Barta24

রোববার, ২৫ আগস্ট ২০১৯, ১০ ভাদ্র ১৪২৬

English

বিশ্বের দৃষ্টিনন্দন দশটি মসজিদ

বিশ্বের দৃষ্টিনন্দন দশটি মসজিদ
বিশ্বের দৃষ্টিনন্দন দশটি মসজিদ, ছবি: সংগৃহীত
ইসলাম ডেস্ক
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

মসজিদ হচ্ছে আল্লাহর ঘর। ‘মসজিদ’ আরবি শব্দের উৎপত্তি হয়েছে ‘সিজদা’ শব্দ থেকে। এখানে আল্লাহতায়ালার সামনে তার বান্দা সিজদায় অবনত হয় বলে- এর নাম দেওয়া হয়েছে মসজিদ। মসজিদকে মুসলমানদের ঐক্য ও সংহতির কেন্দ্রবিন্দু বলা যায়। বর্ণ, গোত্র নির্বিশেষে ধনী-গরীব সবার জন্য মসজিদের দরজা উন্মুক্ত।

বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মসজিদ দেয়াল দিয়ে ঘেরা থাকলেও কোথাও কোথাও দেয়ালবিহীন মসজিদও দেখতে পাওয়া যায়। কোনো কোনো মসজিদে রয়েছে রেশমি কার্পেট আবার কোনো কোনো মসজিদে বালুর তপ্ত ভূমির ওপরে মুসল্লিদের নামাজ আদায় করতে হয়। কোনো কোনো মসজিদে রয়েছে সুউচ্চ ছাদ, আকাশচুম্বী মিনার এবং দেয়ালে রয়েছে চোখ ধাঁধানো কারুকাজ।

আবার কোনো কোনো মসজিদে এসবের কোনো কিছুর বালাই নেই। কিন্তু পবিত্রতা এবং আল্লাহর নৈকট্য অর্জিনের দিক দিয়ে এই দুই ধরনের মসজিদের মধ্যে কোনো গুণগত পার্থক্য নেই। ইবাদত কবুল হওয়ার জন্য মসজিদের বাহ্যিক বেশভূষা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নয়।

বিশ্বজুড়ে অসংখ্য মসজিদ রয়েছে। প্রতিটি মসজিদই নিজস্ব স্থাপত্য ও ডিজাইনের জন্য মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। প্রকৃত পক্ষে এক মসজিদ থেকে অন্য মসজিদের নির্মাণের বৈশিষ্ট্য ও সৌন্দর্যের কারণে, এক মসজিদ থেকে অপরটি থেকে ভিন্ন হয়ে থাকে। আর এভাবেই সৌন্দর্যের দিক থেকে ভিন্নতর হয়ে থাকে কিছু মসজিদ। এমনই স্থাপত্য নির্মাণে ভিন্ন ও দৃষ্টিনন্দন দশটি মসজিদ নিয়ে আজকের আয়োজন।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2018/Aug/27/1535352066257.jpg
মসজিদে হারাম, মক্কা শরিফ, সৌদি আরব, ছবি: সংগৃহীত

মসজিদে হারাম
মসজিদ আল হারাম বা মসজিদে হারাম ইসলামের সবচেয়ে পবিত্র স্থান, যা পবিত্র কাবাকে ঘিরে অবস্থিত। সৌদি আরবের মক্কা শহরে এর অবস্থান। মুসলিমরা নামাজের সময় কাবার দিকে মুখ করে দাঁড়ান।

হজ ও ওমরার জন্য মসজিদুল হারামে যেতে হয়। এর ভেতরে ও বাইরে নামাজের স্থান মিলে মসজিদের বর্তমান কাঠামো প্রায় ৮৮.২ একর। এখানে একসঙ্গে ১০ লাখ মানুষ নামাজ আদায় করতে পারেন।

বিশ্বের সর্ববৃহৎ এই মসজিদ সব সময় খোলা থাকে। পবিত্র কোরআনে বর্ণিত হয়েছে যে, হজরত ইবরাহিম (আ.) ও ইসমাইল (আ.) দু’জন একত্রে কাবা নির্মাণ করেন। মক্কায় যেসব গোষ্ঠী বা সম্প্রদায় মর্যাদাবান ছিল, তাদের দায়িত্ব থাকত কাবা শরিফ রক্ষণাবেক্ষণের। এ দায়িত্ব পালনকে তারা সম্মানিত ও গর্বের মনে করত। ইসলামের বিধান মতে, যারা এই মসজিদে প্রবেশ করবে তারা সুরক্ষিত থাকবে এবং তাদের কোনো প্রকার ক্ষতি করা যাবে না।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2018/Aug/27/1535351993229.jpg
মসজিদে নববী, মদিনা শরিফ, সৌদি আরব, ছবি: সংগৃহীত

মসজিদে নববী
কাবা শরিফের পরেই গুরুত্বপূর্ণ ও পবিত্র নিদর্শন মসজিদে নববী। মসজিদে নববী অর্থ নবীজির মসজিদ। এটি সৌদি আরবের মদিনায় অবস্থিত। এই মসজিদের অভ্যন্তরে দক্ষিণে অবস্থিত হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর রওজা।

মসজিদের নববীর জায়গা আল্লাহর রাসূল কিনে, তা ওয়াকফ করে দেন এবং মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও এর নির্মাণ কাজে নবী করিম (সা.) নিজে অংশ নেন।

বর্তমানে মসজিদে নববী বহুগুণ বড় ও সম্প্রসারিত। নতুন নকশার ভিত্তিতে এটিকে সম্প্রসারণ ও পুনঃনির্মাণ করা হয়েছে। এখন একসঙ্গে কয়েক লাখ মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন।

১৪৮১ খ্রিস্টাব্দে মামলুক সুলতান কয়েত-বে মসজিদে নববীতে গম্বুজ স্থাপন করেন। ১৮৩৯ খ্রিস্টাব্দে এ গম্বুজে রংয়ের আস্তরণ দিয়ে সবুজ গম্বুজ বানিয়ে দেন উসমানি সুলতান দ্বিতীয় মাহমুদ। সেই থেকেই আজ অবধি মসজিদে নববীর ওপর এই সবুজ গম্বুজ আশেকে রাসূলদের মাঝে নবীপ্রেমের প্রতীক হয়ে আছে। বিভিন্ন সময় সংস্কার হলেও সবুজ গম্বুজ, সবুজই রয়ে গেছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2018/Aug/27/1535352149268.jpg
সুলতান আহমেদ মসজিদ, ইস্তাম্বুল, তুরস্ক, ছবি: সংগৃহীত

ইস্তাম্বুলের সুলতান আহমেদ মসজিদ
এই মসজিদটি অটোম্যান যুগের একটি অনন্য নির্মাণ। তুরস্কের ইস্তাম্বুল শহরের মসজিদটির অবস্থান। এর নির্মাণ কাজ ১৬০৯ সালে শুরু করা হয় এবং ১৬১৬ সালে নির্মাণ কাজ শেষ হয়। সুলতান আহমাদ আওয়ালের নির্দেশে মসজিদটি নির্মাণ করা হয়। মসজিদের ভেতরে নীল টাইলসের ডিজাইন থাকার কারণে ইউরোপিয়ানদের কাছে এটি ‘নীল মসজিদ’ হিসেবে বেশি প্রসিদ্ধ। ১৯৩৪ সালে তুরস্কের ঐতিহাসিক ‘আয়া সোফিয়া’ মসজিদ জাদুঘরে রূপান্তরিত হওয়ার পর মুসলমানদের ইবাদত-বন্দেগি ও আমলের জন্য সুলতান আহমেদ মসজিদের গুরুত্ব অনেক বেড়ে যায়।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2018/Aug/27/1535352226391.jpg
লালেহ মোস্তফা পাশা মসজিদ, সাইপ্রাস, ছবি: সংগৃহীত 

সাইপ্রাসের লালেহ মোস্তফা পাশা মসজিদ
সাইপ্রাসের ‘ফামাগুস্তা’ শহরে অবস্থিত ‘লালেহ মোস্তফা পাশা’ মসজিদটি ১২৯৮ থেকে ১৪০০ সালে মধ্যে নির্মাণ করা হয়েছে। মসজিদের মূল ভবন নির্মাণের প্রথম দিকে অর্থাৎ ১৩২৭ সালে সেন্ট নিকোলাস ক্যাথলিক গির্জা হিসেবে দান করা হয়েছিল এবং তখন গির্জা হিসেবেই প্রসিদ্ধ ছিল। তবে ১৫৭১ সালে ফামাগুস্তা শহর অটোম্যান সাম্রাজ্যের আধিপত্যের অধীনে আসার পর মসজিদে রূপান্তরিত হয়।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2018/Aug/27/1535352300048.jpg
কুল শরিফ মসজিদ, তাতারস্তান, ছবি: সংগৃহীত 

তাতারস্তানের কুল শরিফ মসজিদ
তাতারস্তানের কাজান শহরে কুল শরিফ মসজিদটি অবস্থিত। এটি ইউরোপের বৃহত্তম মসজিদের একটি। কুল শরিফ মসজিদটি মধ্যযুগের বৃহত্তম মসজিদ হিসেবে পরিগণিত। এটি ১৬ শতাব্দীতে নির্মাণ করা হয়েছে। মসজিদের সংলগ্ন একটি সমৃদ্ধ লাইব্রেরী রয়েছে। সেখানে অনেক প্রাচীন গ্রন্থ, ঐতিহাসিক দলিল সুরক্ষিত। মসজিদটির সৌন্দর্যের জন্য ১৬ শতাব্দীতে এটিকে খানদের রাজধানী বলা হতো।

দ্বিতল-বিশিষ্ট এই মসজিদের প্রথম তলায় নামাজের স্থান এবং দ্বিতীয় তলায় জাদুঘর রয়েছে। এই মসজিদের প্রধান গম্বুজের উচ্চতা ৩৯ মিটার এবং প্রধান ৪টি মিনারের উচ্চতা ৫৭ মিটার। কুল শরিফ মসজিদ নির্মাণের অধিকাংশ খরচ তাতারের মুসলমানেরা বহন করেছেন।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2018/Aug/27/1535351652888.jpg
মস্কো জামে মসজিদ, রাশিয়া, ছবি: সংগৃহীত

মস্কো জামে মসজিদ
মস্কো জামে মসজিদটি ১৯০৪ সালে বিখ্যাত আর্কিটেক্ট "নিকোলাই জুকভ’র ডিজাইনে নির্মাণ করা হয়েছে। তারপর থেকে মসজিদটি বেশ কয়েক বার সংস্কার করা হয়েছে। অনেকে মসজিদটিকে তাতারদের মসজিদ হিসেবে চেনেন। কারণ তাতার গোত্র এটি বেশি ব্যবহার করেন।

প্রাচীন এই মসজিদটি ২০১১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর পুনর্নির্মাণ নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়। কারণ ২০০৮ সালের জুন মাস পর্যন্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হিসেবে মসজিদটির স্বীকৃত ছিল। কিন্তু ২০০৮ সালের শেষের দিকে ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকা থেকে মসজিদটির নাম সরিয়ে নেওয়া হয়। অর্থাৎ মসজিদটি যখন ক্ষতিগ্রস্ত হয় তখন সরকারের তত্ত্বাবধানে ছিল না।

পরবর্তীতে মসজিদটি পুনর্র্নিমাণের জন্য মুসলমানদের অনবরত আহ্বানের জন্য মসজিদটি পুনরায় নির্মাণ করা হয়। ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে রাশিয়ান প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, তুর্কি প্রেসিডেন্ট এরদোগান এবং ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের উপস্থিতিতে মস্কোর জামে মসজিদটির উদ্বোধন হয়। এই মসজিদে একসঙ্গে ১০ হাজার মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন 

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2018/Aug/27/1535352395550.jpg
সুলতান কাবুস মসজিদ, ওমান, ছবি: সংগৃহীত

ওমানের সুলতান কাবুস মসজিদ
ওমানের মাসকাট শহরের একটি আকর্ষণীয় স্থান হচ্ছে সুলতান কাবুস মসজিদ। আধুনিক যুগের সুন্দর ও আকর্ষণীয় একটি মসজিদ। মসজিদটিতে ওমান ও মধ্যপ্রাচ্যের সমন্বিত স্থাপত্য দেখা যায়। সুলতান কাবুস মসজিদটি ২০০১ সালে উদ্বোধন করা হয়। মসজিদটি নির্মাণ করতে ৬ বছর সময় লেগেছে। এখানে একসঙ্গে ২০ হাজার মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন। ওমানের সর্ববৃহৎ মসজিদ হিসেবে এই মসজিদ বেশ প্রসিদ্ধ।

মসজিদটি আয়তক্ষেত্রাকারে নির্মাণ করা হয়েছে। মসজিদের প্রত্যেক কোনায় ৪৫ মিটার উচ্চতার ৪টি মিনার রয়েছে। সুলতান কাবুস মসজিদে পুরুষ ও নারীদের নামাজ আদায়ের জন্য পৃথক কক্ষ রয়েছে। মসজিদ সংলগ্ন একটি সমৃদ্ধ লাইব্রেরী এবং সেমিনার হল রয়েছে। ওমানে কোনো দেশের রাষ্ট্র বা সরকার প্রধান সফরে এলে এই মসজিদটি দেখতে যান।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2018/Aug/27/1535352496591.jpg
পিঙ্ক মসজিদ, ফিলিপাইন, ছবি: সংগৃহীত

ফিলিপাইনের পিঙ্ক মসজিদ
ফিলিপাইনের মাগুইন্ডানাও প্রদেশের গোলাপি রঙের একটি মসজিদ নির্মাণ করা হয়েছে। এই মসজিদের দেয়াল এবং মেঝেতেও গোলাপি রঙ করা হয়েছে।
এই মসজিদটি গোলাপি রঙ করার মূল কারণ হচ্ছে, মাগুইন্ডানাও প্রদেশের ডাটু শহরের মেয়র তার পারিবারিক সম্পত্তিতে ইবাদতের জন্য একটি মসজিদ নির্মাণ করার সিদ্ধান্ত নেন। যাতে করে সেখানে সবাই আল্লাহতায়ালার ইবাদত-বন্দেগি করতে পারেন। কিন্তু ডাটু শহরে বিভিন্ন ধর্মের অনুসারীরা বিশেষ করে খ্রিস্টান ও মুসলমানেরা একসঙ্গে বসবাস করে। তাদের মধ্যে বন্ধুত্ব এবং শান্তিপূর্ণ পরিস্থিতি বিরাজ থাকুক। এই কারণেই গোলাপি রঙের এই মসজিদটি নির্মাণ করা হয়েছে। কারণ সেদেশে গোলাপি রঙটি ভালোবাসা, বন্ধুত্ব এবং শান্তির প্রতীক। মসজিদ নির্মাণের জন্য খ্রিস্টানদেরও কাজে লাগানো হয়েছে। যাতে করে খ্রিস্টান ও মুসলমানদের মধ্যে সর্বদা বন্ধুত্বপূর্ণ সর্ম্পক বজায় থাকে।

২০১৪ সালের রমজান মাসে শান্তির এই কেন্দ্র মসজিদের নির্মাণ কাজ শেষ হয়। বর্তমানে এটি পিঙ্ক মসজিদ হিসেবে বেশি প্রসিদ্ধ। ইতোমধ্যেই মসজিদটি পর্যটকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2018/Aug/27/1535352582156.jpg
পুত্রা মসজিদ, মালয়েশিয়া, ছবি: সংগৃহীত

মালয়েশিয়ার পুত্রা মসজিদ
মালয়েশিয়ার রাজধানী প্রশাসনিক রাজধানী পুত্রজায়া। পুত্রজায়ায় প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনের সঙ্গেই লেকবেষ্টিত দৃষ্টিনন্দিত পুত্রা মসজিদ অবস্থিত। এ মসজিদ দেখতে প্রতিদিন হাজার হাজার পর্যটকের দেখা মেলে ঝিলপাড়ে।
পুত্রা মসজিদ মসজিদটি মনোরম গোলাপি বর্ণের। এখানে ১৫ হাজার লোক একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে পারেন। এর প্রধান মিনারটি দক্ষিণ এশিয়ার সর্বোচ্চ মিনার। পুত্রা মসজিদের নির্মাণ কাজ ১৯৯৭ সালে শুরু করা হয়। মসজিদটি নির্মাণ করতে দুই বছর সময় লেগেছে। মসজিদের গোলাপি রঙের গম্বুজটি লাল রঙের গ্রানাইড দিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে। মসজিদটির বেজমেন্ট প্রাচীরটি মস্কোর কাসাব্লাঙ্কার হাসান শাহ মসজিদের প্রাচীরের মতো।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2018/Aug/27/1535352649364.jpg
শেখ জায়েদ মসজিদ, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ছবি: সংগৃহীত

আমিরাতের শেখ জায়েদ মসজিদ
মসজিদের নামেই স্পষ্ট যে, এই মসজিদটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিষ্ঠাতা এবং আবু ধাবির শাসকের নির্দেশে নির্মাণ করা হয়েছে। শেখ জায়েদ মসজিদটি নতুন ইসলামি স্থাপত্যের একটি উদাহরণ। ২০০৪ সালে শেখ জায়েদ ইন্তেকাল করেন। মসজিদের উত্তর দিকে তাকে দাফন করা হয়েছে। প্রাচীন ও আধুনিক ডিজাইনে এটি নির্মাণ করা হয়েছে।

এই মসজিদ নির্মাণের জন্য মূল উপকরণগুলো বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। শেখ জায়েদ মসজিদটি নির্মাণের জন্য দুই বিলিয়ন এবং ১৬৭ মিলিয়ন আমিরাতি দিরহাম ব্যয় হয়েছে। এই মসজিদটি ৯ মিটার উঁচু একটি পাহাড়ে নির্মাণ করা হয়েছে। ইসলামি সম্মেলন সংস্থার জরিপ অনুযায়ী, মসজিদটির গম্বুজ বিশ্বের সর্ববৃহৎ গম্বুজ। শেখ জায়েদ মসজিদের গম্বুজের উচ্চতা ৮৩ মিটার এবং এর ভেতরের ব্যাস ৩২.৮ মিটার।

আপনার মতামত লিখুন :

এবারের হজ ব্যবস্থাপনা যথেষ্ট ভালো ও সুন্দর হয়েছে: হজ কাউন্সিলর

এবারের হজ ব্যবস্থাপনা যথেষ্ট ভালো ও সুন্দর হয়েছে: হজ কাউন্সিলর
কাউন্সিলর মুহাম্মাদ মাকসুদুর রহমান, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

মক্কা (সৌদি আরব) থেকে: ২০১৯ সালের হজ ব্যবস্থাপনা বিগত কয়েক বছরের ধারাবাহিকতায় যথেষ্ট ভালো ও সুন্দর হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন হজ অফিস মক্কার কাউন্সিলর মুহাম্মাদ মাকসুদুর রহমান।

হজ ব্যবস্থাপনা নিয়ে আমাদের যে লক্ষ্যমাত্রা ছিল এবং যে মান আমরা প্রত্যাশা করেছিলাম তা পূরণ হয়েছে। হ্যাঁ, টুকটাক ঘাটতি আছে, তবে সেটা খুব বেশি নয়। ১ লাখ ২৭ হাজার হাজির ব্যবস্থাপনা খুব সহজ বিষয় না। কোনো কোনো বেসরকারি এজেন্সি কিছু ঝামেলা করেছে, সেটাও উল্লেখ করার মতো কিছু নয়। অতীতের তুলনায় তারা এবার ভালো সেবা দিয়েছে। কমিটমেন্ট রক্ষা করেছে। বিগত দিনের মতো কোনো এজেন্সি হাজিদের রাস্তায় রাখেননি, হাজিদের মক্কায় রেখে এজেন্সি কর্তৃপক্ষ পালিয়ে যায়নি, ফ্লাইট বিপর্যয়ের ঘটনা ঘটেনি, এজেন্সিগুলোর বিরুদ্ধে অভিযোগের সংখ্যা, অভিযোগের মাত্রা ও অভিযোগের গভীরতা বেশ কম বলেও মন্তব্য করেছেন হজ কাউন্সিলর।

শুক্রবার (২৩ আগস্ট) রাতে বাংলাদেশ হজ মিশনে বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম এর সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় তিনি এসব কথা বলেন। এক প্রশ্নের জবাবে সাতক্ষীরার সন্তান মুহাম্মাদ মাকসুদুর রহমান বলেন, অনেকক্ষেত্রে দায়েরকৃত অভিযোগ প্রত্যাহারের ঘটনাও ঘটে। কিন্তু আমরা কোনো অভিযোগ তামাদি করি না। সবগুলো ধর্ম মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করি। সেখানে তদন্ত (উভয়ের বক্তব্য শুনে) সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

হজ কাউন্সিলর বলেন, আমাদের কাছে এ পর্যন্ত পঞ্চাশটির মতো অভিযোগ এসেছে। অভিযোগগুলো অধিকাংশই বাড়ি ও হোটেল সংক্রান্ত। হয়তো বাড়িটা কাবা শরিফ থেকে একটু দূরে কিংবা নিম্নমানের। অথবা যে মানের বাড়ি বা হোটেলে রাখার কথা ছিল সেভাবে রাখা হয়নি, লিফট কাজ করে না, ঠিকমতো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয় না, রুচিমত খাবার দেওয়া হয় না, অনেকে আবার নিম্নমানের খাবারের অভিযোগও করেছেন। টাকা বেশি নিয়ে গড়ে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, মিনা ও আরাফাতের যাওয়ার সময় দেরিতে গাড়ি দিয়েছে, মদিনায় ৪০ ওয়াক্ত নামাজ আদায়ের সুযোগ পায়নি- এ জাতীয় অভিযোগ। তেমন গুরুতর কোনো অভিযোগ না। তার পরও আমরা এসব আমলে নিয়ে ব্যবস্থা নিচ্ছি। আমরা কোনো হাজির কাছ থেকে অভিযোগ শুনতে চাই না।

স্থানীয়ভাবে ও বাংলাদেশ থেকে প্রেরিত হজকর্মীদের কাজ কী? এর উত্তরে তিনি বলেন, হজকর্মীরা জেদ্দা বিমানবন্দর, মসজিদে হারামের বিভিন্ন গেট, বাংলাদেশিদের জন্য স্থাপিত স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র, সরকারি হজযাত্রীদের বাড়ি থেকে শুরু করে মিনা, মুজদালিফা, আরাফাতের ময়দান ও কংকর নিক্ষেপের স্থানে সেবা দিয়ে থাকে। কেউ আবার দোভাষী হিসেবে কাজ করে। স্থানীয়ভাবে হজকর্মী নিয়োগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, স্থানীয় হজকর্মী নিয়োগ নীতিমালা মেনে বিধি মোতাবেক দেওয়া হয়েছে। গত বছর মন্ত্রণালয় থেকে ৩৫ জন মহিলা হজকর্মী নিয়োগের অনুমতি ছিল, এবার ৫০ জনের অনুমতি পাওয়া দেওয়া হয়েছে। এবার প্রথমবারের মতো, সরকার সিদ্ধান্ত নেয়, স্থানীয়ভাবে প্রবাসীদের মধ্য থেকে অর্ধেক হজ গাইড নিয়োগের। এর কারণ হলো, বাংলাদেশ থেকে অতীতে এমন কিছু হজ গাইড এসেছে, যে আগে কখনও হজ করেনি, সে দ্বীন সম্পর্কে জানে না, সে আলেম না, মাশায়েরে মুকাদ্দাসার রাস্তাঘাট তেমনভাবে চেনে না- তারপরও নির্বাচকদের প্রভাবিত করে কোনো না কোনোভাবে তারা এসেছে। তাদের দ্বারা হাজিদের কোনো উপকার হয় না। বিষয়টি মন্ত্রণালয়কে একাধিকবার জানানো হয়েছে। ফলে এবার অর্ধেক হজ গাইড প্রবাসীদের মধ্য থেকে নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়। পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে সর্বশেষ আমরা ৬২ জনকে চূড়ান্ত করি, কিন্তু কাজ করেছেন ৫৮ জন। তাদের অনেকেই সৌদি প্রবাসী আলেম, সৌদিতে অধ্যয়নরত বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। ফলে এবার হজযাত্রীরা বেশ উপকৃত হয়েছেন। অনেকেই আমাকে তাদের সন্তুষ্টির কথা জানিয়েছেন।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/24/1566646050888.jpg

হজপালনের আগে হজযাত্রীদের প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করে হজ কাউন্সিলর বলেন, সহিহ-শুদ্ধভাবে হজপালনের জন্য প্রশিক্ষণ নেওয়া দরকার। প্রশিক্ষণ দ্বারা ভিন্ন একটি দেশে আসা, নতুন পরিবেশে নিজেকে খাপ খাওয়ানো, এখানকার কৃষ্টি-কালচার, আবহাওয়া ও হজের কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের জন্য এটা দরকার। অভিজ্ঞতার আলোকে দেখা গেছে, তুলনামূলকভাবে প্রশিক্ষণ নেওয়া হাজি যেমন শৃঙ্খলা বজায় রাখেন অন্যদের ক্ষেত্রে তা দেখা যায় না। হজপালনের ক্ষেত্রে আর্থিক, শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতা জরুরি বিষয়। কিন্তু আমাদের দেশ থেকে এমন অনেক হাজি আসেন, যে তার নিজ জেলার বাইরে এমনকি ঢাকায় কখনও আসেননি। তিনি একদিনে ঢাকা দেখেন, বিমানে উঠেন এবং অন্যদেশে আসেন। যে দেশের ভাষা ভিন্ন, নেই কোনো পরিচিত মুখ। রুচিমত খাবার পান না। রুম শেয়ার করতে হয়। সব কাজ নিজেকে করতে হয়। ফলে তার মানসিক অবস্থা খুব নাজুক হয়ে যায়। এ সময়টায় অনেকে অসুস্থ হয়ে যান। এ বিষয়গুলো প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কাটিয়ে উঠা সম্ভব।

হজপালন করতে এসে বাংলাদেশের এমপি, মন্ত্রী থেকে শুরু করে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের লোকজন হজ মিশনে উঠেন। তাতে হজযাত্রীদের সেবা বিঘ্নিত হয় কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, হজ মিশনে ভিআইপিদের চাপ নিতে হয় না। তারা যথেষ্ট হেল্পফুল। তারা সিচ্যুয়েশন বুঝেন। কাজেই সেবাপ্রার্থীদের সেবায় কোনো হেরফের হয় না। তবে হ্যাঁ, মাঝে-মধ্যে ভিআইপির সফরসঙ্গীদের অযাচিত চাপ নিতে হয়। তাদের সামলানো দুষ্কর হয়ে উঠে। ২০১৮ সালে এমন উৎপাত বেশি ছিল, এবার তেমন কিছু ঘটেনি।

 

 

ভবিষ্যতে হাজিদের আরও বেশি সেবা দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে হজ কাউন্সিলর বলেন, প্রতিবেশী দেশ ভারত থেকে শতকরা ৭৩ ভাগ ও পাকিস্তান থেকে শতকরা ৮০ ভাগ হজযাত্রী সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজে আসেন। ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ার ক্ষেত্রে এ হার আরও বেশি। তাদের জন্য মক্কা থেকে একটু দূরে আজিজিয়ায় একসঙ্গে থাকার ব্যবস্থা করা হয়, মসজিদে হারামে যাতায়াতের জন্য তাদের আলাদা পরিবহন ব্যবস্থা আছে। সে হিসেবে বাংলাদেশের হজযাত্রীরা বেসরকারি ব্যবস্থাপনার দিকে বেশি ঝুঁকছে। ৫৯৬টি এজেন্সির মাধ্যমে তাদেরকে প্রায় আড়াই হাজার বাড়ি বা হোটেলে থাকতে হচ্ছে। ফলে বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ঘটছে। তবে সৌদি সরকার, ধর্ম মন্ত্রণালয় কিংবা হজসেবা সংশ্লিষ্টদের পরামর্শ হচ্ছে, অন্য দেশের হাজিদের মতো তোমরাও আজিজিয়ার দিকে চলে যাও। সেখানে প্রচুর বিশাল বিশাল হোটেল রয়েছে। সেখানে হাজিরা ভালো থাকবে। আমি তো বলি, সেখানে গেলে হাজিরা ইবাদতও করবেন আরামে, ঘুমাবেনও আরামে। এর অর্থ হলো- এই মিসফালা থেকে প্রায় এক-দেড় কিলোমিটার হেটে যেতে হয়। প্রায়ই মসজিদে হারামের রাস্তা বন্ধ থাকে। ফলে মসজিদে হারামের বর্ধিতাংশে যেতে হয়। আবার কষ্ট করে আসতে হয়। পক্ষান্তরে যারা আজিজিয়ায় থাকেন তাদের জন্য পরিবহন ব্যবস্থা আছে, ওখান থেকে আসতে সময় লাগে ১০ মিনিট। নামাজ শেষে আবার হোটেলে ফিরতে সময় লাগে ১০ মিনিট। সবকিছু হিসাব করে সরকার আজিজিয়ার চিন্তা করছে। ভবিষ্যতে হয়তো সেদিকেই যেতে হবে।

আরও পড়ুন: নবীর স্মৃতি আর সৌন্দর্যের শহর তায়েফ

চলতি হজ মৌসুমে কিছু লাগেজ এখনও পাননি হাজিরা। এটা তো কষ্টকর বিষয়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে হজ কাউন্সিলর বলেন, প্রতিবছরই কিছু লাগেজ হারায়। প্রায় আড়াই লাখ লাগেজের মধ্যে আজ পর্যন্ত ৫১টা ব্যাগ মিসিং। সাতশ'র মতো ব্যাগ মিসিংয়ের অভিযোগ ছিল। আমরা সর্বাত্মকভাবে চেষ্টা করছি লাগেজগুলো খোজে হাজিদের কাছে পৌঁছানোর। এক্ষেত্রে মক্কা রুট ইনিশিয়েটিভের ইউনাইটেড এজেন্সির অফিস, আমাদের হাজিদের সরকারি-বেসরকারি বাড়িতে খোজ নেওয়া হচ্ছে।

সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার স্বার্থে বাংলাদেশ থেকে পাঠানো বিভিন্ন দলের সদস্যদের সেবা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে হজ কাউন্সিলর বলেন, অন্যবারের তুলনায় তারা ভালো সেবা দিচ্ছেন। এবার তাদের যথাযথ প্রশিক্ষণ দিয়ে পাঠানোর ফলে এটা হয়েছে। তার পরও কিছু অভিযোগ এসেছে, যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ এসেছে, আমরা তাদের কাছে লিখিত, মৌখিক ক্ষেত্রবিশেষ শোকজ করে কারণ জানতে চেয়েছি। আমরা চেয়েছি, একটি সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা। যেখানে কারও দায়িত্ব অবহেলার কোনো সুযোগ নেই। ওভারঅল তাদের সেবায় আমি সন্তুষ্ট।

ভবিষ্যতে আর সুন্দর হজ ব্যবস্থাপনার জন্য হজযাত্রীদের প্রশিক্ষণ, লাগেজের ওপর নাম-ঠিকানা সুন্দরভাবে লেখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

নবীর স্মৃতি আর সৌন্দর্যের শহর তায়েফ

নবীর স্মৃতি আর সৌন্দর্যের শহর তায়েফ
তায়েফের পাহাড়ি পথ

তায়েফ (সৌদি আরব) থেকে ফিরে: পবিত্র মক্কা থেকে প্রায় ১২০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে রাসূলুল্লাহ্ (সা.)-এর স্মৃতিবিজড়িত শহর তায়েফ। এ শহর ঐতিহাসিক ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি।

চমৎকার সাজানো গোছানো শহর। মক্কা থেকে তায়েফের রাস্তাগুলো পাহাড়ের বুক চিরে তৈরি করা। এক পাশে উঁচু পাহাড় অন্য পাশে শরীর হিম করা গভীর খাদ। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে সমৃদ্ধ এ শহর দেখতে হাজিরা কিছুটা সময় বরাদ্দ রাখেন।


পাহাড় কেটে বানানো রাস্তাটি একমুখী। অনেক উপরে ওঠার প্রতিক্রিয়ায় গাড়ির ভেতরে নিঃশ্বাস নিতে কিছুটা কষ্ট হওয়ার পাশাপাশি, কান বন্ধ হয়ে যায় আপনা-আপনি। তায়েফের রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় দেখা যায়, ঝকঝকে নীল আকাশ। মরুর দেশে এমন নীল আকাশের কথা চিন্তা করা যায়? পাহাড় দেখে মানুষ কেন আপ্লুত হয়, সেটা তায়েফের পাহাড় না দেখলে জানতাম না। খুব বেশি দেশ ভ্রমণের অভিজ্ঞতা নেই। তারপরও আমার মনে হয়, পাহাড়ের সৌন্দর্য আর আকাশের সত্যিকারের নীল দেখতে হলে তায়েফের আকাশ দেখতে হবে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/24/1566606945381.jpg
মসজিদে আদ্দাস; তায়েফবাসীর নির্মম নির্যাতনে রক্তাক্ত নবী এখানে আশ্রয় নিয়েছিলেন, পরে সেখানে একটি মসজিদ নির্মাণ করা হয়।


হজরত রাসূলুল্লাহ্ (সা.)-এর স্মৃতিবিজড়িত শহর তায়েফের সৌন্দর্য পর্যটকরা পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা লিখেছেন। মক্কায় এসে সেই তায়েফ না দেখা অনেকটা বোকামি। তবে তায়েফের পূর্ণ সৌন্দর্য দেখতে হলে পুরো একটি দিন থাকতে হবে সেখানে, কারণ তায়েফের আকাশ আর সৌর্ন্দয ক্ষণে ক্ষণে বদলায়। রাতের তায়েফ নাকি অনেক বেশি মোহনীয়। সেটা অবশ্য দেখা হয়নি।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/24/1566607134974.jpg
তায়েফের ফল


ইতিহাসের পাতায় তায়েফ নানা কারণে আলোচিত। এই তায়েফের বনি সাকিফ গোত্রে নবী করিম (সা.) দুধমাতা হজরত হালিমা সাদিয়ার ঘরে লালিত-পালিত হয়েছিলেন। এখন সেই বাড়ি-ঘরের কোনো চিহ্ন নেই। তারপরও একটি পাহাড়ের পাদদেশকে অনেকে হালিমার বাড়ি বলে সেখানে যেয়ে নামাজ পড়েন। পাশের পাহাড়টিতে নবী করিম (সা.) বকরি চড়িয়েছেন বলে মনে করে সেখান থেকে মাটি আনা, সেখানে যেয়ে গড়াগড়ি খাওয়া শুরু করেন লোকজন। সাম্প্রতিত বছরগুলোতে খুব বেশি ভিড় বেড়ে যাওয়ায় গত দুই বছর ধরে সেখানে যাওয়া বন্ধ।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/24/1566607227765.jpg
মসজিদে ইবনে আব্বাস


নবুওয়তপ্রাপ্তির পর হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) মক্কা থেকে তায়েফ এসেছিলেন ইসলাম প্রচারের উদ্দেশ্যে। কিন্তু তায়েফবাসী ইসলাম গ্রহণের পরিবর্তে নবীকে অত্যাচার ও নিগ্রহ করেছে। ইসলাম প্রচার করতে এসে হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) তায়েফে প্রায় ১০ দিন অবস্থান করেছিলেন। তারপর ফিরে গেছেন তায়েফবাসীর নানা নির্যাতন সহ্য করে। রক্তাক্ত অবস্থায় নবী করিম (সা.) যেখানে আশ্রয় নিয়েছিলেন, সেখানে একটি মসজিদ নির্মাণ করা হয়েছে। মসজিদের নাম মসজিদে আদ্দাস।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/24/1566607962824.jpg
কথিত সেই বুড়ির বাড়ি



মক্কা থেকে তায়েফ নগরের দূরত্ব প্রায় ১২০ কিলোমিটার। এর উচ্চতা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৬ হাজার ৩৩২ ফুট। পুরো শহরটিই গড়ে উঠেছে পাহাড়ের ওপর। মক্কা থেকে প্রায় সোয়া এক ঘণ্টা সময় লাগে তায়েফ আসতে। পথে উট-দুম্বা ও ছাগলের পাল দেখা যায়। বাদশা ফয়সাল ও বাদশা খালেদের আমলে শীতকালীন রাজধানী হিসেবে গণ্য করা হতো তায়েফকে। বাদশা খালেদের শাসনামলে এখানে একবার ওআইসি’র শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিলো। রবিশস্য ও নানান ফল-ফলাদির জন্য তায়েফ বিখ্যাত। তায়েফে উৎপন্ন আঙুর, কমলা, আনার ইত্যাদি অতি দামী ফলফলাদি মিষ্টি ও পুষ্টিতে ভরপুর। বিশেষ করে তায়েফের আঙুর খুব বিখ্যাত। তায়েফের উৎপাদিত সবজি সৌদি আরবের চাহিদার প্রায় ৩০ ভাগ পূরণ করে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/24/1566607493793.jpg
মসজিদে রাসূল


প্রাচীনকাল থেকে মক্কা ও তায়েফবাসীর মাঝে ব্যবসায়িক সম্পর্ক ছিল। বিশিষ্ট সাহাবি হজরত আব্বাস (রা.) তায়েফের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য করতেন। পরে হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) তায়েফের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য চালিয়ে যান। তায়েফের প্রধান মসজিদকে ইবনে আব্বাস মসজিদ বলা হয়। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.)-এর কবর মসজিদ সংলগ্ন কবরস্থানে। এ কবরস্থানে আরও অনেক সাহাবির কবর রয়েছে। মসজিদ সংলগ্ন একটি লাইব্রেরি আছে। সেটা অবশ্য জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত নয়। তবে সেখানে প্রাচীন অনেক কিতাবের সংগ্রহ আছে। রয়েছে হজরত আব্বাস (রা.)-এর হাতের লেখা কোরআনের কপিসহ বিভিন্ন সময়ে পাথর ও কাগজে লিখিত কোরআনের প্রাচীন কপি।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/24/1566607586946.jpg
মসজিদে  আলি


এখনও তায়েফবাসীর সুনাম রয়েছে ব্যবসার ক্ষেত্রে। তায়েফকে ঘিরে সৌন্দর্য্যের যে পসরা আল্লাহ দিয়েছেন, হাজি সাহেবরা সেসব দেখতে যান না। তারা যান সেখানকার কিছু ঐতিহাসিক জায়গা দেখতে। যদিও সৌদি সরকার সেসব জায়গায় যেতে নিষেধ করেন এবং স্থানগুলোর ঐতিহাসিক কোনো ভিত্তি নেই বলে দাবি করেন। তারপরও মানুষ ভিড় করেন। চলে পুলিশ আর পর্যটকদের লুকোচুরি। যেমন পর্যটকরা বুড়ির বাড়ি (যে বুড়ি নবীর মসজিদে যাওয়ার পথে কাঁটা দিতেন; এ ঘটনা মক্কার, তবে সেটা তায়েফ কীভাবে এলো বোধগম্য নয়)।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/24/1566634344584.jpg

বিবি হালিমার ঘর ছিলো এখানে, অনেকে সেখানে যেয়ে নামাজ পড়েন, পাথর বা মাটি নিয়ে আসেন। বর্তমানে এখানে যাওয়া বন্ধ করা হয়েছে।

 

বুড়ির সেই বড়ই গাছ, রাসূলের মসজিদ (তায়েফ এসে এখানে রাসূল সা. নামাজ আদায় করেছেন), মসজিদে আলি (হজরত আলি রা. তার শাসনামলে এ মসজিদ নির্মাণ করেছিলেন, তায়েফে এলে এখান থেকে খেলাফত পরিচালনা করতেন।) ইত্যাদি দেখতে যান। সেখানে যেয়ে নামাজ পড়েন, দোয়া করেন। সৌদি সরকার ও ইসলামি স্কলাররা এসব করতে নিষেধ করেন। তারপরও মানুষ যায়। হুজুগ বা আবেগ বলে কথা। আমার মনে হয়, এসব না দেখে, শুধু পাহাড় আর আকাশের সৌন্দর্য দেখতে তায়েফ যাওয়া দরকার।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/24/1566607749532.jpg
খাবারের সন্ধানে রাস্তায় নেমে আসা বানর


তায়েফ শহরে রয়েছে পাহাড়ের কোল ঘেঁষে তৈরি করা চমৎকার সব রিসোর্ট, পার্ক আর অবকাশ যাপনকেন্দ্র। দিনের বেলা আর হজের মৌসুম বলে মানুষজনের দেখা মিলল না। পর্যটকদের আনন্দ দিতে রয়েছে পাহাড়ে ক্যাবল কারের ব্যবস্থা। তায়েফের প্রবেশপথে ওকাজ নামক স্থানে রয়েছে ফলমূলের বিশাল বিশাল দোকান, বাচ্চাদের খেলার মাঠ। এখানে ভাড়ায় মরুভূমির জাহাজ উটে সওয়ার করা যায়। কিন্তু এর সবই হয় বিকেলে! অগত্যা অনেকটা খালি মাঠে আমাদের তায়েফ দেখতে হলো।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/24/1566608101486.jpg
মিকাত জিল মাহরাম


তবে একেবারে হাতাশা নয়, আমাদের আনন্দ দিলো পাহাড় থেকে নেমে রাস্তার পাশে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়ানো বানরের দল। ফেরার পথে বানরকে কলা খাইয়ে মিকাত জিল মাহরাম থেকে উমরার নিয়ত করে ইহরাম পরিধান করে ফিরলাম মক্কায়। সেই সঙ্গে মনে আফসোস, যদি একটি পুরো দিন!

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র