Barta24

বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই ২০১৯, ৩ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

হালিমে মেতে নগর কলকাতা

হালিমে মেতে নগর কলকাতা
রমজানে কলকাতার রেস্তোরাঁগুলোতে বিভিন্ন প্রকারের হালিমের জমজমাট আয়োজন/ ছবি: বার্তা২৪.কম
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম
কলকাতা


  • Font increase
  • Font Decrease

মূলত শীত মৌসুমের খাবার হলেও রমজান মাসে সারাদিনের রোজার শেষে, ইফতারে হালিমের কোনো বিকল্প নেই কলকাতায়। শুধু মুসলিম সম্প্রদায় কেন, এই মাংস-ডালের টানে মুসলিমদের সঙ্গে রেস্তোরাঁগুলোর সামনে রোজার মাসে লাইন পড়ে অন্যান্য সম্প্রদায়ের লোকজনেরও।

শুধু লাইন নয়, অনলাইনেও বিক্রি হচ্ছে হালিম। রোস্তরাঁগুলো দেদারসে অর্ডার পাচ্ছে ফুড ভিত্তিক অ্যাপগুলোয়। কলকাতার নামি রেস্তোরাঁর হালিম পৌঁছে যাচ্ছে দূর-দূরান্তের হালিমপ্রেমীদের হাতে। কলকাতার মল্লিকবাজার, পার্ক সার্কাস থেকে বেকবাগান, খিদিরপুর থেকে মেটিয়াবুরুজ, রাজাবাজার, চাঁদনীচক বিকেল হলেই রমজানে শহরের সর্বত্র একই ছবি, হালিমের জন্য লম্বা লাইন।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/31/1559316868648.jpg

পার্ক সার্কাস সেভেন পয়েন্ট মোড়ের কাছে আরসালান, মল্লিক বাজারের জিশান, রহমানিয়া, হাজি সাহেব, থেকে চাঁদনীচকের আলিয়া, সাবিরস থেকে চিৎপুরের রয়্যাল। সকলেই তাদের রেস্তোরাঁর সামনে দুপুরের পর থেকে মেলে ধরছে বাহারি হালিম।

বাহারি শামিয়ানার নিচে টেবিলে রাখা বিশাল বিশাল হাঁড়িতে মিলছে মাটন, চিকেনের শাহি, আরবি, ইরানি, হায়দরাবাদি, আফগানি নানা স্বাদের, নানা ধরনের হালিম। দাম গড়ে ১৮০ থেকে ২০০ রুপির মধ্যে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/31/1559316906092.jpg

সুস্বাদু ডালের ভেতর ডুবে থাকা চার থেকে ছয় টুকরোর খাসি বা চিকেন হালিম, ১৫ থেকে ২৫ রুপির রুমালি বা তন্দুরি রুটি, লাচ্ছা পরোটা সহযোগে জমে উঠছে শেষ সময়ের ইফতার। তবে পাড়ার ছোট ছোট দোকানে দাম কম। সেখানে ২৫ থেকে ৩০ রুপি মিলছে হালিম।

অতুলনীয় স্বাদের প্রতিযোগিতায় নানা রেস্তোরাঁয় বাড়ছে নানা ঘরানার হালিম। এসপ্ল্যান্ডে লাগোয়া বেন্টিক স্ট্রিটের আলিয়া রেস্তোরাঁর ম্যানেজার ৮৯ বছরের মহম্মদ জামাল আহমেদ জামাল ৫৭ বছর ধরে সামলাচ্ছেন রেস্তোরাঁ। তার কথায়, ‘হালিম শব্দ আসলে আরবি শব্দ। এসেছে আরব দেশ থেকে। আমরা সেই আরবি মাটন হালিম বানাই।’

নাখোদা মসজিদ লাগোয়া রয়্যাল রেস্তোরাঁর মহম্মদ ইরফানের কথায়, ‘আমাদের স্পেশ্যালিটি লখনউ ঘরানার মাটন হালিম।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/31/1559316933968.jpg

ধর্মতলার সাবির রেস্তোরাঁর ম্যানেজার মুহম্মদ আহমেদের কথায়, ‘আমরা শুধু মাটন শাহী হালিমই বানাই।’ রেস্তোরাঁ সিরাজে মিলছে শাহী হালিমের পাশাপাশি ইরানি, হায়দরাবাদি, আফগানি হালিম।

আরসালানের শেফ মহম্মদ সালাহউদ্দিনের কথায়, ‘এই হালিম তৈরি করতে বহুত মেহনতি লাগে। সারারাত ধরে বানাতে হয়। মুগ, মুসুর, অরহর, বুটের ডাল সহ আট-দশ রকমের ডাল, ডালিয়া, সুগন্ধি চাল, ধনে, জিরে, আদা, পিঁয়াজ, রসুন, জায়ফল, জয়িত্রী, গরম মশালা ও বাজারের আরও কিছু মশলা, পাঁঠার গোশত সব মিশিয়ে তৈরি হয় হালিম।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/31/1559316949611.jpg

তবে সালাহউদ্দিনের কথায়, ‘এটা ভারতীর খাবার নয়। এর আসল নাম ডালিম। রোজার শেষে ইফতারিতে এর চল সবচেয়ে বেশি। শক্তিবৃদ্ধি ও এনার্জী ফেরাতে খেজুর, শরবতের সাথে ইফতারে পরিবেশন হতো ডালিম। পরে এর মধ্যে গোশত মিশিয়ে নাম পরিবর্তন হয়। ডালিম বা হালিম যাই হোক না কেন খুবই পুষ্টিকর খাদ্য এটি।’

অতএব, বোঝাই যাচ্ছে রোজার বাকি কটা দিন কলকাতাবাসী বিরিয়ানি, চাপ, রেজালা, কাবাবকে দুরে রেখে মজে থাকবে হালিমেই।

আপনার মতামত লিখুন :

কাশ্মীরের বাইরে ভারত-পাকিস্তানের অন্য এক মহারণ!

কাশ্মীরের বাইরে ভারত-পাকিস্তানের অন্য এক মহারণ!
হায়দ্রাবাদের শেষ সম্রাট নিজাম ওসমান আলি খান, ছবি: সংগৃহীত

ভারতের হায়দ্রাবাদের শেষ সম্রাট নিজাম ওসমান আলি খানের সম্পত্তি লন্ডনের ন্যাট ওয়েস্ট ব্যাংকে লকারবন্দি হয়ে পড়ে আছে যুগযুগ ধরে। তথ্য বলছে, বর্তমানে যার বাজার মূল্য ব্রিটেনের মুদ্রায় তিন কোটি ৫০ লক্ষ পাউন্ডেরও বেশি। তবে সেই সম্পত্তির দাবিদার কে? এহেন প্রশ্নে দশকের পর দশক ধরে আইনি যুদ্ধ চলছে দুই প্রতিবেশী দেশ ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে।

লন্ডন আদালতের কাছে পাকিস্তানের দাবি, নিজামের ওই সম্পত্তির ওপর অধিকার তাদেরই। আবার ভারতের কথায়, নিজামের ওই সম্পত্তির ওপর ভারত ছাড়া অন্য কোনো রাষ্ট্রের অধিকার নেই। কাশ্মীরের বাইরে ১৯৪৭ সাল থেকে এক অন্য স্নায়ুর যুদ্ধ চলে আসছে ইন্ডিয়া-পাকিস্তানের মধ্যে।

এ বিষয়ে ভারতের পাশে দাঁড়িয়েছেন নিজাম আলির দুই উত্তরসূরি। একজন, হায়দ্রাবাদের অষ্টম নিজাম তথা যুবরাজ মুকারাম জাহ, বয়স ৮০। অন্যজন, তার বড় ভাই মফাখাম জাহ, বয়স ৮৪ বছর। দুজনেই থাকেন তুরস্কে। শেষ বয়সে তারা দেখে যেতে চান, দাদু ওসমান আলি খানের সম্পত্তির মালিক ভারত সরকার। সেই মতো দিল্লির পাশাপাশি লন্ডনের হাইকোর্টে নিজেদের কৌসুলিও দাঁড় করিয়েছেন তারা।

অপরদিকে, নিজামের সম্পত্তির দখল নিয়ে দুই দেশের দীর্ঘ আইনি লড়াই এখন শেষের দিকে। তিন পক্ষেরই বক্তব্য শুনেছেন বিচারপতি মার্কিউস স্মিথ। শুনানিতে অংশ নিয়েছিলেন নিজামের দুই উত্তরসূরির আইনজীবী। ছিলেন ভারতের নিযুক্ত আইনজীবীরাও এবং উপস্থিত ছিলেন পাকিস্তানের আইনজীবীরাও।

দুই দেশই যখন এই সম্পত্তির দাবিদার তখন ইতিহাস বলছে, ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর উভয় সংকটে পড়েছিলেন হায়দ্রাবাদের সম্রাট নিজাম ওসমান আলি খান। ভারতে থাকবেন নাকি, পাকিস্তানে যাবেন? তা নিয়ে তিনি সিদ্ধান্ত নিতে পারছিলেন না তিনি। এইরকম দ্বিধায় নিজের আর্থিক নিরাপত্তার কথা ভেবে নিজাম কিছু অর্থ ও সম্পত্তি ব্রিটেনে পাঠিয়ে দেয়। যা বর্তামানে পাকিস্তানের দূতাবাস। তৎকালীন সময়ে ব্রিটেনের মুদ্রায় মূল্য ছিল ১০ লক্ষ সাত হাজার ৯৪০ পাউন্ড ও ৯ সিলিং।

ওই সম্পত্তি দূতাবাসের হাত ঘুরে জমা পড়ে লন্ডনের ন্যাট ওয়েস্ট ব্যাংকের লকারে। আজও তা সেই ব্যাংকে গচ্ছিত। নিজাম আলি মারা যান ১৯৬৭ সালে। তার ঠিক ১৭ বছর আগে অর্থাৎ ১৯৫০ সালে গচ্ছিত সম্পত্তি ভারতে ফিরিয়ে আনতে উদ্যোগী হয়েছিলেন নিজাম। কিন্তু পাকিস্তানে তাতে বাধা দেয়। মূলত সেই থেকে নিজামের সম্পত্তি নিয়ে ভারত-পাকিস্তানের স্নায়ুর যুদ্ধ শুরু।

তবে পাকিস্তানের এই দাবি কতখানি ধোপে টিকবে, সেটাই দেখার। কারণ আইনি বিশেষজ্ঞদের মতে, উত্তরাধিকার সূত্রে নিজামের গচ্ছিত সম্পত্তির পাওয়ার অধিকার রয়েছে যুবরাজ মুকারাম ও তার বড় ভাই মফাখামের। সেই সূত্রে সম্পত্তির ভাগীদার ভারতই হবে। তবে এখন সবটাই নির্ভর করছে ব্রিটেনের রয়্যাল কোর্ট অব জাস্টিসের চূড়ান্ত রায়ের ওপর। ব্যাংকে গচ্ছিত হায়দ্রাবাদের শেষ সম্রাট নিজাম ওসমান আলি খানের সম্পত্তির কে হবেন ভাগীদার। ভারত নাকি পাকিস্তান? দুই দেশের এ এক অন্য মহারণ এমটাই দাবি ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমগুলোর।

সীমান্ত সুরক্ষায় পশ্চিমবঙ্গকে বিপুল অর্থ সাহায্য

সীমান্ত সুরক্ষায় পশ্চিমবঙ্গকে বিপুল অর্থ সাহায্য
জোরদার করা হচ্ছে সীমান্ত নিরাপত্তা, ছবি: সংগৃহীত

২০১৪ সালের অক্টোবর মাসে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার খাগড়াগড় বিস্ফোরণের পরই রাজ্যে জঙ্গিচক্রের খোঁজ মেলে। এ নিয়ে দীর্ঘ আলাপের পর সীমান্ত সুরক্ষায় রাজ্যকে বিপুল অর্থ সাহায্য করেছে দ্বিতীয়বারের জন্য ক্ষমতায় আসা মোদি সরকার। পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে মোট ৩১৬ কোটি রুপি আর্থিক সাহায্যের অনুমোদন দিল দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার। যা ভারতের সীমান্ত নিরাপত্তায় গোটা দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ অর্থ সহযোগিতা পেল পশ্চিমবাংলা। 

ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের রিপোর্টে বলা হয়েছে, মুর্শিদাবাদ ও বর্ধমানের মাদরাসাগুলির নব প্রজন্মের মগজধোলাইয়ের কাজে ব্যবহার করছে জঙ্গিরা। এতে দুই দেশের জঙ্গি শিবির জড়িত। পাশাপাশি একাধিক জঙ্গিশিবির চালাচ্ছে জেএমবি। তারা বাংলাদেশে থাকতে না পেরে সীমান্ত দিয়ে ঢুকছে পশ্চিমবঙ্গে। আর সে কারণেই ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের নিরাপত্তায় জোর দিল কেন্দ্রীয় সরকার। 

৩১৬ কোটি রুপি সীমান্ত রক্ষায় গোটা দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অর্থ পেল পশ্চিমবঙ্গই। যা জম্মু-কাশ্মীর, রাজস্থান, অসমের মতো স্পর্শকাতর সীমান্তর থেকে বেশী বরাদ্দ। 

সংসদ ভবনে দেওয়া এক লিখিত বিবৃতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক জানিয়েছে, ইন্দো-বাংলাদেশ সীমান্তের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে নেওয়া হচ্ছে একাধিক পদক্ষেপ। বাড়ানো হচ্ছে পোস্ট ও নাকা চেকিং-এর সংখ্যা। এছাড়া উচ্চপ্রযুক্তির যন্ত্রপাতি ও নাইট ভিশনের ব্যবস্থাও করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি এলাকা চিহ্নিতকরণও করা হয়েছে। 

এছাড়া ওই মন্ত্রকের তরফে আরও জানানো হয়েছে, বাংলাদেশ ও ভারতে গণতান্ত্রিক সরকার ফেলে সেখানে শরিয়া প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে লড়াই করছে জেএমবি। সেজন্য রাজ্যে বিভিন্ন জায়গায় গোপন আস্তানা তৈরি করেছে তারা। পশ্চিমবঙ্গে হদিশ মিলেছে একাধিক নিষিদ্ধ মাদরাসার, যেখানে প্রশিক্ষণ দেওয়া হত জঙ্গিদের।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র