Barta24

বৃহস্পতিবার, ২২ আগস্ট ২০১৯, ৭ ভাদ্র ১৪২৬

English

পবিত্র মক্কা-মদিনায় রমজানের প্রস্তুতি

পবিত্র মক্কা-মদিনায় রমজানের প্রস্তুতি
রমজান উপলক্ষে মসজিদে নববীতে নতুন সবুজ কার্পেট বিছানো হয়েছে, ছবি: সংগৃহীত
ইসলাম ডেস্ক
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

পবিত্র রমজান মাস সমাগত। রমজান উপলক্ষে প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন বিশ্বের মুসলমানরা। বিশেষ করে মসজিদগুলো প্রস্তুত করা হচ্ছে নামাজের জন্য। প্রয়োজনীয় সংস্কার কাজ থেকে শুরু করে সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হচ্ছে। উদ্দেশ্য একটাই নির্বিঘ্নে ইবাদত-বন্দেগি করা। এ দৃশ্য শুধু বাংলাদেশের নয়, পুরো বিশ্বের।

রমজানের প্রস্তুতিতে পিছিয়ে নেই মক্কা-মদিনার মসজিদগুলো। সৌদি আরবে অসংখ্য মসজিদ থাকলেও মানুষের নজরে থাকে মসজিদে হারাম ও মসজিদে নববী। সেই মসজিদে হারাম ও মসজিদে নববীতে চলছে রমজানের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি।

মঙ্গলবার (২৩ এপ্রিল) মসজিদে হারামের নির্মাণকাজসহ অন্যান্য প্রস্তুতির কাজ দেখতে আসেন মক্কার ডেপুটি গভর্নর বদর বিন সুলতান। তিনি ঘুরে ঘুরে মসজিদে হারামে রমজানের প্রস্তুতির কাজ দেখেন ও প্রয়োজনীয় দিক-নির্দেশনা দেন। মসজিদে হারামের পাশাপাশি রমজান উপলক্ষে মসজিদে নববীতে নতুন সবুজ কার্পেট বিছানো হয়েছে। প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে ব্যাপক ইফতার আয়োজন ও তারাবির।

পবিত্র রমজান মাস এলে বিশ্বব্যাপী মুসলিমরা ইবাদত-বন্দেগিতে মশগুল হয়ে উঠেন। ইবাদতের অংশ হিসেবে পবিত্র ওমরা পালন ও পবিত্র দুই মসজিদে ইতেকাফে বসেন সামর্থ্যবানরা। এই দুই মসজিদ মুসলমানদের কাছে ইবাদতের প্রিয় স্থান। তাই সারাবিশ্ব থেকে দলে দলে মুসলমানরা ছুটে আসেন মক্কা-মদিনায়।

মসজিদে হারামের নির্মাণ কাজ পরিদশন করছেন মক্কার গভর্নর, ছবি: সংগৃহীত
মসজিদে হারামের নির্মাণ কাজ পরিদশন করছেন মক্কার গভর্নর, ছবি: সংগৃহীত

কেউ আসেন অল্প সময়ের জন্য, আবার কেউ আসেন পুরো রমজান মাসের জন্য। সারাবিশ্ব থেকে আসা লাখ লাখ ধর্মপ্রাণ মানুষের সেবা-সুবিধা দিতে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয় মক্কা-মদিনায়। এবারও সেই লক্ষ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

ওমরা পালন ও ইতেকাফে আসা মুসল্লিদের জন্য মানসম্মত সেবা ও সুবিধা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। অবকাঠামোগত প্রস্তুতির পাশাপাশি ওমরা পালনে আসা মুসল্লিদের বিভিন্ন বিষয়ে ফতোয়া দেওয়ার জন্য আলাদা মুফতি নিয়োগ, মসজিদের ভেতরে ও বাইরে ইফতার বিতরণ, নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম যথাযথভাবে সচল রাখার জন্য অতিরিক্ত লোকবল নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তারা আগত মেহমানদের সেবায় কাজ করবেন।

রমজান উপলক্ষে বিভিন্ন ভাষায় কোরআন-হাদিসের মহিমান্বিত বাণী সম্বলিত হ্যান্ডবিল, লিফলেট, বই ও ছোট ছোট কার্ড ছাপিয়ে বিতরণ করা হয়। রমজানে বায়তুল্লাহ শরিফ ও মসজিদে নববীতে অপূর্ব আধ্যাত্মিক আবহের সৃষ্টি হয়।

আপনার মতামত লিখুন :

হাজিদের ভিড়ে জাগ্রত থাকে মসজিদে আয়েশা

হাজিদের ভিড়ে জাগ্রত থাকে মসজিদে আয়েশা
মসজিদে হারামে নামাজ আদায়, নফল তাওয়াফ ও সুযোগ বুঝে নফল উমরা আদায় করছেন হাজিরা, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

মক্কা (সৌদি আরব) থেকে: হজপালন শেষে মক্কায় অবস্থানরত হাজিরা মক্কার বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থান পরিদর্শন, ৫ ওয়াক্ত নামাজ মসজিদে হারামে আদায়, নফল তাওয়াফ ও সুযোগ বুঝে নফল উমরা আদায় করে কাটাচ্ছেন।

মক্কায় অবস্থানরত হাজিরা উমরার নিয়ত করলে তাদের ইহরাম বাধার জন্য যেতে হয় আয়েশা মসজিদে। সেখানে যেয়ে (ইহরাম আগেও পড়া যায় মসজিদে আয়েশাতে যেয়েও অনেকে পরিধান করেন) দুই রাকাত নামাজ পড়ে তালবিয়া (লাব্বাইক .... ) পড়ে কাবা শরিফে এসে উমরার সব নিয়মনীতি পালন করেন।

মসজিদটি মক্কার তানঈম এলাকায় অবস্থিত। এটাকে মসজিদে তানঈমও বলা হয়। হেরেম এলাকার বাইরে এটি মক্কা থেকে সর্বাধিক নিকটবর্তী স্থান। মক্কা থেকে ৬ কিলোমিটার উত্তরে মক্কা-মদিনা রোডে আল হিজরা এলাকায় অবস্থিত এই মসজিদ। রাতদিন ২৪ ঘণ্টা এখানে মুসল্লিদের উপস্থিতি থাকে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/21/1566392961853.jpg

উম্মুল মুমিনিন হজরত আয়েশা (রা.) এখান থেকে উমরার ইহরাম বেঁধে উমরা করেছিলেন। পরে সেখানে একটি বিশাল মসজিদ গড়ে উঠে। মসজিদটি ইসলামি শিল্পনৈপুণ্যের এক অনুপম নিদর্শন।

বিদায় হজের সময় হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) উম্মুল মুমিনিন হজরত আয়েশা (রা.)কে তার ভাই হজরত আবদুর রহমান (রা.)-এর সঙ্গে হারামের বাইরে এখান থেকে উমরার ইহরাম বাঁধার জন্য পাঠিয়েছিলেন।

এ কারণে এখান থেকে মক্কাবাসীরা উমরার জন্য এখান থেকে ইহরাম বেঁধে থাকেন। বিদেশি হাজিরা এখান থেকে উমরার ইহরাম বেঁধে থাকেন। অবশ্য এটা নিয়ে ইসলামি স্কলারদের মাঝে বিতর্ক আছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/21/1566392972633.jpg

মক্কা থেকে এখানে আসতে বাস ভাড়া ৩ রিয়াল, আর ট্যাক্সি ভাড়া ৫ রিয়াল। সারাক্ষণ নফল উমরার ইহরামের জন্য আসা হাজিদের ভিড় থাকে মসজিদটিতে। বিশাল এই মসজিদের দু’টি মিনার ও একটি গম্বুজ অনেক দূর থেকে দেখা যায়। মসজিদটি খেজুর গাছ দ্বারা পরিবেষ্টিত। মসজিদের সামনে গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য বিশাল জায়গা রয়েছে। রয়েছেন অজু ও নারীদের নামাজের জন্য আলাদা ব্যবস্থা।

হজ বা উমরাপালন করতে যারা বিমানযোগে সৌদি আরব আসেন তারা নিজ দেশ থেকে কিংবা নির্দিষ্ট মিকাত থেকে নিয়ত করেন। কিন্তু হজের পর উমরা করতে চাইলে উত্তম হলো- নির্দিষ্ট মিকাতে যেয়ে উমরার নিয়ত করা। এজন্য তায়েফ, রাবেক, মদিনা, আস-সাইরুল খাবির, আস-সাদিয়াত যেতে পারেন। এসব জায়গা থেকে আসার পথে মিকাত পড়বে। সেখান যথা নিয়মে উমরার নিয়ত করে উমরা আদায় করতে পারেন।

ইসলামি স্কলারদের অভিমত হচ্ছে, হজে গিয়ে বেশি বেশি তাওয়াফ করা। এটি সুন্নত এবং সবচেয়ে উত্তম কাজ। কাজেই যারা মক্কায় অবস্থান করেন, তারা বেশি করে তাওয়াফ করবেন এবং আল্লাহর ঘরে গিয়ে বেশি করে নফল নামাজ আদায় করবেন।

আরও পড়ুন: হজপালনে শীর্ষ ইন্দোনেশিয়া, বাংলাদেশ চতুর্থ

আরও পড়ুন: হজ ব্যবস্থাপনা বিষয়ে কিছু প্রস্তাবনা

বাংলাদেশি আলেমরা উষ্ণ অভ্যর্থনা পেলেন মসজিদে নববীতে

বাংলাদেশি আলেমরা উষ্ণ অভ্যর্থনা পেলেন মসজিদে নববীতে
ছবি: সংগৃহীত

মক্কা (সৌদি আরব) থেকে: সৌদি আরবে আসা হজযাত্রীদের হজপালন বিষয়ে ধর্মীয় পরামর্শ ও দিক-নির্দেশনা প্রদানের জন্য রাষ্ট্রীয় খরচে আসা ৫৮ আলেমকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়েছেন মদিনার মসজিদে নববী কর্তৃপক্ষ।

মঙ্গলবার (২০ আগস্ট) সকালে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী এডভোকেট শেখ মুহাম্মদ আবদুল্লাহর নেতৃত্বে ৫৮ সদস্যের ওলামা-মাশায়েখ দল হজপালন শেষে মদিনার মসজিদে নববী পরিদর্শনে গেলে তারা এ অভ্যর্থনা জানান। এ সময় মসজিদে নববীর প্রধান কর্মকর্তা মোহাম্মদ আল খুদায়েরি বলেন, অতীতে বাংলাদেশের এতো বড় আলেম প্রতিনিধি দল সৌদি আরব বিশেষ করে মদিনায় আসেনি। একসঙ্গে বাংলাদেশের শীর্ষ আলেমদের কাছে পেয়ে তারা গভীর কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/20/1566315408680.jpg

এ সময় ধর্ম প্রতিমন্ত্রী আলহাজ্ব এডভোকেট শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিচ্ছেন তার কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সৌদি আরবের সঙ্গেও তিনি সুসম্পর্ক বজায় রাখছেন। তিনি আরও বলেন, মুসলিম বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠায় সৌদি আরবের নেতৃত্বকে সমর্থন জানাবে বাংলাদেশ।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/20/1566315426944.jpg

পরে বাংলাদেশের আলেম ও ধর্ম প্রতিমন্ত্রীকে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর রওজা মোবারকে সালাম ও দরুদ পেশ এবং রিয়াজুল জান্নাতে নামাজ পড়ার ব্যবস্থা করেন মসজিদে নববী কর্তৃপক্ষ।

উল্লেখ্য যে, হজযাত্রীদের পরামর্শ দিতে ৫৮ সদস্যের ওলামা-মাশায়েখের একটি দল রাষ্ট্রীয় খরচে সৌদি আরব অবস্থান করছেন। ২১ আগস্ট তাদের দেশে ফিরে যাওয়ার কথা রয়েছে।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র