ঘুমহীন জীবনে অভ্যস্ত কলকাতার নব প্রজন্ম

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: প্রতীকী

ছবি: প্রতীকী

  • Font increase
  • Font Decrease

জনপ্রিয় একটা প্রবাদ আছে,‘আর্লি টু বেড এন্ড আর্লি টু রাইজ’ অর্থাৎ রাতে আগে বিছানায় যাও এবং সকাল সকাল ঘুম থেকে ওঠো। তবেই একজন মানুষ স্বাস্থ্যবান, বুদ্ধিমান এবং বিত্তবান হয়। কিন্তু সেসব প্রবাদকে আমল দিতে নারাজ কলকাতার নব প্রজন্ম।

যারা এখনও ১৮তে পা দেয়নি, সেইসব নবযৌবনের রাতে ঘুমের সময় কখন? হয়তো অনেকেই বলবেন, সঠিক সময় রাত দশটা বা বড়জোর এগারোটা। কিন্তু ভারতে বাস্তবে কি এই প্রজন্ম রাত ১০টা বা ১১টার মধ্যে ঘুমোয়? সম্প্রতি সাড়ে তিন লক্ষ নাবালক ও নাবালিকার ঘুম নিয়ে একটি সমীক্ষা হয়েছে ভারতজুড়ে। সমীক্ষাটি করেছে গোদরেজ ইন্টিরিও।

সেখানে কলকাতা নিয়ে বলা হয়েছে, রাত ১০টায় ঘুমাতে যাওয়ার অভ্যাস একেবারেই নেই এই প্রজন্মের। তাদেরে ঘুমানোর সময় রাত ১২টার পর বা মাঝরাতে। এমনই অভ্যাস যেমন মিশে গিয়েছে তাদের রোজকার রুটিনে, তেমনই সমীক্ষায় কিশোর কিশোরীরা জানিয়েছে, সকালে বিছানা ছাড়লেও, তাদের ঘুম ছাড়ে না। সারাদিন ঘুম পায়!

শরীর সুস্থ রাখতে এবং নিত্যদিনের কাজ সুষ্ঠুভাবে চালিয়ে যেতে পর্যাপ্ত ঘুমের দরকার, এ কথা সবাই জানে। কিন্তু গোদরেজের সমীক্ষা বলছে, ঘুমহীন জীবনে অভ্যস্ত হতে জুড়ি নেই শহরটার। নয়া প্রজন্ম, ঘুম নিয়ে পুরনো ধ্যান-ধারণাকে একেবারে ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছে। শহর কলকাতায় রাত ১০টায় ঘুমাতে যাওয়ার হার শতকরা এক শতাংশেরও কম। শতকরা ৬১ শতাংশ বলছে, রাত ১২টার পরই তারা ঘুমানোর কথা চিন্তা করে। ৩৩ শতাংশ শিশু বা কিশোরের স্পষ্ট বক্তব্য, তারা গোটা রাতে ছয় ঘণ্টার কম সময় ঘুমায়।

তবে ঘুমচুরির বিষয়টা কলকাতার সাথে গোটা ভারত হাত মিলিয়েছে একসঙ্গে। দেশের সমীক্ষা অনুযায়ী ৯৩ শতাংশ মানুষ পর্যাপ্ত ঘুম থেকে বঞ্চিত। বিছানায় কিছুক্ষণ গড়াগড়ি খাওয়া, টিভি দেখা, বই পড়া বা পড়ার বইয়ে চোখ রেখেই চোখ জুড়িয়ে আসে এক শতাংশের। কিন্তু বেশিরভাগরই এসব অভ্যাসকে দূরে ঠেলে এই চোখ মজে থাকে মোবাইলে। ঘুমচুরির কারণ খুঁজতে গিয়ে এই তথ্য সামনে এনেছে এ সমীক্ষা।

বেড টাইম-এর আগে স্ক্রিন টাইম-এ তারা বেশি স্বাচ্ছন্দ্য। সেই স্ক্রিন যতটা টিভি তারচেয়ে অনেক বেশি স্মার্ট ফোনের। এ প্রজন্মর টিভিতেও তেমন মন নেই। তার চেয়ে মোবাইলের স্ক্রিনে অনেক বেশি মনযোগী। হোয়াটসঅ্যাপ, ফেসবুক ছাপিয়ে ঘুমের আগে বেশি করে চোখ টানে ইউটিউব, নেটফ্লিক্স -এর বিনোদনে।

সেই মোহ উপেক্ষা করে রাতে তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়ার অভ্যাসে ফিরতে রাজি নয় ৪৭ শতাংশ। সমীক্ষা অবশ্য এই ঘুমহীন জীবনের কোনো সমাধান দিতে চায়নি। বরং তারা খুঁজতে চেয়েছে কম ঘুমের কারণ। কেন দিনের শুরুতেই উদ্যম হারিয়ে ফেলছে এ প্রজন্ম। ফলে থমকে যাচ্ছে মানসিক বিকাশ। তাতে কি এসে গেল! একেবারেই এসব নিয়ে ভাবতেই নারাজ নব প্রজন্ম।

আপনার মতামত লিখুন :