Barta24

শনিবার, ১৭ আগস্ট ২০১৯, ২ ভাদ্র ১৪২৬

English

চাল তুলে ইফতার ও সেহেরি করে ওরা

চাল তুলে ইফতার ও সেহেরি করে ওরা
মোহেব্বীয়া দারুচ্ছুন্নাত এতিমখানার শিক্ষক ও ছাত্ররা। ছবি: বার্তা২৪.কম
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম
ঠাকুরগাঁও


  • Font increase
  • Font Decrease

‘দিনের বেলায় এলাকার কমবেশি প্রায় প্রতিটি বাড়িতে গিয়ে চাল (মুষ্টি চাল) তুলি। সেই চাল দিয়েই আমরা ইফতার, সন্ধ্যারাত ও সেহেরিতে খাই। আমাদের এখানে থাকতে খুব কষ্ট হয়। যদি সরকার আমাদের এই এতিমখানার জন্য কিছু সাহায্য করে তাহলে অনেক ভালো হয়।’

বৃহস্পতিবার (৯ মে) সন্ধ্যায় বার্তা২৪.কমকে এ কথাগুলো বলছিল ঠাকুরগাঁও রুহিয়া থানার মোহেব্বীয়া দারুচ্ছুন্নাত এতিমখানা ও লিল্লাহ বোর্ডিং হাফেজিয়া মাদরাসার ছাত্ররা।

২০১৫ সালে রুহিয়া থানার মধুপুর গ্রামের ২০ জন এতিম বাচ্চা ও ২ জন শিক্ষক নিয়ে শুরু হয় মোহেব্বীয়া দারুচ্ছুন্নাত এতিমখানার পথ চলা। এরপর থেকে এলাকাবাসীর সাহায্য নিয়ে ধীরে ধীরে চলতে থাকে। তবে সরকারি কোনো বরাদ্দ না থাকায় খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে এটি।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/09/1557409966227.gif

এ এতিমখানার ছাত্ররা মুষ্টি চাল তুলে তিনবেলা খেতে পায়। এমনকি থাকার জায়গারও সংকট রয়েছে। চলছে রমজান মাস। বর্তমানে ছাত্ররা প্রতিদিন রুহিয়া থানাধীন প্রতিটা গ্রামে গিয়ে মুষ্টি চাল সংগ্রহ করছে। এ চাল বিক্রির টাকা দিয়েই তাদের ইফতার, সন্ধ্যারাত ও সেহেরিতে খাওয়ানো হয়।

মোহেব্বীয়া দারুচ্ছুন্নাত এতিমখানার ছাত্র গোলাম রাব্বি বলেন, ‘আমরা এখানে এক রুমে ২০ জন ছাত্র থাকি। এভাবে থাকতে আমাদের অনেক কষ্ট হয়। এছাড়া খাওয়ার কষ্টও আছে। আমাদের সরকার কিংবা বিত্তশালী কেউ সাহায্য করলে অনেক উপকার হতো।’

ওই এতিখানার শিক্ষক আনোয়ারুল ইসলাম বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘এলাকাবাসীর অর্থায়নে আমাদের এই এতিমখানাটি চলছে। এখানে ছাত্ররা খুব কষ্টে থাকে। এলাকাবাসীর সহযোগিতায় একটি রুম তৈরি করার চেষ্টা করছি। কিন্তু অর্থের অভাবে সেটির কাজও বন্ধ হয়ে গেছে।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/09/1557409991342.gif

স্থানীয় বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘অনেকদিন ধরেই এই এতিমখানাটি আমাদের এলাকায় আছে। এখানে তারা নামাজ ও কোরআন পড়ে। এ দৃশ্যটি দেখতে অনেক ভালো লাগে। কিন্তু কষ্টের বিষয় এই ছাত্ররা এখানে খুব কষ্টে থাকে।’

মোহেব্বীয়া দারুচ্ছুন্নাত এতিমখানার সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকুল ইসলাম বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে আমরা এই প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত সরকারি কোনো সুযোগ সুবিধা পাইনি। সরকারিভাবে বা সমাজসেবার মাধ্যমে কোনো অনুদান দেওয়া হলে এতিম বাচ্চাদের জন্য অনেক ভালো হতো।’

ঠাকুরগাঁও সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আবু বক্কর সিদ্দীক বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘আমরা এতিমখানাতে অনুদান দেই। তবে সেই অনুদানের জন্য এতিমখানাকে সমাজসেবা থেকে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে।’

আপনার মতামত লিখুন :

একসঙ্গে ৫৮ জনের জানাজা!

একসঙ্গে ৫৮ জনের জানাজা!
জানাজার নামাজের জন্য মরদেহ নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

মক্কা (সৌদি আরব) থেকে: শুক্রবার (১৬ আগস্ট) মসজিদে হারামে ফজরের নামাজের পর দুইবারে ৫৮ জনের নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে মসজিদে হারামের এত সংখ্যক মানুষের নামাজে জানাজা একসঙ্গে আদায়ের ঘটনা আর ঘটেনি। ৫৮ জনের মধ্যে নারী-পুরুষ ও শিশুসহ বেশ কয়েকজন হাজি রয়েছেন।

মসজিদে হারামে প্রতি ওয়াক্ত ফরজ নামাজ শেষে ‘আস সালাতু আলাল আমওয়াতি ইয়ারহামু কুমুল্লাহ', অথবা 'আস সালাতু আলাল আমওয়াতি ওয়াল আতফালি ইয়ারহামু কুমুল্লাহ' বলে জানাজার নামাজের ঘোষণা দেওয়া হয়। 

চলতি হজ মৌসুমে ফরজ নামাজের পর একবার জানাজা শেষে দ্বিতীয়বার ঘোষণা দিয়ে আবার জানাজার নামাজ পড়া হচ্ছে। এটা নিয়ে এক ধরণের কৌতূহল কাজ করছে। এ বিষয়ে খোজ নিয়ে জানা গেছে, জানাজার জন্য আসা লাশের সংখ্যা বেশি হওয়ার কারণে দুইবার জানাজা পড়তে হচ্ছে। শুক্রবার ফজরের নামাজের পরও দু'বার ঘোষণা দিয়ে জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/17/1566023261620.jpg

 

হজযাত্রী এবং মক্কার আশপাশের এলাকার স্থানীয় সৌদি নাগরিক কিংবা কোনা প্রবাসী মারা গেলে তাদের জানাজা মসজিদে হারামে অনুষ্ঠিত হয়। হজযাত্রীরা ফরজ নামাজের পর সঙ্গে সঙ্গে সুন্নত নামাজ শুরু না করে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করেন জানাজার জন্য, এটাই রীতি।

হজপালন করতে এসে কোনো হজযাত্রী হোটেল, বাড়ি কিংবা রাস্তায় দুর্ঘটনার শিকার হয়ে অথবা হাসপাতালে মারা গেলে তার মরদেহ দেশে পাঠানো হয় না। তবে লাশ দেশে না পাঠালেও মৃত্যুবরণকারী হাজির মৃত্যুর সনদ যথাসময়ে তাদের পরিবার বা তাদের প্রতিনিধি কিংবা এজেন্সির কাছে হস্তান্তর করা হয়।

মরদেহের গোসল করানো, কাফন পরানো, জানাজা পড়ানো ও দাফন করাসহ যাবতীয় কাজ নির্দিষ্ট বিভাগ করে থাকে। মক্কার রুশাইফায় রয়েছে লাশের গোসল ও কাফন পরানোর ব্যবস্থা। হজপালনকারীদের লাশ বহন করার জন্য সরকারি গাড়ির ব্যবস্থা রয়েছে। মৃত ব্যক্তির ওয়ারিশের এখানে কোনো কিছু করতে হয় না।

মসজিদে হারামে জানাজার জন্য লাশ গাড়িতে করে কাবা শরিফের দক্ষিণে নবী করিম (সা.)-এর জন্মস্থানের পাশে বাবে ইসমাইলের কাছে রাখা হয়। ফরজ নামাজের পর ইমাম সাহেব লাশ রাখার স্থানে এসে জানাজার নামাজ পড়ান।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/17/1566023327139.jpg

 

আরবদের মাঝে লাশ বহরকারী খাটিয়া কাঁধে নেওয়ার আগ্রহ অনেক। এটা তাদের একটি বিশেষ গুণ। এটাকে তারা সৌভাগ্য মনে করে। এজন্য লাশ পরিচিত হওয়া জরুরি নয়।

পবিত্র হাদিসের ভাষ্যমতে, জানাজার নামাজ আদায় করলে উহুদ পর্বত সমান সওয়াব ব্যক্তির আমলনামায় যোগ হয়। জানাজার নামাজ আদায় করা- ‘ফরজে কেফায়া।’ অর্থাৎ সমাজের কিছু মানুষ তা আদায় করলে সবাই দায়িত্ব থেকে মুক্তি লাভ করেন। আর কেউ যদি এই কাজ না করেন, তাহলে সবাই পাপের ভাগীদার।

ভারতীয় উপমহাদেশের সাধারণ মানুষের কাছে ‘জানাজার নামাজ’ বলে যে ইবাদতটি পরিচিত, আরব দেশের জনগণ সেটিকে ‘সালাত আলাল মাইয়্যেত’ বা মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া বলে থাকেন। জানাজার নামাজ মূলতঃ মৃত ব্যক্তির জন্য ক্ষমা প্রার্থনা।

এক হাদিসের মর্মার্থ হলো- জানাজা মুসলমানের অন্যতম হক। এতে অংশ নিলে পরকালের কল্যাণ লাভের সঙ্গে সঙ্গে মুসলমানের অধিকার সংরক্ষণের মতো মহৎ একটি কর্ম সম্পাদিত হয়।

 

আরও পড়ুন, হজের ফিরতি ফ্লাইট শুরু

হজের ফিরতি ফ্লাইট শুরু

হজের ফিরতি ফ্লাইট শুরু
দেশে ফিরতে এয়াপোর্টে যাচ্ছেন হাজিরা, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

মক্কা (সৌদি আরব) থেকে: শুরু হচ্ছে হজের ফিরতি ফ্লাইট। শনিবার (১৭ আগস্ট) থেকে শুরু হওয়া হজের ফিরতি ফ্লাইট চলবে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। এই সময়ের মধ্যে বাংলাদেশের হাজিরা দেশে ফিরবেন। এবার ১ লাখ ২৭ হাজার ১৫২ জন বাংলাদেশি হজপালনের জন্য সৌদি আরব এসেছেন। হজপালনে এসে সৌদি আরবে শনিবার পর্যন্ত ৮১ জন ইন্তেকাল করেছেন।

৪১৯ জন হাজি নিয়ে সৌদি আরবের স্থানীয় সময় বেলা ১১টায় ঢাকার উদ্দেশে জেদ্দা ছেড়ে যাবে বিমানের বিজি৩৫২০ ফ্লাইট। বাংলাদেশ সময় রাত ৮টা ৪০মিনিটে ফ্লাইটটি ঢাকায় পৌঁছার কথা রয়েছে। প্রথম দিন তিনটি ফিরতি ফ্লাইট রয়েছে।

আরও পড়ুন: ২৬ বছরের জমানো টাকায় হজ!

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস এবং সৌদি এরাবিয়ান এয়ারলাইনসের ৩৬৫টি ফ্লাইটে দেশে ফিরবেন বাংলাদেশি হাজিরা। জেদ্দা ও মদিনা বিমানবন্দরে বাংলাদেশি হাজিদের সেবা দিতে কাজ শুরু করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/17/1566019669426.jpg

প্রত্যেক হাজি বিনা মূল্যে সর্বাধিক দুটি ব্যাগে ৪৬ কেজি মালামাল আনতে পারবেন। বিজনেস ক্লাসের জন্য সর্বাধিক দুটি ব্যাগে ৫৬ কেজি মালামাল বহন করতে পারবেন। কেবিন ব্যাগেজে ৭ কেজি মালামাল সঙ্গে রাখতে পারবেন। তবে কোনোভাবেই প্রতি পিস ব্যাগের ওজন ২৩ কেজি এবং বিজনেস ক্লাসে ২৮ কেজির বেশি হতে পারবে না।

আরও পড়ুন: হাজিরা মক্কা ছাড়তে শুরু করেছেন

বাংলাদেশের যাত্রীরা ঢাকা এয়ারপোর্ট থেকে এবং সৌদির যাত্রীরা জেদ্দা এয়ারপোর্ট থেকে ৫ লিটার জমজমের পানি বিনা মূল্যে নিতে পারবেন। সুতরাং মক্কা কিংবা জেদ্দা থেকে জমজমের পানি সংগ্রহের কোনো প্রয়োজন নেই। বিমানে পানির জন্য প্রত্যেককে একটি করে টোকেন দেওয়া হবে। পরে ওই টোকেন দেখিয়ে জমজমের পানি সংগ্রহ করতে হবে বিমান বন্দরের নিদিষ্ট কাউন্টার থেকে।

পবিত্র হজপালনের জন্য বাংলাদেশ থেকে আসার সময় ৬০ হাজার হাজি মক্কা রুট ইনিশিয়েটিভের আওতায় ঢাকায় প্রি-ডিপারচার এরাইভাল সুবিধা পেয়েছেন এবং তাদের লাগেজ নিজ নিজ হোটেলে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা ছিল। কিন্তু ফিরতি ফ্লাইট মক্কা রুট ইনিশিয়েটিভের আওতায় না থাকায় হাজিদেরকে তাদের লাগেজ নিজ দায়িত্বে বহন করতে হবে।

আরও পড়ুন: হজের খুতবা দেওয়া হয় যে মসজিদ থেকে

লাগেজসহ মক্কা থেকে হাজিদের জেদ্দা বিমান বন্দরে পৌঁছে দেওয়ার জন্য কাজ করছে মক্কা বাংলাদেশ হজ মিশন।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র