Alexa

রোজার ফিদিয়া: কখন ও কীভাবে

রোজার ফিদিয়া: কখন ও কীভাবে

রোজার বিকল্প বিধান ফিদিয়া, ছবি: সংগৃহীত

রোজা হলো মহান আল্লাহর নিকট অনেক পছন্দনীয় এক ইবাদত। তাই একজন ঈমানদারের শরীরে যতক্ষণ শক্তি ও সামর্থ্য থাকে ততক্ষণ সে চেষ্টা করে নিয়মমাফিক রোজা রেখে মহান প্রভুর সন্তুষ্টি ও ভালোবাসা পেতে। আল্লাহর জন্য ক্ষুধা ও পিপাসার কষ্ট স্বতঃস্ফুর্তভাবে বরণ করে নিয়েই প্রভুপ্রেমে সিক্ত একজন ঈমানদার তৃপ্তি লাভ করে। তার মনে খুশি ও ভালোলাগার জোয়ার উঠে। কিন্তু আল্লাহভক্ত সেই বান্দা যখন বার্ধক্যের আঘাতে অতি দুর্বল হয়ে পড়ে তখন বছরের রমজান মাস আসলেই তার মনে প্রেমের দহন জ্বলে উঠে। বার্ধক্যের দুর্বলতায় রোজা রাখতে না পারায় তার মনে সীমাহীন বেদনার ঝড় উঠে। সে কষ্ট পেতে থাকে এ কথা ভেবে যে, পারলাম না। দয়াময় প্রভুর জন্য রোজাগুলো রাখতে পারলাম না। কীভাবে তাকে খুশি করব।

মহান আল্লাহ তার এ সকল দুর্বল ও বৃদ্ধ বান্দাদের প্রেমের জ্বলন থামানোর জন্য, তাদের অন্তরে সান্তনার একপশলা বৃষ্টি ছিটানোর জন্য রোজার বিকল্প হিসেবে তাদের দিয়েছেন ফিদিয়ার বিধান। -সূরা বাকারা: ১৮৪

দু’শ্রেণির ব্যক্তির জন্য রোজার পরিবর্তে ফিদিয়া প্রদানের সুযোগ আছে।

১. দুর্বল বৃদ্ধ
বার্ধক্য যাকে এতটাই দুর্বল করেছে যে, কোনোভাবেই রোজা রাখা তার শরীরের পক্ষে সম্ভব না এবং ভবিষ্যতে রোজা রাখতে সক্ষম হওয়ারও কোনো আশা তার ব্যাপারে নেই।

২. অসুস্থ
রোগের দরুণ যার শরীরে রোজা রাখার সামর্থ্য একেবারেই নেই এবং ভবিষ্যতে রোজা রাখার সামর্থ্য ফিরে পাওয়ারও কোনো সম্ভাবনা নেই।

এ দু’শ্রেণির মানুষ প্রতিদিনের রোজার পরিবর্তে একজন দরিদ্রকে দু’বেলা পেট ভরে খাওয়াবে একেই রোজার ফিদিয়া বলে। প্রতিদিনের রোজার পরিবর্তে সদকাতুল ফিতরের মূল্য পরিমিাণ অর্থ দরিদ্রদের দান করলেও ফিদিয়া আদায় হবে।

সদকাতুল ফিতরের পরিমাণ হলো- ৩ কেজি ৩০০ গ্রাম কিশমিশ, পনির, খেজুর, যব অথবা ১ কেজি ৬৫০ গ্রাম গম।

সবচেয়ে ভালো ও নিরাপদ হলো রান্না করা খাদ্যসামগ্রী পেট ভরে খাওয়ানো। তবে সহজের জন্য অর্থ দিতে চাইলে তাহলে উপরোক্ত ৫টি দ্রব্যের মধ্যে যে দ্রব্যের মূল্য ফিদিয়া প্রদানকারীর নিজের খাবার খরচের মানের সাথে অধিক সঙ্গতিপূর্ণ সে দ্রব্যের বাজার মূল্য দিয়ে ফিদিয়া প্রদান করবে।

এক রোজার ফিদিয়া এক দরিদ্রকে দেওয়াই উত্তম। তবে এক রোজার ফিদিয়া একাধিক দরিদ্রকে অথবা কয়েক রোজার ফিদিয়া এক দরিদ্রকে দেওয়াও জায়েজ আছে।

এ ফিদিয়াকে অনেকেই বদলি রোজা রাখানো বলে থাকে। এটা ভুল। রোজা একটি দৈহিক ইবাদত। এটা আরেক জনকে দিয়ে বদলি করানো যায় না। একজনের পরিবর্তে আরেক জন রোজা রাখলে অথবা পারিশ্রমিক দিয়ে অন্য মানুষের দ্বারা রোজা রাখালে তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য ও যথেষ্ট হবে না। ফিদিয়ার বিধানটা হলো রোজা রাখার পরিবর্তে সম্পদ দান করা। এখন ফিদিয়াগ্রহীতা রোজা রাখতে পারে আবার না-ও রাখতে পারে। সে যদি রোজা রাখেও এতে গ্রহীতার নিজের রোজাই আদায় হবে ফিদিয়াদাতার রোজা আদায় হবে না। ফিদিয়াদাতা শুধুমাত্র ফিদিয়া প্রদানের দ্বারাই রোজার বিধান থেকে অব্যহতি পাবে।

মনে রাখতে হবে, ফিদিয়া প্রদানের পর যদি কোনোদিন উক্ত বৃদ্ধ বা রোগী রোজা রাখতে সক্ষম হয়ে যায়, রোজা রাখার দৈহিক সামর্থ্য ফিরে পায় তাহলে তার অতীতের ফিদিয়া প্রদান বাতিল হয়ে যাবে। তাকে কাজা রোজা রাখতেই হবে। অতীতের প্রদত্ত ফিদিয়ার জন্য সে শুধু দানের সওয়াব পাবে।
উপরোক্ত দু’শ্রেণি ব্যতীত আর কারোর জন্য ফিদিয়ার বিধান প্রযোজ্য হবে না।

মুসাফির, গর্ভবতী, স্তন্যদানকারী রমজানে রোজা রাখতে না পারলে পরে কাজা করবে। আর যদি এ সমস্যা দূর হওয়ার আগেই মারা যায় তাহলে কোন দায় তাদের দায়িত্বে থাকবে না।

আপনার মতামত লিখুন :