Barta24

বুধবার, ২৪ জুলাই ২০১৯, ৯ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

বাতির নিচেই অন্ধকার!

বাতির নিচেই অন্ধকার!
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। ছবি: বার্তা২৪.কম
সাইফ সাইফুল্লাহ
রাবি করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

শুক্রবার (১৬ নভেম্বর) সকাল ১০টা। ক্যাম্পাসের একটি চায়ের দোকানের এপাশ থেকে ওপাশে ছুটোছুটি করছে দশ বছর বয়সী শিশু শুভ। ‘এই পিচ্চি, এদিকে আয়’ বলে বিভিন্ন পাশ থেকে ডাক পড়ছে তার। ডাক পড়তেই সেখানে ছুটে যাচ্ছে সে। চাহিদা মতো সরবরাহ করছে চা-সিগারেট।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) তৃতীয় বিজ্ঞান ভবনের পাশে খালেকের চায়ের দোকানের সামনের দৃশ্য এটি। শুধু এই দোকানই নয়, ক্যাম্পাসের চাসহ অন্যান্য খাবারের দোকানের চিত্র একই। উত্তরবঙ্গের সেরা এই শিক্ষাঙ্গনে আইন অমান্য করে দোকানগুলোতে কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে শিশুদের। জ্ঞানার্জনের বিদ্যাপীঠে এ চিত্র যেন আলোর প্রদীপের নিচেই অন্ধকার।

শিশু শ্রমিক শুভ জানায়, তার বাবা একজন রং মিস্ত্রি। মা অন্যের বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ করেন। তিন ভাইয়ের মধ্যে সে বড়। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দোকানে কাজ করে ৪০ টাকা পায় সে। সকালে বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় তার মা তাকে খাইয়ে দিয়ে অন্যের বাড়িতে কাজ করতে চলে যান। পড়াশোনা করার ইচ্ছে থাকলেও পরিবারের অভাব অনটনের কারণে প্রতিদিন তাকে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চায়ের দোকানে কাজ করতে হয়।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2018/Nov/16/1542341839407.gif

এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদুল্লাহ কলা ভবনের সামনে চায়ের দোকানে কাজ করে ১২ বছর বয়সী শিশু নাসরুল্লাহ। সে জানায়, সাত বছর বয়সে বাবাকে হারায়। মা অন্যের বাড়িতে কাজ করে। মায়ের উপার্জনে সংসারের খরচ না মেটায় চায়ের দোকানে কাজ নেয় নাসরুল্লাহ। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চায়ের দোকানে কাজ করলে প্রায় দেড়শ টাকা পায় সে। সকালে বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় তার মা একটি বাটিতে করে খাবার দিয়ে দেয়। সেই খাবার দুপুরে খায়। লেখাপড়ার প্রতি আগ্রহ থাকলেও অভাবের কারণে নাসরুল্লাহের আর বিদ্যালয়ে যাওয়া হয়ে ওঠেনি।

এছাড়া ক্যাম্পাসে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ঘুরে ঘুরে বাদাম বিক্রি করে রাব্বী। সকাল হতেই চুলায় বাদাম ভেজে দেন মা। তারপর ক্যাম্পাসেই ঘুরে ঘুরে বাদাম বিক্রি করে সে। দুপুরে খাবার হাতে মা ছুটে আসে ক্যাম্পাসে। একসঙ্গে মা ও ছেলে খাবার ভাগ করে খায়। এভাবেই তাদের মা ছেলের দিন চলে।

রাব্বীর মা রাবেয়া খাতুন বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘এই ব্যাটাটা (ছেলে) বাপ মইরি যাওয়ার পর থেইকি সংসারের হাল ধইরিছে। এই বয়সীর ছাওয়ালেরা (ছেলেরা) সারাদিন কতো দৌড়ি বেড়ায়, আর আমার রাব্বীক বাদাম লিয়া ছুটতি হয়। ক্যাম্পাসের মামারা (শিক্ষার্থীরা) ওক অনেক আদর করে। আমি হতভাগা মা ওর জন্য কিছুই করতি পারি না। আমি দুয়া করি আমার রাব্বী জানি জীবনে মেলা বড় অয়।’

ক্যাম্পাস ঘুরে দেখা গেছে, শুভ, রাব্বী ও নাসরুল্লার মতো আরও অনেক শিশু ক্যাম্পাসের বিভিন্ন দোকানে কাজ করে। যে বয়সে তাদের বই-খাতা নিয়ে স্কুলে যাওয়ার কথা, অন্য শিশুদের মতো মাঠে খেলাধুলা করার কথা, সেই বয়সে তারা কাজে নিয়োজিত। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কাজ করে দোকান থেকে তারা পায় পঞ্চাশ থেকে দেড়শ টাকা। দিন শেষে তা তুলে দেয় বাবা-মায়ের হাতে। তাদের এই সামান্য রোজগারের টাকায় ঘুরছে সংসারের চাকা।

দোকানিরা বলছেন, অল্প মজুরিতে শিশুদের বেশি কাজ করানো যায়। এছাড়া শিশুদের যা বলা হয়, তারা তাই শোনে। একজন প্রাপ্ত বয়স্ক ব্যক্তিকে যেখানে দিনে তিন থেকে চারশ টাকা দিতে হয়, সেখানে শিশুদের পঞ্চাশ থেকে দেড়শ টাকা দিলেই চলে। এজন্য সবাই শিশুদের কাজে লাগায়।

অথচ বাংলাদেশ শ্রম আইন (২০০৬) অনুসারে শ্রমিকের বয়স ১৪ বছরের নিচে হওয়া যাবে না। কিন্তু বাস্তব চিত্র ভিন্ন। শ্রমে নিয়োজিত বহু শিশুর বয়স ১৪ বছরের নিচে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অনেকেই শিশু শ্রমে নিয়োজিত থাকলেও দেখার যেন কেউ নেই। অপরদিকে, ছোট বয়সে শ্রমে নিয়োজিত হওয়ায় মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2018/Nov/16/1542341865135.gif

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. ওয়ারদাতুল আকমাম বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘শিশুদের দিয়ে কাজ করানোর বিষয়টা অমানবিক। শিশু কাজে নিয়োজিত থাকলে তার মানসিক বিকাশ সঠিকভাবে হয় না। দোকান মালিক নিজেদের লাভের আশায় শ্রমে শিশুদের ব্যবহার করছেন, এটা উচিত না। শিশু শ্রম বন্ধে সবার এগিয়ে আসার পাশাপাশি সামাজিক সচেতনা প্রয়োজন।

আইন অমান্য করে শিশুদের দিয়ে কাজ করানো প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. হাসিবুল আলম প্রধান বার্ত২৪.কমকে বলেন, ‘শিশুদের দিয়ে কোনো ভাবেই স্বাস্থ্যহানিকর বা ঝুঁকিপূর্ণ কোনো কাজ করানো যাবে না। এ বিষয়টি ২০০৬ এর শিশু শ্রম আইনে বলা থাকলেও বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটে আইনি বিধান ও প্রয়োগের সীমাবদ্ধতার কারণে শিশুদেরকে শ্রমে নিয়োজিত করা হচ্ছে। যার ফলে মানবাধিকার লঙ্ঘন হচ্ছে। দেশে শিশু শ্রম বন্ধের আইন ও নীতিমালা আছে, কিন্তু আইনের যথাযথ প্রয়োগ না থাকার ফলে শিশু শ্রম বন্ধ হচ্ছে না।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক লায়লা আঞ্জুমান বানু বার্তা২৪.কমকে জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ে যেসব দোকান রয়েছে তা প্রশাসনের কাছ থেকে ইজারা নিয়েছেন এর মালিকরা। এ সকল দোকানগুলোতে শ্রমিক নিয়োগের ক্ষেত্রে মালিক পক্ষের ভূমিকা থাকে। তারা কাকে দিয়ে দোকানের কাজ পরিচালনা করবেন এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করতে পারে না। তবে কেউ যদি এ বিষয়ে অভিযোগ করে তাহলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে।

আপনার মতামত লিখুন :

ষোলশহর-ফতেয়াবাদ রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ

ষোলশহর-ফতেয়াবাদ রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ
দুর্ঘটনা কবলিত মাইক্রোবাসটি। ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া শাটল ট্রেনের সঙ্গে মাইক্রোবাসের ধাক্কা লেগেছে। এতে হতাহতের কোনো খবর পাওয়া না গেলেও ষোলশহর-ফতেয়াবাদ রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে।

বুধবার (২৪ জুলাই) সকাল সাড়ে ৮টায় ফতেয়াবাদ স্টেশনের একটু আগে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

ষোলশহর রেলওয়ে স্টেশনের সহকারী মাস্টার তন্ময় চৌধুরী জানান, মাইক্রোবাসটি রেললাইনে পড়ে থাকায় ট্রেন চলাচলে বিলম্ব ঘটছে। রেলওয়ে পুলিশ ও কর্মচারীরা উদ্ধার কাজে নিয়োজিত রয়েছে। রেল চলাচল স্বাভাবিক হতে আরও দেড় থেকে দুই ঘণ্টা সময় লাগতে পারে।

এদিকে দুপুর আড়াইটায় নগরের বটতলী স্টেশন থেকে ছেড়ে যাওয়া শাটল ট্রেনে চড়ে রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজনের চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে তিনি উপাচার্য ও সাংবাদিক সমিতির সঙ্গে মতবিনিময় সভায় মিলিত হবেন। এতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মাঝেও চলছে আলোচনা। শাটল ট্রেনে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি ও ষোলশহর স্টেশন থেকে ডাবল রেললাইন চালুর বিষয়ে আলোচনা হবে বলে জানা গেছে।

এর আগে দায়িত্ব পালন করা সাবেক রেলমন্ত্রী মুজিবুল হকের শাটল ট্রেনে চড়ে চবি ক্যাম্পাসে যাওয়ার কথা থাকলেও যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে সম্ভব হয়নি।

অপ্রীতিকর ঘটনা রোধে আন্দোলনকারীদের পাহারা দিচ্ছে ছাত্রলীগ

অপ্রীতিকর ঘটনা রোধে আন্দোলনকারীদের পাহারা দিচ্ছে ছাত্রলীগ
আন্দোলনকারীদের পাহারা দিচ্ছে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) অপ্রীতিকর ঘটনা রোধ করতে এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম যাতে কেউ নষ্ট না করতে পারে সেজন্য আন্দোলনকারীদের পাহারা দিচ্ছে ছাত্রলীগ।

বুধবার (২৪ জুলাই) ভোর থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ফটকের সামনে সতর্ক অবস্থানে দেখা যায় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের।

জানা যায়, অধিভুক্তির স্থায়ী সমাধানে কাজ করছে ছাত্রলীগ। আগামী আগস্টের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে এর একটি যৌক্তিক সমাধান হবে বলে আশ্বস্ত করেছেন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও ডাকসু জিএস গোলাম রাব্বানী। সে পর্যন্ত আন্দোলনকারীদের ক্লাসে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

ঢাবি ছাত্রলীগের হল শাখার কয়েকজন নেতাকর্মী বলেন, ‘শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ সদা প্রস্তুত এবং এটাকে দায়িত্ব মনে করে। সেই বোধ থেকে আমরা আন্দোলনকারীদের পাহারা দিচ্ছি।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/24/1563939834268.jpg

সরেজমিনে বিশ্ববিদ্যালয় ঘুরে দেখা যায়, ঢাবির বিভিন্ন হলের সামনে ভোর ৬টা থেকে পাহারা দিচ্ছে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

এদিকে সকাল সাড়ে ১০টায় আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে সংবাদ সম্মেলন ডাকা হয়েছে। পরে সেখান থেকে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করার কথা রয়েছে।

উল্লেখ্য, গত কয়েকদিন ধরে সাত কলেজের অধিভুক্তি বাতিলের আন্দোলনে সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে পড়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ক্লাস, পরীক্ষাসহ প্রশাসনিক কার্যক্রম।

আরও পড়ুন:আন্দোলনকারীরা তালা দিলে ভাঙতে প্রস্তুত ছাত্রলীগ!

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র