পশ্চিমবঙ্গে ডাক্তার জনতার দূরত্ব বাড়ছে

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা ২৪.কম,কলকাতা
পশ্চিমবঙ্গে ডাক্তারদের আন্দোলন/ছবি:সংগৃহীত

পশ্চিমবঙ্গে ডাক্তারদের আন্দোলন/ছবি:সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

দিন দিন সংকট যেন আরো ঘনীভূত হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গে জুনিয়র চিকিৎসকরা এবার শুরু করেছে চাকরি ছাড়া। আর অন্যদিকে রাজ্য সরকার থেকেও কিছু স্পষ্ট না করায় অবস্থা আরো বেগতিক হচ্ছে। ডাক্তার আর জনতার মধ্যে দূরত্ব বাড়ছে আরো।

একদিকে সরকারি ইন্টার্ন ডাক্তারদের ধর্মঘটকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালের জরুরি, বর্হিঃবিভাগে সেবা ব্যাহত হওয়ায় বিপদে পড়েছে রোগীরা। ভেঙে পড়েছে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা। নিরাপত্তার দাবিতে অবস্থান নেয়া চিকিৎসকদের নৈতিক সমর্থন জানিয়ে শুক্রবার (১৪ জুন) থেকে চাকরি ছেড়ে দেয়া শুরু করেছে রাজ্যের সরকারি চিকিৎসক ও প্রশাসকরা। প্রতীকীভাবে প্রায় পাঁচ শতাধিক চিকিৎসক তাদের চাকরি ছেড়ে দিয়েছে।

এই রকম একটি জটিল অবস্থার মধ্যে ডা. সুকুমার মুখোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে রাজ্যের পাঁচ বিশিষ্ট চিকিৎসক পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বসেন।

এদিকে মুখ্যমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি নিয়ে স্বাস্থ্য অধিকর্তা (শিক্ষা) ডা. প্রদীপ মিত্র অবস্থানরত চিকিৎসকদের সঙ্গে দেখা করতে যান। মুখ্যমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি পৌঁছে দিয়ে তিনি ধর্মঘটে ডাক দেয়া চিকিৎসকদের প্রতিনিধিদলকে রাজ্যের প্রশাসন ভবন নবান্নে ডেকে পাঠান। অনড় রয়েছেন অবস্থান নেয়া চিকিৎসকদের একটাই দাবি, মুখ্যমন্ত্রীকেই এনআরএস  হসপিটালে আসতে হবে এবং তাঁর যাবতীয় মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চাইতে হবে।

এর আগে আন্দোলনকারীদের উদ্দেশ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, যারা আন্দোলন তুলবে না, তাদের সরকার কোনো প্রোটেকশন দেবে না।

সুকুমার জানিয়েছেন, শনিবার বিকেলে আবারও বৈঠক হবে। চিকিৎসক এবং সরকারের সঙ্গে অন্যতম মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছেন ডা. অভিজিৎ চৌধুরী। তিনি জানিয়েছেন, যেভাবেই হোক পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়া দরকার। ইন্টার্ন চিকিৎসকদের আবারও সময় দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী, সঙ্গে আমরাও থাকব।

এদিকে, চিকিৎসক লাঞ্চনার ইস্যুতে শুক্রবার বিকেলে পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী রাস্তায় নামেন কয়েক হাজার চিকিৎসক। তাঁদের এই কর্মসূচিতে সমর্থন জানান, অপর্ণা সেন, দেবজ্যোতি মিশ্র, রূপম ইসলামসহ অনেক তারকরাই।

গত ১২ জুন থেকে কলকাতার এনআরএস মেডিকেল কলেজে শিক্ষানবিশ চিকিৎসক নিগ্রহের প্রতিবাদে হাসপাতালে ধর্নায় বসেন শিক্ষানবিশ ডাক্তাররা। পরে তাদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন সিনিয়র চিকিৎসকরা।

আপনার মতামত লিখুন :