Barta24

শুক্রবার, ১৯ জুলাই ২০১৯, ৩ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

যেসব কাজে রোজার কোনো ক্ষতি হয় না

যেসব কাজে রোজার কোনো ক্ষতি হয় না
রোজার মাসয়ালা জেনে রোজা পালন আবশ্যক, ছবি: সংগৃহীত
মুফতি মাহফূযুল হক
অতিথি লেখক
ইসলাম
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

কিছু কিছু কাজ এমন আছে যেগুলোকে অজ্ঞতার দরুণ অনেকেই রোজার জন্য ক্ষতিকর বলে মনে করেন। তাদের ধারণামতে এ কারণে রোজা ভেঙে যায়। অথচ বাস্তবতা হলো এসব কাজে রোজা ভাঙে না, রোজার কোনো ক্ষতিও হয় না।

রোজার কথা স্মরণ না থাকা অবস্থায় কেউ যদি পানাহার করে তবে তাতে রোজার কোনো ক্ষতি হয় না। তবে স্মরণ হওয়ামাত্রই পানাহার থেকে বিরত থাকতে হবে। স্মরণ হওয়ার পর অতি সামান্য দানা-পানিও গলায় প্রবেশ করলে রোজা থাকবে না। নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, যদি কেউ রোজা অবস্থায় রোজার কথা স্মরণ না থাকার দরুণ পানাহার করে ফেলে তাহলে সে তার রোজা পূর্ণ করবে। কেননা, আল্লাহ তাকে এ পানাহার করিয়েছেন। -সহিহ বোখারি: ৬৬৬৯

চোখে ড্রপ, মলম, সুরমা, কাজল, মাশকারা ইত্যাদি ব্যবহার করলে রোজার কোনো ক্ষতি হয় না। এমনকি চোখ দিয়ে প্রবেশ করে মুখে ও খাদ্যনালীতে স্বাদ অনুভূত হলেও রোজার কোনো ক্ষতি হবে না। একদা এক লোক নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দরবারে এসে জিজ্ঞাস করলো, আমি কি রোজা রেখে চোখে সুরমা ব্যবহার করতে পারব? উত্তরে তিনি বললেন, হ্যাঁ। -সুনানে তিরমিজি: ৭২৬

অনিচ্ছাকৃতভাবে অনেক বেশি বমি হলেও রোজা ভাঙে না। নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, অনিচ্ছায় যার বমি হলো- তার রোজা কাজা করতে হবে না। -সুনানে তিরমিজি: ৭২০

মশা-মাছি বা অন্যকোনো কীট-পতঙ্গ অনিচ্ছাকৃতভাবে পেটে প্রবেশ করলে রোজা ভাঙবে না। তদ্রুপ কানে কোনো ঔষধ প্রবেশ করালে রোজা ভাঙবে না।

স্বপ্নদোষের কারণে রোজার কোনো ক্ষতি হয় না। রাতের অপবিত্রতা দিন পর্যন্ত বাকি থাকলেও রোজা ভাঙে না। ধুঁয়া, ধুলাবালি অনিচ্ছায় গলায় গেলে রোজা ভাঙবে না।

শরীরে তেল, লোশন ইত্যাদি ব্যবহার করলে রোজার ক্ষতি হয় না। কোনো কাজ ব্যতীত নিছক কল্পনা বা দৃষ্টিপাতের কারণে শুক্রক্ষরণ হলে রোজা ভাঙে না। তবে পরনারীকে নিয়ে এ ধরণের কল্পনা বা দৃষ্টিপাত সর্বাবস্থায়ই গর্হিত অপরাধ। রোজা অবস্থায় অপরাধের মাত্রা অন্য সময়ের চেয়ে আরও গুরুতর হয়। আর নিজের স্ত্রীকে নিয়ে কল্পনা বা দৃষ্টিপাত জায়েজ থাকলেও রোজা অবস্থায় অনুচিত।

রোজা রেখে রক্ত দিতে-নিতে কোনো সমস্যা নেই। ইনজেকশন, স্যালাইন নিলে রোজা ভাঙে না। এমনকি গ্লুকোজ স্যালাইনেও রোজা ভাঙে না। তবে কঠিন প্রয়োজন ব্যতীত গ্লুকোজ স্যালাইন নেওয়া মাকরুহ। মস্তিষ্কে অস্ত্রপচারকালে মস্তিষ্কের ভেতরে কোনো ঔষধ ব্যবহার করলে বা মস্তিষ্কে পৌঁছবে এমন কোনো ঔষধ মাথার ক্ষতে ব্যবহার করলে রোজার ভাঙবে না।

পুরুষ-মহিলার প্রস্রাবের রাস্তা দিয়ে কোনো ঔষধ বা কোনো কিছু প্রবেশ করালে রোজার কোনো ক্ষতি হয় না।

উরুর গোড়া দিয়ে কেটে বিশেষ রগ দিয়ে হার্ট পর্যন্ত ক্যাথেটার ঢুকিয়ে হার্টের যে পরীক্ষা করা হয় তাতে রোজার কোনো ক্ষতি হয় না।

আপনার মতামত লিখুন :

হজযাত্রীদের ধর্মীয় পরামর্শক দলে আরও ৩ আলেম

হজযাত্রীদের ধর্মীয় পরামর্শক দলে আরও ৩ আলেম
হজযাত্রীদের ধর্মীয় পরামর্শক দলে আরও ৩ আলেমকে অন্তর্ভুক্ত করেছে ধর্ম মন্ত্রণালয়

সৌদি আরবে বাংলাদেশি হজযাত্রীদের হজপালন বিষয়ে ধর্মীয় পরামর্শ ও দিক-নির্দেশনা দেওয়ার জন্য গঠিত ওলামা-মাশায়েখদের দলে যোগ হয়েছেন আরও তিন আলেম। এখন ওই দলের সদস্য সংখ্যা ৫৭। এর আগে ৯ জুলাই ৫৫ জন আলেমের একটি দল গঠন করে ধর্ম মন্ত্রণালয়।

তালিকায় যোগ হওয়া ওই তিনজন হলেন- হাইয়াতুল উলইয়ার কো-চেয়ারম্যান মাওলানা আশরাফ আলীর ছেলে হাফেজ মাওলানা মুফতি শামীম আহমদ (মুহাদ্দিস, মাদরাসাতুল আবরার, মাতুয়াইল, ঢাকা), বেফাক মহাসচিব মাওলানা আবদুল কুদ্দসের ছেলে মাওলানা মোহাম্মদ মঞ্জুরুল হাসান যোবায়ের (শিক্ষক, ফরিদাবাদ মাদরাসা, ঢাকা) ও মাওলানা সাজিদুর রহমান (মুহতামিম, দারুল আরকাম মাদরাসা, বি.বাড়িয়া)। তন্মধ্যে মাওলানা আশরাফ আলী ও মাওলানা আবদুল কুদ্দুস ওলামা-মাশায়েখদের দলে আগেই ছিলেন। এবার তালিকায় তাদের সঙ্গে সন্তানরাও যোগ হলেন। 

তালিকা দেখতে ক্লিক করুন 

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব শিব্বির আহমদ উছমানি স্বাক্ষরিত এক চিঠির বরাতে ওলামা-মাশায়েখদের হজ পালনের বিষয়টি জানানো হয়। রাষ্ট্রীয় খরচে হজযাত্রীদের প্যাকেজে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা প্রদান সাপেক্ষে ওলামা-মাশায়েখদের হজপালনে এবারই প্রথম অন্তর্ভুক্ত করা হলো।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, আগামী ৪ ও ৫ আগস্ট ফ্লাইট প্রাপ্তি সাপেক্ষে ওলামা-মাশায়েখদের দলটি সৌদি আরবে যাবেন। ২৩ আগস্ট তারা দেশে ফিরে আসবেন। রাষ্ট্রীয় খরচে হজ সফর হিসেবে গণ্য হবে। মনোনীত আলেমদের কোরবানি নিজ খরচে করতে হবে। মক্কা-মদিনায় তাদের ভ্রমনসূচি হজ কাউন্সিলর কর্তৃক নির্ধারিত হবে, তারা নিজ অর্থায়নে হলেও স্ত্রী-সন্তানসহ গমন করতে পারবেন না।

এদিকে ১৪ জুলাই বাংলাদেশিদের হজ ব্যবস্থাপনার কাজে সার্বিক তত্ত্বাবধান ও দিক-নির্দেশনা প্রদানের জন্য ১০ সদস্য বিশিষ্ট হজ প্রতিনিধি দল গঠন করে ধর্ম মন্ত্রণালয়। ওই দলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদাসহ তিনজন প্রতিমন্ত্রী, তিনজন সংসদ সদস্য, দু্’জন সচিব ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একজন মহাপরিচালক (মহাপরিচালক-৩) রয়েছেন।

এই দুই দল ছাড়াও বাংলাদেশি হজযাত্রীদের জেদ্দা, মক্কা ও মদিনায় সহায়তা করতে সরকার বেশ কয়েকটি টিম গঠন করে সৌদি আরব প্রেরণ করেছে। দলগুলো হলো- হজ চিকিৎসক দল, হজ প্রশাসনিক দল, হজ কারিগরি দল ও হজ চিকিৎসক দলের সহায়ক দল।

আরও পড়ুন:

হজযাত্রীদের পরামর্শ দিতে ৫৫ আলেমকে সৌদি পাঠাচ্ছে সরকার

সিইসিসহ হজ প্রতিনিধি দলে ৩ মন্ত্রী, ৩ এমপি

উল্লেখ্য, এ বছর বাংলাদেশ থেকে সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ১ লাখ ২৬ হাজার ৯২৩ জন হজযাত্রী হজপালনের জন্য সৌদি আরব যাবেন।

নবীর রওজার গিলাফ উপহার পেলেন ব্রিটিশ বক্সার

নবীর রওজার গিলাফ উপহার পেলেন ব্রিটিশ বক্সার
নবীর রওজার গিলাফের টুকরা দেখাচ্ছেন আমির খান, ছবি: সংগৃহীত

পাকিস্তানী বংশোদ্ভূত জনপ্রিয় ব্রিটিশ বক্সার আমির ইকবাল খান এক বক্সিং প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে সৌদি আরব সফরে রয়েছেন। তিনি জেদ্দায় অস্ট্রেলিয়ান বক্সার বিলি ডিবের বিপক্ষে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করবেন। সৌদি আরব যেয়ে তিনি বিশেষ ব্যবস্থায় ওমরা পালন করেছেন। সেই সঙ্গে নবী করিম (সা.)-এর রওজা শরিফের অভ্যন্তরে ব্যবহৃত গিলাফের একটি টুকরা পেয়েছেন উপহার হিসেবে।

মাত্র ১৭ বছর বয়সে ব্রিটেনের হয়ে অলিম্পিক পদকজয়ী এই বক্সিং চ্যাম্পিয়ন স্ত্রী ফারিয়াল মাকদুমকে নিয়ে কাবা চত্ত্বরে দাঁড়িয়ে ইহরাম পরিহিত ও রওজার গিলাফের একটি ছবি ইন্সটাগ্রামে পোস্ট করেছেন। গিলাফের ওই টুকরাটি সবুজ কাপড়ের। সেখানে সাদা রংয়ের ক্যালিগ্রাফিতে কালেমা লেখা রয়েছে।
https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/16/1563289158690.jpg

আমির খান সম্মাননা পাওয়া রওজার গিলাফের ছবি ইন্সটাগ্রামে পোস্ট করে লিখেছেন, ‘আমি বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পবিত্র রওজা শরিফের এক টুকরো কাপড় পেয়ে সম্মানিত ও খুব সৌভাগ্যবান। এটা আমার পুরো জীবনের জন্য উপভোগের বিষয়।’

প্রতি বছরই নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের রওজা শরিফের গিলাফ এবং কাবা শরিফের গিলাফ পরিবর্তন করা হয়। পরে গিলাফের অংশ বিশ্বের খ্যাতনামা আলেম ও রাষ্ট্রপ্রধানসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিদেরকে সম্মাননা হিসেবে উপঢৌকন দেওয়া হয়। এরই অংশ হিসেবে কিংবদন্তি বক্সার মোহাম্মাদ আলীর পর মুসলিম বক্সার হিসেবে পরিচিত ও জনপ্রিয় মুষ্টিযোদ্ধা আমির ইকবাল খান এ উপহার পেলেন।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র