Barta24

মঙ্গলবার, ২০ আগস্ট ২০১৯, ৫ ভাদ্র ১৪২৬

English

রোজার ফিদিয়া: কখন ও কীভাবে

রোজার ফিদিয়া: কখন ও কীভাবে
রোজার বিকল্প বিধান ফিদিয়া, ছবি: সংগৃহীত
মুফতি মাহফূযুল হক
অতিথি লেখক
ইসলাম


  • Font increase
  • Font Decrease

রোজা হলো মহান আল্লাহর নিকট অনেক পছন্দনীয় এক ইবাদত। তাই একজন ঈমানদারের শরীরে যতক্ষণ শক্তি ও সামর্থ্য থাকে ততক্ষণ সে চেষ্টা করে নিয়মমাফিক রোজা রেখে মহান প্রভুর সন্তুষ্টি ও ভালোবাসা পেতে। আল্লাহর জন্য ক্ষুধা ও পিপাসার কষ্ট স্বতঃস্ফুর্তভাবে বরণ করে নিয়েই প্রভুপ্রেমে সিক্ত একজন ঈমানদার তৃপ্তি লাভ করে। তার মনে খুশি ও ভালোলাগার জোয়ার উঠে। কিন্তু আল্লাহভক্ত সেই বান্দা যখন বার্ধক্যের আঘাতে অতি দুর্বল হয়ে পড়ে তখন বছরের রমজান মাস আসলেই তার মনে প্রেমের দহন জ্বলে উঠে। বার্ধক্যের দুর্বলতায় রোজা রাখতে না পারায় তার মনে সীমাহীন বেদনার ঝড় উঠে। সে কষ্ট পেতে থাকে এ কথা ভেবে যে, পারলাম না। দয়াময় প্রভুর জন্য রোজাগুলো রাখতে পারলাম না। কীভাবে তাকে খুশি করব।

মহান আল্লাহ তার এ সকল দুর্বল ও বৃদ্ধ বান্দাদের প্রেমের জ্বলন থামানোর জন্য, তাদের অন্তরে সান্তনার একপশলা বৃষ্টি ছিটানোর জন্য রোজার বিকল্প হিসেবে তাদের দিয়েছেন ফিদিয়ার বিধান। -সূরা বাকারা: ১৮৪

দু’শ্রেণির ব্যক্তির জন্য রোজার পরিবর্তে ফিদিয়া প্রদানের সুযোগ আছে।

১. দুর্বল বৃদ্ধ
বার্ধক্য যাকে এতটাই দুর্বল করেছে যে, কোনোভাবেই রোজা রাখা তার শরীরের পক্ষে সম্ভব না এবং ভবিষ্যতে রোজা রাখতে সক্ষম হওয়ারও কোনো আশা তার ব্যাপারে নেই।

২. অসুস্থ
রোগের দরুণ যার শরীরে রোজা রাখার সামর্থ্য একেবারেই নেই এবং ভবিষ্যতে রোজা রাখার সামর্থ্য ফিরে পাওয়ারও কোনো সম্ভাবনা নেই।

এ দু’শ্রেণির মানুষ প্রতিদিনের রোজার পরিবর্তে একজন দরিদ্রকে দু’বেলা পেট ভরে খাওয়াবে একেই রোজার ফিদিয়া বলে। প্রতিদিনের রোজার পরিবর্তে সদকাতুল ফিতরের মূল্য পরিমিাণ অর্থ দরিদ্রদের দান করলেও ফিদিয়া আদায় হবে।

সদকাতুল ফিতরের পরিমাণ হলো- ৩ কেজি ৩০০ গ্রাম কিশমিশ, পনির, খেজুর, যব অথবা ১ কেজি ৬৫০ গ্রাম গম।

সবচেয়ে ভালো ও নিরাপদ হলো রান্না করা খাদ্যসামগ্রী পেট ভরে খাওয়ানো। তবে সহজের জন্য অর্থ দিতে চাইলে তাহলে উপরোক্ত ৫টি দ্রব্যের মধ্যে যে দ্রব্যের মূল্য ফিদিয়া প্রদানকারীর নিজের খাবার খরচের মানের সাথে অধিক সঙ্গতিপূর্ণ সে দ্রব্যের বাজার মূল্য দিয়ে ফিদিয়া প্রদান করবে।

এক রোজার ফিদিয়া এক দরিদ্রকে দেওয়াই উত্তম। তবে এক রোজার ফিদিয়া একাধিক দরিদ্রকে অথবা কয়েক রোজার ফিদিয়া এক দরিদ্রকে দেওয়াও জায়েজ আছে।

এ ফিদিয়াকে অনেকেই বদলি রোজা রাখানো বলে থাকে। এটা ভুল। রোজা একটি দৈহিক ইবাদত। এটা আরেক জনকে দিয়ে বদলি করানো যায় না। একজনের পরিবর্তে আরেক জন রোজা রাখলে অথবা পারিশ্রমিক দিয়ে অন্য মানুষের দ্বারা রোজা রাখালে তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য ও যথেষ্ট হবে না। ফিদিয়ার বিধানটা হলো রোজা রাখার পরিবর্তে সম্পদ দান করা। এখন ফিদিয়াগ্রহীতা রোজা রাখতে পারে আবার না-ও রাখতে পারে। সে যদি রোজা রাখেও এতে গ্রহীতার নিজের রোজাই আদায় হবে ফিদিয়াদাতার রোজা আদায় হবে না। ফিদিয়াদাতা শুধুমাত্র ফিদিয়া প্রদানের দ্বারাই রোজার বিধান থেকে অব্যহতি পাবে।

মনে রাখতে হবে, ফিদিয়া প্রদানের পর যদি কোনোদিন উক্ত বৃদ্ধ বা রোগী রোজা রাখতে সক্ষম হয়ে যায়, রোজা রাখার দৈহিক সামর্থ্য ফিরে পায় তাহলে তার অতীতের ফিদিয়া প্রদান বাতিল হয়ে যাবে। তাকে কাজা রোজা রাখতেই হবে। অতীতের প্রদত্ত ফিদিয়ার জন্য সে শুধু দানের সওয়াব পাবে।
উপরোক্ত দু’শ্রেণি ব্যতীত আর কারোর জন্য ফিদিয়ার বিধান প্রযোজ্য হবে না।

মুসাফির, গর্ভবতী, স্তন্যদানকারী রমজানে রোজা রাখতে না পারলে পরে কাজা করবে। আর যদি এ সমস্যা দূর হওয়ার আগেই মারা যায় তাহলে কোন দায় তাদের দায়িত্বে থাকবে না।

আপনার মতামত লিখুন :

হজ ব্যবস্থাপনা বিষয়ে কিছু প্রস্তাবনা

হজ ব্যবস্থাপনা বিষয়ে কিছু প্রস্তাবনা
মসজিদে হারামের প্রবেশ পথ◢

মক্কা (সৌদি আরব) থেকে: হজপালনের নিমিত্তে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে লাখ লাখ মুসলমান মক্কাসহ মিনা, আরাফাত ও মুজদালিফাসহ প্রভৃতি স্থানে একত্র হন প্রতি বছর জিলহজ মাসে। লাখ লাখ মানুষের সমাগম, তাদের চলাফেরা, নিরাপত্তা, আবাসন ও খাওয়া-দাওয়াসহ সব বিষয়ে সৌদি আরব কর্তৃপক্ষকে ব্যাপক প্রস্তুতি নিতে হয়।

হজ ব্যবস্থাপনাকে সুন্দর, আধুনিক ও গতিশীল করতে সৌদি কর্তৃপক্ষ নিরলসভাবে চেষ্টা করছে। তার পরও যেহেতু বিপুল সংখ্যক মানুষ নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট কাজসমূহ সমাধা করে থাকেন। এ বিষয়টি সামনে রেখে সৌদি কর্তৃপক্ষের হজ ব্যবস্থাপনা আরও সুন্দর, সহজ ও হাজিদের জন্য উপকারী হয় এমন কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হলো।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/19/1566175762105.jpg
মসজিদে হারামের দ্বিতীয় তলায় নামাজের সময় ফাঁকা কাতার◢

 

মসজিদে হারামের বাইরের অংশে জুতা ব্যবহার না করা: মসজিদে হারামের বাইরের অংশে জুতা ব্যবহারে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। কেউ জুতা ব্যবহার করেন, কেউ করেন না। তবে দেখা গেছে, অনেক হাজি টয়লেট থেকে ফিরে কিংবা রাস্তা থেকে এসে ওই জুতা পায়ে দিয়ে চলাফেরা করেন। এটা দৃষ্টিকটু বিষয়। অনেকের মনে এটা নিয়ে পবিত্রতার বিষয়ে সংশয় সৃষ্টি করে। আমরা আশা করি বিষয়টি হাজিরা মনোযোগ দিয়ে ভাববেন। অথবা কর্তৃপক্ষ নির্দিষ্ট এলাকায় জুতা ব্যবহার নিষিদ্ধ করতে পারেন।

মসজিদে হারাম এলাকায় ধূমপান: অনেকেই মসজিদে হারামের প্রবেশ পথে প্রকাশ্যে ধূমপান করেন। আমরা মনে করি, এ এলাকা সম্পূর্ণভাবে ধূমপানমুক্ত এলাকা ঘোষণা করা দরকার।

জমজমের পানি নেওয়ার স্থানগুলো পিচ্ছিল: কাবা চত্বর থেকে শুরু করে মসজিদের হারামের বাইরে ও ভেতরে জমজমের সুপেয় বরকতময় পানি পান করার জন্য অসংখ্য জায়গায় পানির কন্টেইনার এবং পানির কল দেওয়া আছে। আল্লাহর মেহমানরা প্রাণভরে সেখান থেকে পানি পান করেন এবং বিভিন্ন পাত্রে ভরে নিয়ে যান। পানি পান ও নেওয়ার সময় অসাবধানতাবশত আশপাশে পানি পড়ে অনেক জায়গা পিচ্ছিল হয়ে যায়। পানি পরিষ্কারের জন্য কর্মী নিয়োজিত থাকা সত্ত্বেও অনেক সময় পরিষ্কার করার আগে অনেকেই পা পিছলে পড়ে যান এবং আহত হন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পানি নেওয়ার স্থানগুলোতে পিচ্ছিলরোধক পাথর বসানো জরুরি।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/19/1566175865903.jpg
কাবা চত্বর◢

 

নামাজের আগে দরজা বন্ধ করে দেওয়া: বায়তুল্লাহর অভ্যন্তরে নামাজ আদায় করা প্রত্যেক হাজির একান্ত ইচ্ছা। বায়তুল্লাহর শৃঙ্খলা রক্ষায় অসংখ্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য নিয়োজিত আছেন। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হচ্ছে, মসজিদের অভ্যন্তরভাগ পূর্ণ হওয়ার আগেই মসজিদের দরজাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়। ইদানিং তো অনেক দূরের প্রবশেপথগুলোও বন্ধ করে দেওয়া হয়। অনেক পথ ঘুরে মসজিদে হারামে প্রবেশ করতে হয়। তাতে বৃদ্ধ, নারী ও অসুস্থ হাজিদের ভীষণ কষ্ট হয়। কোনো নিয়মনীতি বা সময় ছাড়া এভাবে চলাচলের গেট বন্ধ করে দেওয়ার ফলে অনেক হাজি মসজিদের অভ্যন্তরে নামাজ আদায় করতে পারেন না। এক্ষেত্রে মসজিদের অভ্যন্তরভাগ মুসল্লিদের দ্বারা পূর্ণ হওয়ার পর ঘোষণা দিয়ে গেট বন্ধ করা হলে কেউ আপত্তি করবে না। এক্ষেত্রে প্রবেশ পথসমূহে মসজিদের ভেতরের দৃশ্য মনিটরে দেখানোর ব্যবস্থা করা যেতে পারে। অভিযোগ রয়েছে, নতুন হারাম একটু দূরে, সেখানে মুসল্লিরা যেতে চান না, তাই রাস্তা বন্ধ করে মুসল্লিদের সেখানে নেওয়ার অভিপ্রায় থেকে এমন ব্যবস্থা করা হয়।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/19/1566175946603.jpg
মসজিদে হারামের ভেতরের অংশ◢

 

মসজিদে নববীর মতো স্বয়ংক্রিয় ছাতার ব্যবস্থা করা: সৌদি আরবের তীব্র গরমে আল্লাহর মেহমানরা অতিষ্ঠ হয়ে ওঠেন। মসজিদে হারামের বাইরের অংশে জোহর ও আসরের নামাজ আদায় কষ্টকর হয়ে ওঠে। তাই গরমের প্রচণ্ডতা উপলব্ধি করে মসজিদে নববীর বাইরের অংশের মতো স্বয়ংক্রিয় ছাতার ব্যবস্থা করা করা যেতে পারে। অনুরূপভাবে বায়তুল্লাহর খোলা চত্বরের (মাতাফ) চারদিকে স্বয়ংক্রিয় ছাতার ব্যবস্থা হলে আল্লাহর মেহমানরা প্রশান্তির সঙ্গে নামাজ আদায় ও অন্যান্য ইবাদত সম্পন্ন করতে পারবেন।

মিনা ও আরাফাতে পর্যাপ্ত টয়লেটের অভাব: মিনা, আরাফাত এবং মুজদালিফায় হাজিদের অবস্থান হজের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, এসব স্থানে সাধারণ হাজিদের জন্য ব্যবহৃত টয়লেটের সংখ্যা খুবই কম। তার ওপর যা আছে তাতে অনেক সময় পানি না থাকায় নোংরা হয়ে ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে যায়। এ সময় হাজিরা ইহরাম অবস্থায় থাকেন। তাই সময় বিবেচনায় এসব স্থানে আরও টয়লেট বাড়ানো দরকার।

আরাফাতের ময়দানে গোসল করলে অতিরিক্ত সওয়াব মেলে। কিন্তু এখানে গোসলের কোনো ব্যবস্থা নেই। তাই হাজিসাহেবদের সুবিধার্থে পৃথকভাবে পর্যাপ্ত টয়লেট এবং গোসলখানার ব্যবস্থা করার জন্য কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/19/1566176004186.jpg
দোতলা দিয় তাওয়াফ করছেন হাজিরা◢

 

আরাফাতের ভাষণ শোনার ব্যবস্থা করা: মসজিদে নামিরা থেকে হজের খুতবা দেওয়া হয়। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হলো- মসজিদের নামিরার কাছাকাছি উপস্থিত হাজি ব্যতীত কেউ তা শুনতে পান না। যদি গোটা ময়দানব্যাপী উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ডিজিটাল সিস্টেমে মাইকিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়, তবে কাছে ও দূরের হাজিরা একযোগে হজের খুতবা শুনতে পাবেন। এ ব্যবস্থা করা সম্ভব হলে গোটা ময়দানের লোক একযোগে এক জামাতে হজের খতিবের সঙ্গে জোহর ও আসরের নামাজ আদায় করার সুযোগ পাবেন। তাতে করে আরাফাতের তাবুতে নামাজ নিয়ে জটিলতা কমবে, আরাফাতের ময়দানে একটা ইবাদতের পরিবেশ সৃষ্টি হবে। যে যার তো মাসয়ালা বলা ও আমল করার প্রবণতা বন্ধ হবে।

পরিবহন সংকট: হজের দিনগুলোতে মক্কা থেকে মিনা, মিনা থেকে আরাফাত, আরাফাত থেকে মুজদালিফা, মুজদালিফা থেকে জামারা, জামারা থেকে মক্কা এলাকায় পরিবহন সংকট দেখা দেয়। ফলে হাজিদের অবর্ণনীয় কষ্টের মুখোমুখি হতে হয়। একে সুযোগ মনে করে স্থানীয় গাড়ির মালিকরা ২০ রিয়ালের ভাড়া ১০০ রিয়াল পর্যন্ত আদায় করতে দ্বিধা করেন না। আবার অনেক ড্রাইভার রাস্তা না চেনা হাজিদের এক জায়গায় নামানোর কথা বলে অন্য জায়গায় নামিয়ে দেন। এমন অনৈতিক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সদয় দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। সেই সঙ্গে হাজিদের চলাচলের সুবিধার্থে সার্বক্ষণিক বাসসেবা চালু রাখা এবং গাড়ি ভাড়া নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/19/1566176073028.jpg
মধ্যরাতে মসজিদে হারামে প্রবেশের জন্য হাজিদের অপেক্ষা◢

 

হারাম এলাকার মসজিদের মাইকের আওয়াজ নিয়ন্ত্রণ করা: মসজিদে হারামের কাছাকাছি মিসফালা রোড, হিজরা রোড, দাখেলা রোড থেকে শুরু চারপাশে প্রচুর ছোট ছোট মসজিদ রয়েছে। এসব মসজিদের নিয়মিত আজান ও জামাতে নামাজ হয়। কিন্তু প্রায়ই দেখা যায়, এসব মসজিদের নামাজের তাকবির, কেরাত- মসজিদের হারামের কেরাতে ও তাকবিরের আওয়াজের সঙ্গে মিলে যাচ্ছে। ফলে মসজিদের হারামের জামাতে শরিক হওয়া রাস্তায় দাড়ানো মুসল্লিরা দ্বিধায় পরে যান। এক্ষেত্রে আমাদের পরামর্শ হলো- ছোট ছোট এসব মসজিদের আওয়াজ নিয়ন্ত্রণ করা, অথবা জামাতের সময় একটু আগে-পিছে করে দেওয়া।

রাস্তায় নামাজ: মসজিদে হারামের জামাতে অংশ নিতে বহুদূর থেকে হাজিরা আসেন। কিন্তু রাস্তা বন্ধ কিংবা জামাতের সময় ঘনিয়ে আসার কারণে অনেকেই রাস্তায় নামাজ আদায় করেন। তবে কিছু মানুষ ইচ্ছা করেই, শুধুমাত্র হাটার ভয়ে রাস্তায় নামাজের জন্য জায়নামাজ বিছিয়ে বসে পড়েন, দেখা যায়, তার সাথে প্রচুর জায়গা ফাঁকা এমতাবস্থায় রাস্তাও বন্ধ থাকে, জামাতের কাতারের ধারাবাহিকতাও থাকে না। বিষয়টি নিয়ে কর্তৃপক্ষের ভাবা উচিত।

মোবাইল বিড়ম্বনা: তথ্য-প্রযুক্তির এ যুগে মানুষের হাতে হাতে মোবাইল। ফলে হজপালনে আসা সবাই চান পরিবারের সঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ রাখতে। কিন্তু সৌদি আরবে এসে হাজি মোবাইল রিচার্জ নিয়ে নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। একে তো অনেক কোম্পানী, প্রচুর অফার। কে কোন কোন অফার নেবেন তা স্পষ্টভাবে বুঝা মুশিকল হয় ভাষাগত জটিলতার কারণে। ফলে ইন্টারনেট রিচার্জ, টকটাইম রিচার্জ নিয়ে এক ধরণের জটিলতায় ভুগতে হয় অনেককে। এ সুযোগে অনেক রোহিঙ্গা (আগে থেকে সৌদিতে থাকা) ও পাকিস্তানি দোকানদার ১৫ রিয়ালের কার্ড ১৭ রিয়ালে, ৫০ রিয়ালের কার্ড ৬০ রিয়ালে বিক্রি করে। মোবাইল নিয়ে জটিলতা এড়াতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া আবশ্যক।

নামাজের কাতার সোজা করার ঘোষণা আরও আগে দেওয়া: মসজিদে হারামে ইকামতের পর কাতার সোজা করার ঘোষণা দেওয়া হয়। এর পর আর সময় তেমন দেওয়া হয় না। তাকবির বলে নামাজ শুরু করে দেওয়া হয়। তাতে উপস্থিত মুসল্লিরা কাতার সোজা করার তেমন সুযোগ পান না। ফলে কাতারের মাঝে বেশ ফাঁকা থাকে। বিষয়টি কর্তৃপক্ষের ভাবা দরকার।

উল্লেখিত বিষয়গুলো ছাড়া কাবা চত্বর থেকে শুরু করে দোতলা, তিনতলায় দাড়িয়ে সেলফি কিংবা ছবি উঠানো, মূল মাতাফে হুইল চেয়ারে তাওয়াফের বিষয়েও ভাবা দরকার। এক্ষেত্রে মসজিদে হারাম কর্তৃপক্ষের বিধি-নিষেধের পাশাপাশি হজপালনকারীদের সচেতনতা কাম্য। 

হজ পৃথিবীর সব অঞ্চল, বর্ণ ও ভাষার মুসলমানকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার শিক্ষা দেয়। তাই মুসলমানদের শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ জীবন প্রতিষ্ঠায় হজের বিকল্প নেই। সে হিসেবে বর্ণিত বিষয়গুলো দ্রুত বাস্তবায়ন হলে সম্মানিত হাজিরা উপকৃত হবেন বলে আমরা আশা করি।

হজ শেষে ধূমপান ছাড়লেন ৩১৩ হাজি

হজ শেষে ধূমপান ছাড়লেন ৩১৩ হাজি
হজ মৌসুমে বিভিন্ন দেশ থেকে আগত ধূমপায়ীদের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টিতে কাজ করছে কাফা, ছবি: সংগৃহীত

মক্কা (সৌদি আরব) থেকে: সৌদি আরবে ধূমপান নিষিদ্ধ। আর ইসলামের দৃষ্টিতে ধূমপান মাকরুহ তথা চরম অবাঞ্ছিত কাজ। তারপরও মক্কায় দেখা যায় অনেকেই মসজিদে হারামের বাইরের চত্বরে ধূমপান করেন। রাস্তাঘাটেও ধূমপান করতে দেখা যায় অনেককে। এমনকি ইহরাম পরিহিত অনেককে মিনা, মুজাদালিফা ও আরাফাতের ময়দানে ধূমপান করতে দেখা গেছে।

ধূমপানের এমন ব্যাপকতা থেকে হজযাত্রীদের নিরুতসাহ করতে সৌদি আরবের তামাক, ধূমপান ও মাদক প্রতিরোধ সংস্থা ‘কাফা’ (The Tobacco and Narcotics Combat Charity Society-Kafa) দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছে। বিশেষ করে হজ মৌসুমে বিভিন্ন দেশ থেকে আগত ধূমপায়ীদের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টিতে কাজ করছে।

সংস্থাটি হজের আনুষ্ঠানিকতার জায়গাগুলোতে ভ্রাম্যমাণ সেবাকেন্দ্র স্থাপন করে। সেখান থেকে ধূমপায়ীদের মাঝে ধূমপান বিরোধী প্রচারপত্র বিলির পাশাপাশি কাউন্সেলিং করানো হয়। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা ধূমপান ছাড়তে হজযাত্রীদের পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় ঔষধ দিয়ে থাকেন। ধূমপানের ক্ষতির বিষয়ে সচেতন করতে হাজিদের মাঝে পুস্তিকা, লিফলেট ও মিসওয়াক বিতরণ করা হয়। এভাবে ভ্রাম্যমাণ সেবাকেন্দ্র থেকে এবার ১১ হাজার ৪৮০ ধূমপায়ীকে সেবা দেওয়া হয়েছে।

কাফার ক্লিনিকে সেবা নিতে এসে ধূমপানের বিপত্তি ও ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে অবগত হয়ে অনেকে ধূমপান ছেড়ে দিয়েছেন। চলতি হজ মৌসুমের ধূমপান ত্যাগীর সংখ্যা ৩১৩ জন। কাফার সেবাকেন্দ্র থেকে সেবা নিয়ে তার ধূমপান ছেড়ে দিয়েছেন।

মক্কায় ধূমপানের ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি জন্য গঠিত কমিটির প্রধান আবু গাজালাহ স্থানীয় গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, সৌদি আরবের দাতব্য মন্ত্রণালয়, হজ ও ওমরা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ক এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে কাফা ধূমপান বিরোধী নানা কর্মসূচি প্রণয়ন করে থাকে। সেই সঙ্গে কাফা মিনা, মুজদালিফা ও আরাফাতসহ মক্কায় হজযাত্রীদের ধূমপান বিরোধী চিকিতসা দেয়।

চার বছর ধরে এই কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে।

অবশ্য অনেক ধূমপায়ী পবিত্র হজপালন শেষে নিজ থেকেই ধূমপান ছেড়ে দেন। তাদের হিসাব এখানে আসেনি।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র