Barta24

সোমবার, ২২ জুলাই ২০১৯, ৭ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

২৭ বছর ধরে তারাবি পড়াচ্ছেন হাফেজ আনোয়ারুল

২৭ বছর ধরে তারাবি পড়াচ্ছেন হাফেজ আনোয়ারুল
হাফেজে কোরআন আনোয়ারুল ইসলাম সাজু, ছবি: বার্তা২৪.কম
ফরহাদুজ্জামান ফারুক
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
রংপুর
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

মাহে রমজান এলেই মন চায় সৌদি আরব যেতে। কোরআনে কারিমের উচ্চারণ, ইয়াদ, সুর যেন বারবার এই আকুতি জানায়। পবিত্র রমজানজুড়ে ইসলামের পূণ্যভূমি সৌদি আরবে ইবাদত-বন্দেগিতে মশগুল থাকে সেখানকার মানুষ। ইবাদতের বালাখানায় ইফতার, তারাবি, তাহাজ্জুদ, সেহেরি আর কোরআন তেলওয়াতে নেই কোনো ঘাটতি।

এ মাসে সম্প্রীতির বন্ধন, একে অপরের খোঁজ-খবর রাখা আর অসহায়ের পাশে দাঁড়ানোর জন্য উদগ্রীব থাকেন সৌদির মানুষ। এমন প্রশান্তির পরিবেশে দীর্ঘ সাড়ে আট বছর সময় কেটেছে হাফেজে কোরআন আনোয়ারুল ইসলাম সাজুর। তাই রমজান মাস এলেই সৌদি আরবে ফিরে যেতে চান তিনি।

১৯৯০ সালে হেফজ পড়াশুনা শেষ করার পর রংপুরে কয়েকটি মসজিদে তারাবির নামাজের ইমামতি করেন আনোরুয়াল ইসলাম। পরে ১৯৯২ সালে চাকরির সুবাদে তিনি সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের সোলেমানিয়াতে চলে যান। সেখানে এক বছর পর মাহে রমজানে একটি ওয়াক্তিয়া মসজিদে দীর্ঘ সাত বছর তারাবির ইমামতি করেন।

সৌদির প্রবাস জীবনে মসজিদে মসজিদে গিয়ে রমজানে মাসে ভিন্নরকম প্রশান্তি পেয়েছেন এই হাফেজ। সেখানকার হাফেজে কোরআনদের মন জুড়ানো তেলাওয়াত আর রমজানের ইবাদত ভুলতে পারেন না এখনও।

রমজানকে ঘিরে বার্তা২৪.কম’র সঙ্গে আলাপচারিতায় সেই কথাগুলোই বলছিলেন আনোয়ারুল ইসলাম সাজু। সৌদি থেকে দেশে ফেরার পর রংপুরের বেশ কয়েকটি মসজিদে বিভিন্ন রমজানে তারাবির ইমামতি করেছেন। এখন রংপুর মহানগরীর শাপলা চত্বর আশরাফিয়া জামে মসজিদে তারাবির ইমামতি করছেন।

আটচল্লিশ বছর বয়সী এই হাফেজে কোরআনের তারাবিতে ইমামতি করার ২৭ বছর চলছে। তিনি বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘জীবনের শ্রেষ্ঠ তারাবির সময় কেটেছে সৌদি আরবে। সেখানকার মানুষরা রমজান মাসে রাতদিন ইবাদত-বন্দেগিতে ব্যস্ত থাকে। বিশেষ করে সালাতুল তারাবি থেকে তাহাজ্জুদের সময় পর্যন্ত চারদিক থেকে ভেসে আসা সুমধুর কোরআন তেলাওয়াত বিমোহিত করার মতো।’

 হাফেজে কোরআন আনোয়ারুল ইসলাম সাজু, ছবি: বার্তা২৪.কম

রমজানজুড়ে সৌদি আরবে ইফতার সামগ্রী ক্রয় নিয়ে কাউকে চিন্তা করতে হয় না। সেখানকার ধনাঢ্যরা ইফতারের পসরা নিয়ে বসে থাকেন রোজাদারের অপেক্ষায়। আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘সৌদিতে ইফতারের সময় মসজিদে মসজিদে হাজার হাজার রোজদার এক সঙ্গে ইফতার করে। বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিকরাও রোজাদারকে ডেকে নিয়ে ইফতার খাওয়ান। অধিকাংশ মধ্যবিত্ত, নিম্ন-মধ্যবিত্তসহ অসহায়, গরীবদের সেখানে ইফতার কিনে খেতে হয় না। কোনো না কোনো মাধ্যমে তারা ইফতার পেয়ে যান। শুধু সেহেরির সময়টুকু বাদ দিয়ে পুরো সৌদি আরবের মসজিদে মসজিদে ইফতার, তারাবি ও তাহাজ্জুদের সময় মুসল্লিদের ঢল নামে।’

আনোয়ারুলের ভাষায়, ‘মুসলমানদের জন্য সারা বছরই নামাজ ফরজ। তাই রমজানের সবচেয়ে উত্তম ইবাদত হচ্ছে কোরআন তেলাওয়াত। রোজার সঙ্গে কোরআন তেলাওয়াত মনকে শীতল রাখে। সৌদিতে তারাবির সময় কোরআনের আয়াত শুনে মুসল্লিদের কেউ কেউ কান্নায় ভেঙে পড়েন। কিন্তু আমরা বাঙালিরা তো কোরআনের তেলাওয়াত শুনি, অর্থ বুঝি না। এ কারণে আমাদের মধ্যে কোরআন শোনার মনোযোগ কম। সৌদির মসজিদগুলোতে শুধু বিশ রাকাত সালাতুল তারাবিতে নয়, তাহাজ্জুদের সময়ও মুসল্লিরা দীর্ঘ সময় নামাজ আদায় করেন। অথচ বাংলাদেশে আমরা নামাজের ব্যাপারে উদাসীন।’

রমজানে অসহায়, গরীব-মিসকিনদের বেশি বেশি সাহায্য-সহযোগিতা ও দান করার তাগিদ দিয়ে এই হাফেজ বলেন, ‘আমি পনের দিন তারাবির ইমামতি করতাম। আর পনের দিন মক্কা ও মদিনার বিভিন্ন মসজিদে মসজিদে গিয়ে নামাজ পড়তাম। কখনোই মসজিদে মুসল্লি কম দেখিনি। কিন্তু আমাদের দেশেতো রমজানের প্রথম দশদিন পর থেকে মুসল্লি কমতে থাকে।’

তিনি বলেন, ‘আল্লাহ্ যে উদ্দেশ্যে রমজানকে রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের মাস হিসেবে মুসলমানদের জন্য নির্ধারণ করেছেন, আমরা যদি তা সত্যিকার অর্থে তা অনুধাবন করতে পারি, তবেই স্বার্থক হবে নেয়ামত ও ফজিলতের এই মাসের ইবাদত।’

বর্তমানে হাফেজ আনোয়ারুল ইসলাম সাজু রংপুরের একটি মাদরাসায় শিক্ষকতার পাশাপাশি আশরাফিয়া জামে মসজিদে ইমামতি করছেন। তিনি কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার গুনাইগাছি ইউনিয়নের কাঁঠালবাড়ি জুম্মারহাট গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা চাঁন মিয়ার বড় ছেলে। বর্তমানে স্ত্রী ও এক মেয়ে সন্তান নিয়ে রংপুরে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন তিনি।

আপনার মতামত লিখুন :

সাদা-কালো গিলাফে নতুন রূপে কাবা

সাদা-কালো গিলাফে নতুন রূপে কাবা
সাদা-কালো গিলাফে নতুন রূপে কাবা, ছবি: সংগৃহীত

কালো কাপড়ের আচ্ছাদিত পবিত্র কাবা দেখতে বিশ্ববাসী অভ্যস্ত। এটাই কাবার চিরায়ত রূপ। কিন্তু বছরের তিন সপ্তাহের মতো সময় সেই পুরনো রূপে দেখা যায় না কাবাকে। কারণ, তখন কালো কাপড়ের সঙ্গে কাবার গিলাফের নিচের বেশ কিছু অংশ সাদা কাপড় দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়, আর কিছু অংশ খালি রাখা হয়। তখন সাদা-কালোর মিশ্রণে নতুন রূপে দেখা যায় কাবা ঘরকে।

প্রতিবছর হজ মৌসুমে জিলকদ মাসের মাঝামাঝি সময়ে পবিত্র কাবা ঘরের গিলাফকে মাটি থেকে অনেকটা উঁচুতে উঠিয়ে খাঁজ করে রাখা হয়। আর কিছু অংশ খোলা রাখা হয়।

কারণ, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হজপালনেচ্ছুদের অনেকে বরকত লাভের আশায় নিরাপত্তারক্ষীদের চোখ ফাঁকি দিয়ে কাবার গিলাফ কেটে নিয়ে যায়। তারা মনে করেন, কাবার গিলাফের টুকরো কাফনের কাপড়ের সঙ্গে দিয়ে দিলে কবরের আজাব হবে না, কিংবা পরকালে এটা তার মুক্তির কারণ হবে।
https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/21/1563722255398.jpg

অনেকে আবার পবিত্র কাবা ঘরের গিলাফ স্পর্শ করার জন্য মরিয়া হয়ে চেষ্টা করে আহত হন। ফলে অনেকের জন্য তাওয়াফ করা কষ্টসাধ্য হয়ে উঠে।
মূলত কাবার গিলাফের মূল অবয়ব রক্ষা ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার জন্য এটা করা হয়। তখন সাদা-কালোর গিলাফের সংমিশ্রণে কাবা শরিফের নতুন রূপ পরিলক্ষিত হয়। দেখার সৌভাগ্য হয় কাবার দেয়ালের প্রকৃত রূপ।

অবশ্য ৯ জিলহজ আরাফার দিন (হজের দিন) পুরনো এই গিলাফ পরিবর্তন করে নতুন গিলাফ লাগানো হবে। ফলে হজের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে এসে হাজি সাহেবর নতুন গিলাফে ঢাকা কাবা দেখতে পাবেন।
https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/21/1563722287338.jpg

কাবার গিলাফ স্পর্শ করা বা এটা ধরে দোয়া-মোনাজাত করার আলাদা কোনো ফজিলত নেই। তার পরও দেখা যায়, অনেক হজযাত্রী কাবাঘরের দেয়াল স্পর্শ করতে এমনকি তাতে নিজের রুমাল, জামা কাপড় স্পর্শ করাতে। যদিও ধর্মীয় চিন্তাবিদরা এমন কাজ করা থেকে মানুষকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

ফ্লাইট মিস করা ৬৭ হজযাত্রী মক্কার পথে

ফ্লাইট মিস করা ৬৭ হজযাত্রী মক্কার পথে
ফ্লাইট মিস করা ৬৭ হজযাত্রী এখন মক্কার পথে, ছবি: সংগৃহীত

ভিসা জটিলতার কারণে নির্ধারিত ফ্লাইট মিস করা যাত্রীদের মধ্যে সর্বশেষ ৬৭ জন হজযাত্রী সাধারণ ফ্লাইটে মক্কায় যাচ্ছেন।

রোববার (২১ জুলাই) সন্ধ্যায় এই হজযাত্রীরা অন্য সাধারণ যাত্রীদের সঙ্গী হয়ে মক্কায় যাচ্ছেন। বিমানের বিজি ১৩৫ নং ফ্লাইটে বিমানের ৪২০ জন যাত্রীর সঙ্গে এই ফ্লাইটে হজযাত্রী রয়েছেন মাত্র ১০০ জন।

মিনার এয়ার ট্রাভেলসের ৬৭ জন হজযাত্রী ভিসা জটিলতায় ১৬ জুলাই বিমানের নির্ধারিত ফ্লাইট মিস করেন। শুধু মিনার এয়ার ট্রাভেলস নয়, এর সঙ্গে আরও তিনটি ট্রাভেলসের মোট দেড়শ’ হজযাত্রী ফ্লাইট মিস করেছিলেন। তবে অন্যান্য ট্রাভেলসের হজযাত্রীরা ভিন্ন ভিন্ন ফ্লাইটে মক্কায় চলে গেছেন। কিন্তু মিনার ট্রাভেলসের হজযাত্রীরা বিচ্ছিন্নভাবে যেতে রাজি হননি। তাই তাদের সবাইকে অন্য একটি সাধারণ ফ্লাইটে মক্কায় পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেই ফ্লাইটটি (বিজি ১৩৫) রোববার সন্ধা সাড়ে ছয়টায় ঢাকা ছেড়ে গেছে।

উল্লেখ্য গত ১৪ ও ১৫ জুলাই সৌদি দূতাবাসের অনলাইন সার্ভারের জটিলতায় সঠিক সময়ে ভিসা হাতে না পেয়ে বিমানের দু’টি ফ্লাইট মিস করেছেন এই হজযাত্রীরা। দু’দিন পরে গত মঙ্গলবার ভিসা হাতে পাওয়ার পর বিমানের অন্য ফ্লাইটেও কোনো শিডিউল পাচ্ছিলেন না তারা। ফলে কবে বা কোন ফ্লাইটে এই ১৫১ জন হজযাত্রী মক্কায় যেতে পারবেন সেটিও অনেকটা অনিশ্চয়তার মধ্যেই ছিল।

রোববার আশকোনাস্থ হজক্যাম্পে গিয়ে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বেশ কয়েকটি হজ এজেন্সির মোট ১৫১ জন হজযাত্রী বিলম্বে ভিসা পাওয়ার কারণে তারা বিমানের ফ্লাইট মিস করেছিলেন। নির্ধারিত ফ্লাইটে তারা হজে যেতে পারেননি। এর মধ্যে মিনার এয়ার ট্রাভেলসের (হজ লাইসেন্স নং ১০৩০) তাদের ৬৭ জন হজযাত্রীর ভিসা দূতাবাসের সার্ভারের সমস্যার কারণে সঠিক সময়ে অর্থাৎ নির্ধারিত ফ্লাইটের আগে হাতে পাননি। এই ৬৭ জন হজযাত্রীর যাত্রার নির্ধারিত ফ্লাইট ছিল ১৬ জুলাই মঙ্গলবার (বিজি ৩০৩৩) ফ্লাইটে।

ফ্লাইট মিস করা হজযাত্রীরা বিমান হজ অফিসের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ভিন্ন ভিন্ন ফ্লাইটে মক্কায় চলে গেছেন। একমাত্র মিনার এয়ার ট্র্রাভেলস ছাড়া অন্যান্য কোনো ট্রাভেলসের ফ্লাইট মিস করা হজযাত্রী মক্কায় যাওয়ার বাকি নেই। মিনার ট্রাভেলসের যাত্রীরা বিচ্ছিন্নভাবে হজে যেতে রাজি না হওয়ায় এখন তাদের এই ৬৭ জনসহ মোট ১০০ জন হজযাত্রীকে বিমানের সাধারণ ফ্লাইটেই মক্কায় যেতে হচ্ছে।

রোববার দুপুরে আশকোনাস্থ হজ ক্যাম্পের পরিচালক (হজ অফিসার) মো: সাইফুল ইসলাম নয়া দিগন্তকে জানান, আমরা ফ্লাইট মিস করা হজযাত্রীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অন্য ফ্লাইটে মক্কায় পাঠানোর ব্যবস্থা করছি। মিনার ট্রাভেলস ছাড়া আর কোন ফ্লাইট মিস করা যাত্রী ঢাকায় নেই। তারা সকলেই মক্কায় পৌছে গেছেন। রোববার সন্ধায় বিমানের একটি ফ্লাইটে মিনার ট্রাভেলস এর ৬৭ জন হজযাত্রীও মক্কায় যাচেছন।

 

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র