Barta24

শনিবার, ২০ জুলাই ২০১৯, ৫ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

চিটফান্ড কাণ্ডে ইডির চোখ প্রসেনজিৎ-ঋতুপর্ণার দিকে

চিটফান্ড কাণ্ডে ইডির চোখ প্রসেনজিৎ-ঋতুপর্ণার দিকে
ছবি: সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

এতদিন ধরে টিভি ধারাবাহিকের কলাকুশলী এবং এর সঙ্গে যুক্ত অগণিত কর্মীদের বকেয়া অর্থের দাবিতে সরগরম হয়ে উঠেছিল বাংলা বিনোদনের আঁতুড়ঘর টলিউড। সেই সমস্যা পুরোপুরি সমাধান হতে না হতেই সিনেমা হল উঠে যাওয়ার মত সংকটও দেখা দিয়েছে। এইসব গুরুতর সমস্যার আনাগোনা তো ছিলই কিন্তু এইবার যেন সমস্যা একেবারে টলিউডের গলা টিপে ধরেছে।

রোজভ্যালি চিটফান্ড কাণ্ডে, ভারত সরকারের এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) চোখ পড়ছে টলিপাড়ায়। সরকারি এই সংস্থাটি এর আগে তাপস পাল, মিঠুন চক্রবর্তীর মতো অভিনেতাদেরও ক্যারিয়ার শেষ করে দিয়েছে। অর্থাৎ অনৈতিক লেনদেন দেখলে হাতে শিকল পড়াতে পিছপা হয় না কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার অন্যতম শাখা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)।

মঙ্গলবার (১৯ জুলাই) বেলা ১২টায় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়কে তলব করেছে সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে। একইসঙ্গে বুধবার (২০ জুলাই) অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তকেও তলব করেছে ইডি অফিসে।

এক দিনের ব্যবধানে টলিপাড়ার এক নম্বর জুটিকে তলব করা নিয়ে রীতিমতো তোলপাড় পড়ে গেছে টলিউড সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিতে। এর আগে ইডির ডাক পেয়েছিল শতাব্দী রায়, তাপস পাল, মিঠুন চক্রবর্তী, পরিচালক শ্রীকান্ত মোহতা। আর নবতম সংযোজন হলেন প্রসেনজিৎ ও ঋতুপর্ণা।

ইডির সূত্রে জানা যায়, রোজভ্যালির টাকায় ঋতুপর্ণা একাধিকবার বিদেশভ্রমণ, ঋতুপর্ণার জন্য কম পয়সার সিনেমা বেশি পয়সায় কিনতে বাধ্য- এমন একগুচ্ছ অভিযোগ ইডির কাছে করেছেন রোজভ্যালি চিটফান্ডের কর্ণধার গৌতম কুন্ডু।

এইমুহূর্তে অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা আমেরিকায় রয়েছেন। সেখান থেকে যোগাযোগ মাধ্যম হোয়াটসঅ্যাপে জানান, আমার অ্যাকাউন্ট্যান্টের কাছে খবরটা শুনেছি। তবে সেখানে শুধু দেখা করার কথাই বলা আছে। আমার নামে কোনও চিঠি আসেনি। চিঠি এসেছে ‘ভাবনা আজ ও কাল’ কর্ণধারের নামে। কোম্পানির কর্ণধার হিসেবে যাব। সরকারি তদন্তে সবরকমের সহযোগিতা করব।’

এরআগে রোজভ্যালি প্রযোজনা সংস্থার ব্যানারে একাধিক ভালো ছবি হয়েছে। গৌতম ঘোষ পরিচালিত ‘মনের মানুষ’ এবং কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায় পরিচালিত ‘শব্দ’ দুটি ছবিই জাতীয় পুরস্কার পেয়েছিল, যার প্রযোজনা করেছিল গৌতম কুণ্ডুর সংস্থা।

মনের মানুষ ছবিতে মূল অভিনেতা ছিলেন প্রসেনজিৎ। টলিউডের এই জুটিকে তলব প্রসঙ্গে তাঁর প্রতিক্রিয়া কী জানতে চাইলে গৌতম ঘোষ বলেন, ‘এই বিষয়ে আমি কী বলি বলুন তো! একজন চলচ্চিত্র পরিচালক হিসেবে কাজ করেছি। তার মধ্যে যে এত জটিলতা রয়েছে তা জানতাম না। আইন আইনের পথে চলবে। পেশাদার পরিচালক হিসেবে কাজ করেছি। ভারত-বাংলাদেশ যৌথ প্রযোজনার ছবি ছিল। আমাদের দিক থেকে পুরোটাই নিয়মমাফিক ছিল।’

আপনার মতামত লিখুন :

বুড়ো হতে গিয়ে ব্যক্তিগত জীবনটাই সঁপে দিচ্ছেন না তো!

বুড়ো হতে গিয়ে ব্যক্তিগত জীবনটাই সঁপে দিচ্ছেন না তো!
ছবি: সংগৃহীত

বার্ধক্য হারিয়ে যৌবন ফিরে পাওয়া নিয়ে তৈরি হয়েছিল ভানু বন্দোপাধ্যায় অভিনীত ‘৮০তে আসিও না’। ফুল কমেডি ওই সিনেমায় পানিতে ডুব দিয়ে ফিরে পাচ্ছিল হারিয়ে যাওয়া যৌবন। তারুণ্য বা যৌবন ফিরে পেতে একেবারে হুলুস্থুল বাধিয়ে ফেলেছিল। কিন্তু গত কয়েকদিন ধরে ফেসবুকে নব্য প্রজন্ম মেতেছে বৃদ্ধ হওয়ার নেশায়। ফেসবুকের দৌলতে যৌবন এখন অ্যাপের ভেতর ডুব দিয়ে পরিণত হচ্ছে বৃদ্ধয়! অর্থাৎ নব প্রজন্মের নাগরিকেরা নিজেদের ভবিষ্যতের ছবি প্রকাশ করছেন।

এ ধরনের অ্যাপ আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা কৃত্রিম মেধা দিয়ে তৈরি। কারো ছবি অ্যাপে দিলে বয়স বাড়িয়ে দিচ্ছে। শুধুই কি বয়স বাড়াচ্ছে? কমিয়েও দিচ্ছে। এমনকি পুরুষকে মহিলা বা মহিলাকে পুরুষ হলে কেমন দেখতে লাগবে তাও ছবির মাধ্যমে ফুটে উঠছে। এ নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে চলছে রসিকতা। কিন্তু পাশাপাশি ভারতে শুরু হয়েছে বিতর্ক।

অনেকেই বলছেন সাময়িক আনন্দের ফাঁদে পা দিয়ে ওই প্রস্তুতকারী সংস্থার কাছে অ্যাপ ব্যবহারকারীর ছবি ও তথ্য চলে যাচ্ছে। রাশিয়ার একটি সংস্থার তৈরি হওয়া ওই অ্যাপে যাওয়া তথ্যগুলো দিয়ে হতে নানা অপকর্ম- এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ভারতীয় হ্যাকিং বিষেশজ্ঞরা।

কলকাতার ইন্ডিয়ান স্কুল অফ এথিক্যাল হ্যাকিংয়ের অধিকর্তা সন্দীপ সেনগুপ্তের মতে, এতে বহু মানুষ নিজেদের ছবি দিয়েছেন। সেগুলো সংস্থার সার্ভারে চলে গেছে। বর্তমানে বহু ল্যাপটপ বা স্মার্টফোন ব্যবহারকারীর পাসওয়ার্ড, মুখের ছবি তাদের কাছে রয়েছে। তাছাড়া এমন অ্যাপগুলো বহুক্ষেত্রে নজরদারির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়।

সন্দীপ সেনগুপ্তর কথায় ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস হওয়ার ভয় খোদ মার্ক জুকারবার্গেরও রয়েছে। তার নিজের ল্যাপটপের ক্যামেরা ও মাইক্রোফোন বন্ধ করে রাখার ছবিও নেট দুনিয়ায় ভাইরাল। এছাড়া সরকারি এবং বেসরকারি দুই দিক থেকেই তথ্য সংগ্রহের প্রতিযোগিতা চলছে। আগামী দিনে যা আরও বড় আকার নেবে।

এছাড়া অন্যান্য সাইবার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের একাধিক অ্যাপ বাজারে আছে। এই সমস্ত অ্যাপ ব্যবহারের আগে অনেকেই শর্তাবলী খুঁটিয়ে পড়েন না। তার ফলে অজান্তেই সেই সব শর্তাবলী মেনে নেন। শর্তনুযায়ী ওই অ্যাপ বিনামূল্যে ব্যবহারের বিনিময়ে ব্যবহারকারী, সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে তার ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহারের অনুমতি দিচ্ছেন। শুধু তাই নয়, ফেসবুকে তার বন্ধুদের তথ্য তুলে দিচ্ছেন সংস্থার সার্ভারে। অ্যাপে তিনি যত ছবি ব্যবহার করছেন, সেগুলিও সংস্থার কাছে চলে যাচ্ছে।

প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালে একবার এই অ্যাপ নিয়ে শোরগোল শুরু হয়েছিলো ভারতে। তখন অ্যাপটি ব্যান করে দেওয়া হয় ভারতে। ফের নতুন ভার্সনে ভারতে ব্যবহারকারীদের মোবাইলে ঢুকে পড়ছে এবং জনপ্রিয় হওয়ায় নজরে এসেছে বিষয়টি।

শুধু এই একটি নয়, তথ্য সংগ্রহের ফাঁদ পেতে নেট দুনিয়ায় আরও হাজার হাজার অ্যাপ রয়েছে। না জেনে সেই অ্যাপের ফাঁদে নিরন্তর পা দিচ্ছেন ব্যবহারকারীরা। এসব অ্যাপ একবার ইনস্টল হয়ে গেলে, মোবাইল বন্ধ হলেও ক্যামেরাসহ সিস্টেমের একটা অংশ চলতেই থাকে। ব্যক্তিগত ছবি এমনকি ভিডিও চলতে থাকে। ফলে সমস্ত তথ্যসহ ব্যক্তিগত জীবনটাই চলে যাচ্ছে হ্যকারদের হাতে। সাময়িক আনন্দের আগে একবার নিজের ব্যক্তিগত কথা ভাবুন। এমনটাই মত ভারতের সাইবার বিশেষজ্ঞদের।

কাশ্মীরের বাইরে ভারত-পাকিস্তানের অন্য এক মহারণ!

কাশ্মীরের বাইরে ভারত-পাকিস্তানের অন্য এক মহারণ!
হায়দ্রাবাদের শেষ সম্রাট নিজাম ওসমান আলি খান, ছবি: সংগৃহীত

ভারতের হায়দ্রাবাদের শেষ সম্রাট নিজাম ওসমান আলি খানের সম্পত্তি লন্ডনের ন্যাট ওয়েস্ট ব্যাংকে লকারবন্দি হয়ে পড়ে আছে যুগযুগ ধরে। তথ্য বলছে, বর্তমানে যার বাজার মূল্য ব্রিটেনের মুদ্রায় তিন কোটি ৫০ লক্ষ পাউন্ডেরও বেশি। তবে সেই সম্পত্তির দাবিদার কে? এহেন প্রশ্নে দশকের পর দশক ধরে আইনি যুদ্ধ চলছে দুই প্রতিবেশী দেশ ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে।

লন্ডন আদালতের কাছে পাকিস্তানের দাবি, নিজামের ওই সম্পত্তির ওপর অধিকার তাদেরই। আবার ভারতের কথায়, নিজামের ওই সম্পত্তির ওপর ভারত ছাড়া অন্য কোনো রাষ্ট্রের অধিকার নেই। কাশ্মীরের বাইরে ১৯৪৭ সাল থেকে এক অন্য স্নায়ুর যুদ্ধ চলে আসছে ইন্ডিয়া-পাকিস্তানের মধ্যে।

এ বিষয়ে ভারতের পাশে দাঁড়িয়েছেন নিজাম আলির দুই উত্তরসূরি। একজন, হায়দ্রাবাদের অষ্টম নিজাম তথা যুবরাজ মুকারাম জাহ, বয়স ৮০। অন্যজন, তার বড় ভাই মফাখাম জাহ, বয়স ৮৪ বছর। দুজনেই থাকেন তুরস্কে। শেষ বয়সে তারা দেখে যেতে চান, দাদু ওসমান আলি খানের সম্পত্তির মালিক ভারত সরকার। সেই মতো দিল্লির পাশাপাশি লন্ডনের হাইকোর্টে নিজেদের কৌসুলিও দাঁড় করিয়েছেন তারা।

অপরদিকে, নিজামের সম্পত্তির দখল নিয়ে দুই দেশের দীর্ঘ আইনি লড়াই এখন শেষের দিকে। তিন পক্ষেরই বক্তব্য শুনেছেন বিচারপতি মার্কিউস স্মিথ। শুনানিতে অংশ নিয়েছিলেন নিজামের দুই উত্তরসূরির আইনজীবী। ছিলেন ভারতের নিযুক্ত আইনজীবীরাও এবং উপস্থিত ছিলেন পাকিস্তানের আইনজীবীরাও।

দুই দেশই যখন এই সম্পত্তির দাবিদার তখন ইতিহাস বলছে, ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর উভয় সংকটে পড়েছিলেন হায়দ্রাবাদের সম্রাট নিজাম ওসমান আলি খান। ভারতে থাকবেন নাকি, পাকিস্তানে যাবেন? তা নিয়ে তিনি সিদ্ধান্ত নিতে পারছিলেন না তিনি। এইরকম দ্বিধায় নিজের আর্থিক নিরাপত্তার কথা ভেবে নিজাম কিছু অর্থ ও সম্পত্তি ব্রিটেনে পাঠিয়ে দেয়। যা বর্তামানে পাকিস্তানের দূতাবাস। তৎকালীন সময়ে ব্রিটেনের মুদ্রায় মূল্য ছিল ১০ লক্ষ সাত হাজার ৯৪০ পাউন্ড ও ৯ সিলিং।

ওই সম্পত্তি দূতাবাসের হাত ঘুরে জমা পড়ে লন্ডনের ন্যাট ওয়েস্ট ব্যাংকের লকারে। আজও তা সেই ব্যাংকে গচ্ছিত। নিজাম আলি মারা যান ১৯৬৭ সালে। তার ঠিক ১৭ বছর আগে অর্থাৎ ১৯৫০ সালে গচ্ছিত সম্পত্তি ভারতে ফিরিয়ে আনতে উদ্যোগী হয়েছিলেন নিজাম। কিন্তু পাকিস্তানে তাতে বাধা দেয়। মূলত সেই থেকে নিজামের সম্পত্তি নিয়ে ভারত-পাকিস্তানের স্নায়ুর যুদ্ধ শুরু।

তবে পাকিস্তানের এই দাবি কতখানি ধোপে টিকবে, সেটাই দেখার। কারণ আইনি বিশেষজ্ঞদের মতে, উত্তরাধিকার সূত্রে নিজামের গচ্ছিত সম্পত্তির পাওয়ার অধিকার রয়েছে যুবরাজ মুকারাম ও তার বড় ভাই মফাখামের। সেই সূত্রে সম্পত্তির ভাগীদার ভারতই হবে। তবে এখন সবটাই নির্ভর করছে ব্রিটেনের রয়্যাল কোর্ট অব জাস্টিসের চূড়ান্ত রায়ের ওপর। ব্যাংকে গচ্ছিত হায়দ্রাবাদের শেষ সম্রাট নিজাম ওসমান আলি খানের সম্পত্তির কে হবেন ভাগীদার। ভারত নাকি পাকিস্তান? দুই দেশের এ এক অন্য মহারণ এমটাই দাবি ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমগুলোর।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র