Alexa

দুর্ভোগ পিছু ছাড়ছে না চবি ভর্তিচ্ছুদের

দুর্ভোগ পিছু ছাড়ছে না চবি ভর্তিচ্ছুদের

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা/ছবি: বার্তা২৪

 

তীব্র ভর্তি যুদ্ধের সাথে অসহনীয় দুর্ভোগ পিছু ছাড়ছে না চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) ভর্তিচ্ছু ও তাদের অভিভাবকদের। প্রতিবছর ভর্তি পরীক্ষা আসলে পরিবহণ মালিকদেরে নৈরাজ্য আর প্রশাসনের উদাসীনতায় প্রকট আকার ধারণ করে এ দুর্ভোগ।

শুধু পরিবহণ নয়, খাবারের পেছনেও অতিরিক্ত মাশুল গুনতে হয়।

চট্টগ্রাম নগরীর বটতলী স্টেশনের নিউ মার্কেট থেকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) ছেড়ে যাওয়া বেসরকারি পরিবহণ বাস সার্ভিসে (তরীতে) স্বাভাবিক সময়ে প্রতি জনের ভাড়া ৩০ টাকা। আর এক নং গেইট থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের গোল চত্বরে সিএনজি অটোরিকশার প্রতি জনের ভাড়া ছয় টাকা।

কিন্তু শনিবার (২৭ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার আগের দিন শুক্রবার থেকে এসব পরিবহণে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে দ্বিগুন ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এর পেছনে পরিবহণ মালিকদের দৌরাত্ম্য আর প্রশাসনের যথাযথ নজরদারির অভাবকে দায়ি করছেন সংশ্লিষ্টরা। ফলে দূর-দূরান্ত থেকে আসা পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ভোগান্তি ও বিড়ম্বনা পড়তে হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বলছে, এসব পরিবহণের ভাড়ার বিষয়ে তাদের কিছু করার নেই। অন্যদিকে পরিবহণ মালিকরা অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু জানাতে পারেননি।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বাস মালিক শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ হারুন বলেন, ‘আপনার মুখ থেকে এখন শুনলাম। কাউকে ভাড়তি ভাড়া নিতে বলিনি। এখনই বিষয়টি দেখছি।’

জানা যায়, নগরীর বটতলী থেকে ছেড়ে আসা বেসরকারি বাস সার্ভিস তরীতে ৪০ থেকে ৫০ ও সিএনজি অটোররিকশাতে ১০ টাকা অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। এক্ষেত্রে তরী বাস সার্ভিসের পক্ষ থেকে পথে পথে স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ করা হয়। কিন্তু শনিবার রেলগেইট এলাকার ওই রুটে অন্য গাড়ি প্রবেশ করায় স্বেচ্ছাসেবকরা প্রতি শিক্ষার্থী থেকে ৩০ থেকে ৫০ টাকা চাঁদা আদায় করে। খবর পেয়ে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ছয়জনকে আটক করে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী বার্তা২৪.কমকে জানান, ‘এসব রুটে চলাচলকারীদের উপর হস্তক্ষেপের বিষয়ে আমাদের হাত নেই। এরপরেও পরিবহণ মালিকদের সাথে কথা বলে দাম সহনীয় রাখার ব্যাপারে অনুরোধ করব।’

এদিকে সিএনজি অটোরিকশা মালিক শ্রমিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. শামছুকে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি।

ভোগান্তির এখানেই শেষ নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে খাবার ও ভ্রাম্যমাণ দোকানে নির্ধারিত মূল্য তালিকা দেওয়া হলেও মানছেন না দোকানীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের শহিদ মিনারের সামনে ভ্রাম্যমাণ নাস্তার দোকানে সিঙারা ও চমুচা ৮, মিনারেল ওয়াটার ৩০, বিরানি ২২০, মুরগি মাংস ১০০, গরু ১৫০ ও সবজির দাম ৪৫ থেকে ৫০, ঠাণ্ডা পানীয় লিটারে ৮০ থেকে ১০০, ডাব ৮০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে বিশ্বদ্যিালয়ের সহকারী প্রক্টর নিয়াজ মোরশেদ রিপন বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘ব্যবসায়ীদের নির্ধারিত দাম রাখার বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছি। আশা করব তারা এই মূল্য তালিকা অনুসরণ করবেন।

আপনার মতামত লিখুন :