Barta24

শনিবার, ২০ জুলাই ২০১৯, ৫ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

দ্বিতীয় দফায় পশ্চিমবঙ্গের তিন জেলায় ভোট

দ্বিতীয় দফায় পশ্চিমবঙ্গের তিন জেলায় ভোট
ছবি: সংগৃহীত
কলকাতা ডেস্ক
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে চলছে দ্বিতীয় দফার লোকসভা নির্বাচন। রাজ্যে এই পর্বে দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি এবং রায়গঞ্জ কেন্দ্রে বৃহস্পতিবার (১৮ এপ্রিল) চলছে ভোট গ্রহণ। সকাল ৭টা থেকে শুরু হওয়া ভোটগ্রহণ চলবে বিকাল ৫টা পর্যন্ত।  

২০১৪ লোকসভা নির্বাচনের ফলাফলের নিরিখে জলপাইগুড়ি তৃণমূলের, দার্জিলিং বিজেপির এবং রায়গঞ্জ সিপিএমের দখলে ছিল। এই তিন কেন্দ্রের মধ্যে সবচেয়ে বেশি নজর থাকবে দার্জিলিং কেন্দ্রের দিকেই। কারণ সাম্প্রতিককালে পাহাড়ে অশান্তি এবং প্রথমবারা বিমল গুরুংকে ছাড়া পাহাড়ে ভোট হচ্ছে। এই বিমল গুরুংই এক সময় মমতা বন্দোপাধ্যায়ের সাথে ছিলেন এবং এক সময় যাকে বলা হতো পাহাড়ের সুপ্রিমো।

বিমলপন্থীরা এবার সমর্থন করছে বিজেপিকে। যদিও গুরুং প্রশাসনের ভয়ে পাহাড়ে নেই। পাশাপাশি পাহাড় থেকে বিনয় তামাংপন্থী মোর্চা নেতা অমর সিং রাই এবার তৃণমূলের টিকিটে লড়ছেন। দার্জিলিং দখলে তৃণমূল মরিয়া।

দার্জিলিং আসনে মোট ১৬ জন প্রার্থীর ভাগ্য নির্ধারন হবে। প্রার্থীতালিকা দীর্ঘ হওয়ায় দার্জিলিংয়ে এক হাজার ৮৯৯টি বুথে দু’টি করে ইভিএম থাকবে। পাহাড় ও সমতল মিলিয়ে এই কেন্দ্রে মোট ভোটার ১৬ লাখ ৫৬৪ জন। মোট ভোটকর্মী ৭০৬৫ জন। এর মধ্যে মহিলা ভোটকর্মী ৩০০ জন। এই কেন্দ্রটিতে ৭৭০০ কেন্দ্রীয় আধা সামরিক বাহিনী থাকছে। এখানকার ৮০ শতাংশ বুথকে স্পর্শকাতর হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

বছর দু’য়েক আগে পাহাড়ের উত্তপ্ত পরিবেশের পরিপ্রেক্ষিতে এই কেন্দ্রের উপর নির্বাচন কমিশনের আলাদা নজর রয়েছে। তবে বিমল গুরুং এলাকায় ঢুকতে না পারায় বিজেপি এই কেন্দ্র কতটা দখলে রাখতে পারে, সেটাই দেখার। ভৌগোলিক কারণেও দার্জিলিংয়ের উপর বিশেষ নজর রয়েছে নির্বাচনে কমিশনের।

এর পাশ্বর্বর্তী জেলা জলপাইগুড়ি লোকসভা কেন্দ্রে ১ হাজার ৮৬৮টি বুথে ভোটগ্রহণ হবে। এর মধ্যে ৩৫৪টি স্পর্শকাতর বুথ। মোট ১২ জন প্রার্থীর ভাগ্য নির্ধারণ হবে। এই কেন্দ্রে মোট ১৭ লাখ ৩১ হাজার ৮৩৪ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এই কেন্দ্রে রয়েছে মোট চার হাজার ৪০০ কেন্দ্রীয় আধা সামরিক বাহিনী।

তবে সব থেকে বেশি নির্বাচনী উত্তাপ রয়েছে রায়গঞ্জে। এই কেন্দ্রে তৃণমূল, সিপিএম, কংগ্রেস এবং বিজেপির মধ্যে চতুরমুখী লড়াই হচ্ছে। সিপিএমের মহম্মদ সেলিম তার আসন ধরে রাখতে যেমন মরিয়া, তেমনি কংগ্রেসের দীপা দাশমুন্সি আসন পুনরুদ্ধার করতে এক ইঞ্চিও জমি ছাড়তে রাজি নন। সে কারণেই এই নির্বাচনে বাম কংগ্রেসের জোট হয়নি। একে অপরের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নেমেছে। এরই মধ্যে তৃণমূল আসনটি নিজেদের দখলে আনতে কোমর বেঁধে নেমেছে তারাও। তাদের প্রার্থী কানাইয়ালাল আগরওয়াল। তার সমর্থন করেই বাংলাদেশি তারকা ফেরদৌস আহমেদ সমস্যায় পড়েন। বিজেপির প্রার্থী দেবশ্রী চৌধুরী। চারটি দলের রাজনৈতিক লড়াইয়ে জমজমাট রায়গঞ্জ।

রায়গঞ্জ কেন্দ্রে মোট প্রার্থী ১৪ জন। মোট ভোটার ১৫ লাখ ৯৯ হাজার ৯৪৮ জন। সাত হাজার ৭০৯ জন ভোটকর্মী ১৬২৩টি বুথে ভোটগ্রহণের কাজে নিযুক্ত রয়েছে। রয়েছে ১৭টি মহিলা পরিচালিত ভোটগ্রহণ কেন্দ্র। থাকছে দুই হাজার ১২৯টি ইভিএম। থাকছে মোট ছয় হাজার ৪০০ কেন্দ্রীয় আধা সামরিক বাহিনী। এছাড়া তিন কেন্দ্রে ওয়েবকাস্টিং, সিসিটিভি, ভিডিওগ্রাফির ব্যবস্থা থাকছে। আছে মাইক্রো অবজারভার।

আপনার মতামত লিখুন :

বুড়ো হতে গিয়ে ব্যক্তিগত জীবনটাই সঁপে দিচ্ছেন না তো!

বুড়ো হতে গিয়ে ব্যক্তিগত জীবনটাই সঁপে দিচ্ছেন না তো!
ছবি: সংগৃহীত

বার্ধক্য হারিয়ে যৌবন ফিরে পাওয়া নিয়ে তৈরি হয়েছিল ভানু বন্দোপাধ্যায় অভিনীত ‘৮০তে আসিও না’। ফুল কমেডি ওই সিনেমায় পানিতে ডুব দিয়ে ফিরে পাচ্ছিল হারিয়ে যাওয়া যৌবন। তারুণ্য বা যৌবন ফিরে পেতে একেবারে হুলুস্থুল বাধিয়ে ফেলেছিল। কিন্তু গত কয়েকদিন ধরে ফেসবুকে নব্য প্রজন্ম মেতেছে বৃদ্ধ হওয়ার নেশায়। ফেসবুকের দৌলতে যৌবন এখন অ্যাপের ভেতর ডুব দিয়ে পরিণত হচ্ছে বৃদ্ধয়! অর্থাৎ নব প্রজন্মের নাগরিকেরা নিজেদের ভবিষ্যতের ছবি প্রকাশ করছেন।

এ ধরনের অ্যাপ আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা কৃত্রিম মেধা দিয়ে তৈরি। কারো ছবি অ্যাপে দিলে বয়স বাড়িয়ে দিচ্ছে। শুধুই কি বয়স বাড়াচ্ছে? কমিয়েও দিচ্ছে। এমনকি পুরুষকে মহিলা বা মহিলাকে পুরুষ হলে কেমন দেখতে লাগবে তাও ছবির মাধ্যমে ফুটে উঠছে। এ নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে চলছে রসিকতা। কিন্তু পাশাপাশি ভারতে শুরু হয়েছে বিতর্ক।

অনেকেই বলছেন সাময়িক আনন্দের ফাঁদে পা দিয়ে ওই প্রস্তুতকারী সংস্থার কাছে অ্যাপ ব্যবহারকারীর ছবি ও তথ্য চলে যাচ্ছে। রাশিয়ার একটি সংস্থার তৈরি হওয়া ওই অ্যাপে যাওয়া তথ্যগুলো দিয়ে হতে নানা অপকর্ম- এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ভারতীয় হ্যাকিং বিষেশজ্ঞরা।

কলকাতার ইন্ডিয়ান স্কুল অফ এথিক্যাল হ্যাকিংয়ের অধিকর্তা সন্দীপ সেনগুপ্তের মতে, এতে বহু মানুষ নিজেদের ছবি দিয়েছেন। সেগুলো সংস্থার সার্ভারে চলে গেছে। বর্তমানে বহু ল্যাপটপ বা স্মার্টফোন ব্যবহারকারীর পাসওয়ার্ড, মুখের ছবি তাদের কাছে রয়েছে। তাছাড়া এমন অ্যাপগুলো বহুক্ষেত্রে নজরদারির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়।

সন্দীপ সেনগুপ্তর কথায় ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস হওয়ার ভয় খোদ মার্ক জুকারবার্গেরও রয়েছে। তার নিজের ল্যাপটপের ক্যামেরা ও মাইক্রোফোন বন্ধ করে রাখার ছবিও নেট দুনিয়ায় ভাইরাল। এছাড়া সরকারি এবং বেসরকারি দুই দিক থেকেই তথ্য সংগ্রহের প্রতিযোগিতা চলছে। আগামী দিনে যা আরও বড় আকার নেবে।

এছাড়া অন্যান্য সাইবার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের একাধিক অ্যাপ বাজারে আছে। এই সমস্ত অ্যাপ ব্যবহারের আগে অনেকেই শর্তাবলী খুঁটিয়ে পড়েন না। তার ফলে অজান্তেই সেই সব শর্তাবলী মেনে নেন। শর্তনুযায়ী ওই অ্যাপ বিনামূল্যে ব্যবহারের বিনিময়ে ব্যবহারকারী, সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে তার ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহারের অনুমতি দিচ্ছেন। শুধু তাই নয়, ফেসবুকে তার বন্ধুদের তথ্য তুলে দিচ্ছেন সংস্থার সার্ভারে। অ্যাপে তিনি যত ছবি ব্যবহার করছেন, সেগুলিও সংস্থার কাছে চলে যাচ্ছে।

প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালে একবার এই অ্যাপ নিয়ে শোরগোল শুরু হয়েছিলো ভারতে। তখন অ্যাপটি ব্যান করে দেওয়া হয় ভারতে। ফের নতুন ভার্সনে ভারতে ব্যবহারকারীদের মোবাইলে ঢুকে পড়ছে এবং জনপ্রিয় হওয়ায় নজরে এসেছে বিষয়টি।

শুধু এই একটি নয়, তথ্য সংগ্রহের ফাঁদ পেতে নেট দুনিয়ায় আরও হাজার হাজার অ্যাপ রয়েছে। না জেনে সেই অ্যাপের ফাঁদে নিরন্তর পা দিচ্ছেন ব্যবহারকারীরা। এসব অ্যাপ একবার ইনস্টল হয়ে গেলে, মোবাইল বন্ধ হলেও ক্যামেরাসহ সিস্টেমের একটা অংশ চলতেই থাকে। ব্যক্তিগত ছবি এমনকি ভিডিও চলতে থাকে। ফলে সমস্ত তথ্যসহ ব্যক্তিগত জীবনটাই চলে যাচ্ছে হ্যকারদের হাতে। সাময়িক আনন্দের আগে একবার নিজের ব্যক্তিগত কথা ভাবুন। এমনটাই মত ভারতের সাইবার বিশেষজ্ঞদের।

কাশ্মীরের বাইরে ভারত-পাকিস্তানের অন্য এক মহারণ!

কাশ্মীরের বাইরে ভারত-পাকিস্তানের অন্য এক মহারণ!
হায়দ্রাবাদের শেষ সম্রাট নিজাম ওসমান আলি খান, ছবি: সংগৃহীত

ভারতের হায়দ্রাবাদের শেষ সম্রাট নিজাম ওসমান আলি খানের সম্পত্তি লন্ডনের ন্যাট ওয়েস্ট ব্যাংকে লকারবন্দি হয়ে পড়ে আছে যুগযুগ ধরে। তথ্য বলছে, বর্তমানে যার বাজার মূল্য ব্রিটেনের মুদ্রায় তিন কোটি ৫০ লক্ষ পাউন্ডেরও বেশি। তবে সেই সম্পত্তির দাবিদার কে? এহেন প্রশ্নে দশকের পর দশক ধরে আইনি যুদ্ধ চলছে দুই প্রতিবেশী দেশ ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে।

লন্ডন আদালতের কাছে পাকিস্তানের দাবি, নিজামের ওই সম্পত্তির ওপর অধিকার তাদেরই। আবার ভারতের কথায়, নিজামের ওই সম্পত্তির ওপর ভারত ছাড়া অন্য কোনো রাষ্ট্রের অধিকার নেই। কাশ্মীরের বাইরে ১৯৪৭ সাল থেকে এক অন্য স্নায়ুর যুদ্ধ চলে আসছে ইন্ডিয়া-পাকিস্তানের মধ্যে।

এ বিষয়ে ভারতের পাশে দাঁড়িয়েছেন নিজাম আলির দুই উত্তরসূরি। একজন, হায়দ্রাবাদের অষ্টম নিজাম তথা যুবরাজ মুকারাম জাহ, বয়স ৮০। অন্যজন, তার বড় ভাই মফাখাম জাহ, বয়স ৮৪ বছর। দুজনেই থাকেন তুরস্কে। শেষ বয়সে তারা দেখে যেতে চান, দাদু ওসমান আলি খানের সম্পত্তির মালিক ভারত সরকার। সেই মতো দিল্লির পাশাপাশি লন্ডনের হাইকোর্টে নিজেদের কৌসুলিও দাঁড় করিয়েছেন তারা।

অপরদিকে, নিজামের সম্পত্তির দখল নিয়ে দুই দেশের দীর্ঘ আইনি লড়াই এখন শেষের দিকে। তিন পক্ষেরই বক্তব্য শুনেছেন বিচারপতি মার্কিউস স্মিথ। শুনানিতে অংশ নিয়েছিলেন নিজামের দুই উত্তরসূরির আইনজীবী। ছিলেন ভারতের নিযুক্ত আইনজীবীরাও এবং উপস্থিত ছিলেন পাকিস্তানের আইনজীবীরাও।

দুই দেশই যখন এই সম্পত্তির দাবিদার তখন ইতিহাস বলছে, ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর উভয় সংকটে পড়েছিলেন হায়দ্রাবাদের সম্রাট নিজাম ওসমান আলি খান। ভারতে থাকবেন নাকি, পাকিস্তানে যাবেন? তা নিয়ে তিনি সিদ্ধান্ত নিতে পারছিলেন না তিনি। এইরকম দ্বিধায় নিজের আর্থিক নিরাপত্তার কথা ভেবে নিজাম কিছু অর্থ ও সম্পত্তি ব্রিটেনে পাঠিয়ে দেয়। যা বর্তামানে পাকিস্তানের দূতাবাস। তৎকালীন সময়ে ব্রিটেনের মুদ্রায় মূল্য ছিল ১০ লক্ষ সাত হাজার ৯৪০ পাউন্ড ও ৯ সিলিং।

ওই সম্পত্তি দূতাবাসের হাত ঘুরে জমা পড়ে লন্ডনের ন্যাট ওয়েস্ট ব্যাংকের লকারে। আজও তা সেই ব্যাংকে গচ্ছিত। নিজাম আলি মারা যান ১৯৬৭ সালে। তার ঠিক ১৭ বছর আগে অর্থাৎ ১৯৫০ সালে গচ্ছিত সম্পত্তি ভারতে ফিরিয়ে আনতে উদ্যোগী হয়েছিলেন নিজাম। কিন্তু পাকিস্তানে তাতে বাধা দেয়। মূলত সেই থেকে নিজামের সম্পত্তি নিয়ে ভারত-পাকিস্তানের স্নায়ুর যুদ্ধ শুরু।

তবে পাকিস্তানের এই দাবি কতখানি ধোপে টিকবে, সেটাই দেখার। কারণ আইনি বিশেষজ্ঞদের মতে, উত্তরাধিকার সূত্রে নিজামের গচ্ছিত সম্পত্তির পাওয়ার অধিকার রয়েছে যুবরাজ মুকারাম ও তার বড় ভাই মফাখামের। সেই সূত্রে সম্পত্তির ভাগীদার ভারতই হবে। তবে এখন সবটাই নির্ভর করছে ব্রিটেনের রয়্যাল কোর্ট অব জাস্টিসের চূড়ান্ত রায়ের ওপর। ব্যাংকে গচ্ছিত হায়দ্রাবাদের শেষ সম্রাট নিজাম ওসমান আলি খানের সম্পত্তির কে হবেন ভাগীদার। ভারত নাকি পাকিস্তান? দুই দেশের এ এক অন্য মহারণ এমটাই দাবি ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমগুলোর।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র