Alexa

ঈদ মোবারক আস সালাম

ঈদ মোবারক আস সালাম

শুভেচ্ছা জানানো ঈদের বিশেষ আমল

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে বাংলার, বাঙালির সংবাদ সারথি বার্তা২৪.কম পরিবারের পক্ষ থেকে পাঠক, লেখক, বিজ্ঞাপনদাতা ও শুভানুধ্যায়ীদের জানাই শুভেচ্ছা। ঈদ মোবারক। ঈদ মোবারক, আস সালাম।

শুভেচ্ছা জানানো ঈদের বিশেষ আমল। আমাদের দেশে ‘ঈদ মোবারক’ বলে ঈদের শুভেচ্ছা জানানোর রীতি প্রচলিত আছে। ‘ঈদ মোবারক’ বলে শুভেচ্ছা বিনিময় জায়েজ। কিন্তু সালামের আগে ঈদ মোবারক বলে শুভেচ্ছা বিনিময় করা বৈধ নয়। ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করার সর্বোত্তম পদ্ধতি হলো- ‘তাকাব্বালাল্লাহু মিন্না ওয়া মিনকা’ বলা। এর অর্থ হলো- আল্লাহ আমাদের এবং আপনার পক্ষ থেকে (নেক আমলগুলো) কবুল করুন।

হজরত ওয়াসিলা (রা.) বলেন, আমি হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সঙ্গে ঈদের দিন স্বাক্ষাত করলাম। আমি বললাম, ‘তাকাব্বালাল্লাহু মিন্না ওয়া মিনকা’ আর তিনিও বললেন, ‘তাকাব্বালাল্লাহু মিন্না ওয়া মিনকা’। -বায়হাকি: ৩/৪৪৬

আমরা জানি, ত্যাগের অনুসরণীয় মহিমা, ঐশী অনুপ্রেরণা ও আনন্দের বার্তা নিয়ে ফিরে এসেছে ঈদুল আজহা। বুধবার (২২ আগস্ট) পূর্ণ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে উদযাপিত হবে ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদ। এই ঈদকে বাংলাদেশে বড় ঈদ বা বকরা ঈদও বলা হয়।

আরবি ঈদ শব্দের অর্থ আনন্দ, খুশি, উৎফুল্লতা ইত্যাদি। ইসলামের দৃষ্টিকোণ থেকে ঈদ নিছকই আনন্দ, খুশি বা উৎফুল্লতা নয়। এর সঙ্গে গভীর আধ্যাত্মিক ও ঐতিহাসিক অনেক দিক ওতপ্রোতভাবে সংযুক্ত।

ঈদুল আজহা মহান আল্লাহর প্রতি আত্মসমর্পণ ও আত্মত্যাগের মহিমায় সমুজ্জ্বল। পশু কোরবানির মাধ্যমে মহামহিম আল্লাহর নির্দেশের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ ও তার সন্তুষ্টি অর্জনই ঈদুল আজহার মূল লক্ষ্য। কোরবানি ঈদুল আজহার প্রধান আমল বা কর্তব্য। এর আধ্যাত্মিক তাৎপর্য হলো- নিজের মধ্যে ওঁৎপেতে থাকা পশু স্বভাবকে কোরবানির মাধ্যমে বিনাশ করা।

ইসলামের নবী হজরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই ঈদ সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হয়ে বলেছেন, ‘এটি তোমাদের পিতা হজরত ইবরাহিম আলাইহিস সালামের সুন্নত। বলাবাহুল্য, হজরত ইবরাহিম আলাইহিস সালাম আল্লাহতায়ালার প্রতি গভীর আনুগত্য ও তার রাহে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারের যে নজির স্থাপন করেন, ঈদুল আজহা তারই স্মারক।

আল্লাহতায়ালার নির্দেশে হজরত ইবরাহিম (আ.) তার প্রাণপ্রিয় পুত্র হজরত ইসমাঈল (আ.)-কে কোরবানি করার যে অনান্য সাধারণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন তার নজির মানবেতিহাসে বিরল। আল্লাহতায়ালার রহমতে ও নির্দেশে হজরত ইসমাঈল (আ.)-এর স্থলে দুম্বা কোরবানি হয়ে যায়। সেই থেকে আল্লাহতায়ালার নির্দেশে পশু কোরবানির বিধান চালু হয়। হজরত ইবরাহিম (আ.) যতদিন জীবিত ছিলেন ততদিন প্রতিবছর পশু কোরবানির মাধ্যমে আল্লাহর আনুগত্যের আদর্শ সমুন্নত রাখেন। হজরত মুহাম্মদ (সা.) কোরবানির এই আদর্শ বহাল রাখতে আদিষ্ট হন। তিনিও প্রতিবছর কোরবানি করেন এবং তার উম্মতের জন্য তা অনুসরণের নির্দেশ প্রদান করেন।

পশু কোরবানির মাধ্যমে আল্লাহতায়ালার প্রতি আত্মসমর্পণ ও আত্মত্যাগের সুযোগ নিয়ে আসে ঈদুল আজহা। হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, কোরবানির দিন কোনো ব্যক্তির কোরবানির পশুর রক্ত ঝরানোর মতো আল্লাহতায়ালার কাছে অধিক প্রিয় ও পছন্দনীয় আর কোনো কাজ নেই। এ প্রসঙ্গে পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘কোরবানির পশুর গোশত বা রক্ত কোনোকিছুই আল্লাহর কাছে পৌঁছায়না। বরং তার কাছে পৌঁছায় তোমাদের তাকওয়া।’

বলার অপেক্ষা রাখে না, ঈদুল আজহার মর্মবাণী হলো- এই তাকওয়া। তাকওয়ার অর্থ হলো- মুমিনের সেই সংকল্প যাতে প্রয়োজন বোধে সে তার সবকিছু এমনকি প্রাণও আল্লাহর নামে কোরবানি করতে প্রস্তুত। আসলে যে কোরবানিতে তাকওয়া নেই, আল্লাহর দৃষ্টিতে তার কোনো মূল্য নেই। এ কোরবানির মাধ্যমে হয়তো গোশত খাওয়া, সামাজিকতা রক্ষা করা কিংবা অর্থবিত্তের গরিমা প্রকাশ করা হবে, কিন্তু প্রকৃত কোরবানি হবে না।

মনে রাখতে হবে, কোরবানির নিয়ত ও লক্ষ্য যদি ঠিক না হয়, তবে সে কোরবানির কোনো ফায়দা নেই। দুঃখজনক হলেও বলতে হয়, আমাদের দেশে কোরবানির এই দিকটি অনেকেই খেয়াল রাখেন না। অনেকেই কোরবানির মর্মবাণী অনুধাবন না করে নানা লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যে কোরবানি করে থাকেন। তাদের কোরবানি তাদের কোনো কাজে আসে না।

বস্তুত কোরবানিকে ওয়াজিব করা হয়েছে। যাদের জন্য তা ওয়াজিব হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) তাদেরকেই কোরবানি করার নির্দেশ দিয়েছেন। এই মর্মে তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন, ‘কোরবানি ওয়াজিব হয়েছে এমন লোক কোরবানি না করলে সে যেন ঈদগাহে না যায়।’

কোরবানির ধর্মীয়, আধ্যাত্মিক ও ঐতিহাসিক তাৎপর্যের পাশাপাশি পারিবারিক, সামাজিক, মানবিক নানা কল্যাণকর দিকও রয়েছে। ধনী-দরিদ্র সবাই যেন ঈদের আনন্দ সমভাবে উপভোগ করতে পারে, সে জন্য স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। কোরবানির গোশতের অংশ আত্মীয়-স্বজন ও দরিদ্রের মধ্যে বিতরণ আবশ্যক যাতে তারাও ঈদের আনন্দ সমভাবে ভোগ করতে পারে।

এ বছর এমন এক সময় ঈদুল আজহা উদযাপিত হচ্ছে, যখন বিশ্ব মুসলিমের দুঃখ-দুর্দশা ও বিপদাপদের শেষ নেই। আমাদের নিকটতম প্রতিবেশি দেশ মিয়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলমানরা ইতিহাসের বর্বরতম জাতিগত নৃশংসতার শিকার। লাখ লাখ রোহিঙ্গা মুসলমান শরনাথী বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। মুসলিম উম্মাহর মজলুম জনগোষ্ঠি হিসেবে এই ঈদে তাদের প্রতিও আমাদের কর্তব্য আছে। আমাদের দেশেও লাখ লাখ মানুষ অভাব-অনটনে দিন অতিবাহিত করছে। সামর্থ্য অনুসারে তাদের জন্য সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে হবে। তবেই স্বার্থক ও সফল হবে আমাদের ঈদ ও কোরবানি।

ইসলাম এর আরও খবর