Barta24

বৃহস্পতিবার, ২২ আগস্ট ২০১৯, ৭ ভাদ্র ১৪২৬

English

রমজানের প্রস্তুতি বিষয়ক কিছু পরামর্শ

রমজানের প্রস্তুতি বিষয়ক কিছু পরামর্শ
পবিত্র রমজানের প্রস্তুতি বিষয়ক কিছু পরামর্শ, ছবি: সংগৃহীত
মুহাম্মদ ছফিউল্লাহ হাশেমী
অতিথি লেখক
ইসলাম


  • Font increase
  • Font Decrease

বছর পরিক্রমায় আবার আমাদের মাঝে আগমন করতে যাচ্ছে সিয়াম সাধনার মাস রমজান। রমজান এমন এক আকাংখিত মাস, যার আগমনে সমগ্র মুসলিম মিল্লাত নব উদ্যমে জেগে উঠে। মহিমান্বিত এ মাসকে বরণ করার জন্য উপযুক্ত প্রস্তুতি গ্রহণ করা আমাদের সবার ইমানি দায়িত্ব।

রমজান এমন এক বরকতময় মাস, যার আগমনে পুলকিত হয়ে স্বয়ং হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) সাহাবায়ে কেরামকে মোবারকবাদ দিয়ে সুসংবাদ প্রদান করে বলেছেন, ‘তোমাদের সামনে রমজানের পবিত্র মাস আগমন করছে, যে মাসে আল্লাহতায়ালা তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করেছেন।’ -সহিহ মুসলিম

তাই এ পবিত্র মাসে ইবাদত-বন্দেগি তথা সাহরি, ইফতার, তারাবি, পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত, ইতিকাফ, তাহাজ্জুদ, জিকির-আজকার, তাসবিহ-তাহলিল, দোয়া-ইস্তিগফার, ফিতরা, দান-সদকা ইত্যাদি আদায় করা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য বাঞ্ছনীয়।

মাহে রমজানের বরকতময় মুহূর্তগুলো যথাযথভাবে কাজে লাগানোর জন্য পূর্ব-প্রস্তুতিমূলক কিছু করণীয় তুলে ধরা হলো-

রমজান মাসকে সামনে রেখে সর্বপ্রথম মানসিক প্রস্তুতি প্রয়োজন। বরকতময় এ মাস কীভাবে অতিবাহিত করবো, অন্য সময়ের চেয়ে অতিরিক্ত কী করবো এবং স্বাভাবিক আমলের অতিরিক্ত আর কী আমল হবে? সে পরিকল্পনা এখন থেকে ঠিক করে নেওয়া প্রয়োজন।

বড় ধরনের কোনো সফর থাকলে তা রমজানের আগেই করে ফেলা যায় কিনা, সে চেষ্টা করা। যাতে রোজা রেখে কষ্ট করতে না হয়।

ঈদের কেনা-কাটা রমজানের আগেই করে ফেলার চেষ্টা করা। তাহলে মাহে রমজানে সময়ের অপচয়রোধ করা সম্ভব হবে।

পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের জন্য একটি সময় নির্ধারণ করা। কোরআন তেলাওয়াত না জানলে শেখার পরিকল্পনা গ্রহণ করা।

বেশি বেশি ইসলামি বই-পত্র অধ্যয়নের পরিকল্পনা গ্রহণ।

সময় সুযোগ থাকলে রমজানের শেষ দশদিন ইতিকাফ করার নিয়ত করা।

কোনো বদ অভ্যাস থাকলে তা ত্যাগ করার বিশেষ পরিকল্পনা নেওয়া।

অধিক পরিমাণে দান-সদকা করার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করা। প্রয়োজনে দান-সদকার জন্য অর্থ সঞ্চয় করে রাখা।

গুরুত্বপূর্ণ দোয়া ও তাসবিহসমূহ রমজানের পূর্বেই শিখে নেওয়ার চেষ্টা করা।

নেক কাজের পরিকল্পনাও একটি নেক কাজ। তাই আসুন রমজানের পূর্বেই রমজানকে বরণ করে নেওয়ার প্রস্তুতি গ্রহণ করি।

লেখক: প্রাবন্ধিক ও কলেজ শিক্ষক

আপনার মতামত লিখুন :

হাজিদের ভিড়ে জাগ্রত থাকে মসজিদে আয়েশা

হাজিদের ভিড়ে জাগ্রত থাকে মসজিদে আয়েশা
মসজিদে হারামে নামাজ আদায়, নফল তাওয়াফ ও সুযোগ বুঝে নফল উমরা আদায় করছেন হাজিরা, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

মক্কা (সৌদি আরব) থেকে: হজপালন শেষে মক্কায় অবস্থানরত হাজিরা মক্কার বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থান পরিদর্শন, ৫ ওয়াক্ত নামাজ মসজিদে হারামে আদায়, নফল তাওয়াফ ও সুযোগ বুঝে নফল উমরা আদায় করে কাটাচ্ছেন।

মক্কায় অবস্থানরত হাজিরা উমরার নিয়ত করলে তাদের ইহরাম বাধার জন্য যেতে হয় আয়েশা মসজিদে। সেখানে যেয়ে (ইহরাম আগেও পড়া যায় মসজিদে আয়েশাতে যেয়েও অনেকে পরিধান করেন) দুই রাকাত নামাজ পড়ে তালবিয়া (লাব্বাইক .... ) পড়ে কাবা শরিফে এসে উমরার সব নিয়মনীতি পালন করেন।

মসজিদটি মক্কার তানঈম এলাকায় অবস্থিত। এটাকে মসজিদে তানঈমও বলা হয়। হেরেম এলাকার বাইরে এটি মক্কা থেকে সর্বাধিক নিকটবর্তী স্থান। মক্কা থেকে ৬ কিলোমিটার উত্তরে মক্কা-মদিনা রোডে আল হিজরা এলাকায় অবস্থিত এই মসজিদ। রাতদিন ২৪ ঘণ্টা এখানে মুসল্লিদের উপস্থিতি থাকে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/21/1566392961853.jpg

উম্মুল মুমিনিন হজরত আয়েশা (রা.) এখান থেকে উমরার ইহরাম বেঁধে উমরা করেছিলেন। পরে সেখানে একটি বিশাল মসজিদ গড়ে উঠে। মসজিদটি ইসলামি শিল্পনৈপুণ্যের এক অনুপম নিদর্শন।

বিদায় হজের সময় হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) উম্মুল মুমিনিন হজরত আয়েশা (রা.)কে তার ভাই হজরত আবদুর রহমান (রা.)-এর সঙ্গে হারামের বাইরে এখান থেকে উমরার ইহরাম বাঁধার জন্য পাঠিয়েছিলেন।

এ কারণে এখান থেকে মক্কাবাসীরা উমরার জন্য এখান থেকে ইহরাম বেঁধে থাকেন। বিদেশি হাজিরা এখান থেকে উমরার ইহরাম বেঁধে থাকেন। অবশ্য এটা নিয়ে ইসলামি স্কলারদের মাঝে বিতর্ক আছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/21/1566392972633.jpg

মক্কা থেকে এখানে আসতে বাস ভাড়া ৩ রিয়াল, আর ট্যাক্সি ভাড়া ৫ রিয়াল। সারাক্ষণ নফল উমরার ইহরামের জন্য আসা হাজিদের ভিড় থাকে মসজিদটিতে। বিশাল এই মসজিদের দু’টি মিনার ও একটি গম্বুজ অনেক দূর থেকে দেখা যায়। মসজিদটি খেজুর গাছ দ্বারা পরিবেষ্টিত। মসজিদের সামনে গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য বিশাল জায়গা রয়েছে। রয়েছেন অজু ও নারীদের নামাজের জন্য আলাদা ব্যবস্থা।

হজ বা উমরাপালন করতে যারা বিমানযোগে সৌদি আরব আসেন তারা নিজ দেশ থেকে কিংবা নির্দিষ্ট মিকাত থেকে নিয়ত করেন। কিন্তু হজের পর উমরা করতে চাইলে উত্তম হলো- নির্দিষ্ট মিকাতে যেয়ে উমরার নিয়ত করা। এজন্য তায়েফ, রাবেক, মদিনা, আস-সাইরুল খাবির, আস-সাদিয়াত যেতে পারেন। এসব জায়গা থেকে আসার পথে মিকাত পড়বে। সেখান যথা নিয়মে উমরার নিয়ত করে উমরা আদায় করতে পারেন।

ইসলামি স্কলারদের অভিমত হচ্ছে, হজে গিয়ে বেশি বেশি তাওয়াফ করা। এটি সুন্নত এবং সবচেয়ে উত্তম কাজ। কাজেই যারা মক্কায় অবস্থান করেন, তারা বেশি করে তাওয়াফ করবেন এবং আল্লাহর ঘরে গিয়ে বেশি করে নফল নামাজ আদায় করবেন।

আরও পড়ুন: হজপালনে শীর্ষ ইন্দোনেশিয়া, বাংলাদেশ চতুর্থ

আরও পড়ুন: হজ ব্যবস্থাপনা বিষয়ে কিছু প্রস্তাবনা

বাংলাদেশি আলেমরা উষ্ণ অভ্যর্থনা পেলেন মসজিদে নববীতে

বাংলাদেশি আলেমরা উষ্ণ অভ্যর্থনা পেলেন মসজিদে নববীতে
ছবি: সংগৃহীত

মক্কা (সৌদি আরব) থেকে: সৌদি আরবে আসা হজযাত্রীদের হজপালন বিষয়ে ধর্মীয় পরামর্শ ও দিক-নির্দেশনা প্রদানের জন্য রাষ্ট্রীয় খরচে আসা ৫৮ আলেমকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়েছেন মদিনার মসজিদে নববী কর্তৃপক্ষ।

মঙ্গলবার (২০ আগস্ট) সকালে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী এডভোকেট শেখ মুহাম্মদ আবদুল্লাহর নেতৃত্বে ৫৮ সদস্যের ওলামা-মাশায়েখ দল হজপালন শেষে মদিনার মসজিদে নববী পরিদর্শনে গেলে তারা এ অভ্যর্থনা জানান। এ সময় মসজিদে নববীর প্রধান কর্মকর্তা মোহাম্মদ আল খুদায়েরি বলেন, অতীতে বাংলাদেশের এতো বড় আলেম প্রতিনিধি দল সৌদি আরব বিশেষ করে মদিনায় আসেনি। একসঙ্গে বাংলাদেশের শীর্ষ আলেমদের কাছে পেয়ে তারা গভীর কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/20/1566315408680.jpg

এ সময় ধর্ম প্রতিমন্ত্রী আলহাজ্ব এডভোকেট শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিচ্ছেন তার কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সৌদি আরবের সঙ্গেও তিনি সুসম্পর্ক বজায় রাখছেন। তিনি আরও বলেন, মুসলিম বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠায় সৌদি আরবের নেতৃত্বকে সমর্থন জানাবে বাংলাদেশ।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/20/1566315426944.jpg

পরে বাংলাদেশের আলেম ও ধর্ম প্রতিমন্ত্রীকে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর রওজা মোবারকে সালাম ও দরুদ পেশ এবং রিয়াজুল জান্নাতে নামাজ পড়ার ব্যবস্থা করেন মসজিদে নববী কর্তৃপক্ষ।

উল্লেখ্য যে, হজযাত্রীদের পরামর্শ দিতে ৫৮ সদস্যের ওলামা-মাশায়েখের একটি দল রাষ্ট্রীয় খরচে সৌদি আরব অবস্থান করছেন। ২১ আগস্ট তাদের দেশে ফিরে যাওয়ার কথা রয়েছে।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র