Alexa

বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙা নিয়ে তৃণমূলের দিকে বিজেপির অভিযোগ

বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙা নিয়ে তৃণমূলের দিকে বিজেপির অভিযোগ

বিদ্যাসাগর কলেজে হামলায় ভেঙে ফেলা হয়েছে মূর্তি, ছবি: সংগৃহীত

কলকাতায় বিদ্যাসাগর কলেজে মঙ্গলবার হামলা চালিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী-সমর্থকরা। বিজেপির রাজ্য দফতরে বুধবার (১৫ মে) সাংবাদিক বৈঠকে অভিযোগ করলেন বিজেপির জাতীয় সম্পাদক তথা উত্তর কলকাতার প্রার্থী রাহুল সিনহা।

ওই কলেজের সাবেক ছাত্র এবং তৃণমূল ছাত্র পরিষদের নেতা অভিষেক মিশ্র ও তার স্ত্রী স্বর্ণালি ঘটনাস্থলে কেন ছিলেন? রাতে কলেজে তারা কী করছিলেন? এছাড়া দুপুর থেকে এত বহিরাগত সান্ধ্য কলেজে কেন জমা হচ্ছিল? পুলিশ কি করছিল? একজন ভিভিআইপির রোড শো জেনেও পুলিশ কেন তৃণমূল ছাত্রদের জমায়েত দেখেও অ্যাকশন নেয়নি? এছাড়া তাদের ইউনিয়ন রুমে তালা ছিল। কীভাবে ভাঙল মূর্তি? গোটা বিষয়টা তৃণমূলের পূর্বপরিকল্পিত ছক। অভিযোগ করেন উত্তর কলকাতার বিজেপি প্রার্থী।

পাশাপাশি প্রশ্ন তোলেন, নির্বাচনের আগে কলকাতায় সভা মিছিল করতে ৪৮ঘণ্টা আগে অনুমতি নিতে হয়। অথচ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গতকাল রাতেই কীভাবে মিছিলের কথা ঘোষণা করলেন? এখন বলছে আগে থেকে ঠিক করেছিলাম। চ্যালেঞ্জ করছি, দেখান সেই অনুমতিপত্র। নির্বাচন কমিশনের কাছে আমাদের বক্তব্য জানিয়েছি।

বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙা তৃণমূলের দিকে বিজেপির অভিযোগ
প্রমাণসহ তৃণমূলের দিকে অভিযোগ ছুঁড়ে দিচ্ছে বিজেপি নেতা, ছবি: সংগৃহীত

 

প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার বিকেল কলকাতায় অমিত শাহর রোড শো ঘিরে তৈরি হয় জটিলতা। শহিদ মিনার থেকে রোড শো শুরু করার অনুমতি দেয়নি পুলিশ। নানা চাপানোতর পর ধর্মতলা রোড থেকে রোড শো শুরু করার নির্দেশ দেয় পুলিশ। তারপরই শুরু হয় চরম বিশৃঙ্খলা।

রাহুল সিনহা আরও বলেন, 'বিদ্যাসাগরের মূর্তি বিজেপি কর্মীরা ভাঙতে পারেন না। তার কথায়, ভারতীয় সংস্কৃতির পুরোধার মূর্তির অবমাননার কথা কল্পনা করতে পারেন না বিজেপির কোনও কর্মী। আমরা ভারতীয় সংস্কৃতিকে শ্রদ্ধা করি। সব কর্মীর মধ্যে ভারতীয় সংস্কৃতির বোধ রয়েছে।'

এছাড়া বিদ্যাসাগর কলেজে, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙার ঘটনায় বিজেপিকে কাঠগড়ায় তুলেছে তৃণমূল। এখনও পর্যন্ত ৫৮জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

অপরদিকে, অভিযোগ অস্বীকার করে দিল্লিতে সাংবাদিক বৈঠকে বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ ছবি দেখিয়ে দাবি করেন, গেট বন্ধ ছিল। আমরা বাইরে ছিলাম। ভেতরে গিয়ে কারা ভেঙেছে? টিএমসির লোকেরাই তো ভিতরে ছিল। সহানুভূতি কুড়োনোর জন্য ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভেঙেছে তৃণমূল।

তবে যারাই ভাঙুক মূর্তি, দুষ্কৃতি বাহিনীর তাণ্ডব মোটেও ভালোভাবে নেয়নি পশ্চিমবঙ্গবাসী। গোটা ভারতেই ঘটনাটি বড় ভাবে সামনে এসেছে। আর স্বাভাবিক ভাবেই শেষ দফার ভোটের আগে মূর্তি ভাঙার ইস্যু নিয়ে রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন :