Barta24

রোববার, ২১ জুলাই ২০১৯, ৫ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

লালদিঘী নয় গম্বুজ মসজিদ, গরমেও ভেতর থাকে শীতল

লালদিঘী নয় গম্বুজ মসজিদ, গরমেও ভেতর থাকে শীতল
লালদিঘী মসজিদ, বদরগঞ্জ, রংপুর, ছবি: বার্তা২৪
ফরহাদুজ্জামান ফারুক
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম
রংপুর


  • Font increase
  • Font Decrease

লালদিঘী নয় গম্বুজ মসজিদ। সবার কাছে লালদিঘী মসজিদ নামেই পরিচিত। রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার গোপিনাথপুর ইউনিয়নে এই মসজিদের অবস্থান। বাংলাদেশের অন্যতম প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন এই মসজিদ। বদরগঞ্জ উপজেলার লালদিঘী নামক স্থানে অবস্থিত বলে মসজিদটি স্থানের নামেই নামকরণ করা হয়েছে।

ভারতীয় উপমহাদেশে ব্রিটিশ শাসনামলে সর্বপ্রথম মসজিদটি আবিষ্কৃত হয়। পরবর্তীতে জরাজীর্ণ স্থানটিকে পরিষ্কার ও মসজিদটির সংস্কারের মাধ্যমে ব্যবহার করতে শুরু করেন স্থানীয়রা। মসজিদটি আবিষ্কারের সময় সেখানে এর নির্মাণকাল সম্পর্কে কোনো শিলালিপি পাওয়া যায়নি। এ কারণে এর নির্মাণকাল সম্পর্কে সঠিক কোনো তথ্য জানা যায় না।

তবে কিংবদন্তী অনুসারে জনৈক আসালাত খাঁ মসজিদটি নির্মাণ করেন। মসজিদটির মূল দরজার ওপরের অংশে একটি দাগ দেখে ধারণা করা হয় সেখানে খুব সম্ভবত মসজিদটির নাম ও নির্মাণফলক বসানো ছিলো, যদিও সেটি পাওয়া যায়নি।

লালদিঘী মসজিদ, বদরগঞ্জ, রংপুর, ছবি: বার্তা২৪.কম

তবে মসজিদের বর্তমান ইমাম হাফেজ মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম বার্তা২৪.কমকে বলেন, ১২০৪ বঙ্গাব্দে জমিদার আসালাত খাঁ ও তার স্ত্রী দিলারা খাঁ ইসলাম প্রচারের উদ্দেশ্যে রংপুরে এসে এই নয় গম্বুজ মসজিদটি নির্মাণ করেন। মসজিদের ভেতর তাদের মাজারও রয়েছে।

মসজিদটি তৈরির সময় এতে শুধু ইট ও চুনসুড়কি ব্যবহার করা হয়েছে। এর ভিতর গরমকালে ঠান্ডা ও শীতকালে গরম থাকে।

নয় গম্বুজ বিশিষ্ট এই মসজিদের প্রতি বাহুর দৈর্ঘ্য ৯.৪৫ মিটার। পুরো মসজিদটাই একটি বেদীর উপর বসানো। বেদী বা মঞ্চটির উচ্চতা ১ মিটার। এক মিটার বেদীর অর্ধেকটাজুড়ে রয়েছে মসজিদ ও বাকী অর্ধাংশ আজান দেওয়ার কাজে ব্যবহৃত হত বলে ধারণা করা হয়ে থাকে।

মসজিদটির সামনে রয়েছে বড় একটি প্রবেশপথ। মসজিদের অংশে থেকে বেদীর অপর অংশে পৌঁছানোর জন্য রয়েছে একটি সিঁড়ি।
লালদিঘী মসজিদ, বদরগঞ্জ, রংপুর, ছবি: বার্তা২৪.কম

মসজিদটির উত্তর, পূর্ব ও দক্ষিণ দেওয়ালে মোট তিনটি করে ৯টি প্রবেশ পথ রয়েছে। প্রত্যেক দেওয়ালের মাঝের প্রবেশ পথটি অপর দু’টি থেকে কিছুটা বড় আকৃতির।

মসজিদের পশ্চিম দেওয়ালে রয়েছে তিনটি মেহরাব। যার মধ্যে কেন্দ্রীয় মেহরাবটি অপর দু’টির চেয়ে বড় আকৃতির।

১৪ একর বিশাল সম্পত্তিতে দাঁড়িয়ে থাকা ছোট এই মসজিদ বর্ধিত অংশসহ বর্তমান আয়তন প্রায় ৩৫ শতাংশ। বাকি জমিতে একটি লালদিঘী জান্নাতবাগ হাফিজিয়া এতিমখানা ও ফোরকানিয়া মাদরাসা, ঘাট বাঁধানো ছোট একটি পুকুর, বকরস্থান, মাদরাসা মাঠ ও সাপ্তাহিক হাট বসানোর জাগয়া রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন :

৬২ হাজার ৭৪৫ হজযাত্রী সৌদি আরব পৌঁছেছেন

৬২ হাজার ৭৪৫ হজযাত্রী সৌদি আরব পৌঁছেছেন
জেদ্দা বিমান বন্দরে ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করছেন হজযাত্রীরা, ছবি: সংগৃহীত

পবিত্র হজপালনে ৬২ হাজার ৭৪৫ জন হজযাত্রী সৌদি আরব পৌঁছেছেন। তাদের মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় রয়েছেন ৪ হাজার ৬০৪ জন ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৫৮ হাজার ১৪১ জন। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স পরিচালিত ৮৮টি ও সৌদি এয়ারলাইন্স পরিচালিত ৮৫টিসহ মোট ১৭৩টি ফ্লাইটে তারা সৌদি আরব পৌঁছান।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) দিবাগত রাত ৩টায় মক্কা থেকে ধর্ম মন্ত্রণালয় প্রকাশিত হজ বুলেটিন সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

চলতি বছর সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় মোট হজযাত্রীর সংখ্যা ১ লাখ ২৬ হাজার ৯২৩ জন। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে এ বছর হজ অনুষ্ঠিত হবে ১০ আগস্ট। ধর্ম মন্ত্রণালয় অনুমোদিত হজ এজেন্সির সংখ্যা ৫৯৮টি।

গত ৪ জুলাই থেকে হজ ফ্লাইট শুরু হয়। শেষ ফ্লাইট আগামী ৫ আগস্ট। হজযাত্রীদের প্রথম ফিরতি ফ্লাইট ১৭ আগস্ট এবং শেষ ফিরতি ফ্লাইট ১৫ সেপ্টেম্বর।

বুলেটিনে আরও জানানো হয়েছে, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সৌদি আরব ব্যবস্থাপনামহ ১ লাখ ১ হাজার ৩৮৫ জন হজযাত্রীর ভিসা ইস্যু করেছে।

অনলাইনে হেলথ সার্টিফিকেট ইস্যু করা হয়েছে ১ লাখ ২৩ হাজার ৬৬০ জন হজযাত্রীর।

বাংলাদেশি হজযাত্রীদের মধ্যে সৌদি আরবে ১২ জন ইন্তেকাল করেছেন। তন্মধ্যে ১০ জন পুরুষ ও ২ জন মহিলা। তাদের ৯ জন মক্কায়, মদিনায় ২ জন ও জেদ্দায় ১ জন ইন্তেকাল করেন।

হজযাত্রীদের ধর্মীয় পরামর্শক দলে আরও ৩ আলেম

হজযাত্রীদের ধর্মীয় পরামর্শক দলে আরও ৩ আলেম
হজযাত্রীদের ধর্মীয় পরামর্শক দলে আরও ৩ আলেমকে অন্তর্ভুক্ত করেছে ধর্ম মন্ত্রণালয়

সৌদি আরবে বাংলাদেশি হজযাত্রীদের হজপালন বিষয়ে ধর্মীয় পরামর্শ ও দিক-নির্দেশনা দেওয়ার জন্য গঠিত ওলামা-মাশায়েখদের দলে যোগ হয়েছেন আরও তিন আলেম। এখন ওই দলের সদস্য সংখ্যা ৫৭। এর আগে ৯ জুলাই ৫৫ জন আলেমের একটি দল গঠন করে ধর্ম মন্ত্রণালয়।

তালিকায় যোগ হওয়া ওই তিনজন হলেন- হাইয়াতুল উলইয়ার কো-চেয়ারম্যান মাওলানা আশরাফ আলীর ছেলে হাফেজ মাওলানা মুফতি শামীম আহমদ (মুহাদ্দিস, মাদরাসাতুল আবরার, মাতুয়াইল, ঢাকা), বেফাক মহাসচিব মাওলানা আবদুল কুদ্দসের ছেলে মাওলানা মোহাম্মদ মঞ্জুরুল হাসান যোবায়ের (শিক্ষক, ফরিদাবাদ মাদরাসা, ঢাকা) ও মাওলানা সাজিদুর রহমান (মুহতামিম, দারুল আরকাম মাদরাসা, বি.বাড়িয়া)। তন্মধ্যে মাওলানা আশরাফ আলী ও মাওলানা আবদুল কুদ্দুস ওলামা-মাশায়েখদের দলে আগেই ছিলেন। এবার তালিকায় তাদের সঙ্গে সন্তানরাও যোগ হলেন। 

তালিকা দেখতে ক্লিক করুন 

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব শিব্বির আহমদ উছমানি স্বাক্ষরিত এক চিঠির বরাতে ওলামা-মাশায়েখদের হজ পালনের বিষয়টি জানানো হয়। রাষ্ট্রীয় খরচে হজযাত্রীদের প্যাকেজে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা প্রদান সাপেক্ষে ওলামা-মাশায়েখদের হজপালনে এবারই প্রথম অন্তর্ভুক্ত করা হলো।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, আগামী ৪ ও ৫ আগস্ট ফ্লাইট প্রাপ্তি সাপেক্ষে ওলামা-মাশায়েখদের দলটি সৌদি আরবে যাবেন। ২৩ আগস্ট তারা দেশে ফিরে আসবেন। রাষ্ট্রীয় খরচে হজ সফর হিসেবে গণ্য হবে। মনোনীত আলেমদের কোরবানি নিজ খরচে করতে হবে। মক্কা-মদিনায় তাদের ভ্রমনসূচি হজ কাউন্সিলর কর্তৃক নির্ধারিত হবে, তারা নিজ অর্থায়নে হলেও স্ত্রী-সন্তানসহ গমন করতে পারবেন না।

এদিকে ১৪ জুলাই বাংলাদেশিদের হজ ব্যবস্থাপনার কাজে সার্বিক তত্ত্বাবধান ও দিক-নির্দেশনা প্রদানের জন্য ১০ সদস্য বিশিষ্ট হজ প্রতিনিধি দল গঠন করে ধর্ম মন্ত্রণালয়। ওই দলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদাসহ তিনজন প্রতিমন্ত্রী, তিনজন সংসদ সদস্য, দু্’জন সচিব ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একজন মহাপরিচালক (মহাপরিচালক-৩) রয়েছেন।

এই দুই দল ছাড়াও বাংলাদেশি হজযাত্রীদের জেদ্দা, মক্কা ও মদিনায় সহায়তা করতে সরকার বেশ কয়েকটি টিম গঠন করে সৌদি আরব প্রেরণ করেছে। দলগুলো হলো- হজ চিকিৎসক দল, হজ প্রশাসনিক দল, হজ কারিগরি দল ও হজ চিকিৎসক দলের সহায়ক দল।

আরও পড়ুন:

হজযাত্রীদের পরামর্শ দিতে ৫৫ আলেমকে সৌদি পাঠাচ্ছে সরকার

সিইসিসহ হজ প্রতিনিধি দলে ৩ মন্ত্রী, ৩ এমপি

উল্লেখ্য, এ বছর বাংলাদেশ থেকে সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ১ লাখ ২৬ হাজার ৯২৩ জন হজযাত্রী হজপালনের জন্য সৌদি আরব যাবেন।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র