পবিত্র মক্কায় বিশ্বের বৃহত্তম ইফতার আয়োজন

ইসলাম ডেস্ক

  • Font increase
  • Font Decrease

পবিত্র রমজান মাসের আগমনে মক্কার মসজিদের হারাম ও মদিনার মসজিদে নববীতে অপূর্ব আধ্যাত্মিক আবহের সৃষ্টি হয়। এরই ধারাবাহিকতায় সৌদি সরকারের কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে মক্কার মসজিদে হারামে প্রতিদিন বিশ্বের সবচেয়ে বড় ইফতারের আয়োজন করে দেশটির সরকার।

এ ইফতার আয়োজনে বিভিন্ন দেশ থেকে ওমরা পালন করতে যাওয়াদের পাশাপাশি প্রবাসী ও স্থানীয়রা অংশ নিয়ে থাকেন।

পবিত্র কাবা চত্ত্বর ও কাবা সংলগ্ন মসজিদে হারামের ইফতারে অংশ নেওয়ার জন্য দূর-দূরান্ত থেকে ধর্মপ্রাণ মুসলমান রোজাদাররা উপস্থিত হন। মুসল্লিদের আসা শুরু হয় আসরের নামাজের পর থেকেই।

সৌদি আরবে এখন চলছে পরিবর্তনের পালা। পরিবর্তনের ঢেউ লেগেছে সৌদি আরবের খাদ্যাভ্যাস এবং ইফতারও।

এখন মসজিদে হারামে প্রতিদিন ইফতারে রোজাপালনকারীদের জন্য দেওয়া হয় বিভিন্ন ধরনের মসলাদার খাবার, স্যুপ, শরবত, কাবাব, ফাতির (রুটি), খেবসা, লাবাং, সবজি, খেজুর ও জমজমের পানি।

রমজান আসার ১৫ দিন আগে থেকেই মক্কায় রোজার প্রস্তুতি শুরু হয়। রমজানকে ঘিরে চারদিকে পড়ে যায় সাজ সাজ রব। একে অন্যকে জানায় রমজানের অভিবাদন। দেখা সাক্ষাতে মানুষ রমজানের সওগাত জানায় ‘শাহরু আলাইকা মোবারক’ বলে। রমজানকে ঘিরে দাওয়াতি কাজ শুরু করেন অনেকেই। বিভিন্ন রকমের হ্যান্ডবিল, লিফলেট, ছোট পুস্তিকা, সকাল-সন্ধ্যায় পঠিত দোয়ার ছোট কার্ড ইত্যাদি ছাপিয়ে মসজিদে মসজিদে বা ব্যক্তিপর্যায়ে বিতরণ করা হয়। আর এ ধারা অব্যাহত থাকে রমজান মাসজুড়ে।

রমজানের আগে থেকেই সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থানে দেখতে পাওয়া যায় সারি সারি তাঁবু। এগুলো রোজাপালনকারীদের ইফতার করানোর জন্য তৈরি করা হয়। রমজানে আয়োজন করা হয় বিভিন্ন প্রতিযোগিতার। আর মসজিদগুলোতে থাকে ইফতারের ব্যবস্থা। অনেকে ব্যক্তি উদ্যোগে ইফতার বিতরণ করেন। কারখানার শ্রমিকরাও পান উন্নতমানের ইফতার সামগ্রী। রমজান উপলক্ষে সরকারিভাবে কর্মঘণ্টাও কমিয়ে দেওয়া হয় সৌদি আরবে।

ইফতার খাওয়ানো সওয়াবের কাজ। তাই আল্লাহতায়ালার সন্তুষ্টি অর্জনের নিমিত্তে মক্কা নগরীর হাজার-হাজার মানুষ ছাড়াও পবিত্র ওমরা করতে আসা বিশ্বের লাখ লাখ মুসল্লিদের যার যার সামর্থ্য অনুযায়ী ইফতার করান অনেকে। বিগত কয়েক বছর থেকে নতুন নিয়মে পবিত্র কাবা প্রাঙ্গণে ইফতারির আয়োজন করা হচ্ছে। যারা ইফতার সামগ্রী প্রদান করেন, তারা সুপারভাইজার ও স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ করেন। তারাই ইফতার সাজানো ও পরিষ্কারের দায়িত্ব পালন করে থাকেন। মসজিদের হারামের প্রায় ৯০টি গেট দিয়ে রোজাদাররা ধীরস্থীরভাবে প্রবেশ করেন। সব ভেদাভেদ ভুলে এভাবে একসঙ্গে পাশাপাশি বসে আল্লাহ রব্বুল আলামীনের নির্দেশে ইফতার গ্রহণের এ দৃশ্য বিশ্বের আর কোথাও দেখা যায় না।

সৌদি আরবে গত নভেম্বর থেকে শুরু হয়েছে ওমরা মৌসুম। ওমরা পালনের জন্য গত সাত মাসে বিশ্বের বিভিন্ন স্থান থেকে অর্ধ কোটি মানুষ দেশটিতে এসে পৌঁছেছেন। ওমরা পালনকারীদের এই সংখ্যা গত বছরের তুলনায় অনেক বেশি। এক সরকারি পরিসংখ্যানের বরাত দিয়ে এ খবর জানিয়েছে সৌদি গেজেট। তবে সৌদি নাগরিকরা রমজানের অর্ধেক অতিবাহিত হওয়ার পর ওমরা আদায়ে মনোযোগী হবেন এবং রমজানের শেষ দশকে হারামাইন শরিফাইনে (মক্কা ও মদিনায়) ইতিকাফের জন্য একত্রিত হবেন। এভাবেই ওমরা আদায় ও নেক কাজের মাধ্যমে উৎসবমুখর পরিবেশে রমজানের রোজা পালন করেন নবীর দেশের নাগরিক ও অতিথিরা।

আপনার মতামত লিখুন :