Barta24

সোমবার, ২২ জুলাই ২০১৯, ৭ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

রোজাদারের চিকিৎসা সংক্রান্ত কিছু মাসয়ালা

রোজাদারের চিকিৎসা সংক্রান্ত কিছু মাসয়ালা
রোজাদারের চিকিৎসা সংক্রান্ত কিছু মাসয়ালা, ছবি: সংগৃহীত
মুফতি মাহফূযুল হক
অতিথি লেখক
ইসলাম
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

রোজা ভাঙার কারণের সঙ্গে চিকিৎসার কিছু পদ্ধতির সম্পর্ক খুবই স্পষ্ট, যা সবাই বোঝে। কিন্তু চিকিৎসার এমন কিছু পদ্ধতি আছে যার সঙ্গে রোজার সম্পর্ক বেশ জটিল। চিকিৎসার এ জটিল পদ্ধতিগুলো আধুনিককালে উদ্ভাবিত হওয়ায় কোরআন-হাদিসে এমনকি ফিকহ শাস্ত্রের প্রাচীন প্রামাণ্য গ্রন্থাবলীতে এগুলোর হুকুম সরাসরি নেই। কিন্তু মূলনীতি দেওয়া আছে।

সেসব মূলনীতির আলোকে আধুনিক পদ্ধতিগুলোকে বিশ্লেষণ করে সেগুলোর হুকুম নির্ণয় করেছেন নিকটতম সময়ের অনেক প্রথিতযশা ফকিহ ও ফিকহি সংস্থা। তারা এ বিষয়ের ওপর স্বতন্ত্র গ্রন্থও রচনা করেছেন। যেমন ফিকহুন নাওয়াযিল, আলমাওসুআতুত তিব্বিয়্যিা আলফিকিহিয়্যা, আলাতে জাদিদা কে শারয়ি আহকাম ইত্যাদি।

মারকাযুদ দাওয়াহর শিক্ষক মাওলানা মুহাম্মাদ ইয়াহইয়া ‘মাহে রমযানের সওগাত’ নামক পুস্তিকাতে উপরোক্ত উৎসগ্রন্থসমূহ থেকে চিকিৎসার আধুনিক পদ্ধতিগুলোর হুকুম সংকলন করেছেন।

সাধারণ পাঠকদের সুবিধা বিবেচনা করে উক্ত পুস্তিকার আলোকে চিকিৎসা সংক্রান্ত রোজার মাসয়ালাগুলো সংক্ষেপে উল্লেখ করা হলো-

রোজা অবস্থায় কানে তেল, ড্রপ বা যেকোনো ঔষধ ব্যবহার করা যাবে। এর দ্বারা রোজা ভাঙবে না। তদ্রুপ কানে পানি ঢোকলেও রোজা ভাঙবে না।

নাকে ড্রপ, স্প্রে ইত্যাদি যেকোনো কিছু ব্যবহারের পর যদি তা গলায় পৌঁছে বা এগুলোর স্বাদ অনুভূত হয় তাহলে রোজা ভাঙবে। অন্যথায় রোজা ভাঙবে না।

চোখে ড্রপ, সুরমা, মলম ইত্যাদি ব্যবহার করলে রোজা ভাঙবে না। যদিও এগুলোর স্বাদ অনুভূত হয় তবুও রোজা ভাঙবে না।

ইনহেলার ব্যবহার করলে রোজা ভাঙবে। যদি রোজা অবস্থায় এটা ব্যবহারের একান্তই প্রয়োজন পড়ে তাহলে তা ব্যবহার করবে আর পরে এ রোজার কাজা করবে। তবে ব্যবহারের পর সুস্থ থাকলে বাকি দিন অনাহারেই কাটাতে হবে।

পুরুষ বা মহিলার প্রস্রাবের রাস্তা দিয়ে কোনো ঔষধ বা পরীক্ষা-নিরীক্ষার যন্ত্র প্রবেশ করালে রোজা ভাঙবে না। এমনকি উক্ত যন্ত্রে কোনো পিচ্ছিল বা তরল পদার্থ লাগানো থাকলেও রোজা ভাঙবে না।

মলদ্বার দিয়ে কোনো ঔষধ প্রবেশ করালে রোজা ভাঙবে।

রক্ত দিলে বা নিলে কোনোটাতেই রোজা ভাঙবে না। তাই রোজা অবস্থায় ডায়ালাইসিস করা যাবে। তবে রক্ত দেওয়ার কারণে অধিক দুর্বল হয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকলে রোজা অবস্থায় রক্ত দেওয়া মাকরুহ।

ইঞ্জেকশন, ইনসুলিন ও স্যালাইন নিলে রোজা ভাঙবে না। তবে গ্লুকোজ স্যালাইন খাদ্য-পানির কাজ দেয়; রোজা অবস্থায় মারাত্মক অসুস্থতা ব্যতীত তা নেওয়া মাকরুহ।

আপনার মতামত লিখুন :

আরও ৫ শতাংশ হজযাত্রী রিপ্লেসমেন্টের সুযোগ

আরও ৫ শতাংশ হজযাত্রী রিপ্লেসমেন্টের সুযোগ
আরও ৫ শতাংশ হজযাত্রী রিপ্লেসমেন্টের সুযোগ দিলো ধর্ম মন্ত্রণালয়, ছবি: সংগৃহীত

বেসরকারি হজ এজেন্সিগুলোর দাবির প্রেক্ষিতে আরও ৫ শতাংশ হারে হজযাত্রী রিপ্লেসমেন্ট কিংবা প্রতিস্থাপনের সুযোগ দিলো ধর্ম মন্ত্রণালয়।

সোমবার (২২ জুলাই) ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব আব্দুল্লাহ আরিফ মোহাম্মদ স্বাক্ষরিত এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে ৫ শতাংশ হারে হজযাত্রী প্রতিস্থাপনের কথা জানানো হয়েছে।

হজযাত্রী রিপ্লেসমেন্টের জন্য ২৫ জুলাইয়ের মধ্যে হজ অফিসের পরিচালক বরাবর আবেদন করতে হবে এবং তা অনলাইনে নিশ্চিত করতে হবে। এজেন্সির নিজস্ব প্যাডে লিখিত আবেদনে হজ এজেন্সিস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব)-এর সুপারিশ থাকতে হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, প্রতিস্থাপনযোগ্য হজযাত্রীর গুরুতর অসুস্থতা ও মৃত্যুজনিত কারণে হজপালন করতে পারবেন না মর্মে সংশ্লিষ্ট হজযাত্রী অথবা মৃত ব্যক্তির উত্তরাধিকারীর লিখিত আবেদন এবং উপযুক্ত চিকিৎসকের সনদ দাখিল করতে হবে।

বিজ্ঞপ্তি দেখতে ক্লিক করুন

প্রতিস্থাপন প্রাপ্তির জন্য এজেন্সির পক্ষ থেকে কোনো মিথ্যা তথ্য প্রদান করা হচ্ছে না মর্মে তিনশ’ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে অঙ্গীকারনামা দাখিল করতে হবে। হজযাত্রী প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে কোনো মিথ্যা তথ্য প্রমাণিত হলে জাতীয় হজ ও ওমরা নীতি-২০১৯ অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট এজেন্সির বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

হজ নীতিমালায় ৫ শতাংশ হারে প্রতিস্থাপনের কথা বলা হলেও মন্ত্রণালয় বিশেষ সার্কুলার জারি করে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ হারে এই সুবিধা দিয়ে থাকে। চলতি বছর দুই দফায় ৫ শতাংশ করে ১০ শতাংশ হারে রিপ্লেসমেন্টের সুবিধা দেওয়া হয়েছিল। এবার আরও ৫ শতাংশ হারে এই সুবিধা দেওয়া হলো।

হজযাত্রার জন্য প্রাক-নিবন্ধনের পর মৃত্যু ও অসুস্থতাসহ নানা কারণে যারা হজপালনে সৌদি আরব যেতে পারেন না, তাদের পরিবর্তে অন্যদের হজপালনের সুযোগকে রিপ্লেসমেন্ট বা প্রতিস্থাপন বলে। সৌদি দূতাবাস কর্তৃক হজ ভিসা দেওয়া বন্ধ হওয়ার আগ পর্যন্ত ফ্লাইট চালু সাপেক্ষে যাত্রীদের রিপ্লেসমেন্টের সুযোগ রয়েছে।

৫ লাখ ৬৩ হাজার হজযাত্রী সৌদি পৌঁছেছেন

৫ লাখ ৬৩ হাজার হজযাত্রী সৌদি পৌঁছেছেন
৫ লাখ ৬৩ হাজার হজযাত্রী সৌদি পৌঁছেছেন, ছবি: সংগৃহীত

চলতি বছর হজপালনের জন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে হজযাত্রীরা যাওয়া শুরু করেছেন। রোববার (২১ জুলাই) সকাল আটটা পর্যন্ত সৌদি আরবে বিভিন্ন দেশ থেকে ৫ লাখ ৭৭ হাজার ৮৬২ জন হজযাত্রী পৌঁছেছেন।

এসব হজযাত্রীদের মধ্যে ৫ লাখ ৬৩ হাজার ১৪৯ জন আকাশপথে, ৮ হাজার ৭১০ জন সড়কপথে ও ৬ হাজার ৩ জন নৌপথে সৌদি আরব পৌঁছেছেন।

সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর ১৮৬টি দেশ থেকে হজযাত্রী আসবেন হজপালনের জন্য।

বিভিন্ন দেশের মুসলিম জনসংখ্যার হার অনুপাতে সৌদি আরব হজপালনকারীদের জন্য কোটা বরাদ্দ দিয়ে থাকে। তাদের দেওয়া কোটা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট দেশগুলো থেকে হজ পালনেচ্ছুদের হজে আসতে হয়। সাধারণত ১০ লাখ লোকের জন্য ১ হাজার কোটা বরাদ্দের একটি নিয়ম তারা অনুসরণ করে।

এবার বাংলাদেশ থেকে সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ১ লাখ ২৬ হাজার ৯২৩ জন হজযাত্রী সৌদি আরব যাবেন। ইতোমধ্যে ৭২ হাজার ৭৪৬ জন সৌদি আরব গিয়ে পৌঁছেছেন।

সৌদি গেজেটের এক খবরে বলা হয়েছে, সৌদি আরবের নাগরিক ও দেশটিতে বসবাসরত প্রবাসীসহ ৩ লাখেরও বেশি মানুষ এ পর্যন্ত হজপালনের অনুমতি পেয়েছেন। এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। স্থানীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তারা নিবন্ধিত হয়েছেন।

হজযাত্রীরা নিরাপদ ও স্বস্তির সঙ্গে হজপালন করতে পারেন, সেজন্য সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করতে হজ সেবা সংশ্লিষ্ট দফতরগুলো নিরলসভাবে কাজ করছে।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র