Barta24

রোববার, ২৫ আগস্ট ২০১৯, ১০ ভাদ্র ১৪২৬

English

খাদ্য নিরাপত্তায় হুমকি ‘ফল আর্মিওয়ার্ম’ পোকা বাংলাদেশে!

খাদ্য নিরাপত্তায় হুমকি ‘ফল আর্মিওয়ার্ম’ পোকা বাংলাদেশে!
ফল আর্মিওয়ার্ম পোকা, ছবি: বার্তা২৪
উবায়দুল হক
ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
ময়মনসিংহ
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

আমেরিকা মহাদেশের মারাত্মক ক্ষতিকারক পোকা ‘ফল আর্মিওয়ার্ম’। ফসলের জন্য দুনিয়াজুড়ে একটি বিধ্বংসী পোকা হিসাবে পরিচিত এটি। আমেরিকা, আফ্রিকাসহ বিশ্বের বেশ কয়েকটি অঞ্চলে এ পোকাটি প্রবেশ করে দুর্ভিক্ষের সৃষ্টি করেছে। পর্যায়ক্রমে ভারত হয়ে এই পোকাটি প্রবেশ করেছে বাংলাদেশে।

সম্প্রতি চুয়াডাঙ্গায় এ পোকার উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের কৃষি কর্মকর্তা মো. আব্দুল মজিদ। তিনি বলেন, এটি শনাক্ত হওয়ার পর চুয়াডাঙ্গার বিভিন্ন ফসলি জমিতে এর উপস্থিতি টের পাওয়া গেছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jan/18/1547805019479.jpg

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পোকাটির কারণে প্রথমেই ধ্বংসের মুখে পরবে দেশের ভুট্টা চাষ। এরপর ছড়িয়ে পড়বে ধান-গমসহ বিভিন্ন ফসলে। অল্প সময়ে দেশের খাদ্য নিরাপত্তায় হুমকি হয়ে দাঁড়াবে এই পোকা।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) কীটতত্ত্ব বিভাগের প্রফেসর ড. খন্দকার শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘ফল আর্মিওয়ার্ম পোকাটি নিশাচর প্রাণী, দিনের বেলায় দেখা যাবে না। রাতের বেলায় এরা ডিম পাড়ে। হাজারখানেক ডিম পাড়তে পারে একেকটা পোকা। প্রথমে এটি কিড়া থাকা অবস্থায়ই ফসলের পাতা ও কান্ড খেয়ে দফারফা করে দেয় গাছ।

কিড়ার প্রাথমিক অবস্থায় এদের খাদ্য চাহিদা কম থাকে তবে শেষ ধাপগুলোতে এদের খাদ্য চাহিদা বৃদ্ধি পায় ৫০ গুন। সে কারণে কিড়া পূর্ণাঙ্গ হওয়ার আগে রাক্ষুসে হয়ে উঠে এমনকি ফসলের ব্যাপক ক্ষতি করে। এমনকি এক রাতের মধ্যেই এরা সব ফসল নষ্ট করে ফেলতে পারে। পূর্ণাঙ্গ পোকা অনেক দূর পর্যন্ত উড়তে পারে। সেইসঙ্গে দিনে ১০০ কিলোমিটারেরও বেশি পাড়ি দিতে পারে।’

তিনি আরও বলেন, ‘পোকাটি ভুট্টা, ধান, গমসহ প্রায় ৮০ টি ফসলে আক্রমণ করে থাকে। তবে ভুট্টা ফসলে এর আক্রমণের হার সর্বাধিক। এর ফলে আমাদের খাদ্য নিরাপত্তায় হুমকির মুখে পড়বে। যেসব ইন্ডাস্ট্রিগুলোর ফিডওইসব ফসল থেকে আসে এগুলোও হুমকির মুখে পড়বে। সাথে সাথে ওই ইন্ডাস্ট্রি ছাড়াও আমরা এখন খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার পথে সেক্ষেত্রে আমাদেরকে আবার হোঁচট খাওয়ার একটি সম্ভাবনা থেকে যাবে।’

তবে আশার কথা হচ্ছে, বাংলাদেশে দ্রুত সনাক্ত করার পর ফল আর্মিওয়ার্ম প্রতিরোধে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে প্রস্তুতি নিয়েছে বলে দাবি কৃষি বিভাগের।

আপনার মতামত লিখুন :

কমিউনিটি বীজতলায় কৃষকের মাঝে আশার সঞ্চার

কমিউনিটি বীজতলায় কৃষকের মাঝে আশার সঞ্চার
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলায় কমিউনিটি বীজতলা

এবারের বন্যায় কুড়িগ্রামে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন শত শত কৃষক। এসব কৃষকের ক্ষতি পুষিয়ে দিতে সরকারিভাবে কৃষি বিভাগ থেকে আমন ধানের বীজতলা তৈরি করা হয়েছে। এতে করে আশার সঞ্চার হয়েছে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে।

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, বন্যার্ত ৬টি ইউনিয়নে আমন ধানের কমিউনিটি বীজতলা করার কথা থাকলেও জমি না মেলায় ৪টি ইউনিয়নের ১৭ একর জমিতে বীজতলা তৈরি করা হয়েছে। যা থেকে উৎপাদিত চারা সদর উপজেলার বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ১০২০ জন কৃষকের মাঝে বিতরণ করা হবে।
https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/22/1566467370909.jpg

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক কয়ছার আলী, সৈয়দ আলী, শাহাজুদ্দি ও সেকেন্দার জানান, বন্যায় উপজেলার অনেক কৃষক ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তাদের অনেকের আমন ধানের চারা নষ্ট হয়ে গেছে। কারো জমি দীর্ঘদিন বন্যার পানিতে তলিয়ে থাকায় বীজতলা করতে পারেননি। সরকারিভাবে আমন ধানের চারা দেওয়া হবে শুনে নতুন করে আশায় বুক বেঁধেছেন এসব কৃষক।

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন বলেন, সরকারিভাবে আমন ধানের কমিউনিটি বীজতলা তৈরি করা হয়েছে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সেখান থেকে বীজ দেওয়া হবে যাতে তারা নিজেদের ক্ষতি কিছুটা হলেও কাটিয়ে উঠতে পারেন।

বোরোর লোকসান পুষিয়ে নিতে আগাম আমন চাষ

বোরোর লোকসান পুষিয়ে নিতে আগাম আমন চাষ
আগাম আমন চাষ করছেন বগুড়ার কৃষকরা

বোরো চাষের লোকসান পুষিয়ে নিতে আগাম আমন চাষ শুরু করেছেন বগুড়ার কৃষকরা। তবে বৃষ্টির অভাবে জমি তৈরি করতে পারছেন না তারা। অনেকেই সেচ মেশিনের পানি দিয়ে আমন চাষের জন্য জমি প্রস্তুত করে চারা রোপণ করছেন।

বগুড়া জেলার অধিকাংশ জমি তিন ফসলি। কৃষক বোরো ধান ঘরে তোলার পর এক থেকে দেড় মাস জমি ফেলে রাখেন। আষাঢ় মাসের মাঝামাঝি থেকে আমন চাষ শুরু করেন। আমন ধান ঘরে তোলার সঙ্গে সঙ্গে জমিতে আলু চাষ শুরু হয়। আমন চাষের মৌসুম পহেলা শ্রাবণ থেকে শুরু হলেও আলু চাষের কারণে বগুড়া অঞ্চলের কৃষকরা ১৫-২০ দিন আগে থেকেই আমন চাষের প্রস্তুতি নেন।

প্রকৃতির নিয়মে বর্ষার ঋতুর প্রথম মাস আষাঢ় থেকেই পর্যাপ্ত বৃষ্টির পানি থাকার কথা। কিন্তু এবার চিত্র ভিন্ন। বর্ষাকালে বৃষ্টি নেই, মাঝে মধ্যে বৃষ্টি হলেও প্রখর রোদে জমির পানি শুকিয়ে যাচ্ছে। এ কারণে বর্ষা মৌসুমেও কৃষককে ব্যবহার করতে হচ্ছে সেচ মেশিন।

বগুড়া জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, কেউ বীজতলা পরিচর্যা করছেন, কেউবা সেচ মেশিন দিয়ে পানি সেচ দিয়ে জমি তৈরিতে ব্যস্ত, আবার কোথায় আমন চারা রোপণ করা হয়ে গেছে।
https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/05/1562296108267.jpg
শিবগঞ্জ উপজেলার চন্ডিহারা এলাকার কৃষক আব্দুল হান্নান বার্তা২৪.কমকে বলেন, বোরো চাষ করে লোকসান হয়েছে। এ কারণে চাষাবাদ তো আর বন্ধ করা যাবে না। লোকসান পুষিয়ে নেওয়ার জন্য আগাম আমন ধানের চারা রোপণ করেছি। আমন ধান ঘরে তোলার পর একই জমিতে আলু চাষ করব। তিন ফসল চাষ করতে পারলে লোকসান থাকবে না বলে জানান কৃষক আব্দুল হান্নান।

মহাস্থান এলাকার কৃষক খয়বর হোসেন বলেন, সময়মত বৃষ্টি না হওয়ায় সেচ মেশিনের পানিতেই আমন চাষের জমি তৈরি করছি। বৃষ্টির আশায় থাকলে আমনের পর আলু চাষে দেরি হয়ে যাবে।

বগুড়া কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, পহেলা শ্রাবণ থেকে আমন চাষ শুরু করা হয়, চলে ভাদ্র মাসের ১ম সপ্তাহ পর্যন্ত।

বগুড়ার সোনাতলা, সারিয়াকান্দি ও ধুনট উপজেলায় যমুনা নদীর চরে আশ্বিন মাস পর্যন্ত গাইঞ্জা ধানের চারা রোপণ। এবার আমন মৌসুমে জেলার ১২ উপজেলায় ১ লাখ ৭৩ হাজার ৪৮৫ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে কৃষি বিভাগ।

এদিকে আবহাওয়া অফিস বৃষ্টির পূর্বাভাস দিলেও বৃষ্টি তেমন হচ্ছে না। গত ১৫ দিনে আবহাওয়া অফিস ১০১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে। যা বর্ষাকালের জন্য পর্যাপ্ত না।

বগুড়া আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ সজীব ওয়াজেদ বার্তা২৪.কমকে বলেন, গত বছরের তুলনায় এ বছর বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কম না। তবে যখন কৃষকের প্রয়োজন সেই সময়ে বৃষ্টিপাত হচ্ছে না।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র