রমজানে প্রত্যেক নেক কাজের বিনিময়ে সত্তর সওয়াব



মোহাম্মদ আতিকুর রহমান, অতিথি লেখক

  • Font increase
  • Font Decrease

আল্লাহতায়ালা তার বান্দাদেরকে ভালোবাসেন। তার প্রতি বান্দার ভালোবাসাকে আরও প্রগাঢ় করতে প্রতিবছর দান করেন রহমত, বরকত ও মাগফিরাতময় মাহে রমজান। যেনো বান্দারা স্বীয় ভুলত্রুটি থেকে ফিরে এসে ইবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে আখেরাতের পাথেয় অর্জন করতে পারে। এজন্যে তিনি প্রিয় বান্দাদের ওপর রোজার প্রতিদানস্বরূপ অজস্র রহমত বর্ষণ করেন।

রমজান মাসে আল্লাহতায়ালার সঙ্গে বান্দার গভীর সম্পর্ক তৈরি হয়। কেননা রমজান মাসে বান্দাদেরকে শয়তানের কুপ্ররোচণা থেকে বেঁচে অপরিমেয় রহমত লাভের জন্য শয়তানকে শিকলাবদ্ধ করে রাখা হয়। সৃষ্টিকর্তা দয়াময় আল্লাহ আসমানের দরজাসমূহ উন্মুক্ত করে দেন। এ সময় বান্দার সব পূণ্যের কাজ সরাসরি আল্লাহর নিকট পৌঁছে যায়। ফলে বান্দা আল্লাহর ইবাদতে মশগুল হয়ে আত্মসংশোধনের মাধ্যমে আত্মতৃপ্তি লাভ করে।

এ প্রসঙ্গে বোখারি শরীফে বর্ণিত হয়েছে, হজরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, ‘যখন রমজান মাস আসে তখন শয়তানকে শিকলাবদ্ধ করা হয় এবং আকাশের দরজাসমূহ উন্মুক্ত করা হয়।’

হাদিসের ভাষ্যমতে, এ মাসের প্রতিটি নেক কাজের বিনিময়ে সত্তর গুণ কিংবা তারচেয়ে বেশি সওয়াব প্রদান করা হয়। যা বান্দার প্রতি আল্লাহতায়ালার বিশেষ দয়ার বহিঃপ্রকাশ। তাই মানুষের উচিৎ হলো- রোজার হকসমূহ যথাযথভাবে আদায়ের মাধ্যমে আল্লার রহমত লাভ করা।

রমজানের অন্যতম তাৎপর্য হলো- দয়াবান হওয়া। কেননা আল্লাহতায়ালার রহমত লাভের মূলে মানুষের প্রতি সদয় হওয়ার কথা বলা হয়েছে। বোখারি শরীফে বর্ণিত আছে, হজরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, ‘যে ব্যক্তি মানুষের প্রতি দয়া করে না, আল্লাহতায়ালাও তার প্রতি দয়া করেন না।’

মানুষকে কষ্ট দিয়ে কিংবা মানুষের প্রতি সদয় না হয়ে শুধু সারাদিন উপবাস থেকে এ মাসে আল্লাহর বিশেষ রহমত লাভ করা সম্ভব নয়। তাই সামর্থ্যানুযায়ী অসহায়-গরিবদের সাহায্য-সহযোগিতা করা। অসহায়ের প্রতি সহায়তার হাত বাড়ানোই হতে পারে আল্লাহর রহমত অর্জনের অন্যতম মাধ্যম।

রোজার পূর্ণ বরকত হাসিল করতে আরও কিছু কাজ করা। এর অন্যতম হলো- রোজা অবস্থায় কারও সঙ্গে ঝগড়া না করা। কেননা ঝগড়ায় লিপ্ত হলে অনিচ্ছা সত্ত্বেও পরস্পরের মাঝে অশ্লীল, অবাঞ্চিত ও কটূ কথার ফোয়ারা বয়ে যায়। এতে পরস্পর পরস্পরের প্রতি অবিচার করা হয় এবং রোজার হক নষ্ট হয়। ফলে আল্লাহর অবারিত রহমত থেকে বঞ্চিত হতে হয়।

বোখারি শরীফের হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, হজরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘রোজা ঢালস্বরূপ। সুতরাং অশ্লীলতা ও মূর্খের মতো কাজ করবে না। যদি কেউ রোজাদারের সঙ্গে ঝগড়া করতে চায়, তাকে গালি দেয়, তবে সে যেন বলে; আমি রোজাদার।’

রমজান মাসে কোরআন তেলাওয়াতে রয়েছে অপরিমেয় সওয়াব। তেলাওয়াতের বিশুদ্ধতা বজায় রেখে অন্য মাসের তুলনায় রমজান মাসে বেশি বেশি কোরআন তেলাওয়াত করা। অন্যকে বিশুদ্ধভাবে কোরআন তেলাওয়াতে উদ্বুদ্ধ করা এবং শিক্ষা দেওয়াও সওয়াবের কাজ। এতে বান্দার প্রতি আল্লাহর রহমতের দরজা উন্মুক্ত হয়। বর্ষিত হয় রহমত। কোরআনে কারিমে আল্লাহতায়ালা ইরশাদ করেছেন, ‘আমি কোরআন নাজিল করেছি, যাতে রয়েছে মোমিনদের জন্য শিফা ও রহমত।’ -সূরা বনি ইসরাঈল: ৮২

এক কথায় পবিত্র রমজানে রোজা পালনের পাশাপাশি সব ধরণের কল্যাণকর কাজে নিজেকে নিয়োজিত রাখা। তবেই আল্লাহর রহমতে সিক্ত হওয়া সম্ভব।