গুলি ছুড়ে নামাজ শুরুর সংকেত দেওয়া হয় শোলাকিয়ার

ইসলাম ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
গুলি ছুড়ে নামাজ শুরুর সংকেত দেওয়া হয় শোলাকিয়ার, ছবি: সংগৃহীত

গুলি ছুড়ে নামাজ শুরুর সংকেত দেওয়া হয় শোলাকিয়ার, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

প্রতিবছরের মতো এবারও দেশের সর্ববৃহৎ ঈদুল ফিতরের জামাত অনুষ্ঠিত হবে কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়া মাঠে। সকাল ১০টায় ১৯৩তম ঈদের জামাতে ইমামতি করবেন বিশিষ্ট আলেম মাওলানা ফরিদ উদ্দীন মাসউদ।

বিশাল এ মাঠে নামাজে অংশ নেওয়া মুসল্লিদের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য নামাজ শুরুর সংকেত হিসেবে গুলি ছোঁড়ে আওয়াজ করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে রেওয়াজ অনুযায়ী ঈদের জামাত শুরু হওয়ার ৫ মিনিট আগে ৩টি, ৩ মিনিট আগে ২টি এবং ১ মিনিট আগে ১টি করে শর্টগানের গুলি ছোঁড়া হয়।

ঐতিহ্যবাহী এ ঈদের জামাতকে ঘিরে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে শোলাকিয়াসহ এর আশেপাশে। কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের পূর্বপ্রান্তে নরসুন্দা নদীর তীর ঘেঁষে অবস্থিত প্রাচীন এবং ঐতিহ্যবাহী এ শোলাকিয়ার ঈদ জামাত শুধু দেশের নয় উপমহাদেশেরও বৃহত্তম ঈদ জামাত হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।

আসন্ন ঈদুল ফিতরের জামাত আয়োজনের প্রস্তুতি সম্পন্ন। এখন চলছে নিবিড় পরিচর্যার কাজ। মাঠের কাতারের লাইন টানা, মাঠ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নকরণসহ আনুষঙ্গিক কাজসমূহে চলছে শেষ তুলির আঁচড়।
https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/03/1559572631874.jpg

ঈদগাহের প্রবেশ পথ এবং শহরের প্রধান প্রধান সড়কে নির্মাণ করা হয়েছে অসংখ্য তোরণ। রাস্তার দু’পাশে টানানো হয়েছে রং-বেরংয়ের পতাকা ও ব্যানার। দূর-দূরান্ত থেকে আসা মুসল্লিদের আপ্যায়ন ও প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য তৈরি করা হয়েছে স্বেচ্ছাসেবী ক্যাম্প। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নজিরবিহীন নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থার প্রস্তুতি রাখা হয়েছে। মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে পুরো মাঠ ও আশপাশের এলাকা তল্লাশি করাসহ ঈদ জামাতের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়োজিত থাকবে বিপুল সংখ্যক র‌্যাব-পুলিশ।

প্রতিবছর ঈদগাহ ময়দানের পাশে বসে ঈদ মেলা। মেলায় বিভিন্ন গৃহস্থালী সামগ্রির পসরার পাশাপাশি থাকে শখের অনেক কিছু। এসব কিনতেও মানুষ ভিড় জমায়।

দূর-দূরান্ত থেকে আসা মুসল্লিদের সুবিধার্থে বাংলাদেশ রেলওয়ে ‘শোলাকিয়া ঈদ স্পেশাল’ নামে ২টি বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা করেছে। বিশেষ ট্রেনের একটি ঈদের দিন সকাল ৬টায় ভৈরববাজার থেকে কিশোরগঞ্জের উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসবে এবং সকাল ৮টায় কিশোরগঞ্জ পৌঁছাবে। জামাত শেষে ট্রেনটি দুপুর ১২টায় পুনরায় ভৈরববাজারের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাবে এবং বেলা ২টায় ভৈরববাজার পৌঁছাবে। অপর ট্রেনটি ঈদের দিন সকাল পৌনে ৬টায় ময়মনসিংহ থেকে কিশোরগঞ্জের উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসবে এবং সকাল সাড়ে ৮টায় কিশোরগঞ্জ পৌঁছাবে। এ ট্রেনটিও জামাত শেষে দুপুর ১২টায় কিশোরগঞ্জ থেকে ছেড়ে যাবে এবং বেলা ৩টায় ময়মনসিংহ পৌঁছবে।

শোলাকিয়া মাঠের শুধু দেশি নয় বহু বিদেশি মুসল্লিও অংশ নেন। বিভিন্ন দেশ থেকে মুসল্লিদের আগমন এ মাঠের মর্যাদাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। বহু পর্যটক এই অভূতপূর্ব মহামিলনের দিনক্ষণটি দেখার জন্য উপস্থিত হন।

এক তথ্যে জানা গেছে, শোলাকিয়ার মূল মাঠে ২৬৫টি কাতার হয়। প্রতি কাতারে নামাজির সংখ্যা হয় ৬ থেকে ৭ শ’। সে হিসেবে মুসল্লির সংখ্যা দাঁড়ায় ১ লাখ ৮৫ হাজার ৫ শ’ জন। এ ছাড়া ঈদের জামাত মাঠে উপচে পড়ে চারপাশের খালি জায়গা, জমি-ক্ষেত, বসত-বাড়ির আঙ্গিনা এবং বিভিন্ন সড়কে।  

মসনদ-ঈ-আলা ঈসা খাঁর ৬ষ্ঠ বংশধর দেওয়ান হজরত খানের উত্তরসূরি দেওয়ান মান্নান দাদ খান ১৯৫০ সালে ৪.৩৫ একর ভূমি শোলাকিয়া ঈদগাহকে ওয়াকফ দেন। পরবর্তীকালে ঈদগাহ পরিচালনা ও উন্নয়ন কমিটির কাছে হাতবদল করায় এ মাঠের বর্তমান জমির পরিমাণ হয়েছে ৬.৬১ একর।

জনশ্রুতি আছে, শুরুর দিকে শোলাকিয়া ঈদগাহের এক জামাতে সোয়া লাখ মুসল্লি অংশগ্রহণ করেছিলেন। অন্য মতে, মুঘল আমলে এখানে অবস্থিত পরগনার রাজস্বের পরিমাণ ছিল সোয়া লাখ টাকা। উচ্চারণের বিবর্তনে সোয়ালাখিয়া থেকে বর্তমান শোলাকিয়া নামে ঈদগাহটি পরিচিতি লাভ করে।

১৮২৮ খ্রিস্টাব্দে জঙ্গলবাড়ির জমিদার এ মাঠে নামাজ পড়তে আসতেন। তখন থেকে বড় জামাত শুরু হয়। ১৮২৮ খ্রিস্টাব্দে অনুষ্ঠিত জামাতের ইমামতি করেন শোলাকিয়ার সুফি সৈয়দ আহমদ।

শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠে যুগে যুগে বহু খ্যাতিমান আলেম ইমামের দায়িত্ব পালন করেছেন। তারা হলেন- হাফেজ মাওলানা মুহাম্মদ হজরত উল্লাহ, মাওলানা পেশওয়ারি, মাওলানা মুসলেহ উদ্দিন, আলহাজ্ব মাওলানা হামিদুল হক, মাওলানা মাজহারুল হক, মাওলানা আবদুল গনি, মাওলানা আতহার আলী, মাওলানা আবদুল মান্নান, মাওলানা আবুল খায়ের মুহাম্মদ নূরুল্লাহ, মাওলানা আবুল খায়ের মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ ও বর্তমান ইমাম মাওলানা ফরিদ উদ্দিন মাসউদ।

আপনার মতামত লিখুন :