Barta24

বৃহস্পতিবার, ২২ আগস্ট ২০১৯, ৭ ভাদ্র ১৪২৬

English

রমজানের বরকত লাভের উপায়সমূহ

রমজানের বরকত লাভের উপায়সমূহ
রমজান মাসের বরকত হাসিলের জন্য সবাইকে চেষ্টা করতে হবে, ছবি: সংগৃহীত
ইসলাম ডেস্ক
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

পবিত্র রমজান মাস বছরের বাকি এগারো মাস অপেক্ষা অধিক মর্যাদাশীল ও বরকতপূর্ণ। এ প্রসঙ্গে কোরআনে কারিমে আল্লাহতায়ালা ইরশাদ করেন, ‘রমজান মাসই হলো সেই মাস, যাতে নাজিল করা হয়েছে কোরআন, যা মানুষের জন্য হেদায়াত।’ সূরা বাকারা: ১৮৫

হাদিসে হজরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, ‘যখন রমজানের আগমন হয় তখন জান্নাতের দরজাসমূহ খুলে দেওয়া হয় এবং জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়। আর শয়তানদেরকে শৃঙ্খলাবদ্ধ করা হয়। -সহিহ বোখারি: ১৮৯৯

আরেক হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, আল্লাহতায়ালা প্রত্যহ ইফতারের সময় অসংখ্য ব্যক্তিকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিয়ে থাকেন। -মুসনাদে আহমদ: ২১৬৯৮

তাই এ মাস হচ্ছে হেদায়েত লাভের মাস, আল্লাহতায়ালার রহমত এবং জাহান্নাম থেকে নাজাত লাভের মাস। সুতরাং বেশি বেশি ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহতায়ালার নৈকট্য অর্জনের চেষ্টা করা এবং তওবা-ইস্তেগফারের মাধ্যমে মুক্তির সনদ লাভে সচেষ্ট হওয়া কর্তব্য।

এ মাসের রোজাকে আল্লাহতায়ালা ফরজ করেছেন। তাই প্রত্যেক সুস্থ ও প্রাপ্ত বয়স্ক মুসলিম নর-নারীর জন্য রোজা রাখা অপরিহার্য।

উল্লেখ্য যে, ফরজ ইবাদতের মাধ্যমে বান্দা আল্লাহতায়ালার সর্বাধিক নৈকট্য অর্জন করে।

রমজানের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ আমল হচ্ছে তারাবির নামাজ। রমজানের বরকতময় রাতে বিশ রাকাত তারাবির নামাজ আদায়ে যত্নবান হওয়া উচিত। রমজান মাস হচ্ছে কোরআনে কারিম নাজিলের মাস। তাই কোরআনে কারিম শোনার জন্য এবং এই পুণ্যময় রাতগুলোতে আল্লাহতায়ালার সান্নিধ্যে দণ্ডায়মান হওয়ার জন্য তারাবির নামাজের প্রতি গুরুত্ব দেওয়া কর্তব্য।

অন্য সময়ও ব্যক্তিগতভাবে অধিক পরিমাণে কোরআন মজিদ তেলাওয়াত করা উচিত।

রমজানের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে তাহাজ্জুদ নামাজ। এ মাসে যেহেতু সাহরি খাওয়ার সুবাদে সুবহে সাদিকের পূর্বে সবাইকে উঠতে হয়, তাই এ সুযোগে তাহাজ্জুদের অভ্যাস করা সহজ।

হাদিস শরিফে তাহাজ্জুদ নামাজের অনেক ফজিলত বর্ণিত হয়েছে। তদ্রূপ সাধ্যমতো দান-সদকা করা উচিত। হজরত নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ মাসে অনেক বেশি দান-সদকা করতেন। এসব নেক আমলের পাশাপাশি গোনাহ থেকে বেঁচে থাকার চেষ্টা করাও অপরিহার্য।

রমজান মাস হচ্ছে তাকওয়া ও পরহেজগারী অর্জনের মাস। আল্লাহতায়ালা রোজাকে ফরজ করেছেন তাকওয়া অর্জনের জন্য।

হাদিসের বর্ণনা থেকে জানা যায় যে, গোনাহ থেকে সর্বোতভাবে বেঁচে থাকা ছাড়া রোজা পূর্ণাঙ্গ হয় না। তাই রোজাকে নিখুঁতভাবে আদায়ের উদ্দেশ্যে মুমিন যখন গোনাহ থেকে বেঁচে থাকার চেষ্টা করে তখন আল্লাহতায়ালা নিজ অনুগ্রহে তাকে তাকওয়া ও পরহেজগারীর শক্তি দান করেন।

এ জন্য সব ধরনের গোনাহ থেকে, বিশেষ করে পরচর্চা, কুদৃষ্টি, কুচিন্তা, হারাম উপার্জন, হারাম পানাহার ইত্যাদি থেকে বেঁচে থাকা প্রত্যেক মুসলিমের একান্ত কর্তব্য। আর এসব পুরোপুরি পালন করলেই তবে রমজান ও রোজার পূর্ণ বরকত লাভ করা সম্ভব হবে, অন্যথায় নয়।

আপনার মতামত লিখুন :

হাজিদের ভিড়ে জাগ্রত থাকে মসজিদে আয়েশা

হাজিদের ভিড়ে জাগ্রত থাকে মসজিদে আয়েশা
মসজিদে হারামে নামাজ আদায়, নফল তাওয়াফ ও সুযোগ বুঝে নফল উমরা আদায় করছেন হাজিরা, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

মক্কা (সৌদি আরব) থেকে: হজপালন শেষে মক্কায় অবস্থানরত হাজিরা মক্কার বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থান পরিদর্শন, ৫ ওয়াক্ত নামাজ মসজিদে হারামে আদায়, নফল তাওয়াফ ও সুযোগ বুঝে নফল উমরা আদায় করে কাটাচ্ছেন।

মক্কায় অবস্থানরত হাজিরা উমরার নিয়ত করলে তাদের ইহরাম বাধার জন্য যেতে হয় আয়েশা মসজিদে। সেখানে যেয়ে (ইহরাম আগেও পড়া যায় মসজিদে আয়েশাতে যেয়েও অনেকে পরিধান করেন) দুই রাকাত নামাজ পড়ে তালবিয়া (লাব্বাইক .... ) পড়ে কাবা শরিফে এসে উমরার সব নিয়মনীতি পালন করেন।

মসজিদটি মক্কার তানঈম এলাকায় অবস্থিত। এটাকে মসজিদে তানঈমও বলা হয়। হেরেম এলাকার বাইরে এটি মক্কা থেকে সর্বাধিক নিকটবর্তী স্থান। মক্কা থেকে ৬ কিলোমিটার উত্তরে মক্কা-মদিনা রোডে আল হিজরা এলাকায় অবস্থিত এই মসজিদ। রাতদিন ২৪ ঘণ্টা এখানে মুসল্লিদের উপস্থিতি থাকে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/21/1566392961853.jpg

উম্মুল মুমিনিন হজরত আয়েশা (রা.) এখান থেকে উমরার ইহরাম বেঁধে উমরা করেছিলেন। পরে সেখানে একটি বিশাল মসজিদ গড়ে উঠে। মসজিদটি ইসলামি শিল্পনৈপুণ্যের এক অনুপম নিদর্শন।

বিদায় হজের সময় হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) উম্মুল মুমিনিন হজরত আয়েশা (রা.)কে তার ভাই হজরত আবদুর রহমান (রা.)-এর সঙ্গে হারামের বাইরে এখান থেকে উমরার ইহরাম বাঁধার জন্য পাঠিয়েছিলেন।

এ কারণে এখান থেকে মক্কাবাসীরা উমরার জন্য এখান থেকে ইহরাম বেঁধে থাকেন। বিদেশি হাজিরা এখান থেকে উমরার ইহরাম বেঁধে থাকেন। অবশ্য এটা নিয়ে ইসলামি স্কলারদের মাঝে বিতর্ক আছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/21/1566392972633.jpg

মক্কা থেকে এখানে আসতে বাস ভাড়া ৩ রিয়াল, আর ট্যাক্সি ভাড়া ৫ রিয়াল। সারাক্ষণ নফল উমরার ইহরামের জন্য আসা হাজিদের ভিড় থাকে মসজিদটিতে। বিশাল এই মসজিদের দু’টি মিনার ও একটি গম্বুজ অনেক দূর থেকে দেখা যায়। মসজিদটি খেজুর গাছ দ্বারা পরিবেষ্টিত। মসজিদের সামনে গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য বিশাল জায়গা রয়েছে। রয়েছেন অজু ও নারীদের নামাজের জন্য আলাদা ব্যবস্থা।

হজ বা উমরাপালন করতে যারা বিমানযোগে সৌদি আরব আসেন তারা নিজ দেশ থেকে কিংবা নির্দিষ্ট মিকাত থেকে নিয়ত করেন। কিন্তু হজের পর উমরা করতে চাইলে উত্তম হলো- নির্দিষ্ট মিকাতে যেয়ে উমরার নিয়ত করা। এজন্য তায়েফ, রাবেক, মদিনা, আস-সাইরুল খাবির, আস-সাদিয়াত যেতে পারেন। এসব জায়গা থেকে আসার পথে মিকাত পড়বে। সেখান যথা নিয়মে উমরার নিয়ত করে উমরা আদায় করতে পারেন।

ইসলামি স্কলারদের অভিমত হচ্ছে, হজে গিয়ে বেশি বেশি তাওয়াফ করা। এটি সুন্নত এবং সবচেয়ে উত্তম কাজ। কাজেই যারা মক্কায় অবস্থান করেন, তারা বেশি করে তাওয়াফ করবেন এবং আল্লাহর ঘরে গিয়ে বেশি করে নফল নামাজ আদায় করবেন।

আরও পড়ুন: হজপালনে শীর্ষ ইন্দোনেশিয়া, বাংলাদেশ চতুর্থ

আরও পড়ুন: হজ ব্যবস্থাপনা বিষয়ে কিছু প্রস্তাবনা

বাংলাদেশি আলেমরা উষ্ণ অভ্যর্থনা পেলেন মসজিদে নববীতে

বাংলাদেশি আলেমরা উষ্ণ অভ্যর্থনা পেলেন মসজিদে নববীতে
ছবি: সংগৃহীত

মক্কা (সৌদি আরব) থেকে: সৌদি আরবে আসা হজযাত্রীদের হজপালন বিষয়ে ধর্মীয় পরামর্শ ও দিক-নির্দেশনা প্রদানের জন্য রাষ্ট্রীয় খরচে আসা ৫৮ আলেমকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়েছেন মদিনার মসজিদে নববী কর্তৃপক্ষ।

মঙ্গলবার (২০ আগস্ট) সকালে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী এডভোকেট শেখ মুহাম্মদ আবদুল্লাহর নেতৃত্বে ৫৮ সদস্যের ওলামা-মাশায়েখ দল হজপালন শেষে মদিনার মসজিদে নববী পরিদর্শনে গেলে তারা এ অভ্যর্থনা জানান। এ সময় মসজিদে নববীর প্রধান কর্মকর্তা মোহাম্মদ আল খুদায়েরি বলেন, অতীতে বাংলাদেশের এতো বড় আলেম প্রতিনিধি দল সৌদি আরব বিশেষ করে মদিনায় আসেনি। একসঙ্গে বাংলাদেশের শীর্ষ আলেমদের কাছে পেয়ে তারা গভীর কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/20/1566315408680.jpg

এ সময় ধর্ম প্রতিমন্ত্রী আলহাজ্ব এডভোকেট শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিচ্ছেন তার কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সৌদি আরবের সঙ্গেও তিনি সুসম্পর্ক বজায় রাখছেন। তিনি আরও বলেন, মুসলিম বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠায় সৌদি আরবের নেতৃত্বকে সমর্থন জানাবে বাংলাদেশ।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/20/1566315426944.jpg

পরে বাংলাদেশের আলেম ও ধর্ম প্রতিমন্ত্রীকে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর রওজা মোবারকে সালাম ও দরুদ পেশ এবং রিয়াজুল জান্নাতে নামাজ পড়ার ব্যবস্থা করেন মসজিদে নববী কর্তৃপক্ষ।

উল্লেখ্য যে, হজযাত্রীদের পরামর্শ দিতে ৫৮ সদস্যের ওলামা-মাশায়েখের একটি দল রাষ্ট্রীয় খরচে সৌদি আরব অবস্থান করছেন। ২১ আগস্ট তাদের দেশে ফিরে যাওয়ার কথা রয়েছে।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র