Alexa

চবির জন্মদিন: যেখানে ট্রেন আসে কাশবন ছুঁয়ে

চবির জন্মদিন: যেখানে ট্রেন আসে কাশবন ছুঁয়ে

চবির জন্মদিন: যেখানে ট্রেন আসে কাশবন ছুঁয়ে, ছবি: বার্তা২৪.কম

বিশ্বে সম্ভবত একমাত্র চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ক্যাম্পাসে যাবতীয় নাগরিক কোলাহল ভুলে ট্রেন আসে প্রকৃতির গন্ধ মেখে। এখানে ট্রেন আসে কাশবন ছুঁয়ে ছুঁয়ে। উত্তর চট্টগ্রামের বিখ্যাত ল্যান্ডস্কেপ পেরিয়ে নৈসর্গিক উপত্যকায় ট্রেন এসে পৌছায় ঝলমলে তরুণ-তরুণীদের বুকে নিয়ে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ইতিহাসে রবিবার (১৮ নভেম্বর) লাল হরফে লেখা দিন। এ ক্যাম্পাসের জন্মদিন। ৫২ বছর আগে এমনই এক হৈমন্তী দিনে অঘ্রাণের দোলায় জেগে উঠেছিল দক্ষিণ এশিয়ার এই অপরূপ ক্যাম্পাস। প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল উচ্চশিক্ষার নান্দনিক কাঠামো।

বন্দরনগরী চট্টগ্রাম থেকে কুড়ি মাইল উত্তরে হাটহাজারি থানার জোবরা গ্রামের চবি ক্যাম্পাস অর্ধ শতবর্ষের পথ পরিক্রমায় ঋদ্ধ ও পরিণত। ঠিক আগের মতোই পাহাড়, টিলা, বৃক্ষ, পুষ্প, পত্রালী আর বিহঙ্গের মিতালীতে চলছে শিক্ষা কার্যক্রম। ফুল, পাখি আর প্রজাপতির মেলায় শিক্ষার্থীরা গ্রহণ করছে পাঠ ও প্রস্তুতি। গ্রন্থগত বিদ্যার পাশাপাশি আহরণ করছে প্রকৃতি ও নিসর্গের পরতে পরতে লুক্কায়িত রূপ, রস, সৌরভ।

বিশ্বের সুন্দরতম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস বলা হয় চবিকে। বাংলাদেশের অন্যতম প্রাচীন ও বৃহত্তম বিশ্ববিদ্যালয়ের এ ক্যাম্পাস অনন্য বৈশিষ্ট্যে সমুজ্জ্বল। আর কোনও জায়গার সঙ্গে এই নিটোল প্রকৃতিময়তার তুলনা চলে না।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2018/Nov/18/1542519150791.jpg

প্রকৃতির নিজস্বতায় এখানে সবুজের বন্যা হয় অহর্নিশি। পাহাড়ের অন্ধকার ভেঙে সূর্য জাগে। সোনালী আভায় দিগন্ত কাঁপিয়ে আবার ঢলে পরে পশ্চিমের পাহাড়ের ওপাশে। দক্ষিণের পতেঙ্গা উপকূল থেকে বঙ্গোপসাগরীয় মেঘমালা সুউচ্চ গাছের শিখরে মিশে থাকে জলজ স্পর্শে। উত্তরের পার্বত্য ভূমি নিত্য হাতছানি দেয় সবুজে-শ্যামলে।

শহর থেকে সারা দিনই বাসে বা শাটল ট্রেনে আসা-যাওয়া করে হাজার হাজার শিক্ষার্থী। তারপর কাটা পাহাড়ের মধ্য দিয়ে বনানী শোভিত পথ ধরে প্রবেশ করে ক্যাম্পাসের মূল অঙ্গনে। ক্লাস ও পাঠের পর মেতে থাকে উদ্যান সদৃশ্য ক্যাম্পাসের কোণে কোণে।

পাহাড়, ঝর্ণা, গিরিপথের বিশ্ববিদ্যালয়ের চারদিকে ছড়িয়ে আছে বর্ণিল পুষ্পের বাহার, ঘন ঝোপ ও উচ্চ ভূমিতল। সেখানে খেলা করে মায়া হরিণ, কাঠবিড়ালি, পাখির ঝাঁক। অভ্যয়ারণ্যের মতো প্রকৃতির সদস্যরাও মানুষের পাশাপাশি বেড়ে ওঠে এই অনিন্দিত ক্যাম্পাসে।

ছয় ঋতুর ছয় রকম শোভায় সারা বছরই চবি ক্যাম্পাস ছবির মতো রংতুলিতে আঁকা থাকে। শিক্ষার্থীদের আবেগ,, ভালোবাসা ও সজীবতায় থাকে উদ্ভাসিত। চবি ক্যাম্পাস স্মৃতি ও অতীতের গন্ধ ছড়িয়ে সবাইকে নিয়ে এগিয়ে চলে ভবিষ্যতের পানে।

৫২ তম জন্মদিনে আশাবাদের আলোয় রঙিন হয়ে চবি ক্যাম্পাস ভালোবাসার গান শোনাবে অতীত ও বর্তমানের শিক্ষার্থীদের। ভবিষ্যতের প্রজন্মকে আশাবাদে ডাক দেবে উচ্চশিক্ষা ও উন্নত সংস্কৃতির আশ্রয়ে।

শুভ জন্মদিন, প্রিয় চবি।

আপনার মতামত লিখুন :