Barta24

বুধবার, ২১ আগস্ট ২০১৯, ৫ ভাদ্র ১৪২৬

English

মেহেরপুরের ঐতিহ্য আনন্দবাস ১০ গম্বুজ মসজিদ

মেহেরপুরের ঐতিহ্য আনন্দবাস ১০ গম্বুজ মসজিদ
মেহেরপুরের ঐতিহ্য আনন্দবাস ১০ গম্বুজ মসজিদ, ছবি: বার্তা২৪.কম
মাজেদুল হক মানিক
ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম
মেহেরপুর


  • Font increase
  • Font Decrease

মানুষে মানুষে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন জোরদার ও সামাজিক সম্প্রতি সৃষ্টিতে মসজিদের ভূমিকা অপরিসীম। এটা মসজিদের একটি আবেদনও বটে।

আনন্দবাস গ্রামের ঐতিহ্যবাহী ১০ গম্বুজ মসজিদটি এমনই একটি মসজিদ। যা এলাকার প্রাচীন ইতিহাস ও ঐতিহ্যের অংশ। এই মসজিদে জুমার নামাজে অংশ নিতে দূর-দূরান্ত থেকে মুসল্লিরা আসেন।

ভারতীয় সীমান্তবর্তী মেহেরপুর জেলায় ইসলাম প্রচারক হিসেবে অনেক দরবেশ ও আওলিয়ার নাম শোনা যায়। তাদের একজন শেখ ফরিদ। মুজিবনগর উপজেলার বাগোয়ান গ্রামে রয়েছে তার কর্মকাণ্ডের অনেক নিদর্শন। তার অনুপ্রেরণায় আনন্দবাস গ্রামে প্রায় দেড়শ বছর আগে নির্মাণ করা হয় একটি মসজিদ। যার বর্তমান নাম আনন্দবাস ১০ গম্বুজ মসজিদ।
https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/18/1558174143540.jpg

এ প্রসঙ্গে বাগোয়ান ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আয়ুব হোসেন বলেন, ‘এ মসজিদকে ঘিরে আমাদের এলাকায় ইসলাম প্রচার হয়েছে। অন্য এলাকা থেকে বহু মানুষ জুমার নামাজ পড়তে আসেন। পরবর্তীতে এ মসজিদকে ঘিরে এলাকায় আরও বহু মসজিদ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। পুরোনো ঐতিহ্য ধরে রাখতে মসজিদের গম্বুজগুলো সংরক্ষণের চেষ্টা করছি।’

মসজিদটির প্রতিষ্ঠাতা সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায় না। তবে মসজিদ পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ইবনে সুয়ায়েজ মামুন বলেন, আবুল মাস্টার, মফেম উদ্দীন মণ্ডল ও আমার দাদা জিন্দার আলীসহ অনেক মুরুব্বি দেখাশোনা করতেন মসজিদটি। তাদের পরবর্তী প্রজন্মরাই এখন দায়িত্ব নিয়েছেন। তবে তাদের পূর্বপুরুষরা মসজিদটি নির্মাণ করেছিলেন বলে আমরা শুনেছি।

বয়োবৃদ্ধ সুলতান বিশ্বাস ও মসজিদের মোয়াজ্জিন ময়েন উদ্দীন বলেন, মসজিদটি আমাদের গর্ব। এখানে নামাজ পড়ে যেন আলাদা শান্তি উপলদ্ধি করি।
https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/18/1558174162758.jpg

শুক্রবার জুমার নামাজ পড়তে আসা আনন্দবাস গ্রামের যুবক জাহিদ হাসান। জাহিদ মেহেরপুর সরকারি কলেজে মাস্টার্সে লেখাপড়া করেন।

তিনি বলেন, ঐতিহবাহী এই মসজিদ আমাদের গ্রামের হওয়ায়- নিজেকে গর্বিত মনে করি।

১০ গম্বুজ মসজিদকে ঘিরে এলাকায় ইসলামের প্রচার-প্রসার ঘটেছে। এ মসজিদের আদলে এলাকায় আরও অনেক মসজিদ নির্মিত হয়েছে- কথাগুলো বলছিলেন মসজিদের ইমাম মাওলানা সালাহ উদ্দীন।

তিনি বলেন, বাগেরহাটের ষাট গম্বুজ মসজিদের গম্বুজের চেয়ে এই মসজিদের একটি গম্বুজ অনেক বড়। এটাই এই মসজিদের বৈশিষ্ট্য।

আপনার মতামত লিখুন :

বাংলাদেশি আলেমরা উষ্ণ অভ্যর্থনা পেলেন মসজিদে নববীতে

বাংলাদেশি আলেমরা উষ্ণ অভ্যর্থনা পেলেন মসজিদে নববীতে
ছবি: সংগৃহীত

মক্কা (সৌদি আরব) থেকে: সৌদি আরবে আসা হজযাত্রীদের হজপালন বিষয়ে ধর্মীয় পরামর্শ ও দিক-নির্দেশনা প্রদানের জন্য রাষ্ট্রীয় খরচে আসা ৫৮ আলেমকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়েছেন মদিনার মসজিদে নববী কর্তৃপক্ষ।

মঙ্গলবার (২০ আগস্ট) সকালে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী এডভোকেট শেখ মুহাম্মদ আবদুল্লাহর নেতৃত্বে ৫৮ সদস্যের ওলামা-মাশায়েখ দল হজপালন শেষে মদিনার মসজিদে নববী পরিদর্শনে গেলে তারা এ অভ্যর্থনা জানান। এ সময় মসজিদে নববীর প্রধান কর্মকর্তা মোহাম্মদ আল খুদায়েরি বলেন, অতীতে বাংলাদেশের এতো বড় আলেম প্রতিনিধি দল সৌদি আরব বিশেষ করে মদিনায় আসেনি। একসঙ্গে বাংলাদেশের শীর্ষ আলেমদের কাছে পেয়ে তারা গভীর কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/20/1566315408680.jpg

এ সময় ধর্ম প্রতিমন্ত্রী আলহাজ্ব এডভোকেট শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিচ্ছেন তার কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সৌদি আরবের সঙ্গেও তিনি সুসম্পর্ক বজায় রাখছেন। তিনি আরও বলেন, মুসলিম বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠায় সৌদি আরবের নেতৃত্বকে সমর্থন জানাবে বাংলাদেশ।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/20/1566315426944.jpg

পরে বাংলাদেশের আলেম ও ধর্ম প্রতিমন্ত্রীকে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর রওজা মোবারকে সালাম ও দরুদ পেশ এবং রিয়াজুল জান্নাতে নামাজ পড়ার ব্যবস্থা করেন মসজিদে নববী কর্তৃপক্ষ।

উল্লেখ্য যে, হজযাত্রীদের পরামর্শ দিতে ৫৮ সদস্যের ওলামা-মাশায়েখের একটি দল রাষ্ট্রীয় খরচে সৌদি আরব অবস্থান করছেন। ২১ আগস্ট তাদের দেশে ফিরে যাওয়ার কথা রয়েছে।

হজপালনে শীর্ষ ইন্দোনেশিয়া, বাংলাদেশ চতুর্থ

হজপালনে শীর্ষ ইন্দোনেশিয়া, বাংলাদেশ চতুর্থ
ছবি: সংগৃহীত

মক্কা (সৌদি আরব) থেকে: 'লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক' অর্থাৎ 'আমি উপস্থিত হে আল্লাহ! আমি উপস্থিত।' সাদা দুই টুকরো কাপড় গায়ে জড়িয়ে বারবার এ ঘোষণায় আকাশ-বাতাস মুখর করে আরাফাতের ময়দানে অবস্থানের মধ্য দিয়ে এবার হজপালন করলেন প্রায় ২৫ লাখ মুসলিম। আরাফাতের ময়দানে ইবাদত-বন্দেগির পাশাপাশি সফেদ-শুভ্র কাপড় পরে চোখে পানি নিয়ে মোনাজাত করেছেন হাজিরা জীবনের যাবতীয় পাপ মাফের জন্য।

এবার হজপালন করেছেন ২৪ লাখ ৮৯ হাজার ৪০৬ জন। ২০১৮ সালে হজপালন করেছিলেন ২৩ লাখ ৭১ হাজার ৬৭৫ জন। গতবারের তুলনায় এবার হজপালনকারীর সংখ্যা ১ লাখ ১৭ হাজার ৭৩১ জন বেশি। এবারের হজপালনকারীদের মধ্যে বিভিন্ন দেশের হজযাত্রী ছিলো- ১৮ লাখ ৫৫ হাজার ২৭ জন, আর সৌদি আরবের হজপালনকারী ৬ লাখ ৩৪ হাজার ৩৭৯ জন (সৌদি নাগরিক ২ লাখ ১১ হাজার ৩ জন, সৌদিতে কর্মরত বিভিন্ন দেশের নাগরিক ৪ লাখ ২৩ হাজার ৩৭৬ জন)। এই বিপুল সংখ্যক হজযাত্রীর মধ্যে পুরুষ হজযাত্রী ১৩ লাখ ৮৫ হাজার ২৩৪ জন (শতকরা ৫৩ ভাগ), নারী হজযাত্রী ১১ লাখ ৪ হাজার ১৭২ জন (শতকরা ৪৭ ভাগ)। এবার ৩ লাখ ৫০ হাজার ৮৩০ দম্পতি হজপালন করেছেন। হজযাত্রীরা আকাশ পথ, সড়ক পথ ও নৌ-পথ ব্যবহার করে হজপালন করতে সৌদি আরব এসেছেন।

হজযাত্রীর সংখ্যা বিবেচনায় এশিয়া মহাদেশ শীর্ষে। আর দেশ হিসেবে ইন্দোনেশিয়া। এবার ইন্দোনেশিয়া থেকে হজপালন করছেন ২ লাখ ২১ হাজার হজযাত্রী। বাংলাদেশের অবস্থান চতুর্থ। বাংলাদেশের হজযাত্রীর সংখ্যা ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮। বাংলাদেশি হাজিদের মধ্যে বয়স অনুযায়ী ৪১-৬০ বছর বয়সী যাত্রীর হার শকতরা ৩৪ ভাগ। আর লিঙ্গ অনুযায়ী পুরুষ যাত্রীর সংখ্যা ৬৩ ভাগ। বাংলাদেশ থেকে ঢাকা বিভাগের হজযাত্রী বেশি (শতকরা ৩৩ ভাগ) আর যাত্রী কম সিলেট বিভাগের (শতকরা ২ ভাগ)। হজ অফিস সূত্রে জানা গেছে, শতকরা ৯ ভাগ চাকরিজীবির বিপরীতে শতকরা ৪০ ভাগ ব্যবসায়ী এবার হজ পালন করেছেন।

হজযাত্রীর সংখ্যা হিসেবে শীর্ষ দশের অন্য দেশগুলো হলো- দ্বিতীয় স্থানে পাকিস্তান (১ লাখ ৭৯ হাজার ২১০), তৃতীয় ভারত (১ লাখ ৭০ হাজার), পঞ্চম মিসর (১ লাখ ৮ হাজার), ষষ্ঠ ইরান (৮৬ হাজার ৫০০), সপ্তম তুরস্ক (৭৯ হাজার), অষ্টম নাইজেরিয়া (৭৯ হাজার), নবম আলজেরিয়া (৩৬ হাজার) ও দশম স্থানে রয়েছে মরক্কো (৩১ হাজার)।

উল্লেখিত দেশসমূহ বাদে অন্য দেশসমূহের হজযাত্রীর সংখ্যা ৬ লাখ ৩৫ হাজার ১০৬ জন।

এবারও হজ উপলক্ষে সৌদি সরকার ৫ রিয়াল মূল্যমানের ডাকটিকিট অবমুক্ত করেছে। প্রথমবারের মতো আরাফাতের ময়দানে অবস্থিত মসজিদে নামিরা থেকে দেওয়া হজের খুতবা রেডিওর মাধ্যমের সরাসরি ৬টি ভাষায় অনুবাদ করে প্রচার করা হয়েছে। ওই ৬টি ভাষা হলো- ইংরেজি, চাইনিজ, উর্দু, ফার্সি, ফ্রান্স ও মালি। সৌদি সরকারের ব্যবস্থাপনায় প্রথমবারের মতো ৫০ ভাষার স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। হজ অনুষ্ঠানের দিনগুলোতে সৌদি আরবের ধর্ম মন্ত্রণালয় হজপালনকারীদের মোবাইলে প্রতিদিন বিভিন্ন পরামর্শ ও দিক-নির্দেশনামূলক প্রায় ৩২ লাখ এসএমএস পাঠিয়েছে।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র