Barta24

মঙ্গলবার, ২০ আগস্ট ২০১৯, ৫ ভাদ্র ১৪২৬

English

কলকাতা থেকে কাশ্মীর

কলকাতা থেকে কাশ্মীর
পৃথিবীর স্বর্গ কাশ্মীর। ছবি: বার্তা২৪
মাজেদুল নয়ন; স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট


  • Font increase
  • Font Decrease

ঢাল লেক, কাশ্মীর থেকে: খুব ভোরে কলকাতা সুন্দর, শান্ত, আজ মেঘলা দিন। বুধবার ঈদুল আজহা। ছুটির দিন হওয়াতে আরো ঢিলেঢালা ভাব। তবে আমার উবার চালক কলকাতায় নতুন। ভাল করে চিনতে পারছিল না এয়ারপোর্টের রোড। একে ওকে জিজ্ঞাসা করেও বাইপাস সড়ক খুঁজে পেতে বেশ সময় লাগলো৷ আর বাইপাস পেলেও তার গাড়ি চালানোর স্লথ গতিতে মনে হচ্ছিল ফ্লাইট ধরতে পারি কিনা!

বকরির ঈদে কলকাতায় কিছু নির্দিষ্ট স্থানে কোরবানির পশু উৎসর্গ করা হয়। তাই ঢাকার মতো পথে ঘাটে পশু জবাইয়ের চিত্র চোখে পড়ে না। কলকাতার সড়কগুলো খুব পরিষ্কার বলা যাবে না, তবে এখানে চালকরা লেন না মানলেও ট্রাফিক আইনটা মেনে চলেন। আর সড়কগুলো কাঠামোগতভাবেও ভাল। কংক্রিটের সড়কও চোখে পড়ে।

ফ্লাইট ৭ টা ৫০ মিনিটে, আর আমি এয়ারপোর্ট পৌছালাম ৭ টায়৷ তবে সেল্ফ চেক-ইন করাতে বেশি ভয় থাকলো না। তিন বছর পর কলকাতায়, নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু এয়ারপোর্টে। সত্যি প্রতি বছরে উন্নতি করছে এয়ারপোর্ট। দমদমের চেহারা বদলে গিয়েছে বেশ। বিশ্বের যে কোন উন্নত এয়ারপোর্টের সঙ্গে তুলনা করা যায়।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2018/Aug/22/1534951683217.gif

স্পাইস জেটের এসজি ১৩০ ফ্লাইট ২৫ মিনিট দেরিতে ছাড়ল৷ তবে যেহেতু এই ফ্লাইটই সরাসরি দিল্লী হয়ে শ্রীনগর যাবে কানেক্টিভিটির চিন্তা নেই। ২ ঘন্টা ৩০ মিনিটের ভ্রমণ কম নয়। দমদমে বিমান আকাশে উঠলে মেঘ। তবে মেঘের উপরে সূর্য হাসছিল। যত দিল্লীর কাছে যাচ্ছে বিমান, বাইরে সূর্যের আলো কেবিনকে আলোকিত করছিল। শরতের মেঘেরা যেন গোলাচ্ছুট খেলছে। মেঘের ওপরে মেঘের স্তর। নিচে তাকালে মনটা ভাল হয়ে যায়।

এটা বাজেট এয়ারলাইন্স। যারা আগে খাবারের অর্ডার দিয়েছেন, তাদেরকে খাবার পরিবেশন করা হচ্ছে। আর যারা বুকিং দেয়নি তাদের কিনে খেতে হচ্ছে। আগের রাতের মাথা ব্যাথাটা একটু ছিল। একশ রুপি দিয়ে একটা কফি নিলাম। হেডফোনে জেমসের গান বাজছে। দেশে ঈদ পালন করছে সবাই। তবে এখানে ঈদের কোন ভাব নেই। ব্যস্ত অনেকেই ছুটি শেষে দিল্লী ফিরছেন।

দিল্লীতে যখন বিমান নামছে, কানে চাপ বাড়তে থাকে। জানালে দিকে তাকালে উচুঁ সব ভবন চোখে পড়ে। দিল্লীর আশপাশে খুব সবুজ নেই।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2018/Aug/22/1534951727363.gif

আগরতলা থেকে যখন ফ্লাইটে কলকাতা নামলাম, যাত্রীদের মধ্যে ব্যস্ততা ছিল না। যেটা এখানে আছে। রানওয়েতে না থামতেই যাত্রীরা দাঁড়িয়ে গেলো। ফ্লাইট অ্যাটেনডস জানালেন, শ্রীনগরের যাত্রীরা যেন না নামেন।

১৮৬ সিটের ৯০ ভাগ যাত্রীই নামলেন দিল্লী। আমার নয় সিরিয়ালের সামনে আট সিরিয়ালের ৬ টি সীট জুড়েই বাংলাদেশি পরিবার শ্রীনগরের যাত্রী। বোর্ডিং কার্ড চেক করার সময় পরিবারের ছেলেটি তার কার্ড পাচ্ছিল না। বাবার বকা শুরু হয়ে গেলো। হাবভাবে পোশাক আশাকে বোঝা যাচ্ছে পয়সাওয়ালা পরিবার। ফ্লাইটের ভেতর দামী খাবারের সবচেয়ে বেশি অর্ডার দিচ্ছিল তারা। অনেক খোঁজাখুঁজি চলছে, তবে কার্ড যেন কোথাও নেই। একে অপরকে দোষারোপ করছেন। এদিকে কর্তৃপক্ষ বলছেন, বোর্ডিং কার্ড না থাকলে এখানে নেমে যেতে হবে। পেছনের দিকে সীটের নিচে কাগজটি উল্টে দেখি বোর্ডিং কার্ড। তাদের হাতে দিতেই নিশ্চিন্ত হলো। কিন্তু এত ঘন্টা পরেও যেটি বারবার মনে আসছে, একটি ধন্যবাদ পর্যন্ত দিলো না পরিবারের কেউ!

শ্রীনগর, জম্মু কাশ্মীরের বিমানবন্দর। আবারো ফ্লাইট বোঝাই হয়ে বিমান আকাশে ডানা মেললো। ১ ঘন্টা ১০ মিনিটের ভ্রমণ। তবে আমার বেশ ক্ষিদে পেয়ে গেলো৷ সামনের মেন্যু ঘেটে সাব স্যান্ডউইচ চোখে পড়লো কম দামের মধ্যে, ২০০ রুপিতে। গোগ্রাসে গিলে খেলাম।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2018/Aug/22/1534951796720.gif

মেঘের ওপর জানালা দিয়ে রোদ আসছে কেবিনে। ৪০ মিনিট পরেই নিচে তাকাতে সবুজ পাহাড়ে ঘেরা ভূমি চোখে পড়লো। পৃথিবীর স্বর্গ, কাশ্মীর। রহস্যময় কাশ্মীর। কেমন যেন শিহরণ কাজ করছে। বইয়ে পড়া, খবরের পাতায় চোখ বুলানো, সিনেমায় দেখা কাশ্মীর, ভালবাসা আর সুন্দরের কাশ্মীর।

শ্রীনগর এয়ারপোর্টে নামতেই প্রতি মোড়ে মোড়ে নিরাপত্তারক্ষী। কিন্তু হায়! মোবাইলের নেটওয়ার্ক শূন্য। আমার স্কুল আর বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধুরা দিল্লী থেকে জেট এয়ারলাইনসের ফ্লাইটে হিসেব মতে এক ঘন্টা লাগেই নেমেছে। অনলাইনেও দেখা যাচ্ছে না। কাশ্মীরে প্রবেশের এন্ট্রি ফরম পূরণ করে এয়াপোর্ট থেকে বের হতেই দেখি জিটু, তাপস আর তুষার দূরে হাঁটছে। এয়ারপোর্টের আশপাশে খুব বেশি স্থাপনা নেই। তাই দূরে পর্যন্ত চোখ যায়। ওদের দেখে দৌঁড়ে গেলাম। এখানে পর্যটকদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাংলাদেশিও রয়েছে।

একটা ট্যাক্সি খুঁজতে থাকলাম। উদ্দেশ্য ঢাল লেক, স্থানীয়রা বলেন ঢাল ছিল। পাহাড়ের পাড় ঘেঁষে শান্ত লেক।

আপনার মতামত লিখুন :

নেতাজির মৃত্যুদিন ঘোষণা করে বিপাকে পিআইবি

নেতাজির মৃত্যুদিন ঘোষণা করে বিপাকে পিআইবি
নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু

১৯৪৫ সালের ১৮ আগস্ট নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর মৃত্যুদিন বলে ঘোষণা করে বিতর্কে ভারতের পিআইবি (প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরো) সংস্থাটি। সংস্থাটির তরফে একটি ছবি ফেসবুকে পোস্ট করে সেখানে লেখা হয়েছে "তোমরা আমাকে রক্ত দাও, আমি তোমাদের স্বাধীনতা দেব", পাশাপাশি ১৯৪৫ সালটিকে নেতাজির 'মৃত্যুসাল' হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, তাইহকু প্লেন দুর্ঘটনার তারিখ ছিল ১৯৪৫ সালের ১৮ অগাস্ট। ওই বিমানেই নেতাজি ছিল বলে দাবি অনেকের। এবং সেই প্লেন দুর্ঘটনায় নেতাজির মৃত্যূ হয়েছে বলে দাবি করেন তারা। তথাপি ভারত স্বাধীন হওয়ার পর থেকে সরকারিভাবে কোনো সরকার আজ অবদি মৃত্যুদিনটিকে স্বীকৃতি দিতে পারেনি। বর্তমান সরকারও সরকারিভাবে এ বিষয়ে কোনো সিলমোহর দেয়নি। তবে সেই প্লেন দুর্ঘটনাতেই নেতাজির মৃত্যু হয়েছে বলে উল্লেখ করেছে সরকারি সংস্থা পিআইবি।

এই ছবি সামনে আসতেই জোর চাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে দেশজুড়ে। শোরগোল পড়ে গিয়েছে। নেতাজি পরিবারের সদস্য তথা বিজেপি নেতা চন্দ্র বসু মন্তব্য করেছেন, "কোথাও ভুল হচ্ছে। কোথাও কোনো ত্রুটি থেকে যাচ্ছে।"

অপরদিকে, রোববার(১৮ আগস্ট) সকালে দিনটিকে স্মরণ করে, নেতাজির অন্তর্ধান নিয়ে টুইট করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লিখেছেন, “নেতাজির বিষয়ে জানার অধিকার সকল দেশবাসীর রয়েছে। আজকের দিনেই ১৯৪৫ সালে নেতাজি তাইওয়ানের তাইহুকু বিমানবন্দর থেকে নিখোঁজ হন। আজও জানি না এরপর কী হয়েছে। দেশমাতৃকার এই বীর সন্তানের বিষয়ে জানার অধিকার সকল দেশবাসীর আছে।”

তবে প্রকাশ্যে কোনো অনুষ্ঠান না হলেও কংগ্রেস-বিজেপি সকলেই মৃত্যুদিন হিসেবে সামাজিক মাধ্যমে স্মরণ করেছে। যা এবারই প্রথম ঘটলো ভারতে। কারণ নেতাজির মৃত্যুদিন সরকারিভাবে এখনও ঘোষণা হয়নি।

সাত কুকুর ছানাকে বৃষ্টির হাত থেকে বাঁচাল পুলিশ

সাত কুকুর ছানাকে বৃষ্টির হাত থেকে বাঁচাল পুলিশ
সাত কুকুর ছানাকে বৃষ্টির হাত থেকে বাঁচাল পুলিশ

গত কয়েকদিন ধরে টানা বৃষ্টি হচ্ছে কলকাতায়। প্রবল বৃষ্টিতে রাজপথ হয়ে ওঠে জলমগ্ন। কোথাও হাঁটুপরিমাণ, আবার কোথাও বোট বাইতে পারে এমন পানি। বৃষ্টির দাপট রোববার (১৮ আগস্ট) দুপুরের পর কিছুটা কম হলেও থামেনি। তবে পুরোপুরি ঘুর্ণিঝড় রাজ্য থেকে বিদায় নেবে আগামী সোমবার (১৯ আগস্ট)। এমটাই জানিয়েছেন কলকাতা আবহাওয়া অফিস।

এরই মাঝে কলকাতার ইস্টার্ন বাইপাসে সায়েন্স সিটির লাগোয়া এক পাঁচতারা হোটেলের বিপরীতে খোলা আকাশের নিচে ফুটফুটে সাতটি ছানা জন্ম দিয়েছে এক পথ কুকুর। লাগাতার বৃষ্টির জেরে সদ্য জন্মানো ছানাগুলো নিয়ে আশ্রয় খুঁজছিল মা কুকুরটি। ফাঁকা এলাকা তার উপর একনাগাড়ে বৃষ্টি, সঙ্গে ব্যস্ত রাস্তায় বিরামহীন চলতে থাকা গাড়ি। ফলে রাস্তার একধারে ভিজে কোনো রকমে সাত ছানাকে আগলাচ্ছিল মা কুকুরটি।

বিষয়টি চোখে পড়ে দুই নারী পশুপ্রেমীর। পাশাপাশি নজর আসে ওই মোড়ে কর্তব্যরত ট্রাফিক পুলিশের। কুকুরটির এমন দশা দেখে পশুপ্রেমীদের সঙ্গে এগিয়ে আসেন পুলিশকর্মীরা। বৃষ্টি থেকে বাঁচাতে ওই অঞ্চলের থানার পাশে মা কুকুর ও তার সাত ছানাকে থাকার জায়গা তৈরি করে দেয় পুলিশ।

আপাতত নিরাপদেই আছে মা ও তার সাত রাজার ধন। রোববার বিকেলে এক অন্য সহনাভূতি দেখাল কলকাতা পুলিশ। উঠে এল কলকাতা পুলিশের এক অন্য মানবিক দিক।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র