Barta24

রোববার, ১৮ আগস্ট ২০১৯, ৩ ভাদ্র ১৪২৬

English

কোরবানির পশু সংক্রান্ত কিছু বিধান

কোরবানির পশু সংক্রান্ত কিছু বিধান
ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
ইসলাম ডেস্ক
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

ছয় শ্রেণির পশু দ্বারা কোরবানি করা যায়। গরু, মহিষ, উট, দুম্বা, ছাগল, ভেড়া। এগুলো ছাড়া অন্য কোনো প্রাণী দ্বারা কোরবানি করা শুদ্ধ নয়। যেমন- হরিণ ও বন্যগরু ইত্যাদি।-ফাতাওয়া কাজিখান ৩/৩৪৮; বাদায়েউস সানায়ে ৪/২০৫ কোরবানির পশুর বয়স উট হলে সর্বনিম্ন পাঁচ বছর বয়সী হতে হবে। গরু ও মহিষ হলে কমপক্ষে দুই বছর বয়সী হতে হবে। ভেড়া, দুম্বা, ও ছাগল হলে সর্বনিম্ন এক বছর বয়সী হতে হবে।

ভেড়া, দুম্বা ও ছাগলের বয়স যদি একটু কমও হয়, কিন্তু এরূপ মোটাতাজা যে এক বছর বয়সীদের মাঝে ছেড়ে দিলে তাদের চেয়ে ছোট মনে হয় না, তাহলে তার দ্বারা কোরবানি করা জায়েজ। তবে অন্তত ছয় মাস বয়সী হতে হবে।

বকরির ক্ষেত্রে নিয়ম হলো, কোনো অবস্থায়ই এক বছরের কম হলে কোরবানি জায়েজ হবে না।

কোনো পশুর ব্যাপারে বিক্রেতা যদি দাবি করে পশুটি কোরবানির উপযোগী হয়ে গেছে, অপরদিকে ক্রেতার কাছে মনে হয় যে পশুটি কোরবানির উপযোগী নয়, তাহলে বিক্রেতার কথা গ্রহণযোগ্য বলে বিবেচিত হবে।


যে সব পশু দ্বারা কোরবানি জায়েজ নেই যে পশুর শিং গোড়া থেকে উঠে যায় অথবা এমনভাবে ভেঙে যায় যে, প্রাণীর মস্তিষ্কে আঘাত লাগে, সে পশু দিয়ে কোরবানি হবে না। তবে কোনো পশুর যদি জন্মগতভাবে শিং না থাকে অথবা শিং মাঝখান দিয়ে ভেঙে যায়, তাহলে তার দ্বারা কোরবানি জায়েজ হবে।

যে পশুর উভয় চোখ অন্ধ বা এক চোখ পূর্ণ অন্ধ বা একটি চোখের দৃষ্টিশক্তি এক-তৃতীয়াংশ বা তার চেয়ে বেশি নষ্ট, তা দ্বারা কোরবানি জায়েজ নয়।

যে পশুর জন্মগতভাবে কান নেই, সে পশু দ্বারা কোরবানি জায়েজ নয়। হ্যাঁ, যদি পশুর কান থাকে আর তা এত ছোট যে না থাকার মতোই, তাহলে সেই পশু দ্বারা কোরবানি জায়েজ আছে।

যে পশুর লেজের এক-তৃতীয়াংশ বা তার চেয়ে বেশি কেটে যায়, তার দ্বারা কোরবানি করা জায়েজ নয়।

যে পশু ল্যাংড়া, তিন পা দ্বারা চলতে পারে, এক পা মাটিতে রাখতে পারে না বা রাখতে পারলেও তার ওপর ভর দিতে পারে না, সে পশু দ্বারা কোরবানি জায়েজ হবে না।

যে পশুর একটি দাঁতও নেই, তা দ্বারাও কোরবানি জায়েজ হবে না।


কোনো উদ্দেশ্যে কোরবানি মান্নত করলে উদ্দেশ্য পূরণ হলে সে ধনী হোক বা গরিব, তার ওপর কোরবানি ওয়াজিব হয়ে যায়।

আপনার মতামত লিখুন :

মদিনা যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশি হাজির মৃত্যু

মদিনা যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশি হাজির মৃত্যু
মদিনা হাইওয়ে, ছবি: সংগৃহীত

মক্কা (সৌদি আরব) থেকে: পবিত্র হজপালন শেষে হজরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রওজা জিয়ারতের উদ্দেশ্যে মক্কা থেকে মদিনা যাওয়ার পথে বাংলাদেশি হাজি বহনকারী বাস দুর্ঘটনায় ১ জন হাজি ঘটনাস্থলে ইন্তেকাল ও ২২ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

দুর্ঘটনায় মারা যাওয়া হাজির নাম নুরুল ইসলাম (৭০)। তার গ্রামের বাড়ি ফেনী সদরে।

শুক্রবার (১৬ আগস্ট) রাত সোয়া ১১টার দিকে মদিনা থেকে একশ' মাইল আগে ওয়াদি ফারা নামক স্থান বাসের চাকা বিস্ফোরণ হয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনায় বাসটি উল্টে যায়। ওই বাসটিতে ৩৫ জন হাজি ছিলেন। আহতদের মধ্যে ৭ জনের অবস্থা গুরুতর। বাসের যাত্রীরা স্কাই ট্রাভেলসের মাধ্যমে সৌদি আরবে হজপালনের উদ্দেশ্যে আসেন।

আহতদের মদিনার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে একজন নারী ছাড়া বাকিদের অবস্থা উন্নতির দিকে। গুরুতর আহতদের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয়েছে।

আহতদের ৮ জন মদিনা কিং ফাহাদ হাসপাতালে, মিকাত হাসপাতালে ৪ জন, উহুদ হাসপাতালে ২ জন, সৌদি-জার্মান হাসপাতালে ২ জন ও ইয়াতামা হাসপাতালে ২ জন চিকিতসাধীন রয়েছেন।

এদিকে হজপালনে সৌদি আরবে এসে শনিবার (১৬ আগস্ট) রাত পর্যন্ত ৮১ জন হাজি ইন্তেকাল করেছেন। তাদের মধ্যে পুরুষ ৭১ জন, নারী ১০ জন। মারা যাওয়া হাজিদের ৭২ জন মক্কায়, ৮ জন মদিনায় ও ১ জন জেদ্দায় ইন্তেকাল করেছেন।

আগামীতে হজ কার্যক্রম আরও সহজ করা হবে: ধর্ম প্রতিমন্ত্রী

আগামীতে হজ কার্যক্রম আরও সহজ করা হবে: ধর্ম প্রতিমন্ত্রী
সবার মাঝে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী আলহাজ্ব এডভোকেট শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

মক্কা (সৌদি আরব) থেকে: এবারের হজের ভুল-ক্রটি সংশোধন করে আগামীতে হজ কার্যক্রম আরও সহজ করা হবে বলে জানিয়েছেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী আলহাজ্ব এডভোকেট শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ।

শুক্রবার (১৬ আগস্ট) রাতে মক্কায় সৌদি সরকারের দক্ষিণ এশিয়া হজ সেবা সংস্থা মোয়াসসাসার সঙ্গে হজ এজেন্সিজ এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব)-এর মতবিনিময় ও নৈশভোজে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান।

ধর্ম প্রতিমন্ত্রী বলেন, 'আগামীতে হাজিদের আরও সুবিধা নিশ্চিতের জন্য বাংলাদেশের হজ ব্যবস্থাপনার সঙ্গে জড়িত হাবসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে দেশে ফিরে আলোচনা অব্যাহত রাখা হবে। কোনো অবস্থাতেই হাজিদের কষ্ট হয় এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না বলেও জানান ধর্ম প্রতিমন্ত্রী।'

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মোয়াসসাসা চেয়ারম্যান ড. রাফাত ইসমাইল বদর। তিনি বাংলাদেশি হাজিদের সুবিধায় সৌদি আরব সরকারের নানা উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে বলেন, 'হাজিদের সুবিধা দেওয়ার ধারা অব্যাহত থাকবে। ভবিষ্যতে আরও সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। হাজিদের আল্লাহর মেহমান উল্লেখ করে ড. রাফাত বলেন, ই-ভিসা সিস্টেম ও মক্কা রুট ইনিশিয়েটিভ প্রকল্পের মতো সুযোগ-সুবিধা আরও কীভাবে বাড়ানো যায়, এটা নিয়ে কাজ চলছে।'

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/17/1566052174957.jpg

হজ এজেন্সিজ এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব)-এর সভাপতি এম শাহাদত হোসাইন তসলিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় হজ এজেন্সিগুলোর মালিক, প্রতিনিধি ও ধর্মীয় পরামর্শক হিসেবে হজে আসা বাংলাদেশের বিশিষ্ট আলেম-উলামারা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে মোয়াসসাসার ডিরেক্টর জেনারেল ওমর সিরাজ আকবর নিজেকে বাংলাদেশি বলে উল্লেখ করে বলেন, 'আমি গর্ববোধ করি বাংলাদেশি হাজিদের সেবা দিতে পেরে।'

সৌদি আরব ধর্ম মন্ত্রণালয়ের (দক্ষিণ এশিয়া) জনসংযোগ কর্মকর্তা আবদুল আজিজ ফাহাদ রাহমা, হাব মহাসচিব ফারুক আহমদ সরদারসহ হাব নেতৃবৃন্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে হাবের পক্ষ থেকে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী ও মোয়াসসারার উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।

উল্লেখ্য, সৌদি আরবে পৌঁছার পর বিমান বন্দর থেকে হোটেল, হোটেল থেকে হজের আনুষ্ঠানিকতার জায়গা মিনা, আরাফাত, মুজদালিফা ও কংকর নিক্ষেপের স্থান জামারার হাজিদের থাকা-খাওয়া ও যাতায়াতের ব্যবস্থা করে মোয়াসসাসা অফিস। মোয়াসসাসার অধীনে প্রায় শতাধিক মুয়াল্লিম রয়েছে। এই মুয়াল্লিমদের মাধ্যমে সৌদি আরবে হাজিদের বিভিন্ন সেবা দেওয়া হয়।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র