Barta24

সোমবার, ২২ জুলাই ২০১৯, ৭ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

জামালপুর শাহী মসজিদ: দূরদূরান্তের মানুষ আসেন মান্নত পূরণে

জামালপুর শাহী মসজিদ: দূরদূরান্তের মানুষ আসেন মান্নত পূরণে
জামালপুর শাহী মসজিদ, সাদুল্লাপুর, গাইবান্ধা, ছবি: বার্তা২৪.কম
তোফায়েল হোসেন জাকির
ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
গাইবান্ধা
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

ঐতিহ্যবাহী জামালপুর শাহী মসজিদ। গাইবান্ধা জেলার সাদুল্লাপুর উপজেলার জামালপুর ইউনিয়ন পরিষদের পূর্বপাশে অবস্থিত একটি মসজিদ। মসজিদটির নির্মাণ তারিখ সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট কোনো তারিখ জানা যায় না। অনুমান করা হয়, মসজিদটির বয়স কয়েক শ’ বছর। প্রাচীন মসজিদটি আজও অক্ষত অবস্থায় দাঁড়িয়ে রয়েছে। তবে অর্থাভাবে থমকে গেছে নানা ধরণের উন্নয়ন কাজ।

তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, ইংরেজ শাসন আমলে মসজিদটি প্রাকৃতিক দুর্যোগে মাটির নিচে চাপা পড়ে যায়। মসজিদ এলাকায় লোকবসতি না থাকায় বনজঙ্গল আচ্ছন্ন হয়ে মসজিদটি ঢাকা পড়ে যায়। বিগত ৬০ দশকের প্রথম দিকে গাইবান্ধা মহকুমা প্রশাসক হক্কানি কুতুবউদ্দিন নামে এক ধর্মপ্রাণ ব্যক্তি এসডিও হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর স্থানীয় লোকদের কাছে মসজিদটির ইতিকথা শোনেন। লোকজনের কথা শুনে তিনি স্থানীয় জনগণের সহযোগিতায় মসজিদটি অনুসন্ধান করতে থাকেন।

কিন্তু মসজিদটির জায়গায় বিশাল বট গাজ গজিয়ে ওঠায় মসজিদটি বটবৃক্ষের আড়ালে ঢাকা পড়ে গিয়েছিল। হঠাৎ একদিন প্রচণ্ড এক ঝড়ে বট গাছটি ভেঙে পড়লে স্থানীয় লোকজন মসজিদটি দেখতে পায়। সেই থেকে মানুষ মসজিদটিকে গায়েবি মসজিদ হিসেবে অবহিত করতে থাকে।

জামালপুর শাহী মসজিদ, সাদুল্লাপুর, গাইবান্ধা, ছবি: বার্তা২৪.কম

কথিত আছে, মসজিদটি উদ্ধারের কিছুদিন পর সিলেটের কামেল ব্যক্তি হজরত শাহ্ জামাল (রহ.) স্বপরিবারে এ এলাকায় আগমন করেন। তিনি মসজিদটি দেখাশুনা শুরু করেন। সেই থেকে মসজিদটির নামকরণ হয় জামালপুর শাহী মসজিদ।

মসজিদের ইতিহাস প্রসঙ্গে লোকমুখে প্রচলিত আছে, তৎকালীন সময়ে সৈয়দ ভোম আলী ভারতের শিলিকুড়ি থেকে সুলতান মাহমুদের আমলে হজরত খাঁজা মঈন উদ্দিন চিশতির নির্দেশে ইসলাম প্রচারের জন্য এই এলাকায় এসে হজরত শাহ জামালের সঙ্গে মিলিত হন। সম্ভবতঃ তারাই এই মসজিদ নির্মাণ করেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ হিসেবে মসজিদটি প্রায় ৭০০ বছর আগে নির্মিত।

এর পর হজরত শাহ জামালের নামানুসারে ইউনিয়ন ও গ্রামের নামকরণ করা হয়েছে, ‘জামালপুর।’ এই মসজিদের উত্তর পাশে রয়েছে পীরে কামেল হজরত শাহ জামাল (রহ.)-এর মাজার।

মসজিদের জমির কাগজপত্র খতিয়ে দেখা গেছে, ৪০ সনের রেকর্ড অনুযায়ী মসজিদের ১৬ শতক জমির মালিক ছিলেন বড় জামালপুর গ্রামের মরহুম খন্দকার আবদুল মজিদ গং। পরবর্তীতে মসজিদের নামে জমিটি লিখে দেন তারা। ফলে এ মসজিদের দাতা আবদুল মজিদ গং।
জামালপুর শাহী মসজিদ, সাদুল্লাপুর, গাইবান্ধা, ছবি: বার্তা২৪.কম

জামালপুর শাহী মসজিদের ইমাম মো. আবদুল হালিম ও মুয়াজ্জিন হাফেজ মো. মাহাবুর রহমান বার্তা২৪.কমকে জানান, মসজিদটি বাহির থেকে অনেক বড় মনে হলেও মসজিদের ভেতরে শুধুমাত্র দুই কাতারে ৬০ জন মুসল্লি নিয়ে নামাজ আদায় করা যায়। বর্তমানে জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে এলাকার লোকজন মসজিদের মূল অবকাঠামো ঠিক রেখে সামনের দিকে (সংযুক্ত) মসজিদ ভবন নির্মাণ করা হয়েছ।

মসজিদের ২য় তলার কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। এখন প্রায় সাতশ’ মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে পারেন।

জামালপুর শাহী মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আজহার আলী সরকার বার্তা২৪.কমকে বলেন, প্রতি শুক্রবার দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসা মানুষরা মসজিদে মান্নতের নগদ টাকা, গরু-ছাগল, হাঁস-মুরগি, চাল ও মিষ্টি নিয়ে আসেন এবং পোলাও করে শিন্নি বিতরণ করেন এখানে। কথিত আছে, যে কেউ যে কোনো নিয়তে মান্নত করলে আল্লাহর অশেষ রহমতে তা পূরণ হয়।

তিনি আরও জানান, ধর্মপ্রাণ মানুষের সাহায্য-সহযোহিতা ও মান্নতের অর্থ ইত্যাদি দিয়ে স্থানীয়দের আর্থিক সহযোগিতা নিয়ে মসজিদ পরিচালনা করা হয়।

মসজিদের ধারাবাহিক সংস্কার কাজ থেকে শুরু করে ইমাম-মুয়াজ্জিনের মাসিক সম্মানি ও অন্যান্য খরচ এই অর্থ থেকে করা হয়।

জামালপুর শাহী মসজিদ কমিটির সভাপতি খন্দকার আবদুল্লাহ আল মামুন বার্তা২৪.কমকে জানান, আগের চেয়ে মসজিদটির অনেক প্রসার করা হয়েছে। আরও অনেক কাজ অসমাপ্ত রয়েছে। এ পর্যন্ত ১ম ও ২য় তলার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ৩য় তলা নির্মাণাধীন। এখনও মসজিদের টাইলস, জানালার গ্লাস, অজু খানা, টয়লেট, প্রসাব খানা ও ৩য় তলার কাজসহ অনেক কাজই বাকী রয়েছে কিন্ত অর্থাভাবে করা সম্ভব হচ্ছে না।

আপনার মতামত লিখুন :

আরও ৫ শতাংশ হজযাত্রী রিপ্লেসমেন্টের সুযোগ

আরও ৫ শতাংশ হজযাত্রী রিপ্লেসমেন্টের সুযোগ
আরও ৫ শতাংশ হজযাত্রী রিপ্লেসমেন্টের সুযোগ দিলো ধর্ম মন্ত্রণালয়, ছবি: সংগৃহীত

বেসরকারি হজ এজেন্সিগুলোর দাবির প্রেক্ষিতে আরও ৫ শতাংশ হারে হজযাত্রী রিপ্লেসমেন্ট কিংবা প্রতিস্থাপনের সুযোগ দিলো ধর্ম মন্ত্রণালয়।

সোমবার (২২ জুলাই) ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব আব্দুল্লাহ আরিফ মোহাম্মদ স্বাক্ষরিত এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে ৫ শতাংশ হারে হজযাত্রী প্রতিস্থাপনের কথা জানানো হয়েছে।

হজযাত্রী রিপ্লেসমেন্টের জন্য ২৫ জুলাইয়ের মধ্যে হজ অফিসের পরিচালক বরাবর আবেদন করতে হবে এবং তা অনলাইনে নিশ্চিত করতে হবে। এজেন্সির নিজস্ব প্যাডে লিখিত আবেদনে হজ এজেন্সিস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব)-এর সুপারিশ থাকতে হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, প্রতিস্থাপনযোগ্য হজযাত্রীর গুরুতর অসুস্থতা ও মৃত্যুজনিত কারণে হজপালন করতে পারবেন না মর্মে সংশ্লিষ্ট হজযাত্রী অথবা মৃত ব্যক্তির উত্তরাধিকারীর লিখিত আবেদন এবং উপযুক্ত চিকিৎসকের সনদ দাখিল করতে হবে।

বিজ্ঞপ্তি দেখতে ক্লিক করুন

প্রতিস্থাপন প্রাপ্তির জন্য এজেন্সির পক্ষ থেকে কোনো মিথ্যা তথ্য প্রদান করা হচ্ছে না মর্মে তিনশ’ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে অঙ্গীকারনামা দাখিল করতে হবে। হজযাত্রী প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে কোনো মিথ্যা তথ্য প্রমাণিত হলে জাতীয় হজ ও ওমরা নীতি-২০১৯ অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট এজেন্সির বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

হজ নীতিমালায় ৫ শতাংশ হারে প্রতিস্থাপনের কথা বলা হলেও মন্ত্রণালয় বিশেষ সার্কুলার জারি করে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ হারে এই সুবিধা দিয়ে থাকে। চলতি বছর দুই দফায় ৫ শতাংশ করে ১০ শতাংশ হারে রিপ্লেসমেন্টের সুবিধা দেওয়া হয়েছিল। এবার আরও ৫ শতাংশ হারে এই সুবিধা দেওয়া হলো।

হজযাত্রার জন্য প্রাক-নিবন্ধনের পর মৃত্যু ও অসুস্থতাসহ নানা কারণে যারা হজপালনে সৌদি আরব যেতে পারেন না, তাদের পরিবর্তে অন্যদের হজপালনের সুযোগকে রিপ্লেসমেন্ট বা প্রতিস্থাপন বলে। সৌদি দূতাবাস কর্তৃক হজ ভিসা দেওয়া বন্ধ হওয়ার আগ পর্যন্ত ফ্লাইট চালু সাপেক্ষে যাত্রীদের রিপ্লেসমেন্টের সুযোগ রয়েছে।

৫ লাখ ৬৩ হাজার হজযাত্রী সৌদি পৌঁছেছেন

৫ লাখ ৬৩ হাজার হজযাত্রী সৌদি পৌঁছেছেন
৫ লাখ ৬৩ হাজার হজযাত্রী সৌদি পৌঁছেছেন, ছবি: সংগৃহীত

চলতি বছর হজপালনের জন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে হজযাত্রীরা যাওয়া শুরু করেছেন। রোববার (২১ জুলাই) সকাল আটটা পর্যন্ত সৌদি আরবে বিভিন্ন দেশ থেকে ৫ লাখ ৭৭ হাজার ৮৬২ জন হজযাত্রী পৌঁছেছেন।

এসব হজযাত্রীদের মধ্যে ৫ লাখ ৬৩ হাজার ১৪৯ জন আকাশপথে, ৮ হাজার ৭১০ জন সড়কপথে ও ৬ হাজার ৩ জন নৌপথে সৌদি আরব পৌঁছেছেন।

সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর ১৮৬টি দেশ থেকে হজযাত্রী আসবেন হজপালনের জন্য।

বিভিন্ন দেশের মুসলিম জনসংখ্যার হার অনুপাতে সৌদি আরব হজপালনকারীদের জন্য কোটা বরাদ্দ দিয়ে থাকে। তাদের দেওয়া কোটা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট দেশগুলো থেকে হজ পালনেচ্ছুদের হজে আসতে হয়। সাধারণত ১০ লাখ লোকের জন্য ১ হাজার কোটা বরাদ্দের একটি নিয়ম তারা অনুসরণ করে।

এবার বাংলাদেশ থেকে সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ১ লাখ ২৬ হাজার ৯২৩ জন হজযাত্রী সৌদি আরব যাবেন। ইতোমধ্যে ৭২ হাজার ৭৪৬ জন সৌদি আরব গিয়ে পৌঁছেছেন।

সৌদি গেজেটের এক খবরে বলা হয়েছে, সৌদি আরবের নাগরিক ও দেশটিতে বসবাসরত প্রবাসীসহ ৩ লাখেরও বেশি মানুষ এ পর্যন্ত হজপালনের অনুমতি পেয়েছেন। এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। স্থানীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তারা নিবন্ধিত হয়েছেন।

হজযাত্রীরা নিরাপদ ও স্বস্তির সঙ্গে হজপালন করতে পারেন, সেজন্য সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করতে হজ সেবা সংশ্লিষ্ট দফতরগুলো নিরলসভাবে কাজ করছে।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র