Barta24

বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই ২০১৯, ২ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

অশেষ ফজিলতপূর্ণ শাওয়ালের ৬ রোজা

অশেষ ফজিলতপূর্ণ শাওয়ালের ৬ রোজা
মুফতি মাহফূযুল হক
অতিথি লেখক
ইসলাম


  • Font increase
  • Font Decrease

শেষ হয়েছে সিয়াম সাধনার মাস রমজান। যারা রমজান মাসের রোজা রেখেছেন, তারা যদি আরেকটু কষ্ট করে চলতি শাওয়াল মাসে আরও ৬টি রোজা রাখেন- তবে বিশাল ফজিলত লাভে সক্ষম হবেন।

হজরত নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, ‘যে ব্যক্তি (পূর্ণ) রমজান মাস রোজা রাখবে অতঃপর শাওয়াল মাসে ৬টি রোজা রাখবে সে যেন পূর্ণ বছর রোজা রাখল।’ –সহিহ মুসলিম: ১১৬৪

পূর্ণ বছর রোজার সওয়াব লাভের ব্যাখ্যা
আল্লাহতায়ালা ইরশাদ করেছেন, ‘যে ব্যক্তি সওয়াব নিয়ে আসবে সে তার কৃত কাজের দশ গুণ বেশি সওয়াব পাবে। আর যে ব্যক্তি পাপ নিয়ে আসবে তাকে শুধুমাত্র তার কৃত পাপেরই শাস্তি দেওয়া হবে। কোনো বাড়তি শাস্তি চাপিয়ে দিয়ে তার ওপর অত্যাচার করা হবে না।’ -সূরা আনআম: ১৬০

হজরত নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, ‘তোমাদের মধ্যে কেউ যখন উত্তমরূপে ইসলামের ওপর কায়েম থাকে তখন সে যে সকল নেক আমল করে সেগুলোর প্রত্যেকটির বিনিময়ে তার আমলনামায় দশগুণ থেকে সাতশ’ গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি করে সওয়াব লেখা হয়। আর সে যে সব মন্দ কাজ করে, সেগুলোর প্রত্যেকটির বিনিময়ে শুধুমাত্র তার কাজের সমপরিমাণ পাপ লেখা হয়।’ –সহিহ বোখারি: ৪২

ইমাম নববি রহমাতুল্লাহি আলাইহি মুসলিম শরিফের ব্যাখ্যাগ্রন্থে এবং তিরমিজির ব্যাখ্যাকার তুহফাতুল আহওয়াযিতে পূর্ণ বছরের সওয়াব লাভের ব্যাখ্যা করেছেন এভাবে, যেহেতু সওয়াব লেখা হয় ন্যূনতম ১০ গুণ বৃদ্ধি করে, সেহেতু রমজান মাস রোজা রাখলে ১০ মাস রোজা রাখার সওয়াব লেখা হবে। অতঃপর শাওয়াল মাসে ৬ দিন রোজা রাখলে ৬০ দিন অর্থাৎ ২ মাস রোজা রাখার সওয়াব লেখা হবে। এভাবে রমজানের রোজা রাখার পর শাওয়ালে ৬টি রোজা রাখলে (১০ মাস + ২ মাস= ১২ মাস) পূর্ণ বছর রোজা রাখার সওয়াব অর্জিত হবে।

পূর্ণ বছরের সওয়াব লাভের শর্ত
ইসলামের ওপর উত্তমরূপে কায়েম থাকা। -সহিহ বোখারি: ৪২
অর্থাৎ জীবনযাপনে সকল হারাম ও নাজায়েজ থেকে বিরত তো থাকতে হবেই। সেইসঙ্গে শুধুমাত্র জায়েযের ওপর থাকলে হবে না বরং দ্বীন-দুনিয়ার প্রতিটি কাজে সুন্নত-মোস্তাহাবকে মেনে চলার আপ্রাণ চেষ্টা করতে হবে।

মাসয়ালা
১. শাওয়ালের প্রথম দিন অর্থাৎ ঈদের দিন রোজা রাখা হারাম। তাই ৬ রোজা রাখতে হবে ঈদের পর।

২. এই ছয় রোজা ঈদের পরের দিন থেকেই রাখা যায়। আবার বিলম্ব করে শাওয়াল মাসের শেষের মাঝের দিকে অথবা শেষের দিকেও রাখা যায়। অর্থাৎ শাওয়ালের মধ্যে সুবিধামতো যেকোনো সময় রাখা যায়।

৩. শাওয়ালের ছয় রোজা একাধারেও রাখা যায়, আবার নিজের সুবিধামতো বিরতি দিয়ে দিয়েও রাখা যায়।

৪. শাওয়াল মাসের ৬ রোজা নফল বা মোস্তাহাব।

কাজা রোজা ও শাওয়ালের রোজা একত্রে রাখা
অনুমোদিত বিভিন্ন কারণেই রমজানের রোজা কাজা হতে পারে। পূর্ণ বয়ষ্ক নারীদের ক্ষেত্রেতো এটা স্বাভাবিক ব্যপার। এ ক্ষেত্রে অনেক নারীই দ্বিধায় থাকেন, রমজানের কাজা রোজার নিয়ত ও শাওয়ালের রোজার নিয়ত একত্র করে একসঙ্গে রোজা রাখলে কাজা ও শাওয়াল উভয়টাই আদায় হবে? নাকি একটা আদায় হবে? শাওয়ালের রোজার সওয়াব পাওয়া যাবে কিনা?

এ প্রশ্নের উত্তর বা সংশয়ের সমাধান হাদিসে সরাসরি দেওয়া নেই। তাই ইজতিহাদ করে সমাধান বের করতে যেয়ে আলেমদের মতপার্থক্যের সৃষ্টি হয়েছে।

কারও মতে কাজা ও শাওয়াল উভয়টাই একসঙ্গে আদায় হবে এবং কাজা আদায় হওয়ার পাশাপাশি শাওয়ালের ফজিলতও পাওয়া যাবে। তাদের যুক্তি হলো- একটি আমলে সুযোগ সাপেক্ষে একাধিক নিয়ত শরিয়তে গ্রহণযোগ্য। যেমন- কোনো ব্যক্তির পড়শি যদি তার রক্তের আত্মীয় হয় তাহলে তাকে উপহার দেওয়ার সময় সে যদি মুসলিম ভ্রাতৃত্ব রক্ষার, আত্মীয়তা রক্ষার ও পড়শির হক রক্ষার নিয়ত করে নেয় তাহলে সে একটি আমলে পৃথক পৃথক ৩টি আমলের সওয়াব পায়।

অনুরূপভাবে শাওয়াল মাসের মধ্যে রোজা রাখতে যেয়ে যদি রমজানের কাজার নিয়ত করে আবার শাওয়ালের ফজিলতেরও নিয়ত করে তবে সে এক রোজায় পৃথক পৃথক ২টি উপকার ভোগ করবে। কাজাও আদায় হবে আবার শাওয়ালের ফজিলতও পাবে।

আবার কোনো কোনো আলেমের মতে শাওয়াল মাসের মধ্যে রমজারে কাজা ও শাওয়ালের ফজিলত উভয়টার নিয়ত একসঙ্গে করে রোজা রাখলে শুধুমাত্র রমজানের কাজা আদায় হবে। এভাবে দ্বৈত নিয়তে রোজা রাখার দ্বারা শাওয়ালের ফজিলত পাওয়া যাবে না। ফজিলত পেতে হলে কাজা রোজা ও শাওয়ালের রোজা পৃথক পৃথকভাবে রাখতে হবে।

নিজেদের মতের স্বপক্ষে যুক্তি দিতে যেয়ে তারা বলেন, হাদিসে শাওয়ালের ফজিলত বলতে যেয়ে নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমজানের রোজা রাখা এবং শাওয়ালের ছয় রোজা রাখার মাঝে ‘সুম্মা’ শব্দ ব্যবহার করেছেন। আরবি ব্যাকরণের ভাষায় যার নাম হরফুল আতফ। আর ব্যাকরণের নিয়ম হলো- হরফুল আতফের আগের জিনিস ও পরের জিনিস পৃথক পৃথক হবে। এ থেকে বুঝা যায়, রমজানের রোজা ও শাওয়ালের রোজা পৃথক পৃথকভাবে রাখতে হবে। দু’নিয়তে একসঙ্গে রাখলে হবে না, উপরন্তু তারা আরও বলেন, মুহাদ্দিসরা (হাদিস বিশারদ) শাওয়ালে রোজার পূর্ণ বছরের সওয়াব লাভের যে ব্যাখ্যা দিয়েছেন তা থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে, এ রোজা আলাদাভাবে রাখতে হবে। দু’নিয়তে একসঙ্গে রাখলে তো রোজার সংখ্যা কমে যাচ্ছে। তখন তো আর ফজিলতের উক্ত ব্যাখ্যা মিলবে না।

সর্বোপরি মহান আল্লাহই অধিক জ্ঞাত কোন মতটি শুদ্ধ। তবে আমাদের কাছে দ্বিতীয় মতটি অধিক যুক্তিযুক্ত মনে হয় এবং সতর্কতার দাবিও এটাই। তাই আমাদের পরামর্শ হলো- রোজা আলাদা আলাদা রাখা।

আপনার মতামত লিখুন :

নবীর রওজার গিলাফ উপহার পেলেন ব্রিটিশ বক্সার

নবীর রওজার গিলাফ উপহার পেলেন ব্রিটিশ বক্সার
নবীর রওজার গিলাফের টুকরা দেখাচ্ছেন আমির খান, ছবি: সংগৃহীত

পাকিস্তানী বংশোদ্ভূত জনপ্রিয় ব্রিটিশ বক্সার আমির ইকবাল খান এক বক্সিং প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে সৌদি আরব সফরে রয়েছেন। তিনি জেদ্দায় অস্ট্রেলিয়ান বক্সার বিলি ডিবের বিপক্ষে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করবেন। সৌদি আরব যেয়ে তিনি বিশেষ ব্যবস্থায় ওমরা পালন করেছেন। সেই সঙ্গে নবী করিম (সা.)-এর রওজা শরিফের অভ্যন্তরে ব্যবহৃত গিলাফের একটি টুকরা পেয়েছেন উপহার হিসেবে।

মাত্র ১৭ বছর বয়সে ব্রিটেনের হয়ে অলিম্পিক পদকজয়ী এই বক্সিং চ্যাম্পিয়ন স্ত্রী ফারিয়াল মাকদুমকে নিয়ে কাবা চত্ত্বরে দাঁড়িয়ে ইহরাম পরিহিত ও রওজার গিলাফের একটি ছবি ইন্সটাগ্রামে পোস্ট করেছেন। গিলাফের ওই টুকরাটি সবুজ কাপড়ের। সেখানে সাদা রংয়ের ক্যালিগ্রাফিতে কালেমা লেখা রয়েছে।
https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/16/1563289158690.jpg

আমির খান সম্মাননা পাওয়া রওজার গিলাফের ছবি ইন্সটাগ্রামে পোস্ট করে লিখেছেন, ‘আমি বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পবিত্র রওজা শরিফের এক টুকরো কাপড় পেয়ে সম্মানিত ও খুব সৌভাগ্যবান। এটা আমার পুরো জীবনের জন্য উপভোগের বিষয়।’

প্রতি বছরই নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের রওজা শরিফের গিলাফ এবং কাবা শরিফের গিলাফ পরিবর্তন করা হয়। পরে গিলাফের অংশ বিশ্বের খ্যাতনামা আলেম ও রাষ্ট্রপ্রধানসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিদেরকে সম্মাননা হিসেবে উপঢৌকন দেওয়া হয়। এরই অংশ হিসেবে কিংবদন্তি বক্সার মোহাম্মাদ আলীর পর মুসলিম বক্সার হিসেবে পরিচিত ও জনপ্রিয় মুষ্টিযোদ্ধা আমির ইকবাল খান এ উপহার পেলেন।

আরও ৫ শতাংশ রিপ্লেসমেন্ট সুবিধা চায় হজ এজেন্সিগুলো

আরও ৫ শতাংশ রিপ্লেসমেন্ট সুবিধা চায় হজ এজেন্সিগুলো
কাবা প্রাঙ্গণে হজযাত্রীদের একাংশ, ছবি: সংগৃহীত

পবিত্র হজযাত্রার জন্য প্রাক-নিবন্ধনের পর মৃত্যু ও অসুস্থতাসহ নানা কারণে যারা হজপালনে সৌদি আরব যেতে পারেন না, তাদের পরিবর্তে অন্যদের হজপালনের সুযোগকে রিপ্লেসমেন্ট বা প্রতিস্থাপন বলে। জাতীয় হজ ও ওমরা নীতিমালা অনুযায়ী মৃত্যু বা মারাত্মক অসুস্থতাজনিত কারণে নিবন্ধিত কেউ হজে যেতে না পারলে তার পরিবর্তে অন্য কাউকে হজে পাঠানোর জন্য ধর্ম মন্ত্রণালয় অনুমতি দিতে পারে। সে ক্ষেত্রে এজেন্সিকে ওই হজযাত্রীর অসুস্থতার পক্ষে চিকিৎসকের সনদপত্র অথবা মৃত্যুর ক্ষেত্রে মৃত্যুর সনদপত্র জমা দিতে হবে। সৌদি দূতাবাস কর্তৃক হজ ভিসা দেওয়া বন্ধ হওয়ার আগ পর্যন্ত ফ্লাইট চালু সাপেক্ষে যাত্রীদের রিপ্লেসমেন্টের সুযোগ রয়েছে।

তবে হজ সেবা সংশ্লিষ্ট অনেকেই বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে জানিয়েছেন, নীতিমালায় যাই থাকুক, রিপ্লেসমেন্টের ক্ষেত্রে হজ এজেন্সিগুলোকে বাড়তি কিছু সুবিধা দেওয়া হয়। এটা অনেকটা ওপেন সিক্রেট। যেমন নীতিমালায় ৫ শতাংশ হারে প্রতিস্থাপনের কথা বলা হলেও মন্ত্রণালয় বিশেষ সার্কুলার জারি করে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ হারে এই সুবিধা দিয়ে থাকে। চলতি বছরও ১০ শতাংশ হারে সুবিধা দেওয়া হয়েছে। তার পরও কিছু এজেন্সি দাবি করছেন আরও ৫ শতাংশ সুবিধার।

চলতি হজ মৌসুমে ইতোমধ্যে এজেন্সিগুলোকে প্রতি ১০ শতাংশ হারে প্রতিস্থাপনের সুবিধা দেওয়া হয়েছে। তবে তা নির্ধারিত সময়ের জন্য হওয়ার কারণে কিছু এজেন্সি তখন এই সুবিধা নিতে পারেনি। এখন এজেন্সিগুলো আরেক দফায় এই সুযোগ চায়। প্রতিস্থাপনের সুবধিা না পাওয়ার কারণে অনেক এজেন্সি এখনও সৌদি আরবে বাড়ি ভাড়া করে তাসরিয়ার অনুমোদন নিতে পারছে না। এ জন্য ধর্ম মন্ত্রণালয়ও গত কয়েক দিন কয়েক দফায় এজেন্সিগুলোকে তলব করে তাদের সর্বশেষ অবস্থান জানার চেষ্টা করছে। সর্বশেষ প্রায় ৪০টি এজেন্সিকে ধর্ম মন্ত্রণালয় ডেকেছিল।

এ বিষয়ে হাবের সভাপতি এম শাহাদাত হোসাইন তসলিম বলেছেন, আমরা শুরুতেই প্রয়োজনীয় সংখ্যক হজযাত্রীকে রিপ্লেসমেন্টের সুযোগ দেওয়ার জন্য ধর্ম মন্ত্রণালয়কে লিখিতভাবে অনুরোধ জানিয়েছি। মন্ত্রণালয় দুই দফায় আমাদের হজযাত্রীদের ১০ শতাংশ করে রিপ্লেমেন্টের সুযোগ দিয়েছে। এখন যারা হজযাত্রীদের পাঠানোর ব্যাপারে তথ্য দিতে পারছে না তাদেরকে ডেকে প্রকৃত অবস্থা জানার চেষ্টা করছে ধর্ম মন্ত্রণালয়। তিনি বলেন, রিপ্লেমেন্টের জন্য নতুন করে অনুরোধ করার কিছু নেই। আমরা আগেই অনুরোধ করে রেখেছি সেটি বিবেচনায় রেখে ধর্ম মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত নেবে বলে আমরা আশা করি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন এজেন্সি মালিক রিপ্লেসমেন্ট সুবিধার বিষয়ে বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, আসলে আগের বছর ১৫ শতাংশের বেশি রিপ্লেসমেন্ট দেওয়া হয়েছে তিন দফায়। এবারও দুই দফায় সুবিধা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সময় নির্ধারিত থাকা কারণে পরে যাদের রিপ্লেসমেন্টের প্রয়োজন হয়ে পড়েছে তাদের জন্য আবার সুযোগ দেওয়া দরকার। এ ছাড়া দেখা গেছে, অনেকে শতকরা হারে সে সংখ্যায় রিপ্লেসমেন্টের সুবিধা পেয়েছে তার প্রকৃত রিপ্লেসযোগ্য হজযাত্রীর সংখ্যা তার চেয়ে বেশি। ফলে সে আরেক দফায় সুবিধার জন্য অপেক্ষমাণ রয়েছে।

তাদের দাবি, যারা হজের জন্য প্রাক-নিবন্ধন করেছেন তাদেরই তো রিপ্লেসমেন্ট দেওয়া হবে। এতে কোটা খালি থাকা বা সরকারের লাভ-লোকসানের কিছু নেই। বরং কোনো এজেন্সি তার হজযাত্রী পাঠাতে না পারলে তার বাড়ি ভাড়ার টাকা এমনকি বিমানের টিকিটের টাকাসহ ব্যবসায়িক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে। আর ওই সব হজযাত্রীর কোটাও খালি যাবে। ফলে সব কিছু বিবেচনা করে সর্বশেষ রিপ্লেসমেন্টের সুযোগ দেওয়া উচিত।

ধর্ম মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, হজ ব্যবস্থাপনাকে সুষ্ঠু ও সুন্দর করার জন্য এবার সরকার যেসব পদক্ষেপ নিয়েছে তার কারণে হজ ফ্লাইট নিয়ে কোনো ঝামেলা এখন পর্যন্ত হয়নি। আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে হজযাত্রীদের নামে বিমানের টিকিট নিশ্চিত করাসহ হজ অফিসে পাসপোর্ট জমা দিয়ে ভিসা নিশ্চিত করার বিষয়টি আগেই নিশ্চিত করার অংশ হিসেবেই দফায় দফায় এজেন্সিগুলোকে ডেকে তাদের সর্বশেষ তথ্য জানছে ধর্ম মন্ত্রণালয়। এখনও কিছু এজেন্সির সৌদি আরবের বাড়ি ভাড়া ও তাসরিয়ার ব্যাপারে ধর্ম মন্ত্রণালয়ে তথ্য না থাকায় প্রকৃত অবস্থা জেনে ধর্ম মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলে জানা গেছে মন্ত্রণালয় সূত্রে।

উল্লেখ্য, সরকারি-বেসরকারি মিলে এ বছর বাংলাদেশের হজযাত্রীর কোটা এক লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন। এর মধ্যে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় এক লাখ ২০ হাজার হজযাত্রী যাওয়ার কথা। ৫৯৮টি বেসরকারি এজেন্সি এ বছর হজ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। গতকাল পর্যন্ত প্রায় ৫৩ হাজার হজযাত্রী সৌদি আরব গেছেন। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ও সৌদি এয়ারলাইন্স হজযাত্রীদের পরিবহন করছে। চাঁদ দেখাসাপেক্ষে আগামী ১০ আগস্ট পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হতে পারে। হজযাত্রীদের প্রথম ফিরতি ফ্লাইট ১৭ আগস্ট এবং শেষ ফিরতি ফ্লাইট ১৫ সেপ্টেম্বর।

ধর্ম মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, হজপালনের জন্য সৌদিতে যাওয়া বাংলাদেশি মধ্যে চার পুরুষ ও একজন নারী ইন্তেকাল করেছেন।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র