Barta24

বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই ২০১৯, ২ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

কানাকানি যখন পাপের কারণ

কানাকানি যখন পাপের কারণ
মুফতি মুহাম্মদ তাসনীম
অতিথি লেখক
ইসলাম


  • Font increase
  • Font Decrease

আল্লাহতায়ালা কোরআনে কারিমে মুমিনদের পরামর্শ দিয়ে বলছেন, ‘হে মুমিনগণ! তোমরা যখন কানাকানি করো, তখন পাপাচার, সীমালঙ্ঘন ও রাসূলের অবাধ্যতার বিষয়ে কানাকানি করো না, বরং অনুগ্রহ ও আল্লাহভীতির ব্যাপারে কানাকানি করো; আল্লাহকে ভয় করো, যার কাছে তোমরা একত্রিত হবে।’ -সূরা মুজাদিলা: ০৯

এর পরের আয়াতে আল্লাহতায়ালা মুনাফিকদের এমন কানাঘুষাকে শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে উৎসারিত বলে উল্লেখ করেছেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘এই কানাঘুষা তো মুমিনদের দুঃখ দেওয়ার জন্যে শয়তানের কাজ। তবে আল্লাহর অনুমতি ব্যতীত সে তাদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না; মুমিনদের উচিত আল্লাহর ওপর ভরসা করা।’ -সূরা মুজাদিলা: ১০

বস্তুত শয়তান মুনাফিকদের কানাঘুষায় জড়িত করে, যাতে ঈমানদাররা ব্যথিত হন ও তাদের হৃদয় যেন পেরেশান হয়। কিন্তু মুমিনদের জানা উচিত, অস্তিত্বের জগতে ঘটনা প্রবাহের মূল নিয়ন্ত্রক ও কার্যকারক হলেন সৃষ্টিবর্তা আল্লাহ। আল্লাহ না চাইলে কেউই মানুষের কোনো ক্ষতি করতে পারে না। তাই মুমিনদের উচিত কেবল আল্লাহর ওপর ভরসা করা এবং আল্লাহ ছাড়া অন্য কোনো কিছুকেই ভয় না করা। তারা আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে সব সঙ্কটকেই মোকাবেলা করতে সক্ষম।

অর্থাৎ মুমিনরা সর্বশক্তিমান আল্লাহর ওপর আস্থা রেখে শয়তানের অনুসারীদের ভয়াবহ সব ষড়যন্ত্রকে বানচাল করতে পারেন। এটা যুগে যুগে প্রমাণিত সত্য।

ঐতিহাসিক বর্ণনায় জানা যায়, একবার হজরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদের পাশে এক বড় চত্বরে বসেছিলেন। তার পাশে বসেছিলেন একদল সাহাবি। তারা রাসূলকে ঘিরে এমনভাবে বসেছিলেন, যে নতুন কেউ ওই মজলিসে আসলে তাকে জায়গা দেওয়ার জন্য অন্য কাউকে সরে বসতে হবে। নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সাহাবিদের খুব শ্রদ্ধা করতেন।

সেদিনের ওই মজলিসে হাজির ছিলেন বদর যুদ্ধে অংশ নেওয়া অনেকেই। তারা মজলিসের সবার উদ্দেশ্যে সালাম দিয়ে দাঁড়িয়ে রইলো এবং বসার জায়গা পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে লাগলো। কিন্তু কেউ সরে বসে তাদের জায়গা দিলেন না। এ ঘটনায় নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুব বিব্রত ও লজ্জিত হলেন। বেশি ভিড় হওয়ার কারণে তিনি তার আশপাশের কিছু মানুষকে উঠে দাঁড়াতে বললেন, যাতে ওই মুজাহিদরা মজলিসে বসতে পারেন। জিহাদ ও ঈমানে অগ্রবর্তী মুসলমানদের প্রতি শ্রদ্ধা দেখানো এবং আদব-কায়দা শেখানোর জন্যই নবী করিস (সা.) ওই আদেশ দিয়েছিলেন।

কিন্তু ওই ঘটনায় যে কয়জন সাহাবি জায়গা থেকে সরে দাঁড়ান, তাদের কাছে বিষয়টি পছন্দ হয়নি। ফলে নাজিল হয় সূরা মুজাদিলার ১১ নম্বর আয়াত। ওই আয়াতে ইরশাদ হয়েছে, ‘হে মুমিনগণ! যখন তোমাদের বলা হয়, মজলিসে স্থান প্রশস্ত করে দাও, তখন তোমরা স্থান প্রশস্ত করে দিয়ো, আল্লাহ তোমাদের জন্যে স্থান প্রশস্ত করে দেবেন, যখন বলা হয় উঠে যাও, তখন উঠে যেয়ো, তোমাদের মধ্যে যারা ঈমানদার এবং যারা জ্ঞানপ্রাপ্ত, আল্লাহ তাদের মর্যাদা উচ্চ করে দেবেন, আল্লাহ খবর রাখেন যা কিছু তোমরা করো।’

কোনো বিশেষ বা গোপন সামরিক বৈঠক ছাড়া সাধারণ কোনো মজলিসে নবাগত বা অন্যদের স্থান করে দেওয়া ইসলামি নৈতিক শিক্ষার অংশবিশেষ। সাধারণ মজলিসে নবাগত কেউ আসামাত্র তার জন্য জায়গা করে দেওয়া স্বাভাবিক ভদ্রতা ও শিষ্টাচারের দাবি। তাই পরে উপস্থিত ব্যক্তিকে বিনা কারণে বসতে দিতে দেরি করাটা আগে উপস্থিত ব্যক্তিদের জন্য কলঙ্কজনক অভদ্রতা হিসেবে বিবেচিত হয়।

আল্লাহতায়ালা ওই আয়াতে এটাও স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন, কেউ যদি অন্যদের কাজে সুবিধা করে দেয়; তাহলে আল্লাহতায়ালাও তার জন্য নানা ক্ষেত্রে সুবিধাজনক অবস্থা সৃষ্টি করবেন। অবশ্য কোনো কোনো সময় মজলিসে অস্বাভাবিক মাত্রায় ভিড় দেখা দেয়। আর এক্ষেত্রে কারো কারো উচিত বসার স্থান থেকে উঠে দাঁড়িয়ে যাওয়া যাতে মজলিসে পরে আসা মেহমান বা অপেক্ষাকৃত বেশি সম্মানিতরা বসতে পারেন।

কারণ এমনও হতে পারে, পরে আসা সম্মানিত ব্যক্তিরা অনেক দূর থেকে হেঁটে আসার কারণে বা দীর্ঘ ভ্রমণের কারণে কিংবা বয়স্ক হওয়াসহ অন্য কোনো কারণে ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন। তাই তাদের জন্য বসে বিশ্রাম নেওয়া অন্যদের চেয়ে বেশি জরুরি। কেউ যদি সম্মানিত ব্যক্তিদের সম্মান দেখিয়ে তাদেরকে মজলিসে বসতে দেওয়ার জন্য নিজের বসার জায়গাকে তাদের জন্য ছেড়ে দেন, তাহলে আল্লাহ তাকে বড় পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে বলেছেন, ‘তোমাদের মধ্যে যারা ঈমানদার এবং যারা জ্ঞানপ্রাপ্ত, আল্লাহ তাদের মর্যাদা উচ্চ করে দেবেন।’

সূরা মুজাদিলার শেষ আয়াতে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়েছে, ‘যারা আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাস করে, তাদের আপনি আল্লাহ ও তার রাসূলের বিরুদ্ধাচরণকারীদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করতে দেখবেন না, যদিও তারা তাদের পিতা, পুত্র, ভ্রাতা অথবা জ্ঞাতি-গোষ্ঠী হয়; তাদের অন্তরে আল্লাহ ঈমান লেখে দিয়েছেন এবং তাদের শক্তিশালী করেছেন তার অদৃশ্য শক্তি দ্বারা; তিনি তাদেরকে জান্নাতে দাখিল করবেন, যার তলদেশে নদী প্রবাহিত, তারা তথায় চিরকাল থাকবে; আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট এবং তারা আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট। তারাই আল্লাহর দল; জেনে রাখো, আল্লাহর দলই সফলকাম হবে।’

অর্থাৎ কোনো মুমিনের হৃদয়ে কখনও একই সময়ে আল্লাহর প্রতি ভালোবাসা ও আল্লাহর শত্রুদের প্রতি ভালোবাসা থাকতে পারে না।

আপনার মতামত লিখুন :

নবীর রওজার গিলাফ উপহার পেলেন ব্রিটিশ বক্সার

নবীর রওজার গিলাফ উপহার পেলেন ব্রিটিশ বক্সার
নবীর রওজার গিলাফের টুকরা দেখাচ্ছেন আমির খান, ছবি: সংগৃহীত

পাকিস্তানী বংশোদ্ভূত জনপ্রিয় ব্রিটিশ বক্সার আমির ইকবাল খান এক বক্সিং প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে সৌদি আরব সফরে রয়েছেন। তিনি জেদ্দায় অস্ট্রেলিয়ান বক্সার বিলি ডিবের বিপক্ষে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করবেন। সৌদি আরব যেয়ে তিনি বিশেষ ব্যবস্থায় ওমরা পালন করেছেন। সেই সঙ্গে নবী করিম (সা.)-এর রওজা শরিফের অভ্যন্তরে ব্যবহৃত গিলাফের একটি টুকরা পেয়েছেন উপহার হিসেবে।

মাত্র ১৭ বছর বয়সে ব্রিটেনের হয়ে অলিম্পিক পদকজয়ী এই বক্সিং চ্যাম্পিয়ন স্ত্রী ফারিয়াল মাকদুমকে নিয়ে কাবা চত্ত্বরে দাঁড়িয়ে ইহরাম পরিহিত ও রওজার গিলাফের একটি ছবি ইন্সটাগ্রামে পোস্ট করেছেন। গিলাফের ওই টুকরাটি সবুজ কাপড়ের। সেখানে সাদা রংয়ের ক্যালিগ্রাফিতে কালেমা লেখা রয়েছে।
https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/16/1563289158690.jpg

আমির খান সম্মাননা পাওয়া রওজার গিলাফের ছবি ইন্সটাগ্রামে পোস্ট করে লিখেছেন, ‘আমি বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পবিত্র রওজা শরিফের এক টুকরো কাপড় পেয়ে সম্মানিত ও খুব সৌভাগ্যবান। এটা আমার পুরো জীবনের জন্য উপভোগের বিষয়।’

প্রতি বছরই নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের রওজা শরিফের গিলাফ এবং কাবা শরিফের গিলাফ পরিবর্তন করা হয়। পরে গিলাফের অংশ বিশ্বের খ্যাতনামা আলেম ও রাষ্ট্রপ্রধানসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিদেরকে সম্মাননা হিসেবে উপঢৌকন দেওয়া হয়। এরই অংশ হিসেবে কিংবদন্তি বক্সার মোহাম্মাদ আলীর পর মুসলিম বক্সার হিসেবে পরিচিত ও জনপ্রিয় মুষ্টিযোদ্ধা আমির ইকবাল খান এ উপহার পেলেন।

আরও ৫ শতাংশ রিপ্লেসমেন্ট সুবিধা চায় হজ এজেন্সিগুলো

আরও ৫ শতাংশ রিপ্লেসমেন্ট সুবিধা চায় হজ এজেন্সিগুলো
কাবা প্রাঙ্গণে হজযাত্রীদের একাংশ, ছবি: সংগৃহীত

পবিত্র হজযাত্রার জন্য প্রাক-নিবন্ধনের পর মৃত্যু ও অসুস্থতাসহ নানা কারণে যারা হজপালনে সৌদি আরব যেতে পারেন না, তাদের পরিবর্তে অন্যদের হজপালনের সুযোগকে রিপ্লেসমেন্ট বা প্রতিস্থাপন বলে। জাতীয় হজ ও ওমরা নীতিমালা অনুযায়ী মৃত্যু বা মারাত্মক অসুস্থতাজনিত কারণে নিবন্ধিত কেউ হজে যেতে না পারলে তার পরিবর্তে অন্য কাউকে হজে পাঠানোর জন্য ধর্ম মন্ত্রণালয় অনুমতি দিতে পারে। সে ক্ষেত্রে এজেন্সিকে ওই হজযাত্রীর অসুস্থতার পক্ষে চিকিৎসকের সনদপত্র অথবা মৃত্যুর ক্ষেত্রে মৃত্যুর সনদপত্র জমা দিতে হবে। সৌদি দূতাবাস কর্তৃক হজ ভিসা দেওয়া বন্ধ হওয়ার আগ পর্যন্ত ফ্লাইট চালু সাপেক্ষে যাত্রীদের রিপ্লেসমেন্টের সুযোগ রয়েছে।

তবে হজ সেবা সংশ্লিষ্ট অনেকেই বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে জানিয়েছেন, নীতিমালায় যাই থাকুক, রিপ্লেসমেন্টের ক্ষেত্রে হজ এজেন্সিগুলোকে বাড়তি কিছু সুবিধা দেওয়া হয়। এটা অনেকটা ওপেন সিক্রেট। যেমন নীতিমালায় ৫ শতাংশ হারে প্রতিস্থাপনের কথা বলা হলেও মন্ত্রণালয় বিশেষ সার্কুলার জারি করে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ হারে এই সুবিধা দিয়ে থাকে। চলতি বছরও ১০ শতাংশ হারে সুবিধা দেওয়া হয়েছে। তার পরও কিছু এজেন্সি দাবি করছেন আরও ৫ শতাংশ সুবিধার।

চলতি হজ মৌসুমে ইতোমধ্যে এজেন্সিগুলোকে প্রতি ১০ শতাংশ হারে প্রতিস্থাপনের সুবিধা দেওয়া হয়েছে। তবে তা নির্ধারিত সময়ের জন্য হওয়ার কারণে কিছু এজেন্সি তখন এই সুবিধা নিতে পারেনি। এখন এজেন্সিগুলো আরেক দফায় এই সুযোগ চায়। প্রতিস্থাপনের সুবধিা না পাওয়ার কারণে অনেক এজেন্সি এখনও সৌদি আরবে বাড়ি ভাড়া করে তাসরিয়ার অনুমোদন নিতে পারছে না। এ জন্য ধর্ম মন্ত্রণালয়ও গত কয়েক দিন কয়েক দফায় এজেন্সিগুলোকে তলব করে তাদের সর্বশেষ অবস্থান জানার চেষ্টা করছে। সর্বশেষ প্রায় ৪০টি এজেন্সিকে ধর্ম মন্ত্রণালয় ডেকেছিল।

এ বিষয়ে হাবের সভাপতি এম শাহাদাত হোসাইন তসলিম বলেছেন, আমরা শুরুতেই প্রয়োজনীয় সংখ্যক হজযাত্রীকে রিপ্লেসমেন্টের সুযোগ দেওয়ার জন্য ধর্ম মন্ত্রণালয়কে লিখিতভাবে অনুরোধ জানিয়েছি। মন্ত্রণালয় দুই দফায় আমাদের হজযাত্রীদের ১০ শতাংশ করে রিপ্লেমেন্টের সুযোগ দিয়েছে। এখন যারা হজযাত্রীদের পাঠানোর ব্যাপারে তথ্য দিতে পারছে না তাদেরকে ডেকে প্রকৃত অবস্থা জানার চেষ্টা করছে ধর্ম মন্ত্রণালয়। তিনি বলেন, রিপ্লেমেন্টের জন্য নতুন করে অনুরোধ করার কিছু নেই। আমরা আগেই অনুরোধ করে রেখেছি সেটি বিবেচনায় রেখে ধর্ম মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত নেবে বলে আমরা আশা করি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন এজেন্সি মালিক রিপ্লেসমেন্ট সুবিধার বিষয়ে বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, আসলে আগের বছর ১৫ শতাংশের বেশি রিপ্লেসমেন্ট দেওয়া হয়েছে তিন দফায়। এবারও দুই দফায় সুবিধা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সময় নির্ধারিত থাকা কারণে পরে যাদের রিপ্লেসমেন্টের প্রয়োজন হয়ে পড়েছে তাদের জন্য আবার সুযোগ দেওয়া দরকার। এ ছাড়া দেখা গেছে, অনেকে শতকরা হারে সে সংখ্যায় রিপ্লেসমেন্টের সুবিধা পেয়েছে তার প্রকৃত রিপ্লেসযোগ্য হজযাত্রীর সংখ্যা তার চেয়ে বেশি। ফলে সে আরেক দফায় সুবিধার জন্য অপেক্ষমাণ রয়েছে।

তাদের দাবি, যারা হজের জন্য প্রাক-নিবন্ধন করেছেন তাদেরই তো রিপ্লেসমেন্ট দেওয়া হবে। এতে কোটা খালি থাকা বা সরকারের লাভ-লোকসানের কিছু নেই। বরং কোনো এজেন্সি তার হজযাত্রী পাঠাতে না পারলে তার বাড়ি ভাড়ার টাকা এমনকি বিমানের টিকিটের টাকাসহ ব্যবসায়িক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে। আর ওই সব হজযাত্রীর কোটাও খালি যাবে। ফলে সব কিছু বিবেচনা করে সর্বশেষ রিপ্লেসমেন্টের সুযোগ দেওয়া উচিত।

ধর্ম মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, হজ ব্যবস্থাপনাকে সুষ্ঠু ও সুন্দর করার জন্য এবার সরকার যেসব পদক্ষেপ নিয়েছে তার কারণে হজ ফ্লাইট নিয়ে কোনো ঝামেলা এখন পর্যন্ত হয়নি। আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে হজযাত্রীদের নামে বিমানের টিকিট নিশ্চিত করাসহ হজ অফিসে পাসপোর্ট জমা দিয়ে ভিসা নিশ্চিত করার বিষয়টি আগেই নিশ্চিত করার অংশ হিসেবেই দফায় দফায় এজেন্সিগুলোকে ডেকে তাদের সর্বশেষ তথ্য জানছে ধর্ম মন্ত্রণালয়। এখনও কিছু এজেন্সির সৌদি আরবের বাড়ি ভাড়া ও তাসরিয়ার ব্যাপারে ধর্ম মন্ত্রণালয়ে তথ্য না থাকায় প্রকৃত অবস্থা জেনে ধর্ম মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলে জানা গেছে মন্ত্রণালয় সূত্রে।

উল্লেখ্য, সরকারি-বেসরকারি মিলে এ বছর বাংলাদেশের হজযাত্রীর কোটা এক লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন। এর মধ্যে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় এক লাখ ২০ হাজার হজযাত্রী যাওয়ার কথা। ৫৯৮টি বেসরকারি এজেন্সি এ বছর হজ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। গতকাল পর্যন্ত প্রায় ৫৩ হাজার হজযাত্রী সৌদি আরব গেছেন। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ও সৌদি এয়ারলাইন্স হজযাত্রীদের পরিবহন করছে। চাঁদ দেখাসাপেক্ষে আগামী ১০ আগস্ট পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হতে পারে। হজযাত্রীদের প্রথম ফিরতি ফ্লাইট ১৭ আগস্ট এবং শেষ ফিরতি ফ্লাইট ১৫ সেপ্টেম্বর।

ধর্ম মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, হজপালনের জন্য সৌদিতে যাওয়া বাংলাদেশি মধ্যে চার পুরুষ ও একজন নারী ইন্তেকাল করেছেন।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র