৪র্থ দফায়, রাজ্যে ৪র্থ বার মোদি-মমতার সংঘাত

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
কলকাতায় ফের মোদি-মমতার যুদ্ধ, ছবি: সংগৃহীত

কলকাতায় ফের মোদি-মমতার যুদ্ধ, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

‘চুপচাপ বিজেপিতে ছাপ। বুথে বুথে টিএমসি সাফ।’ ভারতের ৪র্থ দফার লোকসভার ভোটের সাথে সাথে পশ্চিমবঙ্গে চতুর্থবারের জন্য এলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। রাজ্যের হুগলির, শ্রীরামপুরের জনসভায় প্রধানমন্ত্রীর মুখে এমন স্লোগান শুনে উঠল হাততালির ঝড়।

এছাড়া সোমবার (২৯ এপ্রিল) শ্রীরামপুরের জনসভায় নরেন্দ্র মোদি বলেন, ‘দিদি আপনার দলের প্রতি রেগে গিয়েছেন মানুষ। বাংলার মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন আপনি। আমার সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে ৪০জন তৃণমূল বিধায়কের। ২৩মের পর বুঝতে পারবেন।’

প্রসঙ্গত, রাজ্যে মুখ্যমন্ত্রীর নির্বাচিত ভোটকে বিধানসভা ভোট বলা হয় আর ভোটে জয়ী প্রার্থীরাই হলেন বিধায়ক। এরকম একাধিক বিধায়ক বিজেপির সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলছে, এ কথা পশ্চিমবঙ্গে ভোটের হাওয়ায় কানাঘুষো চলছে।

মোদি আরও বলেন, ‘দিদির পায়ের তলার মাটি সরে গিয়েছে। আমাকে গালাগালি করা ছাড়া দিদির আরও কিছু করার নেই। দিদি যতই গালি দিন, বাংলার মানুষ ঠিক করে ফেলেছেন ২৩শে মে আরও একবার বিজেপি সরকার। দিদির মেজাজ বিগড়ে গিয়েছে। ওনার কাছে লোকজন যেতে ভয় পাচ্ছে।’

প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে রাজ্যের বাগদার জনসভা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, ‘রাজ্যে এসে মিথ্যা বলছেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর পদে থাকার যোগ্যতা তাঁর নেই। বাংলাতেই বিজেপির কফিনে শেষ পেরেক পোঁতা হবে।’

এদিন তৃণমূল বিধায়কদের ভাঙানো প্রসঙ্গে মোদির হুঁশিয়ারি নিয়ে সরব হয়েছেন তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ওব্রায়েন। মমতার সুরে ডেরেক বলেন, ‘এক্সপায়ারিবাবু প্রধানমন্ত্রী, কেউই আপনার সঙ্গ নেবে না। এমনকি একজন কাউন্সিলরও নন। আপনি ভোটপ্রচার করছেন না ঘোড়া কেনাবেচা করছেন? আপনার মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছে। আমরা কমিশনে অভিযোগ জানাচ্ছি।’

প্রসঙ্গত, তৃণমূল ছেড়ে মমতার একসময়ের অতি ঘনিষ্ঠ মুকুল রায় বিজেপিতে যাওয়ার পর, এবারে লোকসভা নির্বাচনের আগে বিধায়ক অর্জুন সিং, সৌমিত্র খাঁ, অনুপম হাজরা, অর্জুন সিং, শঙ্কুদেব পণ্ডাদের বিজেপিতে যোগদান করে। পরবর্তীকালে বিধায়ক সব্যসাচী দত্ত বা মুকুল রায়ের পুত্র শুভ্রাংশু রায়ের বিজেপিতে যাওয়া নিয়ে নানা রটনা রটছে। এছাড়া এরকম আর অনেকের নাম তৃনমূল অন্দরেই কানাঘুষো চলছে।

তারই মধ্যে প্রধানমন্ত্রী মোদির মুখে এদিন তৃণমূলের চল্লিশ জন বিধায়কের যোগাযোগ রাখার কথা তাৎপর্যপূর্ণভাবে মাত্রা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

আপনার মতামত লিখুন :