Barta24

সোমবার, ২২ জুলাই ২০১৯, ৭ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

রোজায় ‘মক্কা সময়’ অনুসরণের সুযোগ নেই

রোজায় ‘মক্কা সময়’ অনুসরণের সুযোগ নেই
মক্বা শরীফে তাওয়াফ ও ইফতারের দৃশ্য, ছবি: সংগৃহীত
ইসলাম ডেস্ক
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

প্রাপ্তবয়স্ক সব মুসলমানের রোজা রাখা ফরজ হলেও সর্বাবস্থায় সবার জন্য রোজা রাখতে বাধ্যতামূলক বিধান নয়। যারা রোজা রাখতে অপারগ তাদের জন্য বিকল্প সুযোগ রয়েছে ইসলামে। এ বিষয়টি আল্লাহতায়ালা নিজেই পবিত্র কোরআনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন, ‘রমজান মাস এটি, যাতে কোরআন নাজিল হয়েছিল, ... মানবগোষ্ঠীর জন্য পথপ্রদর্শক হিসেবে, আর পথনির্দেশের স্পষ্ট প্রমাণরূপে, আর ফুরকান। কাজেই তোমাদের মধ্যে যে কেউ মাসটির দেখা পাবে সে যেন এতে রোজা রাখে। আর যে অসুস্থ বা সফরে আছে যে সেই সংখ্যক অন্য দিনগুলোতে (রোজা পালন করবে)। আল্লাহ তোমাদের জন্য সুবিধা চান, আর তিনি তোমাদের জন্য কষ্টকর অবস্থা চান না। আর তোমরা যেন এই সংখ্যা সম্পূর্ণ করো, আর যাতে আল্লাহর মহিমা কীর্তন করো তোমাদের যে পথনির্দেশ তিনি দিয়েছেন সেজন্য, আর তোমরা যেন কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করো।’ -সূরা আল বাকারা: ১৮৫

পৃথিবীর দীর্ঘতম দিনের দেশেগুলোতে রোজার বিধান
পৃথিবীর ভৌগোলিক অবস্থানের ভিন্নতার কারণে সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্তের মধ্যে বড় ধরনের ব্যবধান রয়েছে। সে কারণে দেশভেদে রোজা সময়ও দীর্ঘ ও সংক্ষিপ্ত হয়। ইউরোপের উত্তরের দেশগুলোতে যেমন- সুইডেন, ডেনমার্ক, নরওয়েতে এই ব্যবধান আরও বেশি সেখানে গ্রীষ্মকালীন রোজা ২০ থেকে ২২ ঘণ্টা পর্যন্ত দীর্ঘ হয়ে থাকে। এসব এলাকার রোজার ব্যাপারে উলামায়ে কেরামের মতামত হলো, তারা নিজ নিজ এলাকার সময় অনুযায়ী সেহেরি ও ইফতার করবে।

ইফতারের সময়ের বিষয়ে কোরআনে কারিমে নির্দেশনা এসেছে, ‘...আর আহার করো ও পান করো যতক্ষণ না তোমাদের কাছে স্পষ্ট হয়ে ওঠে ভোরবেলাতে সাদা কিরণ কালো ছায়া থেকে, তারপর রোজা সম্পূর্ণ করো রাত্রি সমাগম পর্যন্ত। আর তাদের স্পর্শ করো না যখন তোমরা মসজিদে ইতিকাফ করো। এ হচ্ছে আল্লাহর সীমা, কাজেই সে সবের নিকটে যেয়ো না। এভাবে আল্লাহ তার আয়াতসমূহ মানুষের জন্য সুস্পষ্ট করে দিয়েছেন, যাতে তারা ধর্মপরায়ণতা অবলন্বন করে।’ -সূরা আল বাকারা: ১৮৭

ইমাম বোখারি (রহ.) তার সহিহ বোখারিতে ইফতার সময়ের ব্যাপারে একটি স্বতন্ত্র পরিচ্ছদ তৈরি করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘রোজাদারের জন্য কখন ইফতার করা জায়েজ হবে? হজরত আবু সাঈদ খুদরি (রা.) সূর্য অস্ত যাওয়ার পর ইফতার করেছেন।’

এই পরিচ্ছেদের অধীনে তিনি অন্য আরেকটি হাদিসও বর্ণনা করেছেন, ‘হজরত উমর ইবনে খাত্তাব (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যখন পূর্বদিগন্ত থেকে রাতের অন্ধকার ছেয়ে আসবে, পশ্চিম দিগন্তে দিনের আলো হারিয়ে যাবে এবং সূর্য এবং সূর্য অস্ত যাবে তখন রোজাদার ইফতার করবে।’ –সহিহ বোখারি: ১৮৫৩

বর্ণিত কোরআনের আয়াত ও হাদিসের আলোকে এ বিষয়টি দিবালোকের ন্যায় স্পষ্ট হয় যে, ইফতারের সময় সূর্য অস্তমিত হওয়ার পরেই হয়। সূর্য অস্ত যাওয়ার পূর্বে ইফতার করার কোনো সুযোগ নেই। সুতরাং যেসব এলাকায় দিন অধিক লম্বা ও রাত ছোট সেসব এলাকার বাসিন্দাদের গোটা দিন রোজা পালন করতে হবে। তবে যদি কোনো ব্যক্তির রোজা পালন করতে অধিক কষ্ট হয় এবং অভিজ্ঞ ডাক্তারের মতামত অনুযায়ী রোজা রাখলে তার জীবনহানি বা মারাত্মক রোগাক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে তার জন্য রোজা না রাখার অনুমতি রয়েছে।

পরবর্তীকালে যখন সম্ভব সে ওই রোজার কাজা করে নেবে। তবে তাদের জন্য মক্কার কিংবা সৌদি আরবের সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ইফতার করার কোনো সুযোগ নেই। কেননা তাদের মধ্যে যারা অপারগ ইসলামি শরিয়ত তাদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা রেখেছে। আর যারা অপারগ নয় তাদের রোজা পালনে অন্য এলাকায় লোকের তুলনায় কষ্ট বেশি হবে ঠিক কিন্তু তাদের সওয়াব ইনশাআল্লাহ অধিক হবে।

আপনার মতামত লিখুন :

সাদা-কালো গিলাফে নতুন রূপে কাবা

সাদা-কালো গিলাফে নতুন রূপে কাবা
সাদা-কালো গিলাফে নতুন রূপে কাবা, ছবি: সংগৃহীত

কালো কাপড়ের আচ্ছাদিত পবিত্র কাবা দেখতে বিশ্ববাসী অভ্যস্ত। এটাই কাবার চিরায়ত রূপ। কিন্তু বছরের তিন সপ্তাহের মতো সময় সেই পুরনো রূপে দেখা যায় না কাবাকে। কারণ, তখন কালো কাপড়ের সঙ্গে কাবার গিলাফের নিচের বেশ কিছু অংশ সাদা কাপড় দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়, আর কিছু অংশ খালি রাখা হয়। তখন সাদা-কালোর মিশ্রণে নতুন রূপে দেখা যায় কাবা ঘরকে।

প্রতিবছর হজ মৌসুমে জিলকদ মাসের মাঝামাঝি সময়ে পবিত্র কাবা ঘরের গিলাফকে মাটি থেকে অনেকটা উঁচুতে উঠিয়ে খাঁজ করে রাখা হয়। আর কিছু অংশ খোলা রাখা হয়।

কারণ, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হজপালনেচ্ছুদের অনেকে বরকত লাভের আশায় নিরাপত্তারক্ষীদের চোখ ফাঁকি দিয়ে কাবার গিলাফ কেটে নিয়ে যায়। তারা মনে করেন, কাবার গিলাফের টুকরো কাফনের কাপড়ের সঙ্গে দিয়ে দিলে কবরের আজাব হবে না, কিংবা পরকালে এটা তার মুক্তির কারণ হবে।
https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/21/1563722255398.jpg

অনেকে আবার পবিত্র কাবা ঘরের গিলাফ স্পর্শ করার জন্য মরিয়া হয়ে চেষ্টা করে আহত হন। ফলে অনেকের জন্য তাওয়াফ করা কষ্টসাধ্য হয়ে উঠে।
মূলত কাবার গিলাফের মূল অবয়ব রক্ষা ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার জন্য এটা করা হয়। তখন সাদা-কালোর গিলাফের সংমিশ্রণে কাবা শরিফের নতুন রূপ পরিলক্ষিত হয়। দেখার সৌভাগ্য হয় কাবার দেয়ালের প্রকৃত রূপ।

অবশ্য ৯ জিলহজ আরাফার দিন (হজের দিন) পুরনো এই গিলাফ পরিবর্তন করে নতুন গিলাফ লাগানো হবে। ফলে হজের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে এসে হাজি সাহেবর নতুন গিলাফে ঢাকা কাবা দেখতে পাবেন।
https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/21/1563722287338.jpg

কাবার গিলাফ স্পর্শ করা বা এটা ধরে দোয়া-মোনাজাত করার আলাদা কোনো ফজিলত নেই। তার পরও দেখা যায়, অনেক হজযাত্রী কাবাঘরের দেয়াল স্পর্শ করতে এমনকি তাতে নিজের রুমাল, জামা কাপড় স্পর্শ করাতে। যদিও ধর্মীয় চিন্তাবিদরা এমন কাজ করা থেকে মানুষকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

ফ্লাইট মিস করা ৬৭ হজযাত্রী মক্কার পথে

ফ্লাইট মিস করা ৬৭ হজযাত্রী মক্কার পথে
ফ্লাইট মিস করা ৬৭ হজযাত্রী এখন মক্কার পথে, ছবি: সংগৃহীত

ভিসা জটিলতার কারণে নির্ধারিত ফ্লাইট মিস করা যাত্রীদের মধ্যে সর্বশেষ ৬৭ জন হজযাত্রী সাধারণ ফ্লাইটে মক্কায় যাচ্ছেন।

রোববার (২১ জুলাই) সন্ধ্যায় এই হজযাত্রীরা অন্য সাধারণ যাত্রীদের সঙ্গী হয়ে মক্কায় যাচ্ছেন। বিমানের বিজি ১৩৫ নং ফ্লাইটে বিমানের ৪২০ জন যাত্রীর সঙ্গে এই ফ্লাইটে হজযাত্রী রয়েছেন মাত্র ১০০ জন।

মিনার এয়ার ট্রাভেলসের ৬৭ জন হজযাত্রী ভিসা জটিলতায় ১৬ জুলাই বিমানের নির্ধারিত ফ্লাইট মিস করেন। শুধু মিনার এয়ার ট্রাভেলস নয়, এর সঙ্গে আরও তিনটি ট্রাভেলসের মোট দেড়শ’ হজযাত্রী ফ্লাইট মিস করেছিলেন। তবে অন্যান্য ট্রাভেলসের হজযাত্রীরা ভিন্ন ভিন্ন ফ্লাইটে মক্কায় চলে গেছেন। কিন্তু মিনার ট্রাভেলসের হজযাত্রীরা বিচ্ছিন্নভাবে যেতে রাজি হননি। তাই তাদের সবাইকে অন্য একটি সাধারণ ফ্লাইটে মক্কায় পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেই ফ্লাইটটি (বিজি ১৩৫) রোববার সন্ধা সাড়ে ছয়টায় ঢাকা ছেড়ে গেছে।

উল্লেখ্য গত ১৪ ও ১৫ জুলাই সৌদি দূতাবাসের অনলাইন সার্ভারের জটিলতায় সঠিক সময়ে ভিসা হাতে না পেয়ে বিমানের দু’টি ফ্লাইট মিস করেছেন এই হজযাত্রীরা। দু’দিন পরে গত মঙ্গলবার ভিসা হাতে পাওয়ার পর বিমানের অন্য ফ্লাইটেও কোনো শিডিউল পাচ্ছিলেন না তারা। ফলে কবে বা কোন ফ্লাইটে এই ১৫১ জন হজযাত্রী মক্কায় যেতে পারবেন সেটিও অনেকটা অনিশ্চয়তার মধ্যেই ছিল।

রোববার আশকোনাস্থ হজক্যাম্পে গিয়ে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বেশ কয়েকটি হজ এজেন্সির মোট ১৫১ জন হজযাত্রী বিলম্বে ভিসা পাওয়ার কারণে তারা বিমানের ফ্লাইট মিস করেছিলেন। নির্ধারিত ফ্লাইটে তারা হজে যেতে পারেননি। এর মধ্যে মিনার এয়ার ট্রাভেলসের (হজ লাইসেন্স নং ১০৩০) তাদের ৬৭ জন হজযাত্রীর ভিসা দূতাবাসের সার্ভারের সমস্যার কারণে সঠিক সময়ে অর্থাৎ নির্ধারিত ফ্লাইটের আগে হাতে পাননি। এই ৬৭ জন হজযাত্রীর যাত্রার নির্ধারিত ফ্লাইট ছিল ১৬ জুলাই মঙ্গলবার (বিজি ৩০৩৩) ফ্লাইটে।

ফ্লাইট মিস করা হজযাত্রীরা বিমান হজ অফিসের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ভিন্ন ভিন্ন ফ্লাইটে মক্কায় চলে গেছেন। একমাত্র মিনার এয়ার ট্র্রাভেলস ছাড়া অন্যান্য কোনো ট্রাভেলসের ফ্লাইট মিস করা হজযাত্রী মক্কায় যাওয়ার বাকি নেই। মিনার ট্রাভেলসের যাত্রীরা বিচ্ছিন্নভাবে হজে যেতে রাজি না হওয়ায় এখন তাদের এই ৬৭ জনসহ মোট ১০০ জন হজযাত্রীকে বিমানের সাধারণ ফ্লাইটেই মক্কায় যেতে হচ্ছে।

রোববার দুপুরে আশকোনাস্থ হজ ক্যাম্পের পরিচালক (হজ অফিসার) মো: সাইফুল ইসলাম নয়া দিগন্তকে জানান, আমরা ফ্লাইট মিস করা হজযাত্রীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অন্য ফ্লাইটে মক্কায় পাঠানোর ব্যবস্থা করছি। মিনার ট্রাভেলস ছাড়া আর কোন ফ্লাইট মিস করা যাত্রী ঢাকায় নেই। তারা সকলেই মক্কায় পৌছে গেছেন। রোববার সন্ধায় বিমানের একটি ফ্লাইটে মিনার ট্রাভেলস এর ৬৭ জন হজযাত্রীও মক্কায় যাচেছন।

 

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র