Alexa

রোজায় ‘মক্কা সময়’ অনুসরণের সুযোগ নেই

রোজায় ‘মক্কা সময়’ অনুসরণের সুযোগ নেই

মক্বা শরীফে তাওয়াফ ও ইফতারের দৃশ্য, ছবি: সংগৃহীত

প্রাপ্তবয়স্ক সব মুসলমানের রোজা রাখা ফরজ হলেও সর্বাবস্থায় সবার জন্য রোজা রাখতে বাধ্যতামূলক বিধান নয়। যারা রোজা রাখতে অপারগ তাদের জন্য বিকল্প সুযোগ রয়েছে ইসলামে। এ বিষয়টি আল্লাহতায়ালা নিজেই পবিত্র কোরআনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন, ‘রমজান মাস এটি, যাতে কোরআন নাজিল হয়েছিল, ... মানবগোষ্ঠীর জন্য পথপ্রদর্শক হিসেবে, আর পথনির্দেশের স্পষ্ট প্রমাণরূপে, আর ফুরকান। কাজেই তোমাদের মধ্যে যে কেউ মাসটির দেখা পাবে সে যেন এতে রোজা রাখে। আর যে অসুস্থ বা সফরে আছে যে সেই সংখ্যক অন্য দিনগুলোতে (রোজা পালন করবে)। আল্লাহ তোমাদের জন্য সুবিধা চান, আর তিনি তোমাদের জন্য কষ্টকর অবস্থা চান না। আর তোমরা যেন এই সংখ্যা সম্পূর্ণ করো, আর যাতে আল্লাহর মহিমা কীর্তন করো তোমাদের যে পথনির্দেশ তিনি দিয়েছেন সেজন্য, আর তোমরা যেন কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করো।’ -সূরা আল বাকারা: ১৮৫

পৃথিবীর দীর্ঘতম দিনের দেশেগুলোতে রোজার বিধান
পৃথিবীর ভৌগোলিক অবস্থানের ভিন্নতার কারণে সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্তের মধ্যে বড় ধরনের ব্যবধান রয়েছে। সে কারণে দেশভেদে রোজা সময়ও দীর্ঘ ও সংক্ষিপ্ত হয়। ইউরোপের উত্তরের দেশগুলোতে যেমন- সুইডেন, ডেনমার্ক, নরওয়েতে এই ব্যবধান আরও বেশি সেখানে গ্রীষ্মকালীন রোজা ২০ থেকে ২২ ঘণ্টা পর্যন্ত দীর্ঘ হয়ে থাকে। এসব এলাকার রোজার ব্যাপারে উলামায়ে কেরামের মতামত হলো, তারা নিজ নিজ এলাকার সময় অনুযায়ী সেহেরি ও ইফতার করবে।

ইফতারের সময়ের বিষয়ে কোরআনে কারিমে নির্দেশনা এসেছে, ‘...আর আহার করো ও পান করো যতক্ষণ না তোমাদের কাছে স্পষ্ট হয়ে ওঠে ভোরবেলাতে সাদা কিরণ কালো ছায়া থেকে, তারপর রোজা সম্পূর্ণ করো রাত্রি সমাগম পর্যন্ত। আর তাদের স্পর্শ করো না যখন তোমরা মসজিদে ইতিকাফ করো। এ হচ্ছে আল্লাহর সীমা, কাজেই সে সবের নিকটে যেয়ো না। এভাবে আল্লাহ তার আয়াতসমূহ মানুষের জন্য সুস্পষ্ট করে দিয়েছেন, যাতে তারা ধর্মপরায়ণতা অবলন্বন করে।’ -সূরা আল বাকারা: ১৮৭

ইমাম বোখারি (রহ.) তার সহিহ বোখারিতে ইফতার সময়ের ব্যাপারে একটি স্বতন্ত্র পরিচ্ছদ তৈরি করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘রোজাদারের জন্য কখন ইফতার করা জায়েজ হবে? হজরত আবু সাঈদ খুদরি (রা.) সূর্য অস্ত যাওয়ার পর ইফতার করেছেন।’

এই পরিচ্ছেদের অধীনে তিনি অন্য আরেকটি হাদিসও বর্ণনা করেছেন, ‘হজরত উমর ইবনে খাত্তাব (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যখন পূর্বদিগন্ত থেকে রাতের অন্ধকার ছেয়ে আসবে, পশ্চিম দিগন্তে দিনের আলো হারিয়ে যাবে এবং সূর্য এবং সূর্য অস্ত যাবে তখন রোজাদার ইফতার করবে।’ –সহিহ বোখারি: ১৮৫৩

বর্ণিত কোরআনের আয়াত ও হাদিসের আলোকে এ বিষয়টি দিবালোকের ন্যায় স্পষ্ট হয় যে, ইফতারের সময় সূর্য অস্তমিত হওয়ার পরেই হয়। সূর্য অস্ত যাওয়ার পূর্বে ইফতার করার কোনো সুযোগ নেই। সুতরাং যেসব এলাকায় দিন অধিক লম্বা ও রাত ছোট সেসব এলাকার বাসিন্দাদের গোটা দিন রোজা পালন করতে হবে। তবে যদি কোনো ব্যক্তির রোজা পালন করতে অধিক কষ্ট হয় এবং অভিজ্ঞ ডাক্তারের মতামত অনুযায়ী রোজা রাখলে তার জীবনহানি বা মারাত্মক রোগাক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে তার জন্য রোজা না রাখার অনুমতি রয়েছে।

পরবর্তীকালে যখন সম্ভব সে ওই রোজার কাজা করে নেবে। তবে তাদের জন্য মক্কার কিংবা সৌদি আরবের সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ইফতার করার কোনো সুযোগ নেই। কেননা তাদের মধ্যে যারা অপারগ ইসলামি শরিয়ত তাদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা রেখেছে। আর যারা অপারগ নয় তাদের রোজা পালনে অন্য এলাকায় লোকের তুলনায় কষ্ট বেশি হবে ঠিক কিন্তু তাদের সওয়াব ইনশাআল্লাহ অধিক হবে।

আপনার মতামত লিখুন :