রমজান মাসে শিশু-কিশোররা যা করতে পারে



তাযকিরা খাতুন রিনি, অতিথি লেখক

  • Font increase
  • Font Decrease

বছর ঘুরে আমাদের মাঝে আবারও হাজির হয়েছে রহমত, বরকত ও মাগফিরাতের মাস রমজান। রমজানের রোজা বড়দের জন্য অবশ্য ফরজ তথা পালনীয় ইবাদত বিশেষ। এর পরও ছোটরা মহানন্দে রোজা রাখে। এমনকি ছোটদের মাঝে রীতিমতো প্রতিযোগিতা চলে রোজা রাখা নিয়ে। তো আমাদের ছোট্ট বন্ধুরা রোজায় কি কি করতে পারে সেসব নিয়ে আমাদের আজকের এই আয়োজন।

সওয়াব অর্জনের এক মহা সুযোগের মাস

বন্ধুরা! তোমরা নিশ্চয়ই জানো যে, রমজান হচ্ছে আল্লাহর পক্ষ থেকে সওয়াব অর্জনের এক মহা সুযোগের মাস। এ মাসের নামাজ, রোজা, নফল ইবাদত, দান-খয়রাত, জাকাত-ফিতরা সবকিছুতে রয়েছে প্রচুর সওয়াব।

এই রোজা ইসলামের তৃতীয় স্তম্ভ। নামাজের পরই এর স্থান। প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক ও দৈহিকভাবে সামর্থ্যবান মুসলিম নর-নারীর ওপর রোজা ফরজ। রোজার গুরুত্ব সম্পর্কে আল্লাহতায়ালা বলেছেন, ‘রোজা একান্তই আমার জন্য আর আমিই এর প্রতিদান দেবো।’

অন্যদিকে হজরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি দৃঢ় বিশ্বাস ও সওয়াবের আশা নিয়ে রমজান মাসে দিনের বেলায় রোজা রাখবে এবং রাতের বেলায় ইবাদত-বন্দেগি করবে, তার অতীত জীবনের সব গোনহ মাফ করে দেওয়া হবে।’

/uploads/files/rkQeNaGuqpI5EAcVAdxj21k84aPezpUj8JPkEAiw.jpeg

ছোট্ট বন্ধুরা! রোজা সম্পর্কে আল্লাহতায়ালা এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লারে বাণী থেকে তোমরা নিশ্চয়ই বুঝতে পেরেছো যে, মুসলমানদের জীবনে রোজার গুরুত্ব অপরিসীম। সুতরাং আমাদের সেভাবে চলতে হবে।

রোজা ইবাদতের দরজা

তোমাদের অবগতির জন্য বলছি, মানুষের আত্মশুদ্ধির জন্য আদিকাল থেকেই বিভিন্ন ধর্মে রোজা পালনের প্রচলন ছিল। হজরত আদম আলাইহিস সালাম থেকে শুরু হবে হজরত ঈসা আলাইহিস সালামের সময় পর্যন্ত পৃথিবীতে যতো নবী-রাসূল এসেছেন সবাই রোজা রাখতেন এবং তার অনুসারীদের তা রাখতে বলতেন। তবে ওইসব রোজার ধরণ ছিল আলাদা। মাসব্যাপী রোজার বিধান শেষ নবী হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আমল থেকে শুরু হয়।

আমাদের নবী যে বছর মক্কা থেকে মদিনায় হিজরত করেন তার পরের বছর অর্থাৎ দ্বিতীয় হিজরি থেকে রোজা ফরজ হয়। হজরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘প্রতিটি জিনিসেরই একটা দরজা আছে, আর ইবাদতের দরজা হলো- রোজা।’

রোজাদার কোনো খারাপ কথা বলবে না

বন্ধুরা! তোমরা সবাই জানো যে, রোজা রেখে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কিছুই খাওয়া যাবে না। তবে শুধু উপোস থাকলেই চলবে না। রোজাদার কোনো খারাপ কথা বলবে না, পরনিন্দা করবে না, কারও সঙ্গে ঝগড়া-বিবাদ করবে না এমনকি মিথ্যা কথাও বলবে না।

নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি মিথ্যা কথা বলা ও খারাপ কাজ পরিহার না করে শুধু পানাহার পরিত্যাগ করলো, তার রোজা আল্লাহর কোনো প্রয়োজন নেই।’

রোজাদারদের সব সময় মনে রাখতে হবে, রোজা রাখা এবং একইসঙ্গে খারাপ আচরণ করা আত্মাবিহীন দেহের মতো।

কিন্তু কেউ যদি গায়ে পড়ে ঝগড়া বাধাতে আসে তাহলে কি করতে হবে?এ অবস্থায় কী করতে হবে তা রাসূলে খোদার একটি বাণী থেকে জানা যায়। তিনি বলেছেন, ‘কেউ যদি কাউকে গালি দেয় অথবা ঝগড়া করে তাহলে সে যেন বলে আমি রোজাদার।’

/uploads/files/Ihg9A3NlqV5JlEcqXpFrP023uHF7v1RJRu0HlPj0.jpeg

যারা ছোটো তাদের রোজা না রাখলেও চলে। কিন্তু এ মাসে বেশি করে ভালো কাজ করতে হয়, বড়দের কথা শুনতে হয় এবং বেশি বেশি আল্লাহর কথা স্মরণ করতে হয়। আর তাহলেই আমাদের পাপমোচন হবে এবং রাইয়্যান নামের দরজা দিয়ে আমরা বেহেশতে যেতে পারবো।

আরও যেসব কাজ করতে পারো

বন্ধুরা, রমজান মাসে ঈমানকে মজবুত করার জন্য তোমরা গুরুত্বপূর্ণ কিছু কাজ করতে পারো। যেমন, ইফতার তৈরি ও সাজিয়ে রাখা, কোনো মেহমান এলে তাকে ইফতার দেওয়া, বাড়ির আশেপাশে প্রতিবেশি এমনকি মসজিদে সমবেত মুসল্লিদের জন্য ইফতার পৌঁছানোর ক্ষেত্রে তোমরা ভূমিকা রাখতে পারো।

আর হ্যাঁ, যারা এতিম কিংবা মিসকিন তাদেরকে ইফতার দিতে হবে সবার আগে। এসব করলে আমাদের ঈমান যেমন মজবুত হবে তেমনি পরিবার ও সমাজের সবাই খুশি হবে।

কোরআন তেলাওয়াত করা

তোমরা নিশ্চয়ই জানো যে, রমজান মাস পবিত্র কোরআন নাজিলের মাস। তাই রমজান মাসে কোরআন তেলাওয়াত করা অত্যন্ত সওয়াবের কাজ। যারা কোরআন পড়তে পারো তারা এ মাসে সম্পূর্ণ কোরআন একবার হলেও খতম করার চেষ্টা করবে। আর যারা কোরআন পড়তে পারো না তারা এ মাসে কোরআন পড়া শিখতে পারো। মনে রাখবে, নফল ইবাদতগুলোর মধ্যে কোরআন তেলাওয়াত সবচেয়ে উত্তম ইবাদত।