Alexa

সন্ধ্যা নামলেই রাবিতে ছিনতাইকারীদের দৌরাত্ম্য

সন্ধ্যা নামলেই রাবিতে ছিনতাইকারীদের দৌরাত্ম্য

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়/ ছবি: সংগৃহীত

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) একের পর এক বেড়েই চলেছে ছিনতাইয়ের ঘটনা। গত দশ দিনে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন কাজলা গেট ও বিনোদপুর গেট সংলগ্ন এলাকায় প্রায় ৭টি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে।

ফলে সন্ধ্যার পরে নিজ ক্যাম্পাসের ভেতরে নিরাপদে কোথাও যাতায়াত করতে না পারায় ছিনতাইকারীদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছেন শিক্ষার্থীরা। এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দৃশ্যমান কোন পদক্ষেপ না নেওয়ায় ছিনতাইয়ের ঘটনা বাড়ছে বলে অভিযোগ করেন শিক্ষার্থীরা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ১৪ অক্টোবর সন্ধ্যা ৭টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যারিস রোডে ছিনতাইয়ের শিকার হন বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের এক শিক্ষার্থী। এরপর ২১ অক্টোবর রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজলা গেট এলাকায় ও বিনোদপুর গেটের পাশে একাধিক ছিনতাইয়ের শিকার হন ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2018/Oct/24/1540395147004.jpg

সর্বশেষ মঙ্গলবার (২৩ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টেডিয়াম মার্কেটের কাছে ছিনতাইয়ের শিকার হন রসায়ন বিভাগের দুই শিক্ষার্থী। এছাড়া ওই দিন রাত ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রের সামনে থেকে ফলিত গণিত বিভাগের দুই শিক্ষার্থীর মোবাইল ছিনিয়ে নেয় ছিনতাইকারীরা। আর এসব ঘটনায় বহিরাগতদের পাশাপাশি ছাত্রলীগের অনেক নেতাকর্মী জড়িত আছে বলেও জানা যায়।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ- সন্ধ্যা নামলেই ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের আনাগোনা বেড়ে যায়। বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের জুবেরি ভবনের সামনের বাগান, তৃতীয় বিজ্ঞান ভবনের পেছনে, প্যারিস রোড, ইবলিশ মাঠের পশ্চিম পাশে ও বদ্দভূমি এলাকায় ছিনতাইয়ের ঘটনা বেশি ঘটে।

এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের হবিবুর রহমান মাঠের পাশেও মাঝে মধ্যে ছিনতাইয়ের শিকার হতে হয়। প্রতিনিয়ত এভাবে ছিনতাইয়ের ঘটনা বাড়তে থাকলেও নিশ্চু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এসব ঘটনা বন্ধ করতে নেওয়া হয়নি কোন পদক্ষেপ। ফলে টিউশনি শেষে হলে ফেরার পথে প্রায়ই ছিনতাইয়ের শিকার হন শিক্ষার্থীরা।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2018/Oct/24/1540395176109.jpg

ছিনতাইয়ের শিকার রুহুল আমিন জানান, বিনোদপুর থেকে জিয়া হলে ফেরার পথে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রের সামনে অপরিচিত তিনজন লোক তাকে ডেকে নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন করে। এক পর্যায়ে হলে নিয়ে যাবার কথা বলে মোটরসাইকেলে তুলে তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বদ্ধভূমিতে নিয়ে যায়। তারপর গলায় ছুরি ঠেকিয়ে তার কাছে থাকা টাকা, মোবাইল ফোন, এবং বিকাশ অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড নিয়ে চলে যায়।

তৃষ্ণা নামের আরেক শিক্ষার্থী বলেন, ‘এক বন্ধুর সঙ্গে কাজলা যাচ্ছিলাম। প্যারিস রোডে হঠাৎ করে কিছু ছেলে এসে আমাদেরকে ইচ্ছা করে ধাক্কা দেয়। এরপর দোষটা আমাদের উপর চাপিয়ে তারা তর্ক শুরু করে। দেখে মনে হচ্ছিলো তারা সবাই বহিরাগত এবং নেশাগ্রস্ত ছিলো। তারা আমাদের ছুরির ভয় দেখিয়ে জুবেরি ভবনের সামনে বাগানে নিয়ে যায়। এরপর আমাদের কাছ থেকে মোবাইল ও ম্যানিব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে নেয়।’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক লুৎফর রহমান বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘ছিনতাইয়ের ঘটনাগুলো শুনেছি। এর আগে তো এ রকম কোনো ঘটনা ঘটেনি। ভর্তি পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে অনেক বহিরাগত ক্যাম্পাসে এসে এ ধরণের কাজ করেছে। পুলিশকে বলেছি ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা জোরদার করতে এবং একটু পর পর টহল দিতে।’

আপনার মতামত লিখুন :