নামাজের জন্য খুলে দেওয়া হলো বুলগেরিয়ার প্রাচীন মসজিদ

ইসলাম ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
নামাজের জন্য খুলে দেওয়া হলো বুলগেরিয়ার প্রাচীন মসজিদ, ছবি: সংগৃহীত

নামাজের জন্য খুলে দেওয়া হলো বুলগেরিয়ার প্রাচীন মসজিদ, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

বুলগেরিয়ার বালকান এলাকার প্রাচীন একটি মসজিদ পুনর্নির্মাণের পর শনিবার (১৫ জুন) পুনরায় নামাজের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে।

বুলগেরিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় হাস্কোভো শহরে অবস্থিত মসজিদটি ১৩৯৪ সালে বালকান অঞ্চলে অটোমানের শাসনামলে নির্মিত হয়েছিল।

যুদ্ধবিগ্রহ, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনসহ নানা কারণে মসজিদটি পরিত্যক্ত ঘোষিত হয়। পরে তুরস্কের ধর্মীয় সংস্থা ও বুলগেরিয়ার গ্র্যান্ড মুফতি আফিসের পক্ষ থেকে পুনর্নির্মাণ করে মসজিদটি নামাজের উপযোগী করা হলো।

মসজিদটি পুনর্নির্মাণের ক্ষেত্রে সহযোগিতা করার জন্য ধর্মীয় সংস্থার প্রধান ‘আলী আরবাশ’ বুলগেরিয়ার সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেছেন, বিষয়টি দু’দেশের মধ্যে পারস্পারিক সহযোগিতা এবং সম্পর্ককে শক্তিশালী করবে।

বুলগেরিয়া দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপের একটি রাষ্ট্র। বলকান উপদ্বীপের পূর্ব পার্শ্বে-ইউরোপ ও এশিয়ার মিলনস্থলে অবস্থিত। পূর্বে কৃষ্ণসাগর, দক্ষিণে গ্রিস ও তুরস্ক। পশ্চিমে সার্বিয়া ও মন্টিনিগ্রো এবং ম্যাসিডোনিয়া ও রোমানিয়া অবস্থিত। দেশটির জনসংখ্যা প্রায় ৮০ লাখ। রাজধানী ও বৃহত্তম শহরের নাম সোফিয়া।

৮২৫ খ্রিস্টাব্দে মুসলমানরা পূর্ণাঙ্গভাবে কাস্পিয়্যান অঞ্চলে কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করে। ফলে প্রাথমিকভাবে তখন থেকে কাস্পিয়্যান দ্বীপের উপকূল এলাকা বুলগেরিয়া ও বলকানের আশপাশের অঞ্চলগুলোতে ইসলামের আলো ছড়াতে থাকে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/19/1560951972166.jpg

মাঝে রাজনৈতিক উত্থান-পতন পেরিয়ে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর মুসলমানরা বুলগেরিয়াতে মোটামুটি ভালো অবস্থানে আছে। নিজেদের নাগরিক ও ধর্মীয় অধিকার ফিরে পেয়েছে। বিশেষত বুলগেরিয়া স্বায়ত্বশাসিত প্রজাতন্ত্রে পরিণত হওয়ার পর এবং ২০০৭ সালে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের সদস্য হওয়ার পর থেকে মুসলমানদের মৌলিক অধিকারগুলো প্রতিষ্ঠিত হতে শুরু করেছে।

সঙ্গত কারণে ইতিহাসের পরম্পরায় যুদ্ধ-বিগ্রহ ও লড়াইয়ের ফলে মুসলমানদের সংখ্যা কমে আসে। ২০১১ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী মুসলমানের সংখ্যা ৬ লাখের কাছাকাছি। যা দেশের মোট জন সংখ্যার আট ভাগের কাছাকাছি।

তবে ২০১৭ সালে পরিচালিত পিউ রিসার্চ সেন্টারের একটি জরিপে বলা হয় বুলগেরিয়ায় মুসলিম নাগরিকের সংখ্যা ১৫%।

এক সময় দেশটিতে ১২শ’ বা তার চেয়ে বেশি মসজিদ থাকলেও এখন মসজিদের সংখ্যা একেবারে কমে দশে পৌঁছেছে। এমতাবস্থায় দেশটির মুসলিমৈ সম্প্রদায় ধীরে ধীরে পুরনো মসজিদ সংস্কার করে তা চালুর বিষয়ে মনোযোগ দিয়েছেন। এরই ধারাবাহিকতায় পুরনো এই মসজিদটি নামাজের জন্য খুলে দেওয়া হলো।

বুলগেরিয়ার মুসলমানদের সার্বিক অবস্থা তত্ত্বাবধানের জন্য কয়েকটি ইসলামি সংস্থা রয়েছে। ১. দারুল ইফতা, ২. সুপ্রিম ইসলামিক কাউন্সিল, ৩. চ্যারিটি ফর দ্যা ডেপলপমেন্ট অব কালসার। এছাড়াও কোরআন শেখার বিভিন্ন মাদরাসা ও শিক্ষাকেন্দ্র রয়েছে।

সুপ্রিম ইসলামিক কাউন্সিল ইসলামী শিক্ষার যাবতীয় দিক দেখভাল করে। বিশাল পরিকল্পনা করে কর্তৃপক্ষ একটি ইসলামিক একাডেমিও নির্মাণ করছে। যেখান থেকে বৃহৎ পরিসরে ইসলামী কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। এছাড়াও বুলগেরিয়ার দারুল ইফতা মুসলমানদের জরুরি বিধান-হুকুম প্রণয়নের পাশাপাশি বিভিন্ন দীক্ষামূলক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে থাকে।

আপনার মতামত লিখুন :