিলাফকে মাটি থেকে অনেকটা উঁচুতে উঠিয়ে খাঁজ করে রাখা হয়। আর কিছু অংশ খোলা রাখা হয়।

কারণ, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হজপালনেচ্ছুদের অনেকে বরকত লাভের আশায় নিরাপত্তারক্ষীদের চোখ ফাঁকি দিয়ে কাবার গিলাফ কেটে নিয়ে যায়। তারা মনে করেন, কাবার গিলাফের টুকরো কাফনের কাপড়ের সঙ্গে দিয়ে দিলে কবরের আজাব হবে না, কিংবা পরকালে এটা তার মুক্তির কারণ হবে।
https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/21/1563722255398.jpg

অনেকে আবার পবিত্র কাবা ঘরের গিলাফ স্পর্শ করার জন্য মরিয়া হয়ে চেষ্টা করে আহত হন। ফলে অনেকের জন্য তাওয়াফ করা কষ্টসাধ্য হয়ে উঠে।
মূলত কাবার গিলাফের মূল অবয়ব রক্ষা ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার জন্য এটা করা হয়। তখন সাদা-কালোর গিলাফের সংমিশ্রণে কাবা শরিফের নতুন রূপ পরিলক্ষিত হয়। দেখার সৌভাগ্য হয় কাবার দেয়ালের প্রকৃত রূপ।

অবশ্য ৯ জিলহজ আরাফার দিন (হজের দিন) পুরনো এই গিলাফ পরিবর্তন করে নতুন গিলাফ লাগানো হবে। ফলে হজের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে এসে হাজি সাহেবর নতুন গিলাফে ঢাকা কাবা দেখতে পাবেন।
https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/21/1563722287338.jpg

কাবার গিলাফ স্পর্শ করা বা এটা ধরে দোয়া-মোনাজাত করার আলাদা কোনো ফজিলত নেই। তার পরও দেখা যায়, অনেক হজযাত্রী কাবাঘরের দেয়াল স্পর্শ করতে এমনকি তাতে নিজের রুমাল, জামা কাপড় স্পর্শ করাতে। যদিও ধর্মীয় চিন্তাবিদরা এমন কাজ করা থেকে মানুষকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

ফ্লাইট মিস করা ৬৭ হজযাত্রী মক্কার পথে

ফ্লাইট মিস করা ৬৭ হজযাত্রী মক্কার পথে
ফ্লাইট মিস করা ৬৭ হজযাত্রী এখন মক্কার পথে, ছবি: সংগৃহীত

ভিসা জটিলতার কারণে নির্ধারিত ফ্লাইট মিস করা যাত্রীদের মধ্যে সর্বশেষ ৬৭ জন হজযাত্রী সাধারণ ফ্লাইটে মক্কায় যাচ্ছেন।

রোববার (২১ জুলাই) সন্ধ্যায় এই হজযাত্রীরা অন্য সাধারণ যাত্রীদের সঙ্গী হয়ে মক্কায় যাচ্ছেন। বিমানের বিজি ১৩৫ নং ফ্লাইটে বিমানের ৪২০ জন যাত্রীর সঙ্গে এই ফ্লাইটে হজযাত্রী রয়েছেন মাত্র ১০০ জন।

মিনার এয়ার ট্রাভেলসের ৬৭ জন হজযাত্রী ভিসা জটিলতায় ১৬ জুলাই বিমানের নির্ধারিত ফ্লাইট মিস করেন। শুধু মিনার এয়ার ট্রাভেলস নয়, এর সঙ্গে আরও তিনটি ট্রাভেলসের মোট দেড়শ’ হজযাত্রী ফ্লাইট মিস করেছিলেন। তবে অন্যান্য ট্রাভেলসের হজযাত্রীরা ভিন্ন ভিন্ন ফ্লাইটে মক্কায় চলে গেছেন। কিন্তু মিনার ট্রাভেলসের হজযাত্রীরা বিচ্ছিন্নভাবে যেতে রাজি হননি। তাই তাদের সবাইকে অন্য একটি সাধারণ ফ্লাইটে মক্কায় পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেই ফ্লাইটটি (বিজি ১৩৫) রোববার সন্ধা সাড়ে ছয়টায় ঢাকা ছেড়ে গেছে।

উল্লেখ্য গত ১৪ ও ১৫ জুলাই সৌদি দূতাবাসের অনলাইন সার্ভারের জটিলতায় সঠিক সময়ে ভিসা হাতে না পেয়ে বিমানের দু’টি ফ্লাইট মিস করেছেন এই হজযাত্রীরা। দু’দিন পরে গত মঙ্গলবার ভিসা হাতে পাওয়ার পর বিমানের অন্য ফ্লাইটেও কোনো শিডিউল পাচ্ছিলেন না তারা। ফলে কবে বা কোন ফ্লাইটে এই ১৫১ জন হজযাত্রী মক্কায় যেতে পারবেন সেটিও অনেকটা অনিশ্চয়তার মধ্যেই ছিল।

রোববার আশকোনাস্থ হজক্যাম্পে গিয়ে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বেশ কয়েকটি হজ এজেন্সির মোট ১৫১ জন হজযাত্রী বিলম্বে ভিসা পাওয়ার কারণে তারা বিমানের ফ্লাইট মিস করেছিলেন। নির্ধারিত ফ্লাইটে তারা হজে যেতে পারেননি। এর মধ্যে মিনার এয়ার ট্রাভেলসের (হজ লাইসেন্স নং ১০৩০) তাদের ৬৭ জন হজযাত্রীর ভিসা দূতাবাসের সার্ভারের সমস্যার কারণে সঠিক সময়ে অর্থাৎ নির্ধারিত ফ্লাইটের আগে হাতে পাননি। এই ৬৭ জন হজযাত্রীর যাত্রার নির্ধারিত ফ্লাইট ছিল ১৬ জুলাই মঙ্গলবার (বিজি ৩০৩৩) ফ্লাইটে।

ফ্লাইট মিস করা হজযাত্রীরা বিমান হজ অফিসের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ভিন্ন ভিন্ন ফ্লাইটে মক্কায় চলে গেছেন। একমাত্র মিনার এয়ার ট্র্রাভেলস ছাড়া অন্যান্য কোনো ট্রাভেলসের ফ্লাইট মিস করা হজযাত্রী মক্কায় যাওয়ার বাকি নেই। মিনার ট্রাভেলসের যাত্রীরা বিচ্ছিন্নভাবে হজে যেতে রাজি না হওয়ায় এখন তাদের এই ৬৭ জনসহ মোট ১০০ জন হজযাত্রীকে বিমানের সাধারণ ফ্লাইটেই মক্কায় যেতে হচ্ছে।

রোববার দুপুরে আশকোনাস্থ হজ ক্যাম্পের পরিচালক (হজ অফিসার) মো: সাইফুল ইসলাম নয়া দিগন্তকে জানান, আমরা ফ্লাইট মিস করা হজযাত্রীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অন্য ফ্লাইটে মক্কায় পাঠানোর ব্যবস্থা করছি। মিনার ট্রাভেলস ছাড়া আর কোন ফ্লাইট মিস করা যাত্রী ঢাকায় নেই। তারা সকলেই মক্কায় পৌছে গেছেন। রোববার সন্ধায় বিমানের একটি ফ্লাইটে মিনার ট্রাভেলস এর ৬৭ জন হজযাত্রীও মক্কায় যাচেছন।

 

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র