Barta24

মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০১৯, ৩১ আষাঢ় ১৪২৬

English Version

কলকাতার চিকিৎসা ও ব্যতিক্রমী ডা. আর. হাসান

কলকাতার চিকিৎসা ও ব্যতিক্রমী ডা. আর. হাসান
কলকাতার ডা. আর. হাসান/ ছবি: বার্তা২৪.কম
ড. মাহফুজ পারভেজ
কন্ট্রিবিউটিং এডিটর
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

‘কলকাতার চিকিৎসা ব্যবস্থা করপোরেট কোম্পানিগুলোর দখলে চলে গেছে। এখানে খরচ হয় অঢেল, চিকিৎসা হয় অল্প’ এমন অভিযোগ খোদ কলকাতাবাসীদের কাছ থেকেই শুনেছি। এমনও জেনেছি যে, আস্থাহীনতার কারণে কলকাতার লোকজনই চিকিৎসার জন্য দক্ষিণ ভারতের বেঙ্গালুরু, হায়দ্রাবাদে চলে যান।

তথাপি কলকাতায় চিকিৎসাপ্রার্থী লোকজনের কমতি নেই, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশ থেকে আগত। দক্ষিণ কলকাতার মুকুন্দপুরে একাধিক সুপার স্পেশাল, মাল্টি স্পেশাল তকমা লাগানো ক্লিনিক, হাসপাতালে মাছের বাজারের ভিড় দেখেছি। দালাল, ফড়িয়া, বিজ্ঞাপনের ভিড়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন বাংলাদেশ থেকে আগত উদভ্রান্ত মানুষ। অসংখ্য রোগী ও বিপন্ন পরিজন।

বাংলাদেশের ময়মনসিংহের ভালুকার গোলাম মুর্শেদ জানালেন, ‘অনলাইনে আগাম অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিয়ে এসেছিলেন তিনি। আসতেই আইসিইউতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে তার রোগীকে। বিল দেওয়া হয়েছে ৭০ হাজার টাকার!’

কলকাতায় বাংলাদেশের মানুষকে ঘিরে বিরাট একটি দালাল ও মুনাফালোভী চক্র গড়ে উঠার তথ্য সর্বজনবিদিত। হাসপাতাল, হোটেল, গাড়ি ভাড়া থেকে শুরু করে সর্বত্র দালালের দাপট। বিশেষত যারা গ্রামের লোক ও খোঁজ-খবর কম জানেন, তাদের উপর সিন্দাবাদের দৈত্যের মতো হামলে পড়ে কলকাতার কুখ্যাত দালাল বাহিনি। গলা কেটে টাকা নেওয়ার পাশাপাশি, আর যেসব হয়, তার মধ্যে রয়েছে, এক ডাক্তারের নাম করে অন্য ডাক্তার দেখানো, মানহীন ল্যাবে কমিশনের ভিত্তিতে পরীক্ষার জন্য রোগী নিয়ে যাওয়া ইত্যাদি অন্যতম। খবর পেয়েছি, মৃতের নাকে নল লাগিয়ে তিন দিনের বিল নেওয়া হয়েছে। প্রকৃত বিশেষজ্ঞকে রেফার না করে রোগী ধরে রাখার ঘটনাও আছে।

এসব কারণে শুধু বাংলাদেশি নয়, কলকাতার লোকজনও সেখানকার চিকিৎসা ব্যবস্থার উপর চরম ক্ষুব্ধ। পত্র-পত্রিকাতেও জনক্ষোভের প্রতিচ্ছবি দেখতে পাওয়া গেছে।
বিষয়টি নিয়ে একাধিক চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপকের সঙ্গে কথা বলে যা জেনেছি, তা হলো, মানুষ করপোরেট কোম্পানির হাসপাতালের তকমা ও বিজ্ঞাপনে চমকে গিয়ে ভুল করে। অনেক হাসপাতালের স্থায়ী চিকিৎসক নেই। তিন দিন এখানে তো চার দিন আরেক জায়গায় চিকিৎসক ঘুরেন। সকালে থাকলে বিকেলে থাকেন না। ফলে রোগী দিনের পর দিন আটকে যান। স্থায়ী ও নিয়মিত চিকিৎসক খুব কম হাসপাতালেই রয়েছে।

চিকিৎসকের ফিসের ব্যাপারেও তারতম্য রয়েছে। মাল্টি হাসপাতালে হাজার টাকা এবং সঙ্গে রেজিস্ট্রেশন ফি দিয়ে অনেক টাকা গুনতে হয়। সাধারণভাবে এই চিকিৎসকের ফি ৫০০/৬০০ টাকার বেশি নয়। আবার তাকে সপ্তাহে এক দিন বা দুই দিন পাওয়া যাওয়ায় টেস্ট করিয়ে বসে থাকার খরচ আছে। আর আছে দেরি হওয়ায় দ্বিতীয়বারের ভিজিটের টাকা। নিয়মিত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হলে এমনটি হয় না। সাধারণ ক্লিনিক বা নার্সিং হোমে ভর্তি হলে যেখানে ১৫০০ টাকা লাগে, মাল্টি স্পেশালে লাগে ৩০০০ টাকা।

এমনতর অব্যবস্থার মধ্যেও ভালো চিকিৎসক রয়েছেন কলকাতায়, যাদের দক্ষতা ও মানবিকতা দৃষ্টান্ত স্বরূপ। ডা. আর. হাসান তেমনি একজন, যার পুরো নাম রফিকুল হাসান। ইন্টারনাল মেডিসিন বিষয়ে এমডি করা এই চিকিৎসককে বারবার মাল্টি স্পেশালে নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তিনি যান না। কারণ, ‘সেখানে গেলে তাদের নিয়ম ও আনুসাঙ্গিক খরচ মিলিয়ে ফি বাড়াতে হবে। সাধারণ মানুষ তাতে কষ্ট পাবেন। আমি ৭০০ টাকা ভিজিটেই সন্তুষ্ট’ বললেন তিনি।
https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Mar/04/1551707406830.jpg

উত্তর কলকাতার ভিআইপি রোডের চিনার পার্ক এনপিজি হোটেলের পেছনে নিজস্ব চেম্বারে দুপুরে বসেন তিনি। আর সন্ধ্যা থেকে রাত অব্ধি দমদম সেন্টাল জেল মাঠের সামনের চেম্বারে। ‘স্যার বেশি রোগি দেখতে চান না, তবু মাঝ রাতের আগে রোগির ভিড় শেষ হয় না’, জানালেন তার সেক্রেটারি মোবারক হোসেন মোল্লা। কমিশনে প্যাথোলজিতে রোগী পাঠান না তিনি। সনদপ্রাপ্ত ‘সুরক্ষা’ বা ‘কোয়ার্ডা’ ল্যাবে টেস্ট করতে দেন, তাও সামান্য কিছু মৌলিক টেস্টই তিনি দিয়ে থাকেন।

ব্যস্ততার মধ্যেও ডা. আর. হাসান বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘সুচিকিৎসার জন্য মনোযোগ ও গভীর অনুসন্ধান দরকার। রোগীর মূল সমস্যাটি চিহ্নিত করা গেলে চিকিৎসা কঠিন নয়। এজন্য চিকিৎসকের অভিজ্ঞতা ও নিয়মিত পড়াশোনা থাকা অপরিহার্য।’

মুর্শিদাবাদের লোক ডা. হাসানের কাছে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি সমাজের জ্ঞানী, গুণীজনের দেখা পাওয়া গেলো। পার্থ ঘোষ, গৌরী ঘোষ, সৃজন সেন, সাগর ভৌমিক, প্রীতিশ্রী রায় প্রমুখ বুদ্ধিজীবী, কবি, সাহিত্যিক, শিল্পী তাদের স্বাস্থ্য বিষয়ক দায় ডা. হাসানের উপর ছেড়ে নিশ্চিন্তে আছেন।

ডা. হাসানের সঙ্গে তার রোগীদের দেখতে নার্সিং হোমেও গেলাম। অ্যাপোলোতে যে রোগী থাকলে ৫০ হাজার খরচ হবে, ‘নিউ এভিনিউ নার্সিং হোম’-এ তার খরচ হচ্ছে ২০ হাজার টাকা। হোমের মালিক ডা. এস. ঘোষ পিতা-মাতার ছবির নিচে বসে অফিস করেন। বললেন, ‘আমাদের কোনো মার্কেটিং ডিপার্টমেন্ট নেই। রোগীরাই আমাদের বিজ্ঞাপন। আমরা প্রকৃত চিকিৎসা খরচের এক পয়সা বেশি নিই না। নিবেদিতপ্রাণ কিছু চিকিৎসক এখানে রোগী দেখেন, অপারেশন করান। সাশ্রয়ী মূল্যে চিকিৎসা সেবা দিতে আমরা সচেষ্ট।’

স্বাস্থ্য সমস্যা হলেই বিদেশে লাফিয়ে চলে যাওয়া কোনো কাজের কথা নয়। সবচেয়ে ভালো ও প্রধান সমাধান হলো নিজের দেশের স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা ব্যবস্থার মান ভালো করা। এক্ষেত্রে চিকিৎসকদের মনোযোগ বৃদ্ধি এবং ল্যাবরেটরিতে মানসম্পন্ন, সঠিক পরীক্ষা নিশ্চিত করে সেটা সম্ভব হতে পারে।

তথাপি চিকিৎসার্থে দেশের বাইরে গেলে ভালো করে খোঁজ-খবর করে, জেনে-বুঝে যাওয়াই উচিত। বিদেশে চলে গিয়ে একগাদা টাকা খরচ করলেই ভালো চিকিৎসা পাওয়া যাবে, এ ধারণা ভুল। ভালো চিকিৎসার জন্য ভালো চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়ে মানসম্পন্ন, ভালো ল্যাবরেটরি রির্পোটের মাধ্যমে স্বাস্থ্য সমস্যার মূল কারণ চিহ্নিত করে চিকিৎসা গ্রহণ করাই উত্তম।

আপনার মতামত লিখুন :

এরশাদের মৃত্যুতে মুখ্যমন্ত্রী মমতার শোকবার্তা

এরশাদের মৃত্যুতে মুখ্যমন্ত্রী মমতার শোকবার্তা
এরশাদের মৃত্যুতে মুখ্যমন্ত্রী মমতার শোক

সাবেক রাষ্ট্রপতি  ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মূখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।  

রোববার (১৪ জুলাই) গণমাধ্যমে পাঠানো এক শোকবার্তায় তিনি এ শোক প্রকাশ করেন।

শোকবার্তায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের প্রয়াণে আমি গভীর শোক প্রকাশ করছি। আজ সকাল পৌনে ৮টায় ঢাকার হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। বয়স হয়েছিল ৮৯ বছর৷ কোচবিহারের বাসিন্দা মুহম্মদ এরশাদের সঙ্গে আমার অত্যন্ত সুসম্পর্ক ছিল।

প্রয়াত এরশাদ বাংলাদেশের জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ছিলেন ৷  তাঁর প্রয়াণে রাজনৈতিক জগতে অপূরণীয় শূন্যতার সৃষ্টি হয়।

শোকবার্তায় মূখ্যমন্ত্রী এরশাদের পরিবার-পরিজন ও  অনুরাগীদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানিয়েছেন।

 

শেকড়ের টানে পর্যটন মেলায় বাংলাদেশ প্যাভিলিয়নে ভিড়

শেকড়ের টানে পর্যটন মেলায় বাংলাদেশ প্যাভিলিয়নে ভিড়
বাংলাদেশ সরকারের ট্যুরিজম বোর্ড সহ ১২টি স্টল দেয়া হয় এই মেলায়, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

কলকাতায় সম্পন্ন হলো তিন দিনব্যাপী ৩১তম ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম ফেয়ার।

রোববার (১৪ জুলাই) সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে আয়োজিত মেলায় ভিন্ন স্বাদের পর্যটনের সম্ভার নিয়ে হাজির হয়েছিলো বাংলাদেশ।   

দেশটির মিনিস্ট্রি অফ সিভিল এভিয়েশন অ্যান্ড ট্যুরিজমের ডেপুটি সেক্রেটারি অঞ্জনা খান মজলিস বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম-কে বলেন, এখানকার বেশিরভাগ মানুষ বাংলাদেশ সম্বন্ধে সেভাবে জানেন না। বাংলাদেশে দর্শনীয় স্থান কি কি আছে বা কোথায় কোথায় ঘোরা যায়, সেই বিষয়গুলো আমারা জানাচ্ছি। পাশাপাশি আমাদের কালচার যেমন ভাষা আন্দোলন, নববর্ষ উদযাপন এমনকি আমাদের ইলিশ এসব বিষয়ে কলকাতার মানুষ আগ্রহ বোধ করছে। জানার পর প্ল্যানিং করছে কি ভাবে আসবে বাংলাদেশে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/14/1563102301190.jpg
বাংলাদেশকে আরও কাছে থেকে জানতে অনেকে ঘুরতে আসতে চেয়েছেন 

 

এখানে ১২ জন ট্যুর অপারেটর এসেছে আমরা তাদের কাছে পাঠিয়ে দিচ্ছি। পাশাপাশি এখানকার বেশিরভাগ মানুষের শেকড় বাংলাদেশে, ফলে অনেকের পৈতৃক ভিটে আছে দেশে। তারা বাংলাদেশকে যেমন দেখতে চায় সঙ্গে নিজেদের জন্মস্থানও দেখতে চায়। সেই ভাবেই আমাদের প্যাকেজগুলো করে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করছে অনেকে। ভালো লাগছে, বেশ সাড়া পাচ্ছি। পশ্চিমবঙ্গের মানুষের বাংলাদেশের প্রতি আলাদা আকর্ষণ রয়েছে, তা বেশ বোঝা যাচ্ছে।

মেলায় বাংলাদেশের প্যাভিলিয়ন সাজানো হয়েছিল দিনাজপুরের বিখ্যাত কান্তজীর মন্দিরের আদলে। প্যাভিলিয়নে ১১টি বেসরকারি স্টল ছাড়াও বাংলাদেশ সরকারের ট্যুরিজম বোর্ড সহ ১২টি স্টল স্থান পেয়েছিল। পর্যটন মেলায় কলকাতাবাসীর কাছে আকর্ষণীয় বিষয় হলো একই ভাষায়, একই গন্ধে বিদেশ ভ্রমণ। বুকিংও পেয়েছে প্রচুর। পূর্বপুরুষের ভিটেমাটি ছেড়ে ভারতে আসার পর  নতুন প্রজন্মকে সেই স্বাদ পাওয়ানোর ইচ্ছা অনেকের থাকলেও, সহযোগিতা পাচ্ছিলো না। সেই সুবিধা করে দিল বাংলাদেশ থেকে আসা ট্যুর কোম্পানিগুলো।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/14/1563102319331.jpg
বাংলাদেশের ঐতিহ্যকে তুলে ধরা হয় কলকাতাবাসীর কাছে 

 

শুক্রবার (১২ জুলাই) মেলা শুরু হয়ে শেষ হয় রোববার (১৪ জুলাই)। এবারের মেলায় ৪৩০টি স্টলে ভারতের ২৮টি রাজ্য এবং ১৪টি দেশ অংশগ্রহণ করেছিল। কলকাতাবাসীর কাছে বাংলাদেশ এক আবেগের বিষয়। সে কারণেই বাংলাদেশ সম্বন্ধে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে খোজ খবর নিচ্ছেন অনেকেই। অনেকে প্লানও করে নিয়েছে এবার পুজোর ছুটির ডেসটিনেশন বাংলাদেশ।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র