Barta24

শনিবার, ২০ জুলাই ২০১৯, ৫ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

সার্বিক উন্নতির জন্য তওবা

সার্বিক উন্নতির জন্য তওবা
মুফতি মুহাম্মদ তাসনীম
অতিথি লেখক


  • Font increase
  • Font Decrease

পবিত্র রমজান মাস দোয়া কবুল ও আত্মশুদ্ধির মাস। পাপ-পঙ্কিলতার যেসব আবর্জনা আমাদের হৃদয়ে জন্মেছে ও জমে আছে, সেসবের জন্য তওবা করে ক্ষমা চাওয়া জরুরি।

ক্ষমা কিভাবে চাওয়া উচিত? ধরুন আপনার সন্তান মারাত্মক রোগে আক্রান্ত হয়েছে কিংবা কোনো সঙ্কটে পড়েছে। কিছুতেই রোগ সারছে না, সঙ্কটের সমাধানও হচ্ছে না। এমতাবস্থায় আপনি যদি কাবা শরিফে যাওয়ার সৌভাগ্য অর্জন করেন তখন আপনি নিশ্চয়ই খুব আন্তরিকভাবে ও ব্যাপক আশাবাদ নিয়েই ওই সঙ্কট সমাধানের জন্য দোয়া করবেন।

অতীত জীবনের গোনাহ মাফের জন্যও ঠিক এমন গভীর আকুলতা, আন্তরিকতা ও আশাবাদ নিয়ে তওবা করতে হবে। যে গোনাহ হয়ে গেছে তা আর কখনও না করার জন্য দৃঢ়সংকল্প করতে হবে।

কিন্তু দেখা গেল ভুল করে অথবা শয়তানের ধোঁকায় লিপ্ত হয়ে আবারও সেই একই গোনাহের কাজ হয়ে গেলো। এভাবে শতবার তওবা ভাঙার পরও তওবার দরজা খোলা থাকে। কিন্তু তওবা করার সময় এমন মনোভাব থাকা উচিত নয় যে, এখন তওবা করছি ঠিকই; সুযোগ পেলে আবারও সেই পাপ করবো! যে এমন অনুতাপহীন মনোভাব নিয়ে তওবা করে সে আসলে নিজেকেই উপহাস করে বলে হাদিস বলা হয়েছে। আল্লাহতায়ালার দরবারে এমন কপট মনোভাব নিয়ে তওবা করার মতো লজ্জাহীন হওয়া কিভাবে সম্ভব?

যে ব্যক্তি কোনো গোনাহ করে না তারও ইস্তিগফার বা তওবা করা উচিত। হজরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রতিদিন অন্তত শতবার তওবা করতেন। নবীর উম্মত হিসেবে আমাদের উচিৎ আরও বেশি পরিমাণে তওবা করা।

গিবত করা, অন্যের ক্ষতি করা, মিথ্যা কথা বলা বা কু-দৃষ্টি দেওয়া; এ জাতীয় কোনো গোনাহ করেন না- সমাজে এমন মানুষের সংখ্যা খুবই কম। যে এমন কোনো গোনাহ করেন না, তারও উচিত ইস্তিগফার করা। কারণ এ ধরনের মানুষ যখন চলাফেরা করেন তখন আশপাশের সাধারণ মানুষদের দেখে তার মনে এমন ভাব আসতে পারে যে, এই মানুষগুলো কতোই না গোনাহ করছে, কিন্তু আল্লাহর রহমতে আমার মতো মানুষ এসব পাপে মশগুল না। এভাবে অন্যদের ছোট ভাবা, হিংসা, লোভ ও পরনিন্দার মতো পাপ মানুষকে নিচে নামিয়ে দেয়। তাই সবারই ইস্তিগফার করা জরুরি।

নবী-রাসূলরা নিষ্পাপ হওয়া সত্ত্বেও তওবা করেছেন। আল্লাহর অলিরা এ পথেই অগ্রসর হয়েছেন। তওবার মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করেছেন। আমাদের মতো সাধারণ মানুষেরও উচিৎ বেশি বেশি তওবা-ইস্তিগফার করা। তওবা, ক্ষমা ও আল্লাহর দরবারে করা প্রাণস্পর্শী দোয়া আল্লাহতায়ালা খুব পছন্দ করেন। খোদাপ্রেমের আকুতি, তার সন্তুষ্টি লাভের চিন্তায় অস্থির অবস্থাগুলো বান্দার বিনয় প্রকাশ করে।

ইসলামি স্কলাররা বলেন, যে দোয়ায় আল্লাহর শাস্তির প্রতি তীব্র ভয়, আল্লাহর নৈকট্য ও সন্তুষ্টি লাভের প্রবল ইচ্ছা থাকে- সে দোয়া বিফলে যায় না।

এক কথায় বলা চলে, সবার উচিত তওবা করা। রমজানে তওবা কবুলের বিশেষ সুযোগ রয়েছে। কাজেই আমাদের উচিৎ রমজানের ঘোষিত সাধারণ ক্ষমার সুযোগ গ্রহণ করা। পাপের কারণে আল্লাহর রহমত থেকে মানুষ বঞ্চিত হচ্ছে, এ বাধা দূর করার জন্য তওবা করা। আল্লাহতায়ালার দয়া, অনুগ্রহ ও করুণা প্রাপ্তির জন্য তওবা করা। মোদ্দাকথা, আমাদের সার্বিক উন্নতির জন্যই এটা জরুরি।

আপনার মতামত লিখুন :

৬২ হাজার ৭৪৫ হজযাত্রী সৌদি আরব পৌঁছেছেন

৬২ হাজার ৭৪৫ হজযাত্রী সৌদি আরব পৌঁছেছেন
জেদ্দা বিমান বন্দরে ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করছেন হজযাত্রীরা, ছবি: সংগৃহীত

পবিত্র হজপালনে ৬২ হাজার ৭৪৫ জন হজযাত্রী সৌদি আরব পৌঁছেছেন। তাদের মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় রয়েছেন ৪ হাজার ৬০৪ জন ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৫৮ হাজার ১৪১ জন। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স পরিচালিত ৮৮টি ও সৌদি এয়ারলাইন্স পরিচালিত ৮৫টিসহ মোট ১৭৩টি ফ্লাইটে তারা সৌদি আরব পৌঁছান।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) দিবাগত রাত ৩টায় মক্কা থেকে ধর্ম মন্ত্রণালয় প্রকাশিত হজ বুলেটিন সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

চলতি বছর সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় মোট হজযাত্রীর সংখ্যা ১ লাখ ২৬ হাজার ৯২৩ জন। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে এ বছর হজ অনুষ্ঠিত হবে ১০ আগস্ট। ধর্ম মন্ত্রণালয় অনুমোদিত হজ এজেন্সির সংখ্যা ৫৯৮টি।

গত ৪ জুলাই থেকে হজ ফ্লাইট শুরু হয়। শেষ ফ্লাইট আগামী ৫ আগস্ট। হজযাত্রীদের প্রথম ফিরতি ফ্লাইট ১৭ আগস্ট এবং শেষ ফিরতি ফ্লাইট ১৫ সেপ্টেম্বর।

বুলেটিনে আরও জানানো হয়েছে, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সৌদি আরব ব্যবস্থাপনামহ ১ লাখ ১ হাজার ৩৮৫ জন হজযাত্রীর ভিসা ইস্যু করেছে।

অনলাইনে হেলথ সার্টিফিকেট ইস্যু করা হয়েছে ১ লাখ ২৩ হাজার ৬৬০ জন হজযাত্রীর।

বাংলাদেশি হজযাত্রীদের মধ্যে সৌদি আরবে ১২ জন ইন্তেকাল করেছেন। তন্মধ্যে ১০ জন পুরুষ ও ২ জন মহিলা। তাদের ৯ জন মক্কায়, মদিনায় ২ জন ও জেদ্দায় ১ জন ইন্তেকাল করেন।

হজযাত্রীদের ধর্মীয় পরামর্শক দলে আরও ৩ আলেম

হজযাত্রীদের ধর্মীয় পরামর্শক দলে আরও ৩ আলেম
হজযাত্রীদের ধর্মীয় পরামর্শক দলে আরও ৩ আলেমকে অন্তর্ভুক্ত করেছে ধর্ম মন্ত্রণালয়

সৌদি আরবে বাংলাদেশি হজযাত্রীদের হজপালন বিষয়ে ধর্মীয় পরামর্শ ও দিক-নির্দেশনা দেওয়ার জন্য গঠিত ওলামা-মাশায়েখদের দলে যোগ হয়েছেন আরও তিন আলেম। এখন ওই দলের সদস্য সংখ্যা ৫৭। এর আগে ৯ জুলাই ৫৫ জন আলেমের একটি দল গঠন করে ধর্ম মন্ত্রণালয়।

তালিকায় যোগ হওয়া ওই তিনজন হলেন- হাইয়াতুল উলইয়ার কো-চেয়ারম্যান মাওলানা আশরাফ আলীর ছেলে হাফেজ মাওলানা মুফতি শামীম আহমদ (মুহাদ্দিস, মাদরাসাতুল আবরার, মাতুয়াইল, ঢাকা), বেফাক মহাসচিব মাওলানা আবদুল কুদ্দসের ছেলে মাওলানা মোহাম্মদ মঞ্জুরুল হাসান যোবায়ের (শিক্ষক, ফরিদাবাদ মাদরাসা, ঢাকা) ও মাওলানা সাজিদুর রহমান (মুহতামিম, দারুল আরকাম মাদরাসা, বি.বাড়িয়া)। তন্মধ্যে মাওলানা আশরাফ আলী ও মাওলানা আবদুল কুদ্দুস ওলামা-মাশায়েখদের দলে আগেই ছিলেন। এবার তালিকায় তাদের সঙ্গে সন্তানরাও যোগ হলেন। 

তালিকা দেখতে ক্লিক করুন 

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব শিব্বির আহমদ উছমানি স্বাক্ষরিত এক চিঠির বরাতে ওলামা-মাশায়েখদের হজ পালনের বিষয়টি জানানো হয়। রাষ্ট্রীয় খরচে হজযাত্রীদের প্যাকেজে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা প্রদান সাপেক্ষে ওলামা-মাশায়েখদের হজপালনে এবারই প্রথম অন্তর্ভুক্ত করা হলো।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, আগামী ৪ ও ৫ আগস্ট ফ্লাইট প্রাপ্তি সাপেক্ষে ওলামা-মাশায়েখদের দলটি সৌদি আরবে যাবেন। ২৩ আগস্ট তারা দেশে ফিরে আসবেন। রাষ্ট্রীয় খরচে হজ সফর হিসেবে গণ্য হবে। মনোনীত আলেমদের কোরবানি নিজ খরচে করতে হবে। মক্কা-মদিনায় তাদের ভ্রমনসূচি হজ কাউন্সিলর কর্তৃক নির্ধারিত হবে, তারা নিজ অর্থায়নে হলেও স্ত্রী-সন্তানসহ গমন করতে পারবেন না।

এদিকে ১৪ জুলাই বাংলাদেশিদের হজ ব্যবস্থাপনার কাজে সার্বিক তত্ত্বাবধান ও দিক-নির্দেশনা প্রদানের জন্য ১০ সদস্য বিশিষ্ট হজ প্রতিনিধি দল গঠন করে ধর্ম মন্ত্রণালয়। ওই দলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদাসহ তিনজন প্রতিমন্ত্রী, তিনজন সংসদ সদস্য, দু্’জন সচিব ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একজন মহাপরিচালক (মহাপরিচালক-৩) রয়েছেন।

এই দুই দল ছাড়াও বাংলাদেশি হজযাত্রীদের জেদ্দা, মক্কা ও মদিনায় সহায়তা করতে সরকার বেশ কয়েকটি টিম গঠন করে সৌদি আরব প্রেরণ করেছে। দলগুলো হলো- হজ চিকিৎসক দল, হজ প্রশাসনিক দল, হজ কারিগরি দল ও হজ চিকিৎসক দলের সহায়ক দল।

আরও পড়ুন:

হজযাত্রীদের পরামর্শ দিতে ৫৫ আলেমকে সৌদি পাঠাচ্ছে সরকার

সিইসিসহ হজ প্রতিনিধি দলে ৩ মন্ত্রী, ৩ এমপি

উল্লেখ্য, এ বছর বাংলাদেশ থেকে সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ১ লাখ ২৬ হাজার ৯২৩ জন হজযাত্রী হজপালনের জন্য সৌদি আরব যাবেন।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র