Alexa

রোজা না রাখার অনুমতি যাদের আছে

রোজা না রাখার অনুমতি যাদের আছে

রমজান মাসের রোজা ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ খুঁটি, ছবি: সংগৃহীত

রমজান মাসের রোজা ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ খুঁটি। নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ইসলামের খুঁটি পাঁচটি। এক. আল্লাহ ছাড়া আর কোনো উপাস্য নেই এবং হজরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর রাসূল এ কথার স্বাক্ষ্য প্রদান করা। দুই. নামাজ আদায় করা। তিন. জাকাত আদায় করা। চার. রমজানের রোজা রাখা। পাঁচ. বায়তুল্লাহতে হজ আদায় করা। -সুনানে তিরমিজি: ২৬০৯

মহান আল্লাহ রমজান মাসের রোজা ফরজ করেছেন। পবিত্র কোরআনে তিনি বলেছেন, রমজান মাসে কোরআন অবতীর্ণ করা হয়েছে। তা মানবজাতির জন্য পথপ্রদর্শক, সুপথের প্রমাণ, সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারী। তোমাদের যে কেউ সে মাস পাবে সে যেন তাতে রোজা রাখে। -সূরা বাকারা: ১৮৫

কিন্তু আল্লাহতায়ালা তার বিধানকে আমাদের ওপর সহজ রাখতে চান। তিনি আমাদের ওপর কঠিন করতে চান না। তাই চার শ্রেণির ব্যক্তিকে রমজান মাসে রোজা না রাখার অনুমতি ইসলাম দিয়েছে।

১. অসুস্থ ব্যক্তি
রোজার কারণে যে রোগীর রোগ বৃদ্ধি পাওয়ার কিংবা আরোগ্য লাভে বিলম্ব হওয়ার প্রবল আশঙ্কা থাকে সে রমজান মাসে রোজা না রেখে সুস্থ হওয়ার পর এ দিনগুলোর কাজা রোজা রাখবে।
তবে উক্ত আশঙ্কা বাস্তবসম্মত হওয়া একেবারেই সুস্পষ্ট হতে হবে অথবা সেই রোগীর ব্যাপারে অভিজ্ঞ দ্বীনদার একজন চিকিৎসকের অভিমত অবশ্যই থাকতে হবে।

২. মুসাফির
যে ব্যক্তি ৮৭.৭৬ কিলোমিটার বা তার চেয়ে বেশি দূরে ভ্রমণের উদ্দেশ্যে নিজের এলাকা ত্যাগ করেছে শরিয়তের পরিভাষায় সে মুসাফির। যতক্ষণ পর্যন্ত যে নিজ এলাকায় ফিরে না আসছে অথবা কোনো এলাকায় ১৫ দিন বা তার বেশি থাকার ইচ্ছা না করছে ততক্ষণ পর্যন্ত সে মুসাফির বিবেচিত হবে।

মুসাফিরের জন্য রোজা না রাখার অনুমতি আছে। তবে সফর সমাপ্ত হওয়ার পর এ দিনগুলোর কাজা রোজা রাখতে হবে। মহান আল্লাহ বলেছেন, তবে কেউ (রমজান মাসে) অসুস্থ থাকলে অথবা সফরে থাকলে অন্য সময় এ দিনগুলো পূরণ করবে। তোমাদের জন্য যা সহজ আল্লাহ তা চান। আর যা তোমাদের জন্য কষ্টকর তা তিনি চান না। যেন তোমরা সংখ্যা পূরণ কর এবং তোমাদেরকে সৎপথে পরিচালিত করার কারণে তোমরা আল্লাহর মহিমা গাও। তাহলেই তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে পারবে। -সূরা বাকারা: ১৮৫

খুব বেশি কষ্ট না হলে মুসাফিরের জন্য রমজান মাসে রোজা রাখাই উত্তম। কেননা, অন্য সময় কাজা রেখে সংখ্যা পূরণ করলেও রমজান মাসে ইবাদত পালনের বাড়তি বরকত তো আর পাওয়া যাবে না।

নিজ এলাকায় থাকা অবস্থায় রোজা শুরু করার পর সফরে যেয়ে সফরের অজুহাতে সে রোজা ভাঙা জায়েজ হবে না। আবার সফরে থাকা অবস্থায় রোজা না রাখার পর নিজ এলাকায় ফিরে এসে দিনের অবশিষ্ট অংশে রমজানের মর্যাদা রক্ষার্থে পানাহার থেকে বিরত থাকতে হবে। যদিও পরবর্তীতে সেই দিনের কাজা করতে হবে।

৩. গর্ভবতী
রোজার কারণে গর্ভবতী নারীর বা তার গর্ভস্থ সন্তানের প্রাণহানি অথবা মারত্মক স্বাস্থ্যহানির প্রবল আশঙ্কা হলে তার জন্য রোজা ভাঙার অনুমতি আছে। রমজানের পরে এ দিনগুলোর কাজা রোজা রাখতে হবে।

৪. দুগ্ধ দানকারী
দুগ্ধ দানকারীর রোজার কারণে যদি দুগ্ধপোষ্য শিশু দুধ না পায় আর অন্য কোনো খাবারে সেই শিশু অভ্যস্ত হয়ে না থাকে অথবা তার নিজের ব্যাপারে ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দেয় তাহলে সে রোজা ভাঙতে পারবে। আর রমজানের পরে এ দিনগুলোর কাজা রোজা রাখবে।

নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মহান আল্লাহ মুসাফিরের জন্য রোজা এবং আংশিক নামাজ শিথিল করেছেন। আর গর্ভবতী ও দুগ্ধ দানকারী নারীদের জন্যও রোজাকে শিথিল করেছেন। -তিরমিজি: ৭১৫

৫. দুর্বল বৃদ্ধ
বার্ধক্যের কারণে যে ব্যক্তি রোজা রাখতে সক্ষম নয় তার জন্যও রমজান মাসে রোজা না রাখার অনুমতি আছে। তবে সে রোজার ফিদিয়া আদায় করবে। -ইবনে কাসির, বাকার ১৮৪ নং আয়াতের তাফসির; সহিহ বোখারি: ৪৫০৫

৬. যদি দেহে খাদ্য বা পানির এমন ঘাটতি সৃষ্টি হয় যে, দ্রুত পানাহার না করলে মারা যাওয়ার অথবা অচেতন হওয়ার প্রবল আশঙ্কা আছে তাহলে রোজা ভাঙার অনুমতি আছে। তবে পরে কাজা রোজা রাখতে হবে। -ফতোয়া আল হিন্দিয়া

৭. যে নারীর মাসিক স্রাব অথবা প্রসবোত্তর স্রাব চলছে তার জন্য রোজা রাখা জায়েজ নেই। পরে তাকেও কাজা রোজা রাখতে হবে। -সহিহ মুসলিম: ৭৮৯

আপনার মতামত লিখুন :